নব্বইয়ের দশকের ব্যালন ডি’অর-রা আজ কোথায়

মূল লেখার লিংক

f2a85f04-2234-11e5-9284-67c29bc2c836

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো অথবা লিওনেল মেসি। শেষ সাত বছর ব্যালন ডি অর পাওয়ার বিষয়ে এই দু’টি নামের অন্যথা দেখেনি ফুটবলবিশ্ব। চলতি বছরেও এই নিয়মের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ একটা সময় ছিল, যখন প্রতি বছর আলাদা ফুটবলার বিশ্ব সেরা এই পুরস্কার পেত। লোথার ম্যাথেউজ থেকে মার্কো ফন বাস্তেন, বিখ্যাত ফুটবলারদের ছড়াছড়ি সেই তালিকায়। এখন এদের কেউ ফুটবল ম্যানেজার তো কেউ নিজের ব্যবসা সামলাচ্ছেন। কেউ বা আবার রাষ্ট্রপুঞ্জের শুভেচ্ছা দূতের দায়িত্ব পালন করছেন। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক নব্বইয়ের দশকের সেই ব্যলন ডি’অর-দের এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থা।

MATTHAEUS/JUVENTUS TURIN - INTER MAILAND
লোথার ম্যাথেউজ (১৯৯০): বায়ার্ন মিউনিখের এই জার্মান প্রাক্তনীকে বলা হয় সর্বকালের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। খেলা ছাড়ার পর কয়েকটি ক্লাবে কোচিং করিয়ে ব্যর্থ হন। বর্তমানে টেলিভিশনে ধারাভাষ্য দেওয়ার পাশাপাশি কলামও লেখেন ১৯৯০-এর এই ব্যালন ডি’অর।

original_un-joueur-un-palmares-jean-pierre-papin-fra-21747160
জাঁ পিয়েরে পাপিন (১৯৯১): মার্সেইয়ে থাকাকালীন ব্যালন ডি’অর পান এই ফরাসি স্ট্রাইকার। ছ’বছর মার্সেইয়ে থাকার পর মিলান এবং বায়ার্ন ঘুরে অবসর নেন পাপিন। বেশ কয়েকটি ক্লাবে ম্যানেজারি করে চলতি বছর আবার ফিরছেন সেই মার্সেইতেই।

50-jarige-marco-van-basten-in-tien-legendarische-fragmenten
মার্কো ফন বাস্তেন (১৯৯২): ফুটবল আজ পর্যন্ত যত প্রতিভা এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম বাস্তেন। ১৯৮৮ সালে ইউরো ফাইনালে তাঁর দুরন্ত ভলি থেকেই এ যাবত্ সবচেয়ে বড় আম্তর্জাতিক ট্রফি পায় নেদারল্যান্ডস। অবসরের পর নেদারল্যান্ডসের জাতীয় দলকে কোচিং করিয়েছেন বেশ কয়েক দিন। বর্তমানে তিনি জাতীয় দলেরই সহকারী ম্যানেজার হিসাবে কাজ করছেন।

BAGGIO ITA
বার্তো বাজ্জিও (১৯৯৩): এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে ১৯৯৯ সালে দেশের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় ৪ নম্বরে রেখেছিল ইতালির ফুটবলপ্রেমীরা। ১৯৯৪ সালে প্রায় একক দক্ষতায় দলকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছিলেন। কিন্তু বিশ্ব তাকে মনে রেখেছে ফাইনালে পেনাল্টি মিসের জন্য। অবসরের পর বাজ্জিও সামাজিক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। শেষ ১৪ বছর তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জের শুভেচ্ছা দূত হিসাবে কাজ করছেন। ২০১০ সালে হিরোশিমায় শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

007787aa00000258-2898887-stoichkov_pictured_after_scoring_against_man_united_spent_two_se-a-3_1420554178358

রিস্তো স্তোইচকভ (১৯৯৪): সন্দেহাতীত ভাবে বুলগেরিয়ার সর্বকালের সেরা ফুটবলার। বার্সেলোনায় ফর্মের শিখরে থাকার সময়ে ব্যালন ডি’অর পেয়েছিলেন। অবসরের পর বেশ কয়েকটি ক্লাবে কোচিং করালেও তেমন সফল হননি। বর্তমানে তিনি এক জন ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করছেন।

8622
জর্জ উয়ে (১৯৯৫): লাইবেরিয়ায় এই স্ট্রাইকারই একমাত্র ফুটবলার যিনি আফ্রিকা থেকে ব্যালন ডি’অর পেয়েছেন। কেরিয়ারের সফলতম সময় কাটিয়েছেন প্যারিস সঁ জঁ-র হয়ে খেলে। ২০০৩ সালে অবসরের পর পুরোপুরি রাজনীতিতে চলে আসেন তিনি। দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও লড়াই করেছিলেন উয়ে। সামান্য ব্যবধানে হেরে যান।

wabieip
ম্যাথিয়াস স্যামার (১৯৯৬): জার্মানির অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার অবশ্য অনেককে চমকে দিয়ে ব্যালন ডি’অর পেয়েছিলেন। জীবনের সেরা ফর্মে ছিলেন বুরুসিয়া ডর্টমুন্ডে খেলার সময়ে। বেশ কয়েকটি ক্লাবে কোচিং করিয়ে ২০১২ সালে যোগ দেন বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসাবে। চলতি বছর তাঁর মস্তিস্কে এক জটিল রোগ ধরা পড়ে। আপাতত তিনি চিকিত্সাধীন।

ronaldo-2002
রোনাল্ডো নাজারিও (১৯৯৭): সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকারদের তালিকায় একেবারে উপরের দিকেই থাকবেন এই ব্রাজিলীয়। দু’বার ব্যালন ডি’অর এবং চার বার ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার হয়েছিলেন তিনি। অবসরের পর পোকার খেলায় মনোনিবেশ করেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের শুভেচ্ছা দূত হিসাবেও কাজ করেছেন তিনি।

download2b252852529
জিনেজিন জিদান (১৯৯৮): ফ্রান্সের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডার ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, সিরি এ, ইউয়েফা সুপার কাপ এবং দেশের হয়ে ইউরো কাপ এবং বিশ্বকাপ জিতেছেন। অবসরের পর কয়েক বছর ফুটবল থেকে দূরে ছিলেন। ফিরে আসেন রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নিয়ে। দলকে এনে দেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

96b8be5a306b44d1a61865b08d76009b_18
রিভাল্ডো (১৯৯৯): বার্সেলোনায় থাকার সময়ে একই বছর ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার এবং ব্যালন ডি’অর জেতেন ব্রাজিলের এই উইঙ্গার। কেরিয়ারে মোট ১৪টি ক্লাবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর ছোটবেলার ক্লাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন যেখানে তার ছেলে খেলে।

25242e5600000578-0-image-a-44_1422889681262
লুই ফিগে (২০০০): ইউসেবিও এবং রোনাল্ডোর ছাড়া পর্তুগাল ফুটবলের তৃতীয় জনপ্রিয় মুখ ফিগো। বার্সা থেকে তার রিয়ালে ট্রান্সফার নিয়ে সেই সময়ে প্রচুর জলঘোলা হয়েছিল। অবসরের পর ফিফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়েছিলেন। আপাতত ফুটসল ব্যবসায় মন দিয়েছেন। ভারতে চলতি বছর হওয়া ফুটসল লিগের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি।

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: