Archive for ‘জীবনকথা’

September 21, 2017

গ্রায়েম স্মিথ- ক্রিকেট মাঠের গ্ল্যাডিয়েটরের গল্প

মূল লেখার লিংক
গ্রায়েম স্মিথ- ক্রিকেট মাঠের গ্ল্যাডিয়েটরের গল্প!

সময়কাল জানুয়ারি ২০০৯।

সিডনীতে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের শেষদিন, দুশো সাতান্ন রানে দক্ষিণ আফ্রিকার নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলেন ডেল স্টেইন। অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের কবজি ভেঙেছে প্রথম ইনিংসেই, ব্যাট হাতে তিনি নামবেন, এমনটা ভাবনায় ছিল না কারো। প্রথম দুই টেস্ট জিতে সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছে প্রোটিয়ারা, শেষবেলায় কার এত দরকার পড়েছে শুধু শুধু ঝুঁকি নেয়ার! ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে ধরে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়েরাও তখন আনন্দে মত্ত।

read more »

Advertisements
September 10, 2017

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি: রেনেসাঁর এক সব্যসাচী চিত্রজাদুকর

মূল লেখার লিংক
১৪৭৫; ফ্লোরেন্স, ইতালি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দৈনন্দিন অভ্যাস সেরে স্টুডিওতে ঢুকে পড়লেন ফ্লোরেন্স নগরীর বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভেরোচিও। যিশুর ব্যাপ্টিজম বিষয়ে একটা ছবি আঁকছেন তিনি অনেকদিন ধরে। একদম শেষ করে এনেছেন প্রায়। যিশুর শরীরে সাধু জন পবিত্র পানি ঢেলে দিচ্ছেন আর দেবদূতেরা যিশুর কাপড় ধরে আছে, এমন একটা ছবি আঁকার ইচ্ছে তার। মাস্টারপিস হবে একদম!জন আর যিশুর অংশের কাজ শেষ করে ফেলেছেন, বাকি আছে কেবল দেবদূত আর ব্যাকগ্রাউন্ডের কিছু আঁকাআঁকি, ওটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ না। তরুণ শিক্ষানবিশ আছে তার, তাকেই দিয়েছেন কাজটা করতে, ও বেশ তাড়াতাড়ি করতে পারে। এ ক’দিন ফ্লোরেন্সে ছিলেন না ভেরোচিও।

স্টুডিওর মাটিতে পড়ে থাকা কিছু জিনিস কুড়িয়ে টেবিলে রাখলেন ভেরোচিও। এরপর তার প্রায় শেষ হয়ে আসা মাস্টারপিসটার সামনে এসে দাঁড়ালেন। কিন্তু তার চোখ চলে গেল দেবদূতের দিকে, মোটেও ছবির নায়ক যিশুর দিকে না!

শেষবার যখন দেখেছিলেন, ছবির বাঁ পাশের কাপড় ধরে রাখা এ দেবদূত ছিল না মোটেও। আর এখন দেবদূত থেকে চোখ সরছেই না তার। এ কী করে সম্ভব! এত নিখুঁত করেও আঁকা যায়? তার রীতিমত লজ্জা লাগতে লাগলো। এত বুড়ো হয়ে গেছেন তিনি, কিন্তু এত বছরের জীবনেও এত সুন্দর কিছু আঁকতে পারেননি।

চিৎকার করে স্টুডিওর সবাইকে জড়ো করে ফেললেন তিনি। এরপর তার শিক্ষানবিশ ২৩ বছরের তরুণকে ডাকলেন,

“লিওনার্দো!”
“জি।”
“তোমরা সবাই সাক্ষী থাকো, আমি আজকে থেকে আর কোনো দিন হাতে তুলি নেব না। কোনো ছবিও আর আঁকব না, শপথ করছি। আমার জীবন সার্থক যে আমি লিওনার্দোর মতো কারো শিক্ষক হতে পেরেছি। অনেক বড় হও তুমি, বৎস!”

সত্যিই ভেরোচিও আর কোনো ছবি আঁকেননি কোনোদিন। আর লিওনার্দো? হ্যাঁ, সেই ২৩ বছরের তরুণকে কোনোদিন পেছনে তাকাতে হয়নি আর। অর্ধ সহস্র বছর পরেও এই পৃথিবীর শিল্পের সামান্য জ্ঞান থাকা মানুষও তার নাম জানে।


The Baptism of Christ (Verrocchio)

read more »

September 4, 2017

মুন্সী আব্দুল করিম: রানী ভিক্টোরিয়ার ভালোবাসায় সিক্ত এক ভারতীয় তরুণ

মূল লেখার লিঙ্ক
রানী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর পর ব্রিটেনের রাজসিংহাসনে আরোহণ করলেন রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড। রাজসিংহাসনে বসার ঘন্টাখানেকের মাথায় রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড বরখাস্ত করলেন রানীর অতি ঘনিষ্ঠ এক কর্মচারীকে। ঐ ব্যক্তি রানীর শিক্ষকও ছিলেন। রানী এবং ঐ ব্যক্তির মধ্যকার সকল প্রকার চিঠিপত্র এবং কাগজ পুড়িয়ে ফেলারও আদেশ জারি করেন সপ্তম এডওয়ার্ড। তাৎক্ষণিকভাবে ভারতে ফেরত পাঠালেন সেই ব্যক্তিটিকে। ভারতীয় মুসলিম এই ব্যক্তিটিই ছিলেন রানীর উর্দু ভাষার শিক্ষক এবং রানীর ভারত বিষয়ক সচিব। রানী ভিক্টোরিয়ার জীবনের শেষ ১৫ বছরের অন্যতম কাছের সহকারীও ছিলেন এই ব্যক্তি। ভিক্টোরিয়ার ৮০ তম জন্মদিন উপলক্ষে রানী তাকে ‘কমান্ডার অফ দ্য অর্ডার (CVO)’ নামক সম্মানেও ভূষিত করেছিলেন। কিন্তু সিংহাসনে বসেই কেন রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড দৃশ্যমান কোনো অপরাধ ছাড়াই বরখাস্ত করলেন তার মায়ের খুব কাছের এই মানুষটিকে?

রাজপরিবারে ভারতীয় কেন?

রানী ভিক্টোরিয়া ভারতীয়দের ব্যাপারে অনেক বেশি কৌতূহলী ছিলেন। তাই রানীর সিংহাসনে বসার ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ভারত থেকে দুজন কর্মচারী আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক ‘মোহাম্মদ বকস’ আর ‘মোহাম্মদ আবদুল করিম’ নামের এই দুজন ভারতীয়কে ব্রিটেনে নিয়ে আসা হয়। তারা দুজন নিয়োগ পান রাজপরিবারের ‘খিদমতগার’ বা ‘রাজকীয় খাদ্য পরিবেশক’ হিসাবে। রানী ভিক্টোরিয়ার নোটবুক থেকে জানা যায়, তার সাথে ভারতবর্ষ থেকে আসা দুই কর্মচারীর সাথে তার প্রথম দেখা হয় ১৮৮৭ সালের ৩ জুন উইন্ডসর দুর্গে। এই দুই রাজ কর্মচারীর সাথে প্রথম দেখার কথা রানী তার দিনলিপিতে এভাবে লিখে রেখেছেন

“The one Mohammed Buksh, very dark with a very smiling expression… and the other, much younger, called Abdul Karim, is much lighter, tall and with a fine, serious countenance. They both kissed my feet.”

খিদমতগার থেকে রানীর শিক্ষক

একদিন খাবার টেবিলে পরিবেশনকৃত একটি খাবার বেশ ভালো লাগে ভিক্টোরিয়ার। তিনি জানতে চান কে রান্না করেছে এই খাবার। ভারতীয় খিদমতগার মোহাম্মদ আবদুল করিম রেঁধেছিলেন সেটি। ২৪ বছর বয়সী সুঠাম ভারতীয় তরুণ করিমকে পুনরায় দেখে বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেন রানী ভিক্টোরিয়া।


তরুণ আব্দুল করিম

read more »

August 25, 2017

দিয়াগো ম্যারাডোনা: জনগণের হৃদয়ে যিনি সর্বকালের সেরা

মূল লেখার লিংক

যেকোনো বিষয়ে সেরা নির্বাচন করার মূলত দুটি পদ্ধতি আছে। এর একটি হলো, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ লোক দিয়ে বিচার করা; আরেকটি হলো, সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচন করা। দক্ষ লোক দিয়ে নির্বাচন করাটাই নিঃসন্দেহে বেশি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। কিন্তু এর সাথে সাথে সাধারণ মানুষের নির্বাচনকেও অবজ্ঞা করা যায় না। সাধারণ মানুষের নির্বাচনে মূলত দুটো সমস্যা হয়। একটি হচ্ছে, তারা আবেগের আশ্রয় বেশি নেয়; আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সমসাময়িকদের এগিয়ে রাখে। ফুটবলের ইতিহাসে অল্প কিছু খেলোয়াড় আছেন যারা কিনা দক্ষ বিচারক আর সাধারণ জনগণ দু’দিকের ভোটেই প্রথম দিকেই থাকেন।

এরকম একজন খেলোয়াড় হচ্ছেন দিয়াগো ম্যারাডোনা। গত শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করার সময় ফিফা প্রথমে সিদ্ধান্ত নেয়, ইন্টারনেটে ভোটিংয়ের মাধ্যমে সেরা নির্বাচন করা হবে। সেভাবে ভোটিংও হয়। তবে ফলাফল দেখে ফিফা কমিটি চোখে সর্ষে ফুল দেখে। ম্যারাডোনা ভোট পান ৫৩.৬%, পক্ষান্তরে পেলে পান মাত্র ১৮.৫৩%।

এরপরই ফিফা আরেকটি কমিটি গঠন করে, যেখানে ভোট গ্রহণ করা হয় তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ম্যাগাজিনের পাঠক আর জুরি বোর্ডের সদস্যদের কাছ থেকে। এই নির্বাচনে পেলে প্রথম হন। শেষ পর্যন্ত গত শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ের দুটো পুরষ্কার দেওয়া হয়; একটি জনগনের সেরা, আরেকটি বিশেষজ্ঞদের সেরা। অনলাইনের ভোটিং আসলে গ্রহণযোগ্যতা হারায় তখন, যখন দেখা যায় ম্যারাডোনা-পেলের পরের ক্রমগুলো হচ্ছে ইউসেবিও, ব্যাজিও, রোমারিও, ভ্যান বাস্তেন, রোনালদো লিমা। ক্রুয়েফ আছেন ১৩ নম্বরে, ডি স্টেফানো ১৪ নম্বরে, প্লাতিনি ১৫ নম্বরে। যে জায়গার ফলাফল আপনাকে দেখাবে ক্রুয়েফ, ডি স্টেফানো কিংবা প্লাতিনির চেয়ে ব্যাজিও কিংবা রোমারিও (তখন পর্যন্ত তারা ক্যারিয়ার শেষ করেননি) ভালো, সেই ভোট গ্রহণ করা আসলে কষ্টকর। এছাড়া অনলাইনে সাধারণত নতুন প্রজন্মের মানুষরাই ভোট দিয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শতাব্দীর সেরা নির্বাচন করার মতো এত বড় বিষয়ে এই দিকগুলো ফিফা কমিটি আগে খেয়াল করল না কেন, কেন নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হলো। যদি অনলাইনের বিচারেও পেলে সেরা হতো, তখন কি আরেকটি নির্বাচন করা হতো?


সবচেয়ে বড় বিতর্কের দুই পাত্র

read more »

August 23, 2017

গ্যারফিল্ড সোবার্স: ক্রিকেটের রাজাধিরাজ

মূল লেখার লিংক

কিছু কিছু রেকর্ড আছে যেগুলো কিনা আপনি শুধুমাত্র ছুঁতে পারবেন, কখনো ভাঙতে পারবেন না। ছয় বলের ওভারে ৩৬ রান করা এমনই একটি রেকর্ড। এক ওভারে যদি সবগুলো বৈধ বল হয়, তাহলে আপনি কখনোই ৩৬ রানের বেশি নিতে পারবেন না। তবে ৩৬ রান নেওয়াটাও কিন্তু এত সহজ বিষয় নয়। টানা ছয়টি ছয় মারতে হবে!

ক্রিকেটে এই কাজটি করা যে খুব কঠিন, সেটি একটু ইতিহাস ঘাঁটলেই বোঝা যায়। স্বীকৃত ক্রিকেটে এই ঘটনাটি ঘটেছে মাত্র চার বার। তবে যে কোনো কাজ যিনি প্রথম বার করেন, তিনি পথপ্রদর্শক হিসেবেই বিবেচিত হন। ১৯৬৮ সালের ৩১ শে আগস্ট প্রথমবার এই কাজটি করে পথপ্রদর্শক হিসেবে রয়ে গিয়েছেন স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স। টানা ছয় বলে ওভার বাউন্ডারি মারার শেষ বলটি সম্পর্কে স্লিপে দাঁড়ানো পিটার ওয়াকার বলেছিলেন, “ওটা ৬ নয়, ১২”। পরবর্তীতে সেই হারিয়ে যাওয়া বলটি একটা বাগান থেকে উদ্ধার করে ১১ বছর বয়সী রিচার্ড লুইস।


ব্যাটসম্যান সোবার্স

read more »

August 20, 2017

‘ছোটলোকের বাচ্চা’, তোমাকে শ্রদ্ধা

মূল লেখার লিংক

মাইকেলের মেঘনাদবধে রাম নয়, নায়ক ছিলেন রাক্ষস রাবণ। ভালো-মন্দ বিলেতি হলেই চলে এমন মনোভাবের দত্তকুলোদ্ভব মধুসূদন ক্রিকেট খেলতেন কিনা জানি না, তবে ক্রিকেটের মহাকাব্য লিখলে নিশ্চিত তার নায়ক হতেন ক্রিকেট ইতিহাসের চরম ঘৃনিত, নিন্দিত এক ক্রিকেটার। যাকে দানব, রাক্ষস, খুনি এসবের পাশাপাশি, বোলিং রানআপে দৌড়ানোর সময় অন্তত চল্লিশ হাজার দর্শক তারস্বরে গালি দিয়েছে, “বেজন্মা, বেজন্মা, বেজন্মা” বলে, আর সেটি উপেক্ষা করে গতির ঝড় তুলছেন তিনি।

read more »

August 7, 2017

কে এই দালাইলামা?

মূল লেখার লিংক

‘দালাইলামা’ পৃথিবীর ছাদে থাকা এককালের নিষিদ্ধ রাজ্য তিব্বতের ধর্মগুরুর পদবী। তিব্বতে বৌদ্ধধর্মের ‘গেলুগ’ নামের যে শাখাটি প্রচলিত আছে, তার প্রধান ধর্মগুরুকে দালাইলামা নামে অভিহিত করা হয়। মোঙ্গলীয় ভাষায় ‘দালাই’ শব্দের অর্থ সমুদ্র আর সংস্কৃত ‘লামা’ শব্দের অর্থ গুরু বা আধ্যাত্মিক শিক্ষক। অর্থাৎ দালাইলামা শব্দটির পূর্ণ অর্থ দাঁড়ায় এমন এক শিক্ষক যার জ্ঞান বা আধ্যাত্মিকতা সমুদ্রের মতোই গভীর। অন্যদিকে দালাইলামাদের নামের সাথে গিয়াৎসু শব্দটি যুক্ত থাকে। যেমন বর্তমান দালাইলামার নাম তেনজিন গিয়াৎসু। তিব্বতীয় ভাষায় এই ‘গিয়াৎসু’ শব্দের অর্থও সমুদ্র। যে শব্দটি আসলে দালাইলামার সাথে অনেকটাই সমার্থক। কিন্তু তাহলে দালাইলামা শব্দটির উৎপত্তি হয়েছিলো কীভাবে? চলুন জেনে নিই কে এই দালাইলামা?

read more »

July 30, 2017

জামরঃ ফরাসি বিপ্লবে বাংলার বিপ্লবী

মূল লেখার লিংক
দিনের পর দিন কলুর বলদের মতো খেটে মরবে সমাজের সিংহভাগ জনগণ। আর মনুষ্যসৃষ্ট জাতিভেদের দোহাই দিয়ে ফায়দা লুটে লাভের গুঁড় খাবে সংখ্যালঘু অভিজাত সমাজ। সমাজের আপমর জনতা মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও দিনাতিপাত করতে বাধ্য হয় সতত; অন্যদিকে আলস্যসকাশে মহানন্দে থাকছে এক বিশেষ সিন্ডিকেট শ্রেণী। লঘু পাপকে গুরু দন্ডে প্রতিবিহিতের বরাদ্দ কেবল দলিতের নোনতা ললাটের জন্যে; অথচ বিচারের বাণী জাত্যাভিমানের মারপ্যাঁচে হারিয়ে যায় সভ্যতার আস্তাকুঁড়েতে। কঠোর পরিশ্রমের পরেও করের অন্যায় বোঝা চাপে শুধু মজলুমের ঘাড়ে আর জালিমের ধন-ভান্ডার সমৃদ্ধির পথে বলগা হরিণের ন্যায় ছুটে চলে।

সমাজে যখন এই উল্টো চলার নীতি পরিগৃহীত হয়, তখন প্রতিবাদী প্রতিরোধ প্রতিটি পরিক্লিষ্ট প্রকোষ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়। অত্যাচারিতের জর্জর পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গিয়ে তাকে অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দেয়, জীবনের তাগিদে সে তখন প্রাণের মায়ার বীরোচিত বিসর্জনেও থাকে অকুতোভয়। ফরাসিরা ভিতরে ভিতরে ফুঁসে উঠেছিল; দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ তখন সময়ের ব্যাপার ছিল। অসহ্য মাত্রায় নিষ্পেষিত জনগণ একাট্টা হয়ে ওঠে; হয়ে ওঠে প্রতিবাদী। তাদের প্রতিবাদী সুরে ওঠে বিপ্লবের জাগ্রত রাগিণী। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, বলছি ইউরোপের দিনবদলের পাঞ্জেরী ফরাসি বিপ্লবের কথা। এটা তো আমরা সবাই জানি যে, অষ্টাদশ শতকের ফরাসি বিপ্লব সমগ্র বিশ্বের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব প্রভাব (সেটা কম হোক বা বেশি) রেখেছিল। কিন্তু আমাদের কি জানা আছে, সেই দিন বদলের বসন্তে বিশেষ অবদান রেখে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে এক বাঙালি যুবা! সমুদ্রসকাশে বড় হয়ে ওঠা চট্টগ্রামের জামর ছিল ফরাসি বিপ্লবের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র! আসুন, পরিচিত হই তৎকালীন সুবা বাংলার বাঙালি জামরের সাথে।


বাস্তিল দুর্গে ফরাসি জনতার অধিকারের বিপ্লব

read more »

July 30, 2017

মানসা মুসা: বিশ্বের সর্বকালের সেরা ধনী ব্যক্তি

মূল লেখার লিংক
বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের কথা ভাবলেই আমাদের মনে পড়ে বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট অথবা রথসচাইল্ড ফ্যামিলি সহ বিংশ শতাব্দীর নব্য ধনীদের কথা। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, চৌদ্দ শতকের মালির মুসলিম শাসক মানসা মুসাকে মনে করা হয় বিশ্বের সর্বকালের সেরা ধনী ব্যক্তি। মূল্যস্ফীতি হিসেব করে তার তত্‍কালীন সম্পত্তিকে বর্তমান মুদ্রায় রূপান্তর করলে সেটার পরিমাণ হবে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার, যেখানে রথসচাইল্ড ফ্যামিলির সম্পত্তির মূল্য ৩৫০ মিলিয়ন ডলার, আর বিল গেটসের সম্পত্তির পরিমাণ মাত্র ৯০ বিলিয়ন ডলার!


কার্টুনিস্টের দৃষ্টিতে মানসা মুসা; ছবিসূত্র: Bizna Kenya

মানসা মুসার প্রকৃত নাম প্রথম মুসা কেইতা (Musa Keita I)। মানসা হচ্ছে সে সময়ের মালির রাজাদের উপাধি, যার অর্থ হচ্ছে রাজা বা সম্রাট। মুসা ছিলেন দশম মানসা অর্থাৎ মালি সাম্রাজ্যের দশম সম্রাট। মুসার জন্ম ১২৮০ সালে। ১৩১২ সালে, মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি ক্ষমতায় আরোহণ করেন।

read more »

July 5, 2017

একজন কিংবদন্তী, খলনায়ক ও তার ট্র্যাজেডির গল্প

মূল লেখার লিংক
একজন কিংবদন্তী, খলনায়ক ও তার ট্র্যাজেডির গল্প
মাঝ আকাশে সুতো কেটে যাওয়া ঘুড়ির মতো গোত্তা খাচ্ছে কার্গো বিমানটা। মেঘেরও অনেকটা ওপরে তার অবস্থান, দুই পাইলট আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কন্ট্রোল প্যানেলটাকে নিজেদের কন্ট্রোলে নিয়ে আসার। কথা শুনছে না হুইল দুটো, রেডিওটা অসাড়, কাজ করছে না রিসিভার। এয়ারপোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ফুরিয়ে আসছে জ্বালানীও।

read more »

June 9, 2017

কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের ৩০টি মজার ঘটনা

মূল লেখার লিংক
কবি কাজী নজরুল ইসলামের রসবোধ সম্পর্কে তার লেখনীর মাধ্যমে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। কবিকে যারা ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন, তারা সকলেই মুগ্ধ হতেন তার ভীষণ আয়েশী আড্ডাবাজ স্বভাব এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে খোশমেজাজে থাকতে পারার দুর্দান্ত ক্ষমতায়। আজ ২৫ মে কবির জন্মদিন। চলুন জেনে নেয়া যাক কবির জীবনের অনেক হাস্যরসপূর্ণ ঘটনার মধ্যে কয়েকটি।

u

read more »

June 9, 2017

টিপু সুলতান: ইতিহাসের নায়ক নাকি খলনায়ক

মূল লেখার লিংক

ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, ভারতবর্ষের মৃত আত্মাকে স্মরণ করে আমি পান করছি

১৭৯৯ সালের ৪ মে। ভারতে ক্রমসম্প্রসারণশীল বৃটিশ সাম্রাজ্যের পরিচালক ব্যক্তি রিচার্ড ওয়েলেসলি যখন ‘মহীশূরের বাঘ’ টিপু সুলতানের মৃত্যু সংবাদ শুনতে পান তখন এমনই একটি মন্তব্য করেন। অন্তত ভগবান এস গিদোয়ানীর তার ‘দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান’ বইতে এমনটাই উল্লেখ করেছেন। শুধু তাই নয়, টিপুর মৃত্যুর পর “গোটা ভারতবর্ষই এখন আমাদের” এমন একটি মন্তব্যও ওয়েলেসলি করেন বলে জানা যায়।

টিপুর মৃত্যুসংবাদ শুনে ওয়েলেসলির করা দুটি মন্তব্য শুনেই বোঝা যায়, ভারতে বৃটিশ সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি ছিলেন টিপু সুলতান। ভারতের বেশিরভাগ অংশেই আজও তাকে সেভাবেই দেখা হয়।


টিপু অ্যান্ড হিস সনস (চিত্রকরঃ হেনরি সিঙ্গলটন)

read more »

May 14, 2017

সম্রাট আকবরের সভার সেই নবরত্নের নবকাহিনী

মূল লেখার লিংক
তৃতীয় মোঘল সম্রাট আকবর ইতিহাসে আজো এক উজ্জ্বল রত্ন হয়ে বিদ্যমান। এই রত্নের সভায় তিনি ছাড়াও ছিলেন আরো নয়জন রত্ন যাদের একসাথে বলা হয় আকবরের সভার ‘নবরত্ন’। এই নবরত্নের নবকাহিনী নিয়ে আমরা আজ হাজির হয়েছি। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে এরা ছিলেন শ্রেষ্ঠ ও অতুলনীয়, তাদের তুলনা শুধু তারা নিজেরাই হতে পারতেন আর এজন্যই সম্রাট আকবরের সভা তাদের আলোয় দীর্ঘকাল আলোকিত হয়ে ছিলো।


এই নবরত্নে সজ্জিত ছিলো আকবরের রাজসভা

read more »

April 28, 2017

স্কাইস্ক্র্যাপারের কারিগর ড. ফজলুর রহমান খান

মূল লেখার লিংক
সুদূর মার্কিন মুলূকের তৃতীয় বৃহত্তম শহর শিকাগো। শহরটিতে মেঘ ফুঁড়ে দাঁড়ানো ভবনের সংখ্যা মন্দ নয়। কিন্তু একটি ভবনকে আলাদা করে চিনে নিতে কষ্ট হয় না কারো, স্কাইস্ক্র্যাপারগুলোর মধ্যে সবাইকে ছাড়িয়ে সে। ভবনটির আদি নাম সিয়ার্স টাওয়ার, মালিকানা বদলের কারণে বর্তমান নাম উইলিস টাওয়ার। ১১০ তলা বিশিষ্ট এ ভবনটি ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত শুধু শিকাগো শহরের নয়, পুরো পৃথিবীর উচ্চতম ভবন ছিলো। আর সেই সর্বোচ্চ ভবনটির রূপকার ছিলেন একজন বাংলাদেশী! তিনি শুধু কোনো বাংলাদেশীর ঔরসে জন্ম নিয়েছিলেন বলে নয়, উনার বেড়ে ওঠার পুরোটাই বাংলাদেশে। বলছিলাম ক্ষণজন্মা প্রকৌশলী ফজলুর রহমান খানের কথা, যাকে ‘স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আইনস্টাইন’ বলা হয়!

উইলিস টাওয়ার বা তৎকালীন সিয়ার্স টাওয়ার
উইলিস টাওয়ার বা তৎকালীন সিয়ার্স টাওয়ার

read more »

April 10, 2017

মোহাম্মদ আশরাফুল: একটি তারার নিভে যাওয়ার গল্প

মূল লেখার লিংক

বনশ্রীর নিজ বাড়িতে আশরাফুল;  ছবিসূত্রঃ espncricinfo.com

অ্যাশ, লিটল মাস্টার কিংবা বাংলাদেশের ‘আশার ফুল’, তিনি মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকে কতটা ভালবাসে তা লিখে প্রকাশ করা দুঃসাধ্য। কিন্তু মানুষের এই অপরিমেয় ভালবাসার প্রতিদান নিজের ক্যারিয়ারে প্রতিফলিত করতে পারেননি আশরাফুল। রূপকথার মতোই যিনি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, শেষটা করেছিলেন নামের সাথে বড্ড অবিচার করে। ১২ বছরের লম্বা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তার অতটাও রঙিন নয়। টেস্টে তার গড় ২৩, একদিনের ক্রিকেটে মাত্র ২২।

read more »