জাপানি পাবলিক বাথে গোসলের স্মৃতি

মূল লেখার লিংক

বিনয়ী, লাজুক ও হাস্যোজ্জ্বল জাপানিরাও যে লাজহীন হতে পারে, তা ওদের গোসল সংস্কৃতি না দেখলে বুঝতাম না!
একজন বাঙালির চোখে জাপানিদের গোসল সংস্কৃতির নানা দিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম।

পাবলিক বাথে গোসল

২০০৫ সাল। জাপানে আসার আগ থেকেই আমি জাপানিদের গোসল নিয়ে অদ্ভুত সংস্কৃতির কথা জেনেছিলাম। অভিজ্ঞতার জন্য উৎগ্রীব ছিলাম। আমার অতি আগ্রহে ভায়রা ভাই অতানাবে সান, প্রথম সপ্তাহেই নিয়ে গেল ফুকুসিমার ‘পিভন সিটি’র ‘সেন্টু’তে।

ঐহিত্যবাহী পাবলিক গোসলখানা জাপানে ‘সেন্টু’ নামে পরিচিত, যার বাইরের দিকটা দেখতে বেশিরভাগ সময়ই বৌদ্ধদের মঠের মত হয়। তবে ‘পিভন সিটি’র যেটায় আমি গিয়েছিলাম, সেটা তেমন ছিল না। আধুনিক সেন্টগুলো যেমনটা হয়, তেমনটাই! বিশাল শপিং সেন্টারে অত্যাধুনিক সুবিধায় সজ্জিত। কী আধুনিক, কী পুরাতন- বাইরে যাই হোক না কেন, সব সেন্টুর ভেতরের পরিবেশ ও আচার প্রায় একই রকম।

সেন্টুর প্রবেশ ঘরে ঢুকে প্রথমেই কয়েকজনকে নগ্ন দেখে আমি চমকে গিয়েছিলাম। লজ্জা পেয়েছিলাম। আমার হাসিও আটকে রাখতে পারছিলাম না।

ভায়রা ভাই অতানাবে সান বলল, “হাসবেন না। এখানে হাসলে মানুষ তোমাকে অভদ্র ভাববে।”

অনেক কষ্টে হাসি চাপলাম। সে আমাকে সব কাপড় খুলতে বলল। ইতোমধ্যে সে সব খুলে ফেলেছে। জলজ্যান্ত একজন বয়স্ক নিকটাত্মীয়কে ন্যাংটো দেখে লজ্জায় যেন আমার জান যায়!

গোসলের জন্য নগ্ন হওয়া স্বাভাবিক, এমন ভাব করে অতানাবে সান দ্রুত পাবলিক বাথে গোসলের নিয়মগুলো জানালেন আমাকে। জলটঙ্গিতে কাপড় পরে ঢোকা নিষেধ, জাম্প দিবে না, গা ধোওয়ার সময় অন্যের গায়ে পানি যেন না যায়, ব্যবহার শেষে পানির কল বন্ধ করে দেবে…!

তিনি বললেন, তোয়ালে ব্যবহার করতে পার। তবে পানিকে অপরিষ্কার করা যাবে না। তোয়ালে রাখতে ঝামেলা হলে, মাথার চান্দিতে রেখ। এতে মাথাও গরম হবে, মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে।

পরামর্শ দেওয়া শেষ হতে না হতেই আমার হাতে একটি ‘সাদা ধবধবে’ ছোট তোয়ালে ধরিয়ে বলল, “কাপড় খুলে বান্দাই বক্সে রাখ। চাবিটা হাতে বেঁধে রাখো, নইলে পরে খুলতে পারবে না।”হাসি আর হতভম্বতার এক অদ্ভুত অনুভূতির মাঝে কাপড় খুলে সেন্টুতে ঢুকেই দেখলাম, পনের-বিশজনের মত হবে, সবাই উলঙ্গ! ঘর ভর্তি ন্যাংটো মানুষ, সবাই গভীর মনোযোগে গোসল করছে। কেউ কারো বিশেষ অঙ্গের দিকে তাকাচ্ছেন না অবশ্য।

আমি ছাড়া কেউ বিশেষ অঙ্গটি তোয়ালে দিয়েও ঢাকেনি! অতানাবে সান আগে আগে, নিজে করে আমাকে দ্রুত বুঝিয়ে দিচ্ছিল, কীভাবে গোসল করতে হয়।

আমি এখনো সহজ হইনি, তাই কৌশলে আস্তে আস্তে বলল, “লজ্জা পেলে তোমার ‘ওটা’ টাওয়াল দিয়ে একটু ঢেকে নাও। কিন্তু কাউকে বুঝতে দিয়ো না তুমি নতুন, তুমি লজ্জা পাচ্ছো। জানলে বাকিরাও লজ্জা পাবে।”

নতুন দেশের নতুন সংস্কৃতি, মেনে নিয়ে সাহস বাড়ালাম। গা ধোওয়ার পর, অতানাবেকে অনুসরণ করে জলটঙ্গিতে নামলাম। অনেক গরম পানি, ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস! প্রথমে সহ্য করতে পারিনি। কতোক্ষণ বসার পর গা সয়ে গেল।

অতানাবে বলল, “তুমি তো গরম দেশের মানুষ, গরম পানিতে গোসল কর না! গরম পানিতে গা চুলকায়, কিন্তু চুলকাইও না। মুতু আসলে পানিতে মুতু করে দিও না! এটা সবার পানি, অপরিষ্কার যেন না হয়।”

পানিতে ‘মুতু’র কথা শোনার সঙ্গে সত্যিই আমার প্রস্রাবের বেগ পেল। ভাবলাম, “শালা-আমাকে আন্ডারমাইন করছে না তো ?”

কোমর পানিতে সাঁতরিয়ে সে দেখিয়ে দিল। সঙ্গে আরও দুটি ছোট জলটঙ্গি আছে। একটির পানি ঠাণ্ডা, একেবারেই জিরো ডিগ্রি।

অতানাবে বলল, “খুব গরম লাগলে ওখানে গিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে নিয়ো।”

অতি গরমের পর অতি ঠাণ্ডার স্পর্শ নিলাম। যেন আকাশ-পাতাল অনুভূতি! মনে হলো, ‘আমি পূর্ণ থেকে শুন্য’।

পাশের অন্য আরেকটার জলটঙ্গিতে লাল পানি দেখে ভাবলাম ময়লা পানি।

জিজ্ঞাসা করলাম, “ঐটার পানি লাল কেন?”

উত্তর পেলাম, ওটা ‘রেড ওয়াইন ওয়াটার’। ‘ওয়াইন’ বলার সঙ্গে আমার মাথা চক্কর মারলো! পানিতে গরম চান্দি ঠাণ্ডা হয়ে গেলো! দো’টানায় পড়ে গেলাম, ওয়াইনে গা-টা ভিজিয়ে নরকবাসী হমু না তো?

আমার ভাবনা ভেঙ্গে অতানাবে বলল, “ওইখানে সাবান ও শ্যাম্পু আছে, যত পার ব্যবহার করতে পারো। যতোক্ষণ চাও গোসল কর, কেউ কিছু বলবে না। বিল একই, ৫৫০ ইয়েন। তবে তসরুফ করো না।”

৩০-৪০ মিনিট গোসল করে আমি ক্লান্ত হয়ে গেলাম। জলটঙ্গি থেকে উঠে সাবান-শ্যাম্পু মাখলাম। পাশের একটি রুম দেখিয়ে অতানাবে বললো, “ওটা হিটিং রুম।”

গা ধোওয়ার পর ক্লান্তি ও প্রশান্তিতে গরম পানিতে আর নামতে মন চাচ্ছিলো না। হিটিং রুমে ঢুকেই তো আমি পালাই পালাই! দেখি ‘সীল মাছের মত’ বুড়োরা সারি সারি শুয়ে আছে। শরীর নিশ্চল!কেউ কেউ আয়েশ করে টিভিতে ঘোড়দৌড় দেখছে। পাশে কয়লার চুল্লির তাপে সবার ঘাম ঝরছে। আমিও একটু শোওয়ার চেষ্টা করলাম, কিন্তু ইতোমধ্যে আমারও ঘাম ঝরতে শুরু করেছে!

আমি যেন আর পারছিলাম না। হিটিংরুম থেকে বের হতেই মনে হলো, আমার দশ কেজি ওজন কমে গেছে। শান্তিতে মন-প্রাণ উড়ছে। কোন দুঃচিন্তা নেই, অভাব নেই, অভিযোগ নেই। আমি যেন এক নবপ্রাণ যুবক!

হেঁটে সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সেন্টুর আশপাশ দেখলাম। কিন্তু লিঙ্গের উপর টাওয়াল রাখতে আমি ভুলিনি। ‘মাউন্ট ফুজি’র বিশাল ল্যান্ডস্কেপ পেইন্টিং সেন্টুর দেয়ালকে দিগন্তের রূপ দিয়েছে।

দেয়ালের গা ঘেঁষে বুদবুদ করে যেদিক থেকে পানি আসছে, সেখানে চকচকে রঙে আঁকা মাছগুলো যেন সাঁতরাচ্ছে।

‘মিরয়ো’ পেইন্টিং আর মাছের দেয়াল এমনভাবে মিশে গেছে যে পানিতে নেমে মনোযোগ দিয়ে তাকাতেই মনে হল, পুরো সেন্টু যেন একটি বিশাল অ্যাকোয়ারিয়াম! আমি ‘মাউন্ট ফুজি’র ধার দিয়ে বয়ে যাওয়া অনাবিল সাগরতীরে গোসল করছি।

জাপানে সব সেন্টুতেই বাগান থাকে। কাঁচের দেয়াল দিয়ে গোসলের সময় বাগান দেখা যায়। ছোট ছোট পাথর আর গাছ দিয়ে তৈরি। গোসল শেষে হাতে বাঁধা কাঠের অদ্ভুত আদি-চাবি দিয়ে বক্স খুলে কাপড় পরলাম।

বের হওয়ার পথে রাখা বিনামূল্যের ‘গ্রিনট্রি’ খাওয়ার পর মনে হলো, শরীরের ভেতর ও বাইরের সব ময়লা পরিষ্কার হয়ে গেছে। আজ যেন আমার নতুন জন্ম হলো!

গোসলের অনন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গাড়িতে অতানাবের কাছ থেকে জেনে নিলাম, জাপানি গোসল নিয়ে চমৎকার সব তথ্য।সে গর্বের সাথে জানাল, পঞ্চম শতাব্দীতে যখন এদেশে বৌদ্ধধর্মের চর্চা শুরু হয়, তখন থেকেই জাপানিরা এভাবে গোসল করে। প্রথম দিকে বুদ্ধিস্ট-মঙ্করা পবিত্র হওয়ার জন্য এভাবে গোসল করত। নারা প্রদেশে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে নির্মিত বৌদ্ধ মঠ টডিজিতে আজও সেন্টু রয়েছে।

১৯০০ সাল পর্যন্ত মেয়ে-ছেলেরা একসঙ্গে গোসল করতো। জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর পাশ্চাত্যের ক্রিশ্চিয়ান ধর্মের অনুসারীরা ছেলে-মেয়ের একসঙ্গে নগ্ন হয়ে গোসল করাকে ভালোভাবে নেয়নি।

বলত, “জাপানিরা গোসলে অসভ্য, শরম ছাড়া।”

পাশ্চাত্যের এই সমালোচনায় জাপান সরকার ১৯০০ সালে নারী-পুরুষ একসঙ্গে গোসল বন্ধ করে দেন। নারী-পুরুষ একসঙ্গে গোসলের হাজার বছরের অভ্যাস ভুলতে জাপানিদের ২০ বছর লেগেছিল।

১৯২০ সাল থেকে নারী-পুরুষের গোসলখানা আলাদা হয়ে যায়। এখন ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে গোসল করে না। তবে ছোট বাচ্চারা বাবা-মায়ের সঙ্গে গোসল করে।

পূর্বে জাপানের সেন্টুকে মনে করা হত ‘সোশ্যাল ফোরাম’। লোকাল কমিউনিটি’র ‘ওয়ান্ডারফুল ওয়ার্ল্ড’।

ইদো যুগে (১৬০৩-১৮৬৮) জাপানি সমাজে সামুরাই, কৃষক, শিল্পী ও ব্যবসায়ী ইত্যাদি শ্রেণি বৈষম্য থাকলেও গোসলখানায় ছিল সবাই এক। স্বর্গের মত। ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসঙ্গে গোসল করতো, মিষ্টি খেত, খেলা করতো, মনখোলা কথা বলে গড়ে তুলতো সামাজিক বন্ধন। আদিতে নর-নারী একসঙ্গে সেন্টুতে গোসল করার সময় জীবনসঙ্গী বাছাই করতো। বিয়ের আগে একে অন্যের শরীরটা দেখে নিত, ভাব করতো।

জাপানে প্রতি শহরেই আছে সেন্টু! সারা জাপানে প্রায় এক হাজার আটশ’টি সেন্টু আছে।

আধুনিক বাড়ি ও হোটেলগুলোতে সেন্টু বানানোর কারণে ঐতিহ্যবাহী সেন্টুর সংখ্যা কমছে। মানুষ বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা আগের মত সেন্টুতে যেতে চায় না। প্রাইভেসি রক্ষা করে চলে।

পাশ্চাত্যের প্রভাবের সাথে সাথে খরচ কমানোর জন্যও বাসাতে গোসল করে অনেকে। আরাম ও বিনোদনের সব সুবিধা আছে আধুনিক সেন্টুগুলোতে। বার, ম্যাসেজ চেয়ার, রেস্টুরেন্ট, গেইম, মিউজিক শো, শপিং এমনকি ড্যান্সিং ক্লাব এবং গেস্টরুমও।

বাড়িতে গোসল

২০০৫ সালে প্রথম যেদিন জাপানে আসি, শালিকার সঙ্গে সরাসরি বাসায়!

বাড়িতে আসতেই স্ত্রী বললো, “গোসল করে আসেন। তারপর একসঙ্গে খাবে।”সে গোসলখানায় নিয়ে বাথটাব দেখিয়ে বলল, “শাওয়ার দিয়ে গা ধোঁওয়ার পর বাথটাবে আয়েশ করেন।”

আমি জানতাম, জাপানি বাথটাবের পানি গরম হয়। কিন্তু এত গরম আমি কখনও কল্পনা করিনি। বসার সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে হলো আমি সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছি।

আমি হাউমাউ করে উঠলাম, “আপনারা কী আমাকে সেদ্ধ করার জন্য এত গরম পানি দিয়েছেন নাকি?”

বউ বললো, “এভাবেই তো জাপানিরা গোসল করে।”

জাপানিরা সাধারণত দিনে গোসল করে না। প্রতি রাতে গরম পানিতে গোসল করা জাপানিদের রীতি। সারাদিন পরিশ্রমের পর, গরম পানিতে গোসল করে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রশান্তিলাভকে জাপানিরা খাবারের মতই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।

বাড়িতে এভাবে গোসলকে বলা হয়, ‘ওহুরু’। ধনী-গরীব সব বাসাতেই ‘ওহুরু’র জন্য বাথটাব আছে।

ওনসেনে গোসল

জীবন্ত আগ্নেয়গিরির দেশ জাপান। সারা জাপানে ১১০টির মত জীবন্ত আগ্নেয়গিরি আছে। এসব আগ্নেয়গিরির গা ঘেঁষে রয়েছে হাজারেও বেশি ‘হটস্প্রিং’ মানে উষ্ণ প্রস্রবন। এসব হটস্প্রিংকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিখ্যাত সব ‘ওনসেন’।

প্রতি বছর ১৩ কোটিবার পর্যটকগণ এসব ওনসেনে ঘুরতে যান। বিশাল ব্যবসা ও জনপ্রিয়তা।

এক ছুটিতে সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম। নানা-শ্বশুরের বাড়িতে সবাই বেড়াতে যাব। অ্যাডভেঞ্চারের জন্য সিনকানসেন (দ্রুতগতির রেলগাড়ি) বা বাসে গিয়ে নিজের গাড়িতে করে যাব।
ইন্টারনেট থেকে
পরিকল্পনা ছিল প্রকৃতি দেখতে দেখতে যাবো এবং পথের কোন এক বিখ্যাত ওনসেনে সবাই গোসল করবো। তাই হলো, পথে কয়েক ঘণ্টার জন্য গাড়ি থামিয়ে গোসল করে নিলাম।এভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে ‘হটস্প্রিং’য়ে গোসল করা অভিজ্ঞতা হয়েছে কয়েকবার।

পৃথিবীতে বসে স্বর্গসুখে গোসলের অভিজ্ঞতা ভুলবার নয়। দেখে অবাক হয়েছিলাম, বিজ্ঞানে উন্নত দেশ, জাপানের  সব ওনসেনেই কেমিক্যাল ও কৃত্রিমতা পরিহার করা হয়।

সাবান, শ্যাম্পু, খাবার এমনকি কাগজের প্যাকেটও হয় প্রকৃতিনির্ভর ‘অরগানিক’। এই সংস্কৃতিকে দর্শনার্থীরা সেবার গুণ মনে করে, প্রশংসার চোখে দেখে।

একেক অঞ্চলের হটস্প্রিং-এর পানিতে একেক ধরনের খনিজ থাকে। প্রকৃতি সৌন্দর্যও ভিন্ন, নিজস্ব অনাবিল।

সালফার, আয়ন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি ২০ প্রকারের খনিজের মিশ্রণে গড়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় ওনসেন ও প্রাকৃতিক স্পা সংস্কৃতি, আকর্ষণীয় পযর্টক, হোটেল আর রিসোর্ট।

জাপানিদের বিশ্বাস ‘হটস্প্রিং’র মিনারেল রক্ত সঞ্চালনের জন্য উপকারি। জাপানি এমন মানুষও আছে, শুধু গোসলের জন্য সারাদেশ ঘোরেন।

অভিজ্ঞরা বলেন, জাপানি গোসলের অপর নাম শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি, আত্মিক শুদ্ধতা।

জাপানিরা গোসলে তৃপ্ত হলে বলে, ‘গকুরাকু, গকুরাকু’, যার অর্থ ‘স্বর্গীয়’।

প্রতিটি বাড়িতে ‘আহুরু’ থাকলেও মানুষ প্রতি মাসে অন্তত একবার সেন্টু’তে যান। সৌখিন, বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্তরা, সিনিয়র সিটিজেনরা দলবেঁধে ওসসেন ট্যুরে যায় প্রায়ই। গোসলের পেছনে ব্যয় করেন বড় অঙ্কের টাকা ও সময়।জাপানি ভাষায় ‘সেন্টু’ মানে আশার প্রতীক, আরামের প্রতীক। আরাম হলেও আমার ব্যারাম লাগে। পদে পদে ‘ট্যাকা’। তাও আবার বাংলাদেশের দশগুণ। উন্নতমানের প্রাকৃতিক ‘ওনসেন’-এ শুধু একবার গোসলের জন্য লাগে তিন হাজার থেকে আটত্রিশ শ’ জাপানিজ ইয়েন (২ হাজার থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা)।

জাপানিরা বাড়ির গোসলখানাকে বলে ‘ওহুরু’, পাবলিক বাথকে বলে ‘সেন্টু’ আর প্রকৃতি ‘হটস্প্রিং’র গোসলখানাকে বলে ‘ওনসেন’। কিন্তু সব জায়গাতেই বিবস্ত্র গোসল।

লেখক: মাল্টিমিডিয়া ডিজাইনার, ফটোগ্রাফার ও লেখালেখি করেন।
ইমেইল: siraj@machizo.com

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: