গনিতের রস

মূল লেখার লিংক
কাঁধসংক্রান্ত গণিত বচন
“আমি যদি অন্যদের চেয়ে বেশি দূরের জিনিস দেখে থাকি, তা এই কারণে যে, আমি দৈত্যদের কাঁধে দাঁড়িয়েছিলাম।”:-*—আইজাক নিউটন
“আমি যদি অন্যদের মতো দূরের জিনিস দেখতে না পাই, তা এই কারণে যে, দৈত্যরা আমার কাঁধে দাঁড়িয়েছিল।”:P—হাল আবেলসন
“জ্ঞান-বিজ্ঞানে যেসব দৈত্যের কাঁধে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, আজকে আমরা সেসব দৈত্যের পাশাপাশি বসার মর্যাদাও অর্জন করেছি।” :|—জেরাল্ড হলটন
“গণিতবিদগণ পরস্পরের কাঁধে দাঁড়িয়ে থাকে।”B-)— কার্ল ফ্রেডারিক গাউস

গাণিতিক কুসংস্কার
একজন পদার্থবিদ তার গবেষণাগারের দরজায় ঘোড়ার খুর ঝুলিয়ে রাখলেন। তার সহকর্মীরা তা দেখে খুব অবাক হয়ে গেলেন। তারা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি সত্যি সত্যি বিশ্বাস করো যে ঘোড়ার খুর তোমার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সৌভাগ্য বয়ে আনবে?”
“আরে না, তা কেন, কুসংস্কারে আমি মোটেও বিশ্বাস করি না। তবে শুনেছি বিশ্বাস না করলেও এতে নাকি কাজ হয়!”:|

পাগলাটে যত গনিতবিদঃ
হিমালয় আরোহণ করছে একদল গণিতবিদ। কিন্তু অভিযানের কয়েক ঘন্টা পরই দিক হারিয়ে ফেলল তারা। চারদিকে কেবল তুষারশুভ্র পর্বত আর পর্বত, ঠিক কোথায় তাদের অবস্থান কেউ বের করতে পারল না।
অভিযানে আনা মানচিত্রটি বের করে গভীরভাবে সেটি পর্যবেক্ষণ করল একজন গণিতবিদ। তারপর তাকাল সে চারপাশের ভূমিরূপের দিকে। সবশেষে কম্পাস বের করে সূর্যের অবস্থান দেখে বেশ কিছু হিসেব-নিকেশ করল।
“দেখ, দেখ!” উল্লাসে চিৎকার করে উঠল গণিতবিদ।
“কী হয়েছে, কী!” তীব্র কৌতূহলে অন্যেরা ঘিরে ধরল তাকে।
“ঐ যে দূরের পর্বত চুড়াটা দেখতে পাচ্ছ…” গণিতবিদ বলল।
“হ্যাঁ, হ্যাঁ।” একসাথে উত্তর করে সবাই।
“এই যে মানচিত্র দেখ। মানচিত্র বলছে আমরা এখন তার উপরই দাঁড়িয়ে আছি।” 😐

ছোট বুশের শাসনামল। বিশ্ব পরিস্থিতি পর্যালোচনা চলছে আমেরিকান সিনেটে।
“ইরাকের উম্মুল কসর বন্দরে গতরাতে ভয়ানক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে, মি. প্রেসিডেন্ট। তিন ব্রাজিলিয়ান সৈন্য নিহত হয়েছে এতে।” ডোনাল্ড রামসফিল্ড রিপোর্ট পেশ করল।
“ওহ্‌, কী ভয়ঙ্কর, কী ভয়ঙ্কর!” দু’হাতে নিজের মাথা চেপে ধরে বুশ। টেবিলে কনুই রেখে ঝুঁকে থাকে কিছুক্ষণ।
খানিক নিরবতার পর টেবিল থেকে মাথা তুলে বুশ, প্রশ্ন করে, “আচ্ছা, ডোনাল্ড, কত জন মিলে এক ব্রাজিলয়ান হয়?” 😛

গণিতের এক প্রফেসরের বাসার রান্নাঘরের বেসিনটি নষ্ট হয়ে গেছে। সারানোর জন্য একজন পানির মিস্ত্রি ((plumber) ডাকলেন তিনি। পরদিন মিস্ত্রি এসে বেসিনের কয়েকটি স্ক্রু ঠিক করে দিল, সাথে সাথে বেসিনও ঠিক হয়ে গেল। খুব খুশি হলেন প্রফেসর, কিন্তু মিস্ত্রি যখন মজুরি বিল ধরিয়ে দিল, চোখ একেবারে ছানাবড়া হয়ে গেল তার।
“এ তো আমার এক মাসের বেতনের তিন ভাগের এক ভাগ! দুই মিনিটের একটা কাজের জন্য এত বেশি!” গজগজ করতে লাগলেন প্রফেসর।
“আমি আপনাকে বেশি চার্জ করিনি, বাজারে বর্তমানে এ-ই রেট।” মিস্ত্রি বলল।
দুঃখ চেপে টাকা শোধ করে দিলেন প্রফেসর । মিস্ত্রি তখন সান্ত্বনা দিয়ে বলল, “প্রফেসর হিসেবে আপনার অবস্থাটা আমি বুঝতে পারছি। তা, আপনি কেন বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিয়ে আমাদের কোম্পানিতে জয়েন করেন না? তিন গুণ রোজগার হবে আপনার। তবে আপনি যখন আবেদন করবেন, তাদের বলবেন আপনার পড়াশোনা ক্লাস সেভেন পর্যন্ত মাত্র। তারা কিন্তু আবার শিক্ষিত লোক পছন্দ করে না।”
বাস্তবে সেরকমই হলো। কল সারানোর মিস্ত্রি হিসেবে কাজ পেলেন প্রফেসর, অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ ভালো হলো তার। মাঝেমাঝে কেবল একটি দু’টি স্ক্রু ঠিক করা, মোটামুটি এটুকুই কাজ, কিন্তু বেতন বাড়তে লাগল।
একদিন কোম্পানির বোর্ড ঠিক করল কাজে দক্ষতার জন্য সকল মিস্ত্রিকে নৈশ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে অষ্টম শ্রেণী পাস করতে হবে। প্রফেসরকেও যেতে হলো।
ঘটনাক্রমে প্রথম দিনেই গণিতের ক্লাস। নৈশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান পরীক্ষা করার জন্য তাদের বৃত্তের ক্ষেত্রফলের সূত্র জিজ্ঞাসা করলেন। প্রফেসরকেই ধরলেন প্রথমে।
ব্ল্যাকবোর্ডের কাছে গিয়ে প্রফেসর বুঝতে পারলেন সূত্র ভুলে গেছেন তিনি। সূত্রটি নিয়ে ভাবতে লাগলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর ইন্টেগ্রেশান, ডিফারেন্সিয়েশান এবং উচ্চতর গণিতের আরো অন্যান্য প্রতীক ও সূত্রে ব্ল্যাকবোর্ড ভরে উঠল। একসময় বৃত্তের ক্ষেত্রফলের সূত্রটি বের করলেন তিনি, A = -πr^2। কিন্তু ক্ষেত্রফলে নেগেটিভ চিহ্ন পছন্দ হলো না তার। তাই সব মুছে আবার প্রথম থেকে শুরু করলেন, আবারও সূত্র আসলো A = -πr^2।
খুব হতাশ হয়ে গেলেন প্রফেসর। ভয়ার্ত চোখে ক্লাসের দিকে তাকালেন তিনি, দেখলেন সবাই ফিসফিস করে তাকে বলছে, “আরে মিয়া, লিমিট দুইটা উল্টাইয়া দাও, উল্টাইয়া দাও।” 😉

বেলুনে ভ্রমণরত এক লোক হঠাৎ আবিষ্কার করল সে পথ হারিয়ে ফেলেছে। বেলুনকে একটু নিচে নামিয়ে সে চিৎকার দিল, “হাই, আমাকে একটু সাহায্য করতে পার? এক ঘন্টা আগে এক বন্ধুর সাথে দেখা করার কথা ছিল আমার, কিন্তু পথ হারিয়ে ফেলায় আমি বুঝতে পারছি না কোথায় এসেছি।”
নিচের লোকটি জবাব দিল, “তুমি রয়েছে উষ্ণ এক বেলুনে, ভূমি থেকে ৩৫ ফুট উঁচুতে, ৫৫ থেকে ৫৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ২৯ থেকে ৩০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমাংশের মধ্যে।”
“তুমি নিশ্চয়ই একজন গণিতবিদ।” বেলুনচারী বলে উঠে।
“হ্যাঁ, ঠিক ধরেছ তো! কিন্তু কীভাবে বুঝতে পারলে?” পথিক অবাক হয়ে উত্তর দেয়।
“হুম,” বেলুনচারী জবাব দেয়, “তোমার উত্তর গাণিতিকভাবে সঠিক, কিন্তু এসব তথ্য আমার কী কাজে লাগবে বুঝতে পারছি না। আসল ব্যাপার হল আমি এখনও আগের মতো পথ হারানো অবস্থায়ই রয়েছি। খোলাখুলি বললে, এখন পর্যন্ত তুমি খুব একটা উপকারে আসনি আমার।”
পথিক উত্তর দেয়, “তুমি নিশ্চয়ই এমবিএ পাশ করা ম্যানেজার।”
“হ্যাঁ, আমি তাই।” এবার বেলুনচারীর অবাক হবার পালা, “কিন্তু তুমি কীভাবে বুঝলে!”
পথিক উত্তর করে, “তুমি জান না তুমি কোথায় রয়েছ বা কোথায় যাচ্ছ। বন্ধুর কাছে তুমি এমন প্রতিজ্ঞা করেছ যা রক্ষা করার উপায়ও তোমার জানা নেই, কিন্তু আশা করছ তোমার সমস্যা আমি সমাধান করে দেব। আসল ব্যাপার হলো আমার সাথে সাক্ষাতের পূর্বে তুমি যেখানে ছিলে, সেখানেই রয়ে গেছ, কিন্তু কোনো ভাবে এটি এখন আমার দোষ হয়ে গেছে।”

কনফারেন্স বিরতিতে কৌতুক বলে আড্ডা দিচ্ছেন কতিপয় গণিতবিদ। নিজেদের কৌতুকগুলি গণিতবিদগণ এত ভালো জানেন যে প্রতিটি কৌতুকের জন্য তারা একটি করে সিরিয়াল নম্বর নির্ধারণ করে দিয়েছেন, এবং সময় বাঁচানোর জন্য সম্পূর্ণ কৌতুক না বলে কেবলমাত্র কৌতুকের সিরিয়াল নম্বরটি উচ্চারণ করেন তারা।
“৪৯৩,” চিৎকার করে উঠলেন একজন পুরুষ গণিতবিদ। অন্যেরা এর সমর্থনে উচ্চ হাসিতে ফেটে পড়ে।
“৭২৪,” চিৎকার করলেন একজন মহিলা গণিতবিদ। অন্যেরা এতেও প্রাণখুলে হাসতে থাকে।
“৫৮৯,” চিৎকার দিলেন আরেক গণিতবিদ। অধিকাংশ গণিতবিদ তাতে মৃদু হাসলেন মাত্র। কিন্তু তরুণ এক গণিতবিদ হাসতে হাসতে মেঝেতে গড়াগড়ি খেতে লাগল, একেবারে হিস্টিরিয়াগ্রস্ত হয়ে গেল সে।
কৌতুককারী গণিতবিদ অবাক হয়ে তরুণের কাছে এগিয়ে এসে বলল, “জন, আমার কৌতুকে এত ভয়ঙ্কর মজার কী পেলে তুমি!”
তরুণ গণিতবিদ হাঁপাতে হাঁপাতে উত্তর দেয়, “এই কৌতুকটা আগে…আগে কখনো শুনিনি আমি!” B-)

এই কৌতুকে উল্লেখিত কনফারেন্সেরই আরেকটি ঘটনা
কৌতুকের পর কৌতুক বলা হচ্ছে, আর হাসির বন্যা বয়ে যাচ্ছে রূমে, কিন্তু উসখুস করছে তরুণ আরেক গণিতবিদ। বেচারা এই প্রথমবারের মতো কনফারেন্সে যোগ দিয়েছে, কৌতুকের এই সব ব্যাপার-স্যাপার সে জানে না। কিন্তু কেউ তাকে অসামাজিক ভাবুক, এটিও সে চায় না। এ ছাড়া এদের কৌতুক বলা খুব সহজ দেখে আড্ডায় যোগ দিতে তীব্র ইচ্ছা জাগল তার। ফলে মনে মনে একটি সংখ্যা স্থির করে এক সময় সোল্লাসে চিৎকার করে উঠল সে, “৭৭৭।”
অবাক হয়ে লক্ষ করল সে, একটুও হাসল না কেউ। বরং একেবারে পিনপতন নিরবতা নেমে আসল রূমে, আর মাঝে মাঝে অন্যদের বিদ্বেষ, ভর্তসনাপূর্ণ চাহনি, মন্তব্য ভেসে আসতে লাগল তার দিকে। কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধ এক গণিতবিদ তার দিকে তাকিয়ে বলল, ” দেখো, তোমার বয়স কম, কিন্তু এটা বুঝা উচিত, রূমে যখন সম্মানিত ভদ্রমহিলাগণ রয়েছেন, তখন তাদের সামনে আমরা ডার্টি জোকস বলি না।”X(

গণিতবিদ, জীববিজ্ঞানী এবং পদার্থবিদ রাস্তার উপর এক চায়ের দোকানে বসে চা পান করছেন এবং রাস্তার উল্টো পাশে এক বাড়ির দিকে নজর রাখছেন। প্রথম তারা দেখলেন বাড়ির ভেতর ২জন লোক ঢুকল। তার খানিক পর ৩জন লোক বের হয়ে আসল।
পদার্থবিদ বলে উঠলেন, “আমাদের গণনা পদ্ধতি সঠিক ছিল না।”
জীব বিজ্ঞানী বললেন, “আমার মনে হয় তারা বংশবৃদ্ধি করেছে।”
গণিতবিদ টুলের উপর গভীর মনোযোগের সাথে চিহ্ন এঁকে কিছু হিসেব করলেনঃ
. . / . . .
. / – .
তারপর বললেন, “যদি ঠিক আর একজন লোক বাড়িটিতে প্রবেশ করে, বাড়িটি আগের মতো খালি হয়ে যাবে।”B-)

মাটিতে পোঁতা পতাকাদণ্ডের উচ্চতা নির্ধারণ করতে বসেছে একদল শ্রমিক। তাদের কাছে রয়েছে শুধু মাত্র গজ ফিতা, কিন্তু দণ্ডের আগায় কীভাবে ফিতাটি পৌঁছানো যেতে পারে, তারা বুঝতে পারছে না।
গণিতবিদ আসলেন তাদের সাহায্যে, বললেন, “জ্যামিতির সূত্র প্রয়োগ করে সহজেই এর উচ্চতা নির্ণয় করা যাবে।” দণ্ডের ছায়া দেখে গণিতবিদ যখন সদৃশকোণী ত্রিভুজ গঠন করার চেষ্টা করছিলেন, আসলেন ইংরেজির শিক্ষক। সব শুনে মুচকি হেসে দণ্ডটি মাটি থেকে তুলে ভূমির উপর শুইয়ে দিলেন শিক্ষক। তারপর গজ ফিতা দিয়ে মেপে বললেন, “পুরোপুরি ১৫ গজ।”
ভাব নিয়ে চলে যাচ্ছেন ইংরেজির শিক্ষক, পেছন থেকে উষ্মাভরে গণিতবিদ বললেন, “ইংরেজির শিক্ষক, হু! আমরা বের করতে চাচ্ছি উচ্চতা, আর উনি বের করলেন দৈর্ঘ্য।”

সামরিক বাহিনীর গণিত
(ক) বুয়েটে কন্ট্রোল এঞ্জিনিয়ারিং পড়ান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর লেকচার দিতে গিয়ে, পুরোনো আমলের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রসঙ্গে একদিন তিনি বললেন, “যদি তোমরা এটি কোনো বি-৫২ বোমারু বিমানের দিকে নিক্ষেপ কর, তাহলে বিমানটিকে হিট করার সম্ভাবনা ৫%।”
“আমরা যদি ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানের গায়ে না লাগিয়ে, কেবল সতর্ক করতে, এর আশেপাশে ছুঁড়ি?” জানতে চায় এক ছাত্র।
খানিকক্ষণ ভাবেন কর্নেল, তারপর উত্তর দেন, “সেক্ষেত্রে বিমানটি হিট করার সম্ভাবনা ৯৫%।”

কর্নেলের আরো কিছু বিখ্যাত উক্তি
(খ) ট্যাঙ্কের ভেতর পানির স্ফূটনাঙ্ক ৯০ ডিগ্রি। না, এক সেকেণ্ড, ৯০ ডিগ্রি তো এক সমকোণ!
(গ) কোনো গোলা নিক্ষেপ করলে, প্রথমে এটি পরাবৃত্তের কারণে এবং পরে গতি জড়তার কারণে অগ্রসর হয়।
(ঘ) শুনলাম, তোমরা নাকি গণিতের প্রতি দুর্বল? যাও, বেলচা নিয়ে বাগানে গিয়ে মূল বের কর।
(ঙ) বাংলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব হচ্ছে প্রতি মাইলে ২,৫০০ বর্গ জন। 😛

নেত্রকোণা সদর উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক রফিক উদ্দিন মিয়া ঢাকা এসেছেন কাজে। রাস্তায় দেখা হয়ে গেল বহুকাল আগের এক ছাত্রের সাথে, দামী স্যুট-ব্যুট পড়া, নামছেও দামী গাড়ি থেকে।
রফিক উদ্দিন সামনে গিয়ে বললেন, “কে, আবুল না? চিনতে পারছিস আমাকে?”
হাসিতে উজ্জ্বল হয় আবুলের মুখ, “জি, স্যার! কেমন আছেন আপনি?”
“এই চলছে কোনোরকম। তা, তোর দেখি বেশ উন্নতি হয়েছে রে! মনে কি পড়ে, অঙ্ক পারতিস না বলে কত মেরেছি তোকে ছোটবেলায়? বলতে খারাপ লাগলেও, গণিতে তোর মতো খারাপ ছাত্র জীবনে আর কাউকে পাইনি। কত চেষ্টাই না করলাম তোকে অঙ্কে মানুষ করতে, কিন্তু কোনো কাজ হলো না!”
লাজুক, বিব্রত হাসি দেয় আবুল, ব্যস্ত রাস্তায় মানুষের ভিড়, উসখুস করে সে।
“তা কী করিস তুই? এত উন্নতির রহস্য কী!” জানতে চান রফিক উদ্দিন মিয়া।
“এই তো, স্যার। তেমন বড় ধরণের কিছু না। সকালবেলা বনরুটি কিনে দুপুরবেলা, লাঞ্চ টাইমে অফিস আর রেস্টুরেন্টগুলোতে সাপ্লাই দেই। প্রতি পিস ১ টাকা করে কিনি, বেচি ৬ টাকা করে। এই ৫% মাত্র লাভ, কিন্তু আপনাদের দোয়ায় এতেই বেশ চলে যাচ্ছে, স্যার।” :-/

বোকা ব্লন্ড
তিন ব্লন্ড রেস্টুরেন্টে গেল তাদের সাফল্য উদযাপন করতে। খুশিতে ঝলমল করছে তাদের চেহারা, পান-ভোজনের সাথে সাথে খুব হাসাহাসি করছে সবাই।
“সম্মানিত ভদ্র মহিলাগণ, কী নিয়ে আপনারা এত হাসাহাসি করছেন, জানতে খুব ইচ্ছে করছে আমার। ” স্মিত হেসে তাদের কাছে এসে দাঁড়ায় বারটেন্ডার।
“ওহ, অবশ্যই!” উত্তর দেয় এক ব্লন্ড।” এই মাত্র গাণিতিক এই পাজলটার সমাধান করলাম আমরা। এটা করতে আমাদের সময় লেগেছে মাত্র এক মাস, যদিও পাজল বক্সের গায়ে লেখা ছিল ‘৬ থেকে ৯ বছর!” B-)

অপারেশানস ম্যানেজমেন্ট কোর্সের শেষ দিন। অপটিমাইজেশানের গাণিতিক মডেলের উপর আলোচনা করে ক্লাস শেষ করলেন বৃদ্ধ প্রফেসর। তারপর ছাত্রদের দিকে কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, “তোমাদের শেষ একটা উপদেশ দিতে চাই। আমার কোর্সে যা-ই তোমরা শিখেছ, বাস্তবজীবনে কখনো তা প্রয়োগ করতে যেও না!”
“কেন, কেন?” উদগ্রীব হয়ে জানতে চায় ছাত্ররা।
“শোন, কয়েক বছর আগে আমি আমার বউকে নাস্তা বানানোর সময় দেখলাম রান্নাঘরে বিভিন্ন জিনিস আনা-নেওয়ার সময় সে কয়েকবার এদিক-ওদিক করে। তখন পুরো প্রক্রিয়াটি আমি তাকে অপটিমাইজ করে দেখিয়ে দিলাম এবং বুঝিয়ে বললাম।”
“তারপর কী হলো!” সাগ্রহে জানতে চায় ছাত্ররা।
“আমার বিশেষজ্ঞ জ্ঞান প্রয়োগ করার পূর্বে আমাদের দু’জনের জন্য নাস্তা বানাতে বউয়ের সময় লাগত আধা ঘন্টা। আর এখন নাস্তা বানাতে আমার সময় লাগে পনের মিনিট।”:((

মূর্খ ছাত্রের হোমওয়ার্ক
গণিতের এক ছাত্রকে তার হোমওয়ার্ক অ্যাসাইন্টমেন্ট দেখানোর জন্য বেশ জোরাজুরি করছে সহপাঠী। কিন্তু ছাত্রটি ভয় পাচ্ছে; একে তো এটি অন্যায়, তারপর ধরা পড়লে অন্যায়ের সাহায্যকারী হিসেবে শাস্তি পেতে হতে পারে শিক্ষকের কাছে। এসব ব্যাপারে শিক্ষক খুব কড়া।
সহপাঠী তাকে আশ্বস্ত করে, “চিন্তা করিস না, স্যার ধরতেই পারবেন না। আমি ধ্রুবক আর চলকগুলি সরাসরি কপি না করে চেঞ্জ করে লিখব। ধর্, a কে লিখব b, x কে y,…”
ছাত্রটি খুব আশ্বস্ত না হলেও ছাড়া পাওয়ার জন্য অ্যাসাইন্টমেন্ট কপি করার জন্য দিলো। ডেডলাইন শেষ হবার পর ছাত্র সহপাঠীকে জিজ্ঞেস করল, “কিরে, ঠিক মতো লিখতে পেরেছিস তো?”
“হ্যাঁ,” দাঁত বের করে জবাব দেয় সহপাঠী, “তুই যখন একটা ফাংশনকে f লিখেছিস, আমি তাকে g লিখেছি। তুই যখন কোনো চলককে লিখেছিস x, আমি চেঞ্জ করে লিখেছি y। তুই যখন লিখেছিস log (x+1), আমি সেটাকে লিখেছি timber (x+1)…”

স্বনামধন্য এক পরিসংখ্যানবিদ কন্ডি, কখনো প্লেনে চড়েন না, কারণ সারা বিশ্বের উড্ডয়ন পরিসংখ্যান ঘেঁটে তিনি দেখেছেন যেকোনো বিমানে একটি বোমা থাকার সম্ভাব্যতা ১/১০০,০০০। সম্ভাব্যতাটি তার কাছে বেশি মনে হয়, ফলে এর উপর ভিত্তি করে জীবনের ঝুঁকি নিতে তিনি রাজী নন।
একদিন দূরের এক কনফারেন্সে যোগদানের আমন্ত্রণ পান কন্ডি। সেখানে দেখা হয় বান্ধবীর সাথে।
“হাই কন্ডি, ট্রেন ভ্রমণ কেমন হলো? বন পাহাড়ের ভেতর দিয়ে নিশ্চয়ই চমৎকার সময় কেটেছে।” বান্ধবী জানতে চান।
“আমি আসলে প্লেনে করে এসেছি এবার।” মুচকি হেসে জবাব দেন কন্ডি।
“আরে, তাই নাকি!” অবাক হন বান্ধবী। “তা, তুমি না সব সময় প্লেনে একটা বোমার কথা বলতে?”
“হ্যাঁ, আমি হিসেব করে দেখলাম কোনো প্লেনে ১টি বোমা থাকার সম্ভাবনা যদি ১/১০০,০০০ হয়, তাহলে ২টি বোমা থাকার সম্ভাবনা—তুমি তো স্বাধীন সম্ভাব্যতার সূত্র জানো—(১/১০০,০০০) × (১/১০০,০০০) বা ০.০০০০০০০০০১। এটি এত ক্ষুদ্র সম্ভাবনা যে এর উপর ভিত্তি করে ঝুঁকি নেয়া যায়।”
“কিন্তু ২টি বোমার কথা আসছে কেন?”
“কতই না বোকা ছিলাম আমি, এত দিন ব্যাপারটি আগে মাথায় আসেনি!” জবাব দেন কন্ডি, “শোনো প্রিয় বান্ধবী, এবারে প্লেনে আসার সময় ঝুঁকি কমানোর জন্য আমি সাথে করে একটা বোমা নিয়ে এসেছি।”

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: