নিজের চুল ছেঁড়ার মতো শুধু ভুল!

মূল লেখার লিংক
ভুল থেকে নিতে হয় শিক্ষা। কিন্তু এমন কিছু ভুল থাকে, যার জন্য হাহুতাশ আর পস্তানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। প্রযুক্তি বিশ্বেও এমন কিছু মারাত্মক ভুলের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা প্রতিষ্ঠানকে ডুবিয়েছে আর সম্ভাবনার অকালমৃত্যু ঘটিয়েছে। টেলিগ্রাফ অনলাইনে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। চলুন জেনে আসি প্রযুক্তি বিশ্বের ১১টি ভুল সম্পর্কে।

কোডাক। ছবি: রয়টার্স।
কোডাক। ছবি: রয়টার্স।
১. কোডাকের ভুল
১৯৭৫ সালে ক্যামেরা নির্মাতা কোডাকের এক প্রকৌশলী তাঁর নির্বাহীর কাছে ফিল্মবিহীন ক্যামেরার ধারণা উপস্থাপন করেন। তাঁকে হাসিঠাট্টার মুখোমুখি হতে হয়। তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে ২০১২ সালে এসে দেউলিয়া হয়ে যায় কোডাক। একেই বুঝি বলে ভুলের খেসারত!
ইয়াহু। ছবি: রয়টার্স।
ইয়াহু। ছবি: রয়টার্স।
২. ইয়াহুর ভুল
খুব বেশি দিন আগের ঘটনা নয়! ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ইয়াহু তখন ছিল শীর্ষে আর গুগলের সবে যাত্রা শুরুর সময়কার ঘটনা। গুগলকে কেনার জন্য ইয়াহু বেশ কয়েকবার আলোচনা করেছে। কিন্তু গুগলকে কিনতে ইয়াহুর তেমন আগ্রহ ছিল না বলে আর পাত্তা পাননি গুগলের প্রধান নির্বাহী ল্যারি পেজ। আজ গুগলের দাম সাড়ে চার হাজার কোটি মার্কিন ডলারের ওপরে, ইয়াহু মাত্র ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার।
অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা রন ওয়েন। ছবি: রয়টার্স
অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা রন ওয়েন। ছবি: রয়টার্স
৩. রন ওয়েনের ভুল
অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা কয়জন জানেন কি? স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াকের কথা সবাই জানেন। কিন্তু তিনজন মিলে একটি গ্যারেজে অ্যাপল শুরু করেছিলেন। অ্যাপলের সেই সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন রন ওয়েন। ১৯৭৬ সালে অ্যাপলে থাকা ১০ শতাংশ শেয়ার মাত্র ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি করে দেন রন। আজকের বাজারে তাঁর ওই শেয়ার থাকলে তার আর্থিক মূল্য ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেত!
মাইক্রোসফটের জুন। ছবি: রয়টার্স।
মাইক্রোসফটের জুন। ছবি: রয়টার্স।
৪. মাইক্রোসফটের ভুল
মাইক্রোসফটের জুন নামের গান শোনার যন্ত্রের কথা কজন জানেন? অ্যাপলের আইপডকে ঠেকাতে জুন এনেছিল মাইক্রোসফট। কিন্তু তা বড় দেরিতে, ২০০৬ সালে। মাইক্রোসফট যখন জুন ছাড়ল, তার কয়েক মাস পরেই আইফোন বাজারে আনল অ্যাপল।
আইপড। ছবি: রয়টার্স।
আইপড। ছবি: রয়টার্স।
৫. রিয়াল নেটওয়ার্কের ভুল
আইপডের নকশাকারীর নাম টনি ফ্যাডেল। গান শোনার এই যন্ত্রটির ধারণা অ্যাপলকে দেওয়ার আগে রিয়াল নেটওয়ার্ক নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছিলেন ফ্যাডেল। কিন্তু তারা ওই ধারণা গ্রহণ করেনি। এরপর টনি যান অ্যাপলে স্টিভ জবসের কাছে। এরপর গানের জগৎ পাল্টে যায়।
জন স্কালি। ছবি: রয়টার্স।
জন স্কালি। ছবি: রয়টার্স।
৬. জন স্কালির ভুল
১৯৮৫ সালে নিজের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি থেকে বের করে দেওয়া হয় স্টিভ জবসকে। এরপর থেকে শুরু হয় অ্যাপলের পতন। স্টিভ জবসকে অ্যাপল ছাড়তে বাধ্য করা জন স্কালিকে পড়ে যান বিপদে। স্টিভকে তাড়ানো যে ভুল ছিল, তা মানতে বাধ্য হন তিনি। পরে ১৯৯০ সালে আবার অ্যাপলে ফিরে আসেন জবস।
নিনটেনডো । ছবি: রয়টার্স।
নিনটেনডো । ছবি: রয়টার্স।
৭. নিনটেনডোর ভুল
১৯৯০ সালের শুরুর দিকে সনি ও নিনটেনডো একসঙ্গে কাজ করছিল। কিন্তু দুই কোম্পানি একসঙ্গে আর এগোতে পারেনি। সনিকে বাদ দিয়ে নিনটেনডো পড়তে বসা সিডি-আই তৈরিতে ফিলিপসকে নিয়ে কাজ শুরু করে। আর সনি শুরু করে প্লেস্টেশন তৈরির কাজ।

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: