রেডমন্ডের গল্পটা আপনাকে কাঁদাবে, অনুপ্রাণিত করবে

মূল লেখার লিংক
জীবন-যুদ্ধে আপনি লড়ে লড়ে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত? রেডমন্ডের এই গল্পটা শুনুন! ফাইল ছবি
১৯৯২ বার্সেলোনা অলিম্পিক। যে আসরে জন্ম নিয়েছিল এক অন্য রকম অনুপ্রেরণার গল্প। খেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে যে গল্প হয়ে উঠেছে জীবনে গল্প। জীবনযুদ্ধে লড়ে লড়ে আপনি যদি ক্লান্ত-বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন, তাহলে এ গল্প আপনাকে শুনতে হবেই। এই গল্প যে কখনোই হাল না ছাড়ার!
ব্রিটিশ অ্যাথলেট ডেরেক রেডমন্ড কখনোই অলিম্পিকে কিছু জেতেননি। তবু অলিম্পিক ইতিহাস ঠিকই মনে রেখেছে তাঁকে। ১৯৯২ অলিম্পিকে রেডমন্ডের দৌড় অলিম্পিক ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে আছে।
৪০০ মিটার দৌড়ের হিটে সেরা টাইমিং করে সেমিফাইনালে উঠেছিলেন রেডমন্ড। ছিলেন সোনার পদকের অন্যতম দাবিদার। শুরুটা একটু পিছিয়ে থেকে করলেও ২৫০ মিটারে গিয়ে শুরু করেন গতির ঝড়। হঠাৎ…ডান পায়ের পেশিতে পড়ল টান। রেডমন্ড গতি কমাতে বাধ্য হলেন। থমকে বসে বসলেন ট্র্যাকে। ততক্ষণে শেষ হয়ে গেছে দৌড়।
কিন্তু রেডমন্ড আবার উঠে দাঁড়ালেন। ওই অবস্থায় হাঁটাই সম্ভব না, কিন্তু এক পায়েই লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু এই চেষ্টার তো কোনো মানেই হয় না। একজন কর্মকর্তা এগিয়ে এলেন সাহায্য করতে, ট্র্যাক থেকে নিয়ে যেতে। কিন্তু তিনি নাছোড়, দৌড় শেষ করবেনই রেডমন্ড!

সাদা টি-শার্ট, ক্যাপ পরা মাঝবয়সী এক ভদ্রলোক গ্যালারি থেকে ছুটে এলেন। নিরাপত্তাকর্মীরা আটকাতে চাইলে সেই ভদ্রলোক কী যেন একটা বলতেই পেয়ে গেলেন ছাড়। হঠাৎ রেডমন্ড শুনলেন পাশ থেকে চেনা এক কণ্ঠস্বর, ‘ডেরেক ভয় নেই, আমি আছি তোমার পাশে!’ সাদা টি-শার্ট পরা ওই ভদ্রলোক ছিলেন রেডমন্ডের বাবা। বাবাকে পেয়ে কান্নার দমক আর আটকে রাখতে পারলেন না রেডমন্ড!
নিজেকে কিছুটা সামলে বাবার এক কাঁধে ভর দিয়ে বললেন, ‘আমাকে দ্রুত ৫ নম্বর লেনে নিয়ে যাও, আমি দৌড়টা শেষ করব বাবা, দ্রুত দ্রুত।’ কয়েকজন কর্মকর্তা এগিয়ে এলেন পিতা-পুত্রকে এই ‘অর্থহীন’ দৌড় থামানোর জন্য। কিন্তু তাঁরা হাল ছাড়লেন না।
ডেরেক, এভাবেই ছুঁয়ে ফেললেন ফিনিশিং লাইন, খোঁড়াতে খোঁড়াতেই। বাইরের কারও সাহায্য নিয়ে দৌড়ানোয় ওই দৌড়ে তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ‘অযোগ্য’ দৌড়টাই অলিম্পিক ইতিহাসের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে আছে। সেদিন পুরো গ্যালারি উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান আর অভিবাদন জানিয়েছিল তাঁকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেবার ৪০০ মিটার দৌড়ে কে সোনা জিতেছিল, কে পেয়েছিল রুপা বা ব্রোঞ্জ—এসব কেউ মনে রাখেনি। সবাই মনে রেখেছে ‘বাতিল’, ‘অযোগ্য’ রেডমন্ডকেই!
ডেরেক রেডমন্ড বাকিদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, হাল ছাড়তে নেই, কিছুতেই না, কখনোই না…লড়ো লড়ো…এবং লড়ে যাও!

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: