বোল্ট-ফেলপ্‌স্‌দের পথ দেখিয়েছেন যিনি

মূল লেখার লিংক
মাটির পাত্রে আঁকা খ্রিষ্টপূর্বাব্দের একজন দৌড়বিদ। ছবি: বিবিসি।
মাটির পাত্রে আঁকা খ্রিষ্টপূর্বাব্দের একজন দৌড়বিদ। ছবি: বিবিসি।
গুগল নামের আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইউটিউবে কোনো ভিডিও তো অনেক দূরের কথা। ছবি বা ভিডিও, এসবের ধারণাই তো ছিল না ওই সময়। একমাত্র স্মৃতি বলতে মাটির পাত্রে আঁকা একটা মানুষের অবয়ব। সেটি দেখেই বুঝে নিতে হয়, কিংবদন্তির লিওনিদাস হয়তো এ রকম কেউই হবেন! প্রায় অমর হয়ে যাওয়া যাঁর রেকর্ড আজ ভেঙে দিয়েছেন মাইকেল ফেলপ্‌স্‌।

লিওনিদাসের সেই কীর্তি আজকের কথা নয়। ২০০০ বছর পেরিয়ে গেছে এরপর। নির্দিষ্ট করে বললে ২১৬৮ বছর। প্রাচীন অলিম্পিকের বীজ বোনা হয়েছে তারও অনেক আগে, সেই ৭৬৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। ওই সময় থেকে খ্রিষ্টের জন্মের ৩০০ বছর পর পর্যন্ত নিয়মিতই হয়ে এসেছে অলিম্পিক।

লিওনিদাসের আগমন অবশ্য খ্রিষ্টের জন্মের আগেই। ওই সময় অলিম্পিকে মোট পাঁচটি ইভেন্ট হতো। এর মধ্যে দুটি ছিল দৌড়ের। সেই দৌড়ও ছিল আবার দুই রকম। একটা প্রথাগত স্বল্পপাল্লার দৌড় আর আরেকটি অস্ত্র ও বর্ম নিয়ে দৌড়। লিওনিদাস দুই ধরনের দৌড়েই নিজের সময়ে অপরাজেয় ছিলেন।

স্তাদিওন আর দিয়াউলস নামের দুটি ইভেন্টকে আধুনিক কালের ২০০ ও ৪০০ মিটার সঙ্গে তুলনা করা যায়। তবে হপলিতদরোমস নামের ইভেন্টটাই চূড়ান্ত সহ্যশক্তির পরীক্ষা নিত। খালি গায়ে বা খালি হাতে নয়, একেবারে যুদ্ধের সাজেই দৌড়াতে হতো। ওই সময় সৈনিকদের প্রথাগত সাজ ছিল মাথায় ভারী শিরস্ত্রাণ, গায়ে ব্রোঞ্জের বর্ম, হাতে আবার ব্রোঞ্জ আর কাঠের তৈরি ঢাল। এসব নিয়েই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দৌড়াতে হতো সবাইকে। ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের ক্লাসিকসের অধ্যাপক পল কার্টলেজ বলছেন, আজকের যুগের ডেকাথলনের
মতোই এই দৌড়টাও অ্যাথলেটদের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিত। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সেই কাজটা খুব একটা সহজ ছিল না!

তবে লিওনিদাস এই তিন দৌড়েই দুর্দান্ত ছিলেন। খ্রিষ্টপূর্ব ১৬৪ সাল থেকে শুরু, এর পর টানা চার অলিম্পিকে এই তিন দৌড়েই সেরা হয়েছিলেন। নিজের দ্বীপ রোডসে লিওনিদাস ছিলেন কিংবদন্তিই। এমনকি খ্রিষ্টের জন্মের ৩০০ বছর পরও তাঁর উল্লেখ আছে গ্রিক সাহিত্যে। রোডসে বলা হতো, তিনি ঈশ্বরের মতো দৌড়াতে পারেন!

ওই সময় ঠিক পদক দেওয়ার রীতি ছিল না, মাথায় অলিভ পাতার তৈরি একধরনের মুকুট পরিয়ে দেওয়া হতো। আনুষ্ঠানিক পদক না থাকলেও লিওনিদাসকে এখনকার হিসেবে সোনাজয়ী বলাই যায়। সেই হিসেবে তাঁর মোট সোনা ১২টি, আজ ২০০ মিটার মিডলেতে জিতে যে রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন ফেলপ্‌স্‌।

তবে ফেলপ্‌স্‌ এখনো একটা দিক দিয়ে লিওনিদাসকে ছাড়াতে পারেননি। আধুনিক অলিম্পিকে মার্কিন সাঁতারুর চেয়ে বেশি বয়সে কেউ সাঁতারে সোনা জেতেননি। তবে লিওনিদাস নিজের শেষ অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সে। ৩১ বছর বয়সী ফেলপ্‌স্‌ কি সেটাও তাড়া করবেন! সূত্র : বিবিসি।

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: