Archive for September 4th, 2017

September 4, 2017

মনসবদার জায়গিরদার

মূল লেখার লিংক
মনে করেন মোগল আমল। ঝিরিঝিরি বাতাস। বড় চাচা দূর কাবুল থেকে সফর শেষ করে এসে মাথায় হাত বুলায় কইলেন এই নাও বাছা মিষ্টি খাও। আখরোট খাও। কতদিন পরে দেখা। পড়াশোনা কেমন চলছে? বড় হয়ে কি হবে ঠিক কি করেছ?

আপনি কি বলবেন… ডাক্তার হতে চাই? আশিব্বাদ করেন চাচাজান যেন সফটওয়্যার ডেভেলপার হতে পারি? ধুর না। আপনি কইবেন বড় মানুষ হইতে চাই। নামজাদা ব্যক্তি। চার মহলা দালান। শুক্রবারে খাসির বিরিয়ানি। পায়ের উপর পা তুলে সুখে বসবাস। অতএব আপনি বলবেন মনসবদার হতে চাই। জায়গিরদার হতে চাই চাচা দোয়া রাইখেন।

চলেন পাঠক আজ তাহলে মনসবদারি জায়গিরদারি ফানাফানা করে দেখি। তারা কি সত্যই চার মহলা দালানে থাকত এবং শুক্রবারে খাসির বিরিয়ানি খেত? তাদের জমা-হাসিল গরমিল কি কারণে? জাট এবং সওয়ার কি বস্তু? মাশরুত খায় না মাথায় দেয়? চৌধুরী আর কানুনগো কে?

মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার। বিষম চিন্তা।

read more »

Advertisements
September 4, 2017

সাবান বিক্রেতা থেকে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠা ইউনিলিভারের আদ্যোপান্ত

মূল লেখার লিংক
বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম মালটিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার। খাদ্য, পানীয়, প্রসাধানী থেকে শুরু করে চার শতাধিক ব্র্যান্ডের পণ্য আছে এই ব্রিটিশ-ডাচ কোম্পানিটির। গৃহস্থালীর পণ্য উৎপাদনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান এটি। তবে এই ইউনিলিভারের নাম এক সময় ইউনিলিভার ছিল না। ১৯৩০ সালে নেদারল্যান্ডসের কোম্পানি ‘মার্জারিন ইউনি’ এবং ব্রিটিশ কোম্পানি ‘লিভার ব্রাদার্স’ মিলে তৈরি করে ইউনিলিভার।

২০১২ সালের এক হিসাব অনুসারে, রাজস্বের দিক থেকে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে আছে এই বহুজাতিক কোম্পানি। প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল এবং নেসলের পরেই আছে ইউনিলিভার। বর্তমানে বিশ্বের ১৯০টি দেশে পণ্য বিক্রি করে তারা।

১৮৮৫ সালে লিভার ব্রাদার্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ব্রিটিশ উদ্যোক্তা উইলিয়াম হেসকেথ লিভার এবং তার ভাই জেমস। এই কোম্পানিটিই বিশ্বের প্রথম প্যাকেটজাত লন্ড্রি সাবান বাজারে আনে। এর নাম ছিল সানলাইট। ১৯১৭ সালের আগ পর্যন্ত কোম্পানিটি শুধু একটি সাবানের কারখানাই ছিল। এরপর তারা খাদ্যদ্রব্যও উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে লিভার ভ্রাতৃদ্বয় মাছ, আইসক্রিম এবং বোতলজাত পানীয়ের ব্যবসা শুরু করেন।

ত্রিশের দশকে এসে নতুন যুগে পদার্পণ করে লিভার ব্রাদার্স। ডাচ কোম্পানি মার্জারিন ইউনির সঙ্গে একীভূত হয়ে শুরু করে লিভার ব্রাদার্স। এর পেছনে কারণ ছিল: মার্জারিন ইউনি প্রাণির চর্বির ব্যবসা করতো। আর সাবান কিংবা মাখন- এগুলো উৎপাদনে চর্বি প্রয়োজন হয়। পঞ্চাশের দশকে এসে ইউনিলিভার বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন, প্যাকেজিং, বাজার গবেষণা এবং বিজ্ঞাপনের দিকে মনোযোগ দেয়।

read more »

September 4, 2017

মুন্সী আব্দুল করিম: রানী ভিক্টোরিয়ার ভালোবাসায় সিক্ত এক ভারতীয় তরুণ

মূল লেখার লিঙ্ক
রানী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর পর ব্রিটেনের রাজসিংহাসনে আরোহণ করলেন রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড। রাজসিংহাসনে বসার ঘন্টাখানেকের মাথায় রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড বরখাস্ত করলেন রানীর অতি ঘনিষ্ঠ এক কর্মচারীকে। ঐ ব্যক্তি রানীর শিক্ষকও ছিলেন। রানী এবং ঐ ব্যক্তির মধ্যকার সকল প্রকার চিঠিপত্র এবং কাগজ পুড়িয়ে ফেলারও আদেশ জারি করেন সপ্তম এডওয়ার্ড। তাৎক্ষণিকভাবে ভারতে ফেরত পাঠালেন সেই ব্যক্তিটিকে। ভারতীয় মুসলিম এই ব্যক্তিটিই ছিলেন রানীর উর্দু ভাষার শিক্ষক এবং রানীর ভারত বিষয়ক সচিব। রানী ভিক্টোরিয়ার জীবনের শেষ ১৫ বছরের অন্যতম কাছের সহকারীও ছিলেন এই ব্যক্তি। ভিক্টোরিয়ার ৮০ তম জন্মদিন উপলক্ষে রানী তাকে ‘কমান্ডার অফ দ্য অর্ডার (CVO)’ নামক সম্মানেও ভূষিত করেছিলেন। কিন্তু সিংহাসনে বসেই কেন রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড দৃশ্যমান কোনো অপরাধ ছাড়াই বরখাস্ত করলেন তার মায়ের খুব কাছের এই মানুষটিকে?

রাজপরিবারে ভারতীয় কেন?

রানী ভিক্টোরিয়া ভারতীয়দের ব্যাপারে অনেক বেশি কৌতূহলী ছিলেন। তাই রানীর সিংহাসনে বসার ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ভারত থেকে দুজন কর্মচারী আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক ‘মোহাম্মদ বকস’ আর ‘মোহাম্মদ আবদুল করিম’ নামের এই দুজন ভারতীয়কে ব্রিটেনে নিয়ে আসা হয়। তারা দুজন নিয়োগ পান রাজপরিবারের ‘খিদমতগার’ বা ‘রাজকীয় খাদ্য পরিবেশক’ হিসাবে। রানী ভিক্টোরিয়ার নোটবুক থেকে জানা যায়, তার সাথে ভারতবর্ষ থেকে আসা দুই কর্মচারীর সাথে তার প্রথম দেখা হয় ১৮৮৭ সালের ৩ জুন উইন্ডসর দুর্গে। এই দুই রাজ কর্মচারীর সাথে প্রথম দেখার কথা রানী তার দিনলিপিতে এভাবে লিখে রেখেছেন

“The one Mohammed Buksh, very dark with a very smiling expression… and the other, much younger, called Abdul Karim, is much lighter, tall and with a fine, serious countenance. They both kissed my feet.”

খিদমতগার থেকে রানীর শিক্ষক

একদিন খাবার টেবিলে পরিবেশনকৃত একটি খাবার বেশ ভালো লাগে ভিক্টোরিয়ার। তিনি জানতে চান কে রান্না করেছে এই খাবার। ভারতীয় খিদমতগার মোহাম্মদ আবদুল করিম রেঁধেছিলেন সেটি। ২৪ বছর বয়সী সুঠাম ভারতীয় তরুণ করিমকে পুনরায় দেখে বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেন রানী ভিক্টোরিয়া।


তরুণ আব্দুল করিম

read more »

September 4, 2017

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ: মহামতি আকবরের উত্থান উপাখ্যান

মূল লেখার লিংক
মাত্র ত্রিশ বছরের ব্যবধানে ফের পানিপথ প্রান্তরে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। এক প্রান্তে মোঘলবাহিনী প্রস্তুত। তাদের নেতৃত্বে আছেন সম্রাট আকবরের সুদক্ষ অভিভাবক বৈরাম খান। অপরপ্রান্তে মোঘলদের তুলনায় শক্তিশালী ফৌজ নিয়ে দন্ডায়মান সম্রাট হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য হিমু। পানিপথের প্রথম যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই মোঘলরা ফের জড়ো হয়েছে এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে।

এখনো কান পাতলে হয়তো বাবর বাহিনীর জয়োল্লাস শুনতে পাওয়া যাবে।  বাতাসে মিলিয়ে যায়নি মোঘলদের বারুদের গন্ধও। কিন্তু হারিয়ে গিয়েছে তাদের সাম্রাজ্য। প্রথম যুদ্ধের তাজা স্মৃতিকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে মোঘলরা পুনরায় দিল্লী অধিকারের সংকল্পে অটল। অপরদিকে অপরাজিত সম্রাট হিমু তার মসনদ রক্ষার্থে বদ্ধপরিকর।

পানিপথের প্রথম যুদ্ধে মোঘলদের অধিকৃত দিল্লীর পতন হয়েছে আফগানদের হাতে। তারপর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মোঘলরা ধীরে ধীরে তাদের শক্তি ফিরে পেতে শুরু করে। কিন্তু মোঘল সম্রাট হুমায়ুনের আকস্মিক মৃত্যুতে থমকে দাঁড়ায় তাদের জয়রথ। মাত্র তের বছর বয়সী সম্রাট আকবর হয়ে ওঠেন তাদের আশা-ভরসার প্রতীক। কিশোর সম্রাটের অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করা হয় বিশ্বস্ত বৈরাম খানকে। অকুতোভয় বৈরাম খান অপেক্ষাকৃত দুর্বল বাহিনী নিয়ে মোঘলদের হৃত গৌরব উদ্ধারের লক্ষ্যে পানিপথ প্রান্তরে সম্রাট হিমুর বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় সেই ঐতিহাসিক পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধকে ঘিরে।

আফগানদের ত্রাণকর্তা বিক্রমাদিত্য হিমু

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আফগানদের অধিপতি সম্রাট হিমুর উত্থান বেশ নাটকীয়। কারণ, প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন সামান্য একজন মুদি দোকানদার। শের শাহ (অপর নাম ইসমাইল শাহ) এর অধীনে তিনি দিল্লীর হাট-বাজার পরিদর্শক হিসেবে নিযুক্ত হন। তার কর্মকাণ্ডে মুগ্ধে হয়ে শের শাহ তাকে পাঞ্জাবের গভর্ণর নিযুক্ত করেন। শের শাহের মৃত্যু পর্যন্ত তিনি গভর্ণর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


বিক্রমাদিত্য হিমুর মূর্তি

read more »