দার্জিলিং এর গপ্পো – হিমালয় স্পর্শের স্বপ্ন

মূল লেখার লিংক

I have been able to give my family a much nicer home and a much better start in life than I had foreseen before the great climb. This is what gives the greatest satisfaction; my family is my first concern and my greatest pleasure.

Nenzing Norgay – First ascender of mount everest

প্রথম দিন দার্জিলিং শহরের ৭ টা জায়গায় ঘুরবার কথা ছিল। রোপওয়েতে দেরী হওয়ায় হিমালয় মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে যেতে পারি নি। দোষ আমাদের কিংবা ড্রাইভার কারও না, দোষ সময়ের। টাইগার হিলের সূর্যোদয় আর ঘুম স্টেশন দর্শন শেষে কালিম্পং এর দিকে যাত্রা শুরু করেছি কেবল। কিন্তু মনকে মানাতে পারছিলাম না। হিমালয় মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট ঘুরবার এত্ত শখ অথচ না দেখেই চলে যাব? চুক্তির বাইরে বিধায় পুষ্করকে অনুরোধ করাও সম্ভব না। আমাদের মন খারাপ দেখে পুষ্কর জানতে চাইল বিষয়টা কি? বিষণ্ণতার কারণ শুনে তো সে হেসেই খুন। ঠিক হল আমাদেরকে সে হিমালয় মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট এবং চিড়িয়াখানা দেখিয়েই কালিম্পং নিয়ে যাবে। তবে সময় মাত্র ১ ঘণ্টা। আমরা তাতেই খুশি।

হিমালয় মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে আসার পথেই তেনজিং রক চোখে পড়ে। এইখানে আমরা গতকালই ঘুরে গেছি। প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার এই পাথরটি দার্জিলিং এর অন্যতম দর্শনীয় বস্তু। কারণ এর সাথে জড়িয়ে আছে এভারেস্টজয়ী প্রথম পর্বতারোহী তেনজিং নোরগের স্মৃতি। এই পাথরেই তিনি রক ক্লাইম্বিং এর চর্চা করতেন। বর্তমানে ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীগণ এইখানে অনুশীলন করেন। পর্যটকগণ ইচ্ছে করলে তেনজিং রকের চূড়ায় উঠতে পারেন। তবে সেইজন্য ৫০ রুপি খরচ করতে হবে। পাথরের চূড়ায় প্রশিক্ষিত ব্যক্তিরা বসে আছেন। নিচ থেকে কোমরে দড়ি বেঁধে দেওয়ার পর উপর থেকে সেই দড়ি ধরে টেনে তোলা হয়। রক ক্লাইম্বিং করার এই সুযোগ কি আর ছাড়া যায়? সবাই একবার করে চড়লেও আগ্রহের আতিশয্যে অনিন্দ্য দুইবার পাথরের চূড়ায় উঠেছিল। উপর থেকে চারপাশ দেখতে মন্দ লাগে না।

প্রতি বছর ভারতীয় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এইখানে রক ক্লাইম্বিং এর প্রতিযোগিতা হয়। জনৈক সেনা সদস্য ২০১০ সালে ৩৫ সেকেন্ডে এই পাথরের চূড়ায় উঠেছিলেন এবং ৭ সেকেন্ডে নেমেছিলেন। এটিই নাকি এখন পর্যন্ত রেকর্ড। রাস্তার যেই পাশে তেনজিং রক ঠিক তার বিপরীত পাশেই আরও একটি উঁচু পাথর আছে যার নাম গম্বু রক। পাথরটির নামকরণ করা হয়েছে তেনজিং নোরগের ভাতিজা নাওয়াং গম্বু’র নামে যিনি প্রথমবারের মত পরপর দু’বার (১৯৬৩ এবং ১৯৬৫ সালে) এভারেস্ট আরোহণের কৃতিত্ব নিজের করে নিয়েছেন। তেনজিং রকের মতই এটিও পর্বতারোহীদের প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।

দার্জিলিং এর চিড়িয়াখানাটি অনেক কারণেই বিখ্যাত। পৃথিবীতে খুব কম চিড়িয়াখানাই আছে যেটি ভূমি থেকে ৭০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। উচ্চতার কারণে এই চিড়িয়াখানায় এমন কিছু জন্তুর নিবাস যেগুলোর দেখা সমতলের কোন চিড়িয়াখানাতেই মিলবে না। পার্বত্য পরিবেশের বাইরে বাঁচতে পারে না এমন অনেক জন্তুর নিরাপদ আবাস এই চিড়িয়াখানা। শুধু তাই নয়, তুষার চিতা, লাল পাণ্ডা এবং হিমালয়ান নেকড়ের মত দুর্লভ প্রজাতির প্রাণীর সংরক্ষণ এবং প্রজনন ঘটানো হয় এইখানে। এইসব বিভিন্ন কারণে স্কটল্যান্ডের রয়্যাল ব্যাঙ্ক ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতায় পৃথিবীর ৩০০ টিরও বেশি চিরিয়াখানার উপর জরিপ শেষে ২০১৪ সালে চিড়িয়াখানাটিকে “The Earth Heroes” পুরষ্কারে ভূষিত করেছে।

৬৭.৫ একর আয়তনের এই চিড়িয়াখানাটি স্থাপন করা হয় ১৯৫৮ সালের ১৪ আগস্ট। তখন এর নাম ছিল Himalayan Zoological Park. ১৯৭৫ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পার্কটিকে পশ্চিম্বঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পদ্মজা নাইডুর স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন এবং তখন থেকেই এটি Padmaja Naidu Himalayan Zoological Park নামে পরিচিত। এই পার্কের ভিতরেই একপাশে হিমালয় মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের অবস্থান। সকাল ৯ টার আগে প্রবেশদ্বার খুলে না। আমরা যখন পৌঁছেছি তখনও আরও আধা ঘণ্টা বাকি ৯ টা বাজতে। এত সকালেও টিকেট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যাই বেশি। সকালের হিমেল বাতাসে সূর্যের আলোর পরশ গায়ে মাখিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে খুব একটা খারাপ লাগছিল না।

৪০ রুপির টিকেট কেটে ভিতরে ঢুকতে হয়। সাথে ক্যামেরা থাকলে আরও ১০ রুপি বাড়তি লাগে। আজকাল মোবাইলের সাথে ক্যামেরা থাকায় লোকজনের এই বাড়তি খরচটুকু করতে হয় না। প্রবেশপথ থেকে সোজা একটা রাস্তা চলে গেছে হিমালয় মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের দিকে। ডানপাশের রাস্তায় অগ্রসর হলে চোখে পড়বে দুর্লভ পার্বত্য পাখির সংগ্রহ। এছাড়াও লাল পাণ্ডার নিবাস সেদিকেই। আমাদের হাতে সময় ছিল কম তাই হিমালয় মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের বাইরে অন্য কোথাও যাওয়ার উপায় ছিল না। এইটুকু যেতে যেতেই যতগুলো প্রাণী দেখে নেওয়া যায় ততটুকুই মঙ্গল।

পথিকগণের ক্লান্তি চলে আসলে যেন বিশ্রাম নিতে পারেন সেইজন্য বসার সুবন্দোবস্ত রয়েছে। ওইখানে বসে ভাবছিলাম বন্দী জীবন কি পশুগুলো আদৌ মেনে নিতে পারছে? আমার কাছে চিড়িয়াখানা ব্যাপারটাকেই কেমন জানি নিষ্ঠুর নিষ্ঠুর লাগে। বিশেষ করে পাখিদেরকে খাঁচায় বন্দী রাখার বিষয়টি। মুক্ত একটা পরিবেশ থেকে কিছু প্রাণীকে ধরে এনে বন্দী করে রাখা হয়েছে মনুষ্য প্রজাতির মনোরঞ্জনের জন্য। কোন এককালে আফ্রিকান দাসদের ধরে এনে খাঁচায় বন্দী করে প্রদর্শনী করা হত। সেই পর্যায় আমরা পার করে এসেছি অনেক আগেই কিন্তু মানব মনের গহীনে লুক্কায়িত পশু প্রবৃত্তি থেকে আমরা সম্ভবত এখনও বের হতে পারি নি। মনীষীরা বলে গেছেন “জীবে দয়া করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।“ চিড়িয়াখানার বিষয়টি আমার কাছে একেবারেই এই উক্তির বিপরীত মনে হয়। অবশ্য এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। অনেক দুর্লভ প্রাণী হয়ত চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণ এবং প্রজনন না করলে পৃথিবী থেকে হারিয়েই যেত। সেই হিসাব করলে চিড়িয়াখানা বিষয়টিকে এতটা নিষ্ঠুর মনে নাও হতে পারে। যে যেভাবে ভাবেন আর কি।

আমাদের যাত্রার মূল আকর্ষণ ছিল হিমালয় মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট। সেদিকে যতই অগ্রসর হচ্ছিলাম ততই উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। পাহাড় আমায় খুব টানে। এভারেস্ট ছুঁতে পারব কি না জানি না কিন্তু হিমালয় অভিযানে বের হওয়ার স্বপ্ন অনেক আগে থেকেই দেখি। যারা হিমালয় অভিযানে যেতে চান তাঁদের জন্য এই ইন্সটিটিউট তীর্থস্থানের মত। ১৯৫৩ সালে এভারেস্ট জয়ের পর ইংল্যান্ডের রাণী এডমন্ড হিলারিকে নাইট উপাধি প্রদান করেন। আর ভারত তেনজিং নোরগের সম্মানে তৈরি করে এই ইন্সটিটিউট। উদ্দেশ্য ছিল যেসকল অভিযাত্রী হিমালয় অভিযানে যেতে চান তাঁরা যেন যথোপযুক্ত ট্রেনিং নিতে পারেন। তেনজিং নোরগেকে এই ইন্সটিটিউটের প্রথম পরিচালক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ১৯৫৬ সালে ৪ নভেম্বর ইন্সটিটিউটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বর্তমানে এই ইন্সটিটিউটে পর্বতারোহীদের জন্য একটি আবাসিক বিদ্যালয়, শেরপা প্রশিক্ষকদের জন্য সুইস রীতিতে তৈরি আবাসিক ভবন, মিউজিয়াম, রেস্টুরেন্ট এবং সুভেনির শপ রয়েছে। আমরা যখন গিয়েছিলাম তখন সম্ভবত এমনই এক ব্যাচ পর্বতারোহীর অনুশীলন কার্যক্রমের সমাপনি পর্ব চলছিল। শুনেছি এই ইন্সটিটিউটের লাইব্রেরীতে পর্বতারোহণের উপর প্রায় আড়াইশ দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ আছে। এইখানে ২৮ দিনের দিনের একটা Basic Mountaineering Course কোর্স করার ইচ্ছে আছে। পর্বতারোহণের কৌশল আয়ত্তের পাশাপাশি তখন বইগুলো পড়াও সম্ভব হবে।

ইন্সটিটিউটের হলুদ রঙের দেয়ালে বড় একটা ছবি খোদাই করা আছে যেখানে দেখা যায় একজন পর্বতারোহী তাঁর সঙ্গীকে পর্বতের চূড়ায় উঠতে সাহায্য করছেন। সেই সাথে উৎকীর্ণ আছে একটি বাক্য “May (you) climb from peak to peak.” অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে কেন এত খরচ করে, জীবনের উপর এতটা ঝুঁকি নিয়ে লোকজন পাহাড়ে চড়তে যায়। এ কেমন নেশা যেখানে থেকে কোন পর্বতারোহীরই নিস্তার নেই? পর্বতারোহণ নিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তিতি সম্ভবত করে গেছেন বিখ্যাত পর্বতারোহী জর্জ ম্যালোরি যিনি তাঁর সহযাত্রী এন্ড্রু আর্ভিনকে নিয়ে এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে ১৯২৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা জিজ্ঞাসা করেছিল কেন তিনি বার বার এভারেস্ট অভিযানে যান। তিনি চমৎকার একটি উত্তর দিয়েছিলেন, “Because, it is there”. জীবনের শেষ অভিযানে তাঁকে শেষবারের মত দেখা গিয়েছিল এভারেস্ট শীর্ষ থেকে ৩০০ ফুট নিচে। সঙ্গীসহ মেঘের আড়ালে হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় নি। প্রায় ৭০ বছর পর ম্যালোরির মৃতদেহ আবিষ্কৃত হয় এভারেস্টের কয়েকশ ফুট নিচে। শেষ অভিযানের আগে তিনি স্ত্রীর একটি ছবি সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং স্ত্রীকে কথা দিয়েছিলেন যদি এভারেস্ট শীর্ষে পৌঁছাতে পারেন তাহলে সেখানে ছবিটি রেখে আসবেন। যেহেতু মৃতদেহের সাথে ছবিটি পাওয়া যায় নি তাই অনেকের ধারণা তিনিই প্রথম এভারেস্ট শীর্ষে পৌঁছেছিলেন। সাথে করে নিয়ে যাওয়া হারানো ক্যামেরাটা খুঁজে পাওয়া গেলে হয়ত আসল সত্যটা জানা যাবে।

ইন্সটিটিউটের ভিতরেই মিউজিয়ামের অবস্থান। ১৯৫৭ সালে সংগ্রহশালাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগ্রহশালার বাইরে খোলা চত্বরে তেনজিং নোরগের এক বিশাল ভাস্কর্য। ভাস্কর্যটি উন্মোচন করেছিলেন তাঁর এভারেস্ট অভিযানের সহযাত্রী স্যার এডমন্ড হিলারি ১৯৯৭ সালের ২৫ মার্চ। ভাস্কর্যের উল্টোপাশে তেনজিং নোরগের সমাধি। কৃতি এই অভিযাত্রী ১৯৮৬ সালের ৯ মে মৃত্যুবরণ করেন। সমাধিগাত্রে উৎকর্ণ আছে পর্বতারোহীদের প্রতি করা তাঁর বিখ্যাত উক্তি “You cannot be a good mountaineer, however great your ability unless you are cheerful and have the spirit of comradeship.”

তেনজিং নোরগের সমাধি দর্শন করে প্রবেশ করলাম মিউজিয়ামে। আমরাই আজকের দিনের প্রথম দর্শনার্থী। দ্বিতল সংগ্রহশালাটিতে তিনটি ভাগ রয়েছে। প্রথম অংশে আছে পর্বতারোহণের ইতিহাস, দ্বিতীয় অংশে এভারেস্ট অভিযানের বিস্তারিত এবং শেষ অংশে হিমালয় অঞ্চলের জীব বৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং জীবনধারণের বর্ণনা। নিচতলায় ঢুকতেই চোখে পড়বে পুরো হিমালয় পর্বতমালার একটি মডেল যেখানে বড় বড় পর্বতচূড়া এবং হিমালয় থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন নদীর গতিপথ চমৎকারভাবে দেখানো হয়েছে। মনে হয় যেন কত জীবন্ত সবকিছু। দেয়ালে সারি সারি করে ঝুলানো আছে পর্বতারোহনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। বিভিন্ন জাতের গগলস, বরফ কামড়ে ধরার জন্য বিশেষ করে বানানো বুট জুতা, অক্সিজেন সিলিন্ডার, বরফে কামড় বসানোর জন্য আইস এক্স, হাতুড়ি, গ্যাসের বাতি, কম্পাস, পিট ফার্নেস, পানির বোতল, দড়ি, বিশেষ পোশাক কি নেই সেখানে। স্লিপিং ব্যাগ, অনেক উঁচুতে হাত-পায়ে পড়ার জন্য বিশেষ মোজা এবং জ্যাকেটের সংগ্রহ তো আছেই। পৃথিবীর বিভিন্ন পর্বতারোহী ক্লাবের ব্যাজের এক বিশাল সংগ্রহও চোখে পড়ল।

দোতলায় মাউন্ট এভারেস্ট অংশটাও চমৎকার। এইখানে বিভিন্ন সময়ে এভারেস্ট অভিযানের সচিত্র বর্ণনা রয়েছে। মাউন্ট এভারেস্টের বিশাল একটা মডেলও আছে। আছে তেনজিং নোরগে এবং স্যার এডমন্ড হিলারির এভারেস্ট অভিযানে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ। একটা মৃত ইগলের ছবি বাঁধানো দেখে খুবই কৌতূহল হল। এক অভিযাত্রী দল ১৯৬০ সালে হিমালয়ের ২৬০০০ ফুট উচ্চতায় ঈগলটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। ঈগল উঁচুতে উড়তে পারে সবাই জানে, কিন্তু হিমালয়ের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় এতটা উঁচুতে যে উড়তে পারে সেটা কেউ সম্ভবত ভাবে নি।

সংগ্রহশালায় যেই বস্তুটি দেখে আমি সবচেয়ে চমৎকৃত হয়েছি সেটি হচ্ছে একটি টেলিস্কোপ। বিশালায়তনের এই টেলিস্কোপ দিয়ে পুরো কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। টেলিস্কোপটি এডলফ হিটলার উপহার দিয়েছিলেন নেপাল সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ মহারাজা শমসের জং বাহাদুর রানা’কে। মহারাজার পরিবার ১৯৬১ সালের ৭ জুলাই টেলিস্কোপটি ইন্সটিটিউটে উপহার দেয়। সংগ্রহশালার অভ্যন্তরে ছবি তোলা নিষেধ বিধায় টেলিস্কোপটির ছবি তুলতে পারি নি। এই টেলিস্কোপে চোখে রেখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন করতে না পারার আফসোসটা রয়ে যাবে।

সংগ্রহশালার প্রবেশমুখে একটা ছোট্ট কাউন্টার আছে যেখানে বিভিন্ন স্মারক বিক্রি হয়। স্মৃতি হিসাবে রাখার জন্য একটা কম্পাস আর একটা ব্যাজ কিনে বাইরের খোলা প্রান্তরে বেরিয়ে আসলাম। দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। সকালের সেই চুপচাপ শান্তিময় পরিবেশ উধাও। হেঁটে হেঁটে তেনজিং নোরগের ভাস্কর্যের গোঁড়ায় এসে বসে থাকলাম কিছুক্ষণ। এখান থেকে চারপাশটা চমৎকার দেখায়। মেঘের আড়ালে ঢাকা হিমালয় পর্বতমালার দিকে তাকিয়ে হঠাত করেই সেই মৃত ঈগলটির কথা মনে পড়ল। এত উঁচুতে সে কেন উঠেছিল? শুধুই কি খাবারের খোঁজ নাকি পৃথিবীর শীর্ষ থেকে নিচে তাকানোর আনন্দের অন্বেষণ? কেন জানি নিজেকে সেই ঈগলের স্থানে কল্পনা করতে শুরু করলাম। আমি যেন কেবলই উঠছি আর উঠছি। পাখাগুলো ক্লান্তিতে খসে পড়তে চাইছে কাঁধ থেকে তবুও থামছি না। এভারেস্ট শীর্ষে না পৌঁছা পর্যন্ত যেন আমার নিস্তার নেই। চারপাশে খেলা করছে বরফ শীতল বাতাস। আমাকে লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে। তারপরেও আমি উঠছি।

কল্পনার জগত থেকে বাস্তবে ফিরে প্রতিজ্ঞা করলাম, এভারেস্টের শীর্ষে আমি পৌঁছাতে পারি কিংবা নাই পারি। হিমালয় আমি স্পর্শ করবই করব।

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: