লাদাখের ডায়েরী (দ্বিতীয় পর্ব)

মূল লেখার লিংক
৩১শে মে, লে, সন্ধ্যা ৫.৩০

২৮ শে ডায়রী লিখেছি। আজ ৩১শে মে। মাঝে দুটো দিন আর আজকের অর্ধেক কেমন হুস করে বেরিয়ে গেল। হুস করে বলতে যে খুব ব্যস্ততার মধ্যে গেছে তা নয়। এই দু দিনে কী দেখলাম যেটা সবচেয়ে ছোট করে বলতে গেলে যে শব্দবন্ধ ব্যবহার করা যায়, তা হল ভয়ঙ্কর সুন্দর।
DSC_0487

কার্গিল থেকে সকাল সকাল বেরিয়ে এক নাম্বার জাতীয় সড়কের সওয়ারী হয়ে বিকেলের মধ্যে লে শহর। লে পৌছানোর আগে রাস্তায় দেখা মিলল ম্যাগ্নেটিক হিলের।
IMAG3363
জাতীয় সড়কের ধারে পর্বতশ্রেনী। একটি নির্দিষ্ট পাহাড়ে ওঠার সময় গাড়ীর ইঞ্জিন বন্ধ করে করলেও গাড়ী সোজা উঠতে থাকে পাহাড় বেয়ে। মোটামোটি ঘন্টায় কুড়ি কিলোমিটার বেগে। ভৌতিক কান্ড! পরে জানা গেল ‘অপ্টিকাল ইলিউশনের’ জন্যই নাকি এমন ঘটনা।

বলা হয়ে থাকে ভগবানের হাতে তৈরী জম্মু- কাশ্মীর রাজ্যের লাদাখ অঞ্চল। তার জেলা শহর লে। যেদিকে তাকানো যায় শুধুই পর্বতশ্রেনী। কোনোটা ধূসর কোনোটা খয়েরী। প্রথম জুনেই শরতের পেঁজা তুলোর মত মেঘের খেয়ালী গতিবিধি। ধুসর ছাইরঙা পর্বতশ্রেনীর ওপর আদুরে মেঘের ছায়া। আর চারদিকের পর্বতমালার মাঝে একটা উপত্যকা।
DSC_0109

লে শহর কী আশ্চর্য ভাবে এই উপত্যকায় গড়ে উঠেছে, সেটা চোখে না দেখলে বলা মুশকিল। চারদিকে মানে ৩৬০ ডিগ্রী কোণ জুড়ে শুধুই পার্বত্য সৌন্দর্য। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ১১,৪৮২ হাজার ফুট ওপরে এই লে শহর। স্বাভাবিক ভাবেই উচ্চতাজনিত শারিরীক সমস্যা যাতে মাথা চাড়া না দেয় সেজন্য লে পৌছনোর পর নো নড়াচড়া।
পরদিন স্থানীয় কিছু দ্রষ্টব্য দর্শন। মূল শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরেই শান্তিশ্তূপা।
DSC_0552
সাগরপৃষ্ঠ থেকে ১১৮৪১ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই শান্তিস্তুপা থেকে লে শহর আর তার পর্বতশ্রেণী চোখে লেগে থাকে দীর্ঘক্ষন।
DSC_0547
যেটা উল্লেখ্য, সেই পর্বতশ্রেণীর গায়ে একটু মনোযোগ দিলেই ছোট বেলার ভূগোল বইয়ের পাতা থেকে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের বিভিন্ন ভূমিরূপ যেন সোজা উঠে এসে হাজির হয়েছে চোখের সামনে। এখান থেকে চোখে পরে লে’র রাজবাড়ী। সপ্তদশ শতকে নির্মিত এই রাজবাড়ী অবশ্য এখন পরিত্যক্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত।
DSC_0560
উনিশ শতকে রাজপরিবারের লোকেরা স্থানান্তরিত হয় স্টক প্যালেসে, যার কথায় আমরা পরে আসছি। শান্তিস্তূপা থেকে সরতে মন চায় না। কিন্তু সময় নির্দিষ্ট। আজকের মধ্যেই দেখে ফেলতে হবে লে’র দ্রষ্টব্য স্থানগুলি। কাল ভোরে উঠেই নূব্রার উদ্দেশ্যে রওনা।

লে বিমানবন্দরের ঠিক পাশেই স্পিটুক গুম্ফা। খাঁড়া সিড়ি বেয়ে উঠতে হয় অনেকটা। আমাদের সমতলভূমিতে লালিত ফুসফুস বিদ্রোহ করে ওঠে। গুম্ফা থেকে বিমান ওঠানামা দেখতে বেশ লাগে।
DSC_0570
দিগন্ত বিস্তৃত উষঢ় পর্বতমালা। ভাসমান মেঘ। দিগন্ত থেকে ধেয়ে আসা বিমানের চারদিক পাক খেয়ে বন্দরে অবনমন – এ এক দেখার মত দৃশ্য।
লে’র রাজবাড়ী, মানে স্টক প্যালেস কম আকর্ষনীয় নয়। রাজবাড়ীর একটু আগেই বিশালাকার বুদ্ধ মূর্তি।
DSC_0597
লে শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মূর্তিটি অবশ্য সাম্প্রতিক অতীতে, ২০১৫ সালে নির্মিত। এই ইতিহাসসমৃদ্ধ লে শহরের প্রাচীন ব্যাবহৃত দ্রব্যের এক সংরক্ষনাগার গড়ে উঠেছে রাজবাড়ীতে।
DSC_0603
প্রাচীন অস্ত্র সম্ভার থেকে সীলমোহর, বর্ম, লে’র ঐতিহ্যমন্ডিত পোষাক, মূল্যবান রত্ন, – সব কিছুতেই কত না ইতিহাসের গন্ধ।

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: