Archive for ‘জানা অজানা’

October 28, 2017

আমি মাসুদ রানার ছোট ভাইকে দেখেছি!

মূল লেখার লিংক
আমি মাসুদ রানার ছোট ভাইকে দেখেছি!

আমি মাসুদ রানার ছোট ভাইকে দেখেছি। সত্যি বলছি, আমি দেখেছি তাকে। মাসুদ রানার একটা গল্পে পড়েছিলাম একটা বুলেট মাসুদ রানার হৃদপিণ্ডে গিয়ে বেধেঁ। কিন্তু সে মারা যায় না, কারণ বুলেটটি তার হৃদপিণ্ডের ইন্টারভেন্ট্রিকুলার সেপটামে বিধেঁ ছিল, কোন মেজর ব্লিডিং ছাড়াই রানা সেবার বেঁচে যায়। গত ২৪.১০.১৭ তারিখে যে বালকটির সাথে আমার পরিচয় হয় তাকে মাসুদ রানার ছোট ভাই বললে ভুল বলা হবে না।

ডিউটি করছি ঢাকা মেডিকেল ক্যাজুয়ালটিতে। টানা ২৪ ঘন্টা ডিউটির মাত্র সাড়ে ৫ ঘন্টা গেছে।

read more »

Advertisements
September 25, 2017

শহরের মধ্যে জেল আর জেলের মধ্যে আরেক শহর

মূল লেখার লিংক

জেলখানা শব্দটা শুনলেই আমাদের মনে কি ভেসে উঠে বলুনতো? অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা দালান আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া, যেখানে সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা বসে বসে নিজের প্রায়শ্চিত্ত করছে। প্রতিদিনই তারা অপেক্ষায় থাকে, এই বুঝি দেখা করতে এলো স্ত্রী, সন্তান বা আত্মীয়-স্বজন। কারোর অপেক্ষার পালা ফুরোয়, আবার কেউ অপেক্ষা করতেই থাকে। আমাদের এক স্যার বলেছিলেন, “এসব আসামীদের শাস্তি নাকি জেল-জরিমানা কোনো কিছুই না, এদের শাস্তি নাকি নিজের পরিবারের আর আপন মানুষদের কাছ থেকে দূরে থেকে যে মানসিক কষ্ট পায় সেটা”।

পৃথিবীর নানা প্রান্তে নানারকম জেলখানা আছে। এদের কোনটা আধুনিক এবং মানবিক সুবিধা সম্পন্ন, কোনটা মাঝারি মানের, আবার এমনও জেলখানা আছে যারা নরকের সমকক্ষ। আজ আপনাদের এমন এক বিচিত্র জেলের কথা বলব, যা জেনে আপনাদের মনে জেল সম্পরকে ধারণাই পাল্টে যাবে।

read more »

September 10, 2017

ভাসমান মসজিদ হাসান আল-থানি: বিশ্বের সর্বোচ্চ ধর্মীয় স্থাপনা

মূল লেখার লিংক
মরক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কায় অবস্থিত ‘দ্বিতীয় হাসান মসজিদ’ (মাসজেদ আল-হাসান আল-থানি) হচ্ছে বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনার বিশিষ্ট মসজিদ। এটি একই সাথে বিশ্বের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু। এই মসজিদের একমাত্র মিনারটির উচ্চতা ২১০ মিটার, যা প্রায় ৬০ তলা ভবনের সমান! ১৯৯৩ সালে নির্মিত এই মসজিদটির মুসল্লি ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার। এর মিনারের চূড়ায় একটি লেজার বিম অবস্থিত, যা থেকে কাবা ঘরের দিক বরাবর সর্বদা একগুচ্ছ আলোক রশ্মি বিচ্ছুরিত হতে থাকে।


আংশিক পানিতে ভাসমান মসজিদ হাসান আল-থানি

read more »

September 4, 2017

মনসবদার জায়গিরদার

মূল লেখার লিংক
মনে করেন মোগল আমল। ঝিরিঝিরি বাতাস। বড় চাচা দূর কাবুল থেকে সফর শেষ করে এসে মাথায় হাত বুলায় কইলেন এই নাও বাছা মিষ্টি খাও। আখরোট খাও। কতদিন পরে দেখা। পড়াশোনা কেমন চলছে? বড় হয়ে কি হবে ঠিক কি করেছ?

আপনি কি বলবেন… ডাক্তার হতে চাই? আশিব্বাদ করেন চাচাজান যেন সফটওয়্যার ডেভেলপার হতে পারি? ধুর না। আপনি কইবেন বড় মানুষ হইতে চাই। নামজাদা ব্যক্তি। চার মহলা দালান। শুক্রবারে খাসির বিরিয়ানি। পায়ের উপর পা তুলে সুখে বসবাস। অতএব আপনি বলবেন মনসবদার হতে চাই। জায়গিরদার হতে চাই চাচা দোয়া রাইখেন।

চলেন পাঠক আজ তাহলে মনসবদারি জায়গিরদারি ফানাফানা করে দেখি। তারা কি সত্যই চার মহলা দালানে থাকত এবং শুক্রবারে খাসির বিরিয়ানি খেত? তাদের জমা-হাসিল গরমিল কি কারণে? জাট এবং সওয়ার কি বস্তু? মাশরুত খায় না মাথায় দেয়? চৌধুরী আর কানুনগো কে?

মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার। বিষম চিন্তা।

read more »

September 4, 2017

সাবান বিক্রেতা থেকে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠা ইউনিলিভারের আদ্যোপান্ত

মূল লেখার লিংক
বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম মালটিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার। খাদ্য, পানীয়, প্রসাধানী থেকে শুরু করে চার শতাধিক ব্র্যান্ডের পণ্য আছে এই ব্রিটিশ-ডাচ কোম্পানিটির। গৃহস্থালীর পণ্য উৎপাদনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান এটি। তবে এই ইউনিলিভারের নাম এক সময় ইউনিলিভার ছিল না। ১৯৩০ সালে নেদারল্যান্ডসের কোম্পানি ‘মার্জারিন ইউনি’ এবং ব্রিটিশ কোম্পানি ‘লিভার ব্রাদার্স’ মিলে তৈরি করে ইউনিলিভার।

২০১২ সালের এক হিসাব অনুসারে, রাজস্বের দিক থেকে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে আছে এই বহুজাতিক কোম্পানি। প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল এবং নেসলের পরেই আছে ইউনিলিভার। বর্তমানে বিশ্বের ১৯০টি দেশে পণ্য বিক্রি করে তারা।

১৮৮৫ সালে লিভার ব্রাদার্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ব্রিটিশ উদ্যোক্তা উইলিয়াম হেসকেথ লিভার এবং তার ভাই জেমস। এই কোম্পানিটিই বিশ্বের প্রথম প্যাকেটজাত লন্ড্রি সাবান বাজারে আনে। এর নাম ছিল সানলাইট। ১৯১৭ সালের আগ পর্যন্ত কোম্পানিটি শুধু একটি সাবানের কারখানাই ছিল। এরপর তারা খাদ্যদ্রব্যও উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে লিভার ভ্রাতৃদ্বয় মাছ, আইসক্রিম এবং বোতলজাত পানীয়ের ব্যবসা শুরু করেন।

ত্রিশের দশকে এসে নতুন যুগে পদার্পণ করে লিভার ব্রাদার্স। ডাচ কোম্পানি মার্জারিন ইউনির সঙ্গে একীভূত হয়ে শুরু করে লিভার ব্রাদার্স। এর পেছনে কারণ ছিল: মার্জারিন ইউনি প্রাণির চর্বির ব্যবসা করতো। আর সাবান কিংবা মাখন- এগুলো উৎপাদনে চর্বি প্রয়োজন হয়। পঞ্চাশের দশকে এসে ইউনিলিভার বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন, প্যাকেজিং, বাজার গবেষণা এবং বিজ্ঞাপনের দিকে মনোযোগ দেয়।

read more »

September 4, 2017

মুন্সী আব্দুল করিম: রানী ভিক্টোরিয়ার ভালোবাসায় সিক্ত এক ভারতীয় তরুণ

মূল লেখার লিঙ্ক
রানী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর পর ব্রিটেনের রাজসিংহাসনে আরোহণ করলেন রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড। রাজসিংহাসনে বসার ঘন্টাখানেকের মাথায় রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড বরখাস্ত করলেন রানীর অতি ঘনিষ্ঠ এক কর্মচারীকে। ঐ ব্যক্তি রানীর শিক্ষকও ছিলেন। রানী এবং ঐ ব্যক্তির মধ্যকার সকল প্রকার চিঠিপত্র এবং কাগজ পুড়িয়ে ফেলারও আদেশ জারি করেন সপ্তম এডওয়ার্ড। তাৎক্ষণিকভাবে ভারতে ফেরত পাঠালেন সেই ব্যক্তিটিকে। ভারতীয় মুসলিম এই ব্যক্তিটিই ছিলেন রানীর উর্দু ভাষার শিক্ষক এবং রানীর ভারত বিষয়ক সচিব। রানী ভিক্টোরিয়ার জীবনের শেষ ১৫ বছরের অন্যতম কাছের সহকারীও ছিলেন এই ব্যক্তি। ভিক্টোরিয়ার ৮০ তম জন্মদিন উপলক্ষে রানী তাকে ‘কমান্ডার অফ দ্য অর্ডার (CVO)’ নামক সম্মানেও ভূষিত করেছিলেন। কিন্তু সিংহাসনে বসেই কেন রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড দৃশ্যমান কোনো অপরাধ ছাড়াই বরখাস্ত করলেন তার মায়ের খুব কাছের এই মানুষটিকে?

রাজপরিবারে ভারতীয় কেন?

রানী ভিক্টোরিয়া ভারতীয়দের ব্যাপারে অনেক বেশি কৌতূহলী ছিলেন। তাই রানীর সিংহাসনে বসার ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ভারত থেকে দুজন কর্মচারী আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক ‘মোহাম্মদ বকস’ আর ‘মোহাম্মদ আবদুল করিম’ নামের এই দুজন ভারতীয়কে ব্রিটেনে নিয়ে আসা হয়। তারা দুজন নিয়োগ পান রাজপরিবারের ‘খিদমতগার’ বা ‘রাজকীয় খাদ্য পরিবেশক’ হিসাবে। রানী ভিক্টোরিয়ার নোটবুক থেকে জানা যায়, তার সাথে ভারতবর্ষ থেকে আসা দুই কর্মচারীর সাথে তার প্রথম দেখা হয় ১৮৮৭ সালের ৩ জুন উইন্ডসর দুর্গে। এই দুই রাজ কর্মচারীর সাথে প্রথম দেখার কথা রানী তার দিনলিপিতে এভাবে লিখে রেখেছেন

“The one Mohammed Buksh, very dark with a very smiling expression… and the other, much younger, called Abdul Karim, is much lighter, tall and with a fine, serious countenance. They both kissed my feet.”

খিদমতগার থেকে রানীর শিক্ষক

একদিন খাবার টেবিলে পরিবেশনকৃত একটি খাবার বেশ ভালো লাগে ভিক্টোরিয়ার। তিনি জানতে চান কে রান্না করেছে এই খাবার। ভারতীয় খিদমতগার মোহাম্মদ আবদুল করিম রেঁধেছিলেন সেটি। ২৪ বছর বয়সী সুঠাম ভারতীয় তরুণ করিমকে পুনরায় দেখে বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেন রানী ভিক্টোরিয়া।


তরুণ আব্দুল করিম

read more »

September 4, 2017

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ: মহামতি আকবরের উত্থান উপাখ্যান

মূল লেখার লিংক
মাত্র ত্রিশ বছরের ব্যবধানে ফের পানিপথ প্রান্তরে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। এক প্রান্তে মোঘলবাহিনী প্রস্তুত। তাদের নেতৃত্বে আছেন সম্রাট আকবরের সুদক্ষ অভিভাবক বৈরাম খান। অপরপ্রান্তে মোঘলদের তুলনায় শক্তিশালী ফৌজ নিয়ে দন্ডায়মান সম্রাট হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য হিমু। পানিপথের প্রথম যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই মোঘলরা ফের জড়ো হয়েছে এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে।

এখনো কান পাতলে হয়তো বাবর বাহিনীর জয়োল্লাস শুনতে পাওয়া যাবে।  বাতাসে মিলিয়ে যায়নি মোঘলদের বারুদের গন্ধও। কিন্তু হারিয়ে গিয়েছে তাদের সাম্রাজ্য। প্রথম যুদ্ধের তাজা স্মৃতিকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে মোঘলরা পুনরায় দিল্লী অধিকারের সংকল্পে অটল। অপরদিকে অপরাজিত সম্রাট হিমু তার মসনদ রক্ষার্থে বদ্ধপরিকর।

পানিপথের প্রথম যুদ্ধে মোঘলদের অধিকৃত দিল্লীর পতন হয়েছে আফগানদের হাতে। তারপর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মোঘলরা ধীরে ধীরে তাদের শক্তি ফিরে পেতে শুরু করে। কিন্তু মোঘল সম্রাট হুমায়ুনের আকস্মিক মৃত্যুতে থমকে দাঁড়ায় তাদের জয়রথ। মাত্র তের বছর বয়সী সম্রাট আকবর হয়ে ওঠেন তাদের আশা-ভরসার প্রতীক। কিশোর সম্রাটের অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করা হয় বিশ্বস্ত বৈরাম খানকে। অকুতোভয় বৈরাম খান অপেক্ষাকৃত দুর্বল বাহিনী নিয়ে মোঘলদের হৃত গৌরব উদ্ধারের লক্ষ্যে পানিপথ প্রান্তরে সম্রাট হিমুর বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় সেই ঐতিহাসিক পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধকে ঘিরে।

আফগানদের ত্রাণকর্তা বিক্রমাদিত্য হিমু

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আফগানদের অধিপতি সম্রাট হিমুর উত্থান বেশ নাটকীয়। কারণ, প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন সামান্য একজন মুদি দোকানদার। শের শাহ (অপর নাম ইসমাইল শাহ) এর অধীনে তিনি দিল্লীর হাট-বাজার পরিদর্শক হিসেবে নিযুক্ত হন। তার কর্মকাণ্ডে মুগ্ধে হয়ে শের শাহ তাকে পাঞ্জাবের গভর্ণর নিযুক্ত করেন। শের শাহের মৃত্যু পর্যন্ত তিনি গভর্ণর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


বিক্রমাদিত্য হিমুর মূর্তি

read more »

August 27, 2017

সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর উপাখ্যান

মূল লেখার লিংক
দেশ কী? কখনো মনে হয়, হয়তো স্রেফ মানচিত্রে দাগ টানা সীমারেখা বা জোর করে চাপিয়ে দেয়া কাঁটাতারের নামই দেশ। কিন্তু পরক্ষণেই দ্বন্দ্বে পড়ে যেতে হয়। এ সীমারেখার মধ্যে সার্বভৌমত্ব অর্জনের জন্য যুগে যুগে কত রক্তপাত, কত না বলিদানই হয়েছে। ‘সার্বভৌমত্ব’, ‘স্বাধীনতা’- এ শব্দগুলো যেন প্রাণের সবটুকু উচ্ছ্বাস ধারণ করে থাকে।

ইতিহাসের পাতায় অনেক জাতি যেমন স্বর্ণাক্ষরে নিজেদের স্বাধীনতা অর্জনের গল্প লিখেছে, তেমনি এর পাশাপাশি কালো হরফে লেখা স্বাধীনতা হারানোর অধ্যায়ের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন দেশের কথা বলতে গেলেই চলে আসে সিকিমের নাম।

মাত্র ৭,০৯৬ বর্গ কিলোমিটারের ছোট্ট দেশ সিকিমের জনগণও স্বাধীনতা চেয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা যখন উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যায়, তখন সিকিমে ‘ভারতের সাথে তারা যুক্ত হতে ইচ্ছুক কিনা’ এ প্রশ্নে গণভোট হয়েছিল। সিকিমের জনগণ প্রত্যাখ্যান করে এ প্রস্তাব। কিন্তু এরপর তিরিশ বছর না পেরোতেই এক বিশ্বাসঘাতক, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর কূটচাল ও সিকিমের রাজার সরলতায় সিকিম হয়ে ওঠে ভারতের প্রদেশ।

সিকিমের ভারতের প্রদেশ হয়ে ওঠার সফরটা বুঝতে হলে একটু ব্রিটিশ-ভারতের সময়ে ফিরে তাকানো দরকার। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিকিমের উপর আধিপত্যবাদীদের লোভাতুর দৃষ্টি ছিল সবসময়ই। উনবিংশ শতকের প্রথম দিকে প্রতিনিয়ত নেপালের গোর্খা রাজ্যের হামলায় উৎকণ্ঠিত ছিল সিকিম। গোর্খা রাজ্য হামলা চালাত সংলগ্ন ব্রিটিশ ভারতের রাজ্যগুলোতেও। তাই সহজেই সে সময় সিকিম ও ব্রিটিশ রাজ গোর্খাদের বিরুদ্ধে এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়। এরপর ১৮১৪ সালে শুরু হওয়া ব্রিটিশ-নেপাল যুদ্ধে নেপাল পরাজিত হয়। আর এক চুক্তি অনুসারে সিকিম ফিরে পায় নেপাল অধিকৃত তার অংশগুলো।


এ চুক্তির ফলে নেপাল অধিকৃত অংশগুলো ফিরে পায় সিকিম

read more »

August 25, 2017

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ: মোঘল সূর্যোদয়ে অস্তমিত দিল্লী সালতানাত

মূল লেখার লিংক
পানিপথ প্রান্তরে তখন থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। বাতাসের জোরালো আগ্রাসন আর ক্ষণে ক্ষণে ডেকে ওঠা যুদ্ধবাজ হাতি-ঘোড়ার ধ্বনি ব্যতীত আর কোনো শব্দ নেই।

একদিকে মোঘল অধিপতি বাবর তার ছোট সৈন্যদল নিয়ে প্রস্তুত। প্রায় আট হাজার সৈনিক সতর্কতার সাথে কান পেতে আছে বাবরের দিকে। যেকোনো সময় তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে বাবরের নির্দেশে। অপরদিকে অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকা ইব্রাহিম লোদির সুসজ্জিত বাহিনী। কারণ বাবরের চেয়ে তাদের শক্তিসংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বড়। লোদির সৈনিকরা প্রথমদিকে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছিলেন বাবরের স্পর্ধা দেখে। বাবরকে উচিত শিক্ষা দেবার জন্য বদ্ধপরিকর সুলতানের বাহিনী। পানিপথ প্রান্তরে দু’পক্ষ অবস্থান করছেন প্রায় ৮ দিন ধরে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ কারো দিকে আক্রমণ চালাননি। ওদিকে বাবরের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। তিনি হাত উঁচু করে ইশারা করলেন।

মুহূর্তের মধ্যে বেজে উঠলো যুদ্ধের দামামা। হুংকার দিতে দিতে দু’পক্ষ এগিয়ে যেতে লাগলো একে অপরের দিকে। যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, পানিপথের যুদ্ধ!

পানিপথের প্রান্তর উপমহাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র। ভারতবর্ষের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মোঘল সাম্রাজ্যের উত্থান থেকে শুরু করে শক্তিশালী মারাঠাদের পতন পর্যন্ত প্রায় তিনটি বড় যুদ্ধের সাক্ষী হয়ে এখনো ইতিহাসের পাতায় অবিনশ্বর হয়ে আছে পানিপথ প্রান্তর।

পানিপথ প্রান্তর

পানিপথ কোনো জলপথের নাম নয়। রাজধানী দিল্লীর উত্তরে অবস্থিত পানিপথ ভারতের হারিয়ানা প্রদেশের একটি শহরের নাম। মহাভারত অনুযায়ী, পানিপথ পঞ্চপাণ্ডব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পাঁচটি শহরের মধ্যে অন্যতম। মহাভারতের ইতিহাস ছাপিয়ে পানিপথ মুখ্য হয়ে আছে মূলত পানিপথ প্রান্তরে ঘটে যাওয়া তিনটি বড় যুদ্ধের কারণে।


মানচিত্রে পানিপথের অবস্থান

read more »

August 23, 2017

মক্কা নগরীর জানা-অজানা এক রক্তাক্ত ইতিহাস

মূল লেখার লিংক

কাবা, পৃথিবী জুড়ে মুসলিমদের কাছে পবিত্রতম স্থান, অবস্থান তার মক্কা নগরীতে, যার পেছনে আছে সহস্র বছরের ইতিহাস। কিন্তু এই ইতিহাসের বেশিরভাগই আসলে অনেক মানুষের কাছে অজানা। কেবল হজ্ব বা ওমরা করতে এই পবিত্র তীর্থস্থানে যান মুসলিমরা, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর জন্ম আর বেড়ে ওঠা এ মক্কা শহরে- এটুকুই সবার সাধারণভাবে জানা। কিন্তু এই কাবা নিয়ে যে রক্তাক্ত অজানা ইতিহাস আছে সেটা অনেকে শুনলেই কেন যেন আঁতকে ওঠেন। এরকম পবিত্র স্থানেও কেউ রক্ত ঝরাতে পারে? বর্তমান সময়ের বিশ্বজুড়ে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ আর প্রাণহানির পর পবিত্র জায়গাও যে অক্ষত থাকতে পারে, এমনটা আশা করা অলীক। যুগে যুগে অনেকবারই কাবাতেও হয়েছে রক্তপাত। আজকে চলুন মক্কা বা কাবার ইতিহাস জেনে আসা যাক। হয়ত এর বেশিরভাগ আপনার অজানা।


২০০৮ সালে হজ্জ্বের সময় মক্কা

read more »

August 20, 2017

হরেক নামের ঢাকা

মূল লেখার লিংক

ঢাকা নামের নগরের আনুষ্ঠানিক শুরু সেই ১৬১০ (মতান্তরে ১৬০৮), মোঘলদের হাতে। বাংলা ছিল প্রায় সবসময়ই বিদ্রোহী, অধিকাংশ সময় প্রায় স্বাধীন। এ কারণে নানা ঝড়-ঝাপটা, উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে এ নগরী, বার বার পেয়েছে ও হারিয়েছে রাজধানীর সম্মান। সামরিক ছাউনি বা সাম্রাজ্যের শেষ সীমানায় প্রতিরোধ কেন্দ্র থেকে কখনো পরিণত হয়েছে বন্দরশোভিত বাণিজ্য নগরীতে। নানা পট ও পালাবদলের খেলায় ঢাকায় সমাগম হয়েছিলো নানা জাতের, নানা দেশের নানান কিসিমের মানুষের, সামরিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন উদ্দেশ্যে। একাধিক প্রশাসনের অধীনে, নানান সময়ে, নানা কর্মজীবীর কর্মে বা বসতির নামে বিভিন্ন ভাষায়, নাম হয়েছে ঢাকার পুরনো বিভিন্ন স্থানের। তেমন কয়েকটি স্থানের নাম নিয়ে এ লেখা।

read more »

August 20, 2017

কলিঙ্গ যুদ্ধ: উপমহাদেশের ইতিহাসে এক রক্তক্ষয়ী উপাখ্যান

মূল লেখার লিংক
লাশের স্তূপ থেকে এক আহত সৈনিক বের হয়ে এসেছেন। সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত এই সৈনিক জ্ঞান হারিয়ে চাপা পড়েছিলেন লাশের স্তূপের নিচে। জ্ঞান ফেরার পর থেকেই তার প্রচণ্ড তৃষ্ণাবোধ হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রের পাশ দিয়ে বয়ে চলা দায়া নদীর দিকে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এক আঁজলা পানি না পেলে এই যাত্রা আর বাঁচবেন না এই তার আশঙ্কা!

নদীর কাছাকাছি চলে আসার পর উঠে বসলেন সৈনিক। যেই না পানি স্পর্শ করতে যাবেন, তখনই ভয়ে শিউরে উঠলেন তিনি। অস্ফুট স্বরে বলে উঠলেন, “পানি কোথায়?”

বিশাল দায়া নদীর পানি শুকিয়ে যায়নি। তা কল্পনায়ও অসম্ভব! তাহলে কী দেখে ভয় পেয়েছিলেন সেই সৈনিক? নদীর পানি ঠিকই বয়ে চলছিল আপন খেয়ালে। কিন্তু সেদিন দায়া নদীর পানি ঠিক আমাদের পরিচিত রঙহীন পানির মতো ছিল না। সেই পানির রঙ ছিল টকটকে লাল!

হ্যাঁ, কলিঙ্গ যুদ্ধের কথাই বলছিলাম। উপমহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত যুদ্ধ সম্রাট অশোকের কলিঙ্গ যুদ্ধ। যুদ্ধের রক্তপাতের তীব্রতা এতোই ছিল যে, কলিঙ্গের দায়া নদী সৈনিকদের বুকের রক্তে টকটকে লাল হয়ে গিয়েছিল। আমাদের আজকের আলোচনা সেই ঐতিহাসিক কলিঙ্গ যুদ্ধকে ঘিরেই।

কলিঙ্গ একটি রাজ্যের নাম

কলিঙ্গ যুদ্ধ সংঘটিত হয় মৌর্য বংশের সম্রাট অশোক এবং প্রাচীন ভারতের শক্তিশালী রাজ্য কলিঙ্গের মধ্যে। প্রাচীন ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজ্য কলিঙ্গের পূর্বদিকে গঙ্গা এবং উত্তরে গোদাবরী নদী বয়ে চলেছে। এর উত্তরে মৌর্য সাম্রাজ্যের দক্ষিণ রাজ্য অবস্থিত ছিল। বর্তমানে মানচিত্রে চোখ বুলালে প্রাচীন কলিঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ নগরীসমূহকে নব্য উড়িষ্যার মাঝে খুঁজে পাওয়া যাবে


প্রাচীন ভারতের মানচিত্রে কলিঙ্গ

read more »

August 7, 2017

কে এই দালাইলামা?

মূল লেখার লিংক

‘দালাইলামা’ পৃথিবীর ছাদে থাকা এককালের নিষিদ্ধ রাজ্য তিব্বতের ধর্মগুরুর পদবী। তিব্বতে বৌদ্ধধর্মের ‘গেলুগ’ নামের যে শাখাটি প্রচলিত আছে, তার প্রধান ধর্মগুরুকে দালাইলামা নামে অভিহিত করা হয়। মোঙ্গলীয় ভাষায় ‘দালাই’ শব্দের অর্থ সমুদ্র আর সংস্কৃত ‘লামা’ শব্দের অর্থ গুরু বা আধ্যাত্মিক শিক্ষক। অর্থাৎ দালাইলামা শব্দটির পূর্ণ অর্থ দাঁড়ায় এমন এক শিক্ষক যার জ্ঞান বা আধ্যাত্মিকতা সমুদ্রের মতোই গভীর। অন্যদিকে দালাইলামাদের নামের সাথে গিয়াৎসু শব্দটি যুক্ত থাকে। যেমন বর্তমান দালাইলামার নাম তেনজিন গিয়াৎসু। তিব্বতীয় ভাষায় এই ‘গিয়াৎসু’ শব্দের অর্থও সমুদ্র। যে শব্দটি আসলে দালাইলামার সাথে অনেকটাই সমার্থক। কিন্তু তাহলে দালাইলামা শব্দটির উৎপত্তি হয়েছিলো কীভাবে? চলুন জেনে নিই কে এই দালাইলামা?

read more »

July 30, 2017

মানসিকভাবে শক্তিশালী মানুষ যে দশটি কাজ অবশ্যই করবে না

মূল লেখার লিংক
আমরা প্রতিনিয়তই শক্তিশালী এবং সুস্থ দেহ প্রত্যাশা করি। কর্মক্ষম থাকার জন্য শারীরিক কসরত করি। শরীরের পর্যাপ্ত পুষ্টির প্রয়োজনে ভালো খাবার খাই এবং শরীরের প্রয়োজনেই আবার অনেক কিছু এড়িয়েও চলি। কিন্তু শারীরিক শক্তিমত্তার সাথে সাথে মানসিক সুস্থতা, মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার জন্য করণীয় কাজগুলো আমাদের করা হয়ে ওঠে না। আমাদের সফলতা, সুখী থাকা, জীবনটাকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নিয়ে চলার পুরো ব্যাপারটি যে মানসিক শক্তিমত্তার উপর নির্ভর করে, সে ব্যাপারে আমদের কোনো ধারণাই নেই।

read more »

July 30, 2017

জামরঃ ফরাসি বিপ্লবে বাংলার বিপ্লবী

মূল লেখার লিংক
দিনের পর দিন কলুর বলদের মতো খেটে মরবে সমাজের সিংহভাগ জনগণ। আর মনুষ্যসৃষ্ট জাতিভেদের দোহাই দিয়ে ফায়দা লুটে লাভের গুঁড় খাবে সংখ্যালঘু অভিজাত সমাজ। সমাজের আপমর জনতা মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও দিনাতিপাত করতে বাধ্য হয় সতত; অন্যদিকে আলস্যসকাশে মহানন্দে থাকছে এক বিশেষ সিন্ডিকেট শ্রেণী। লঘু পাপকে গুরু দন্ডে প্রতিবিহিতের বরাদ্দ কেবল দলিতের নোনতা ললাটের জন্যে; অথচ বিচারের বাণী জাত্যাভিমানের মারপ্যাঁচে হারিয়ে যায় সভ্যতার আস্তাকুঁড়েতে। কঠোর পরিশ্রমের পরেও করের অন্যায় বোঝা চাপে শুধু মজলুমের ঘাড়ে আর জালিমের ধন-ভান্ডার সমৃদ্ধির পথে বলগা হরিণের ন্যায় ছুটে চলে।

সমাজে যখন এই উল্টো চলার নীতি পরিগৃহীত হয়, তখন প্রতিবাদী প্রতিরোধ প্রতিটি পরিক্লিষ্ট প্রকোষ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়। অত্যাচারিতের জর্জর পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গিয়ে তাকে অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দেয়, জীবনের তাগিদে সে তখন প্রাণের মায়ার বীরোচিত বিসর্জনেও থাকে অকুতোভয়। ফরাসিরা ভিতরে ভিতরে ফুঁসে উঠেছিল; দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ তখন সময়ের ব্যাপার ছিল। অসহ্য মাত্রায় নিষ্পেষিত জনগণ একাট্টা হয়ে ওঠে; হয়ে ওঠে প্রতিবাদী। তাদের প্রতিবাদী সুরে ওঠে বিপ্লবের জাগ্রত রাগিণী। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, বলছি ইউরোপের দিনবদলের পাঞ্জেরী ফরাসি বিপ্লবের কথা। এটা তো আমরা সবাই জানি যে, অষ্টাদশ শতকের ফরাসি বিপ্লব সমগ্র বিশ্বের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব প্রভাব (সেটা কম হোক বা বেশি) রেখেছিল। কিন্তু আমাদের কি জানা আছে, সেই দিন বদলের বসন্তে বিশেষ অবদান রেখে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে এক বাঙালি যুবা! সমুদ্রসকাশে বড় হয়ে ওঠা চট্টগ্রামের জামর ছিল ফরাসি বিপ্লবের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র! আসুন, পরিচিত হই তৎকালীন সুবা বাংলার বাঙালি জামরের সাথে।


বাস্তিল দুর্গে ফরাসি জনতার অধিকারের বিপ্লব

read more »