ঢাকায় মোগল আমলের পঞ্চায়েত প্রথা

মূল লেখার লিংক
ঢাকায় মোগল আমলের পঞ্চায়েত প্রথা
পঞ্চায়েত প্রথা। ঢাকার  স্থানীয় সরকারের মধ্যযুগের ব্যবস্থা। ঢাকা শহরের বিভিন্ন মহল্লার সামাজিক-প্রশাসনিক প্রয়োজনে গড়ে ওঠে এই ব্যবস্থা। ‘পঞ্চায়েত’ শব্দটির উত্পত্তি পঞ্চ বা পাঁচ থেকে। পাঁচজন সদস্য নিয়ে স্বনির্ভর গ্রামীণ পরিষদ গঠিত হত। এটাকেই বলা হত পঞ্চায়েত।
মূলত পাঁচ ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত হত পঞ্চায়েত। প্রথমজনকে বলা হত মীরে মহল্লা বা সরদার। দ্বিয়জনকে নায়েব সরদার, আর বাকী তিনজনকে বলা হত লায়েক বেরাদার।
এই পাঁচজনের মুষ্টিতেই ছিল পঞ্চায়েতের শক্তি। এই পাঁচজনের সঙ্গে অল্প বেতনে কাজ করতেন একজন গোরেদ বা সাকিদার, যার কাজ ছিল পঞ্চায়েত প্রদত্ত তথ্য বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। সাধারণত তারাই পঞ্চায়েত সদস্য হতেন যাদের পারিবারিক কবরস্থান ও বাংলা ঘর ছিল।
ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন লিখেছেন, ঢাকার ঐতিহ্য পঞ্চায়েত প্রথা এখন বিলুপ্তির পথে। অর্থনীতির নতুন বিন্যাস, ১৯৪৭-এর স্বাধীনতার পর বিশাল পরিবর্তন সবকিছুই সাহায্য করেছিল ঢাকার পঞ্চায়েত প্রথার বিলুপ্তিতে। সম্প্রতি, ঢাকার দু’একটি মহল্লায় আবার নতুনভাবে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালুর প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। ‘ঢাকাবাসী’ নামক সংগঠনের সভাপতি মো. শুকুর সালেক বলেন, পঞ্চায়েত প্রথা ঢাকাবাসীর ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। পঞ্চায়েতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সঠিক বিচার পেত। সবার মতামতের ভিত্তিতে সরদার রায় দিতেন। ঢাকা নগর যাদুঘরে এবিষয়ক কিছু ছবি এবং তথ্য এখনো নথিভুক্ত রয়েছে। ঢাকা মহানগর সমিতির সহ-সভাপতি হাজী আব্দুস সালাম বলেন, পঞ্চায়েত প্রথা ছিল শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা। পঞ্চায়েতের সরদার কখনো মিথ্যা বলতেন না। সবাই তাদের বিশ্বাস করতেন। কেউ পঞ্চায়েতের রায় না মানলে তাদের          শাস্তি দেয়া হতো।

পিছনে ফেরা :পঞ্চায়েত প্রথার সূত্রপাত মোগল আমলে। তবে ইংরেজ আমলে ছিল পঞ্চায়েতের ভরা যৌবন। প্রথাটি বিশেষভাবে আইনি বৈধতা পায় ১৮৫৭ সালে। সিপাহী বিদ্রোহের ফলে যখন ঢাকার প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে তখন ইংরেজ প্রশাসন নবাব আবদুল গণিকে ঢাকাবাসীকে নিয়ন্ত্রণে আনার দায়িত্ব দেন। তিনি মহল্লার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নবাববাড়িতে ডেকে এনে এ ব্যাপারে পরামর্শ করেন। এরপর বিভিন্ন মহল্লার পঞ্চায়েত ও সরদার ঘোষণা করেন। ঢাকায় দুই ধরনের পঞ্চায়েত প্রথা চালু ছিল: বাইশ পঞ্চায়েত এবং বারো পঞ্চায়েত। যারা ঢাকাই উর্দুভাষী ছিলেন তারা ছিলেন বাইশ পঞ্চায়েতের অন্তর্ভুক্ত। আর ঢাকাই বাংলাভাষীরা ছিলেন বারো পঞ্চায়েতের অধীনে। তবে নওয়াব সলিমুল্লাহর আমলে বাইশ পঞ্চায়েত এবং বারো পঞ্চায়েতকে একসঙ্গে নিয়ে পঞ্চায়েত প্রথাকে আরও শক্তিশালী করা হয়।
১৮৮৩ সালে প্রকাশিত জেম্স্ ওয়াইজের গ্রন্থে পঞ্চায়েত সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা যায়। ঢাকা পঞ্চায়েতসমূহের তত্ত্বাবধায়ক খাজা আজম ‘দ্য পঞ্চায়েত সিস্টেম অব ঢাকা’ নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছিলেন ১৯০৭ সালে। সেই বইয়ে বলা হয়, পেয়ার বখ্শ্ সরদার ছিলেন সূত্রাপুর-ফরাশগঞ্জের একজন আলোচিত মঞ্চশিল্পী। তার অভিনীত মঞ্চনাটক দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শক সমাগম ঘটত। পেয়ার বখ্শ্ সরদারসহ অনেকেই তখন নিজস্ব অর্থায়নে খোলা চত্বরে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে নাটক করতেন।
সাধারণের কাছে অজানা অনেক সরদারের নামও জানা যায় এই বই থেকে। যেমন- আফিরুদ্দিন ছিলেন কমলাপুরের সরদার। ইলিয়াছ ছিলেন রায়সাহেব বাজারের সরদার, আহসানউল্লাহ ছিলেন লোহারপুল সরদার, জুম্মন ছিলেন রহমতগঞ্জের সরদার, মির্জা আবদুল কাদের ছিলেন ইসলামপুরে এলাকার সরদার, আবদুল গণি ছিলেন লালবাগের সরদার, খলিল ছিলেন হাজারীবাগের সরদার, মাজেদ ছিলেন নাজিরাবাজারের সরদার ও মাওলা বখ্শ্ ছিলেন সূত্রাপুর-ফরাশগঞ্জ মহল্লার সরদার। তবে ১৯৬০ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ করার পর এই প্রথাটি প্রায় ভেঙে যায়। শালিস-বিচারের দায়িত্ব পড়ে ওয়ার্ড কমিশনারদের ওপর। তারপরও যে সরদার প্রথা বিলোপ হয়ে গেছে তা কিন্তু নয়। মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য সরদারদের কাছে যেতই।
এখনো টিকে আছে :এখনো কোথাও কোথাও পঞ্চায়েত প্রথা দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: পুরানো ঢাকার সূত্রাপুর-কাগজীটোলা পঞ্চায়েত, ফরাশগঞ্জ-লক্ষ্মীবাজার পঞ্চায়েত, গোয়ালঘাট পঞ্চায়েত, দক্ষিণ মৈসুন্ডি পঞ্চায়েত, ফরিদাবাদ পঞ্চায়েত, ধোলাইপাড় পঞ্চায়েত, কসাইটুলী পঞ্চায়েত, খাজে দেওয়ান পঞ্চায়েত, কলতাবাজার পঞ্চায়েত, রায়সাহেব বাজার পঞ্চায়েত ও বংশাল পঞ্চায়েত। এই পঞ্চায়েত কমিটিগুলো আগের মতো সালিশ-বিচার না করলেও তারা বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে। গরিব-দুঃস্থ মেয়েদের বিয়েতে সাহায্য করা, মৃত ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা, ইফতারি বিতরণ করা, ফ্রি চিকিত্সা, মহল্লার দুঃস্থ লোকদের জন্য কোরবানি দেয়ার মতো সামাজিক সেবামূলক কাজ এসব পঞ্চায়েত কমিটির প্রধান বিষয়।
লালবাগের খাজে দেওয়ান পঞ্চায়েতের সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান মাসুম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ জাহান বলেন, ঢাকার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার জন্যই আমাদের এই পঞ্চায়েত। সপ্তাহে একবার বিনামূল্যে চিকিত্সা দেয়া এবং ওষুধ বিতরণ করা হয়। আমাদের রয়েছে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি। নারিন্দার বসুরবাজার লেন পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি হাজী সাহাবুদ্দিন আহম্মদ এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফরহাদ বলেন, এখন পঞ্চায়েত বিচার-শালিসের চাইতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সম্পৃক্ত থাকে।
প্রশাসনিক ব্যবস্থার শেকড় :একটা সময় পঞ্চায়েত প্রথার ওপর নির্ভরশীল ছিল প্রশাসনিক ব্যবস্থা। পাকিস্তান আমলের শুরুর দিকে আদালতের জুরি বোর্ডে পঞ্চায়েত প্রধানদের জন্য চেয়ার ছিল। কোর্টের বিচারে তাদের মূল্যায়ন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। নগর জাদুঘরে সরদারদের ছবি পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। জাতীয় জাদুঘরেও স্থান নেই তাদের। সামাজিক অনুষ্ঠানের তদারকি ছাড়াও পঞ্চায়েতের একটি প্রধান কাজ ছিল মহল্লার সবধরনের বিবাদ মীমাংসা করা। মহল্লার বিবাদ দেখা দিলে সালিশের জন্য যে কোনো পক্ষ পঞ্চায়েত বৈঠকের জন্য অনুরোধ জানাতে পারত। তবে এর খরচ আহ্বানকারী পক্ষকে বহন করতে হত। খরচ ছিল পান তামাকের, অন্যকিছু নয়। সাধারণত এ ধরনের বৈঠক ডাকা হত বৃহস্পতিবার রাতে। বাদী-বিবাদী ছাড়াও মহল্লার যে কেউ যোগ দিতে পারতেন মজলিস বা বৈঠকে। লায়েক বিরাদার এবং সরদার প্রশ্ন করতেন বাদী-বিবাদীকে। তারপর দেয়া হতো রায়। দুপক্ষকেই মেনে নিতে হতো পঞ্চায়েতের রায়। এ রায়ের প্রতি কোনোরকম অশ্রদ্ধা প্রকাশ করা যেত না। তবে ইচ্ছে করলে অন্য পঞ্চায়েতের সরদারদের নিয়ে গঠিত ‘বিচারালয়ে’ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যেত।
পঞ্চায়েত ব্যর্থ হলে :সেইসময় সরদাররা কোনো বিবাদ মিটাতে না পারলে যেতেন কাজী জহুরুল হক, কাজী আলাউদ্দীন, হাকিম হাবিবুর রহমান, সৈয়দ মোহাম্মদ তাইফুর এবং কাজী ইসমাইলের কাছে। এরা ছিলেন ঢাকার সে আমলের গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব। ধারণা করা হয়, নওয়াব সলিমুল্লাহর পর পঞ্চায়েতের ওপর নওয়াব পরিবারের আধিপত্য কমে যায়। পরে নওয়াব পরিবারের বিকল্প হিসেবে উপরিউক্ত ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। এরা জমিদার ছিলেন না বটে, কিন্তু ছিলেন খানদানি বংশের, সচ্ছল এবং শিক্ষিত। এককথায় ‘আহসান মঞ্জিলের’ বিপরীতে নতুন যুগের প্রতিনিধি। সমাজে এদের আধিপত্য তখন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়।
সরদারের বিচার :মহল্লার পঞ্চায়েতের রায়ের বিরুদ্ধে সাধারণত কেউ আপিল করতে যেতেন না। মহল্লা পঞ্চায়েতকে সহজে কেউ ঘাঁটাতে চাইতেন না। মহল্লার পঞ্চায়েতের রায় যদি কেউ না মানার সাহস দেখাতেন তবে তাকে একঘরে করা হত। সামাজিকভাবে এ বর্জন পরিচিত ছিল ‘বুন্দ’ নামে। যে ব্যক্তির ওপর এ ‘বুন্দ’ জারি করা হত তার ‘সবর্নাশ’ হয়ে যেত। ওই ব্যক্তি যদি নিজের মহল্লা ছেড়ে অন্য মহল্লায়ও যেত তাহলেও সেই ‘বুন্দ’ জারি থাকত। ঢাকা শহরে তার পক্ষে তখন বসবাস করা হয়ে উঠত অসম্ভব। আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আরেক ধরনের শাস্তি ছিল। অপরাধীর পেটে কাঁঠাল বেঁধে বেত মারা হতো এবং তারপর বলা হতো দৌড়াতে। এরপর সরদার সন্তুষ্ট হলে অপরাধী মুক্তি পেত। শহরের সমস্ত সরদারদের একটি ‘কাউন্সিল’ ছিল। এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে ১৯০১ সালের আদমশুমারিতে। কোনো সরদার কোনো কারণে অভিযুক্ত হলে এই কাউন্সিলে তার বিচার হতো এবং কাউন্সিলের রায় তাকে মেনে নিতে হত। অবশ্য কাউন্সিলের রায়ে সন্তুষ্ট না হলে, সরদারের অধিকার ছিল পঞ্চায়েতের তত্ত্বাবধায়কের কাছে আপিল করার। এ ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়কের রায়ই ছিল চূড়ান্ত।
তাদের যতো কাজ :পঞ্চায়েতের আরেকটি কাজ ছিল মুসলমানদের ধর্মীয় উত্সবে সাহায্য-সহযোগিতা করা। যে দুটি ধর্মীয় উত্সব পালনে পঞ্চায়েতকে বিশেষভাবে সহায়তা করতে হত তা হল মুহররম ও ফাতেহা-ই-ইয়াজ্দাহ্ম্। পঞ্চায়েতের আয়ের নির্দিষ্ট কয়েকটি উত্স ছিল। মহল্লার প্রত্যেক নতুন অধিবাসীকে পঞ্চায়েতের সদস্য হওয়ার জন্য চাঁদা দিতে হত। মহল্লার যে কোনো বিয়েতে, কনের মহল্লার পঞ্চায়েত বর পক্ষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নজরানা নিত। এ ব্যাপারে প্রতিটি মহল্লায় নিজস্ব রেট ছিল। এ নজরানার নাম ছিল পঞ্চায়েতই-রাকাম। যদি কনের পিতা মহল্লার অন্য কারো জমিতে বা বাড়িতে বসবাস করতেন তাহলে বরকে ওই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ছাড়াও দিতে হত আরও কিছু অর্থ। এর নাম ছিল হাক্কি-ই জামিনদার। যার পরিমাণ সাধারণত এক টাকার বেশি হতো না। পঞ্চায়েত ওই টাকা দিয়ে দিত কনের পিতার বাড়িওয়ালাকে। কনের মহল্লার মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও বরকে কিছু টাকা দিতে হত। এটা পরিচিত ছিল হক-ই-আল্লাহ নামে। পঞ্চায়েতের স্থাবর সম্পত্তি ছিল পঞ্চায়েতের ঘর যা পরিচিত হতো ‘বাংলা’ নামে। এ ‘বাংলায়’ দিনে মক্তব বসত মহল্লার ছেলেমেয়েদের জন্য। আর রাতের বেলা তা পরিণত হতো মহল্লা ক্লাবে। ‘বাংলায়’ ব্যবহূত এবং রক্ষিত জিনিসপত্র যেমন- শতরঞ্জি, বাতি, হুঁকো, গোলাপপাশ, সামিয়ানাও ছিল পঞ্চায়েতের সম্পত্তির অন্তর্গত। পঞ্চায়েত তহবিলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন সরদার।
একুশের সৈনিক :পিয়ারু সরদার ছিলেন ঢাকার বাইশ পঞ্চায়েত প্রধানের অন্যতম। ২১ ফেব্রুয়ারির একদিন পরেই ছাত্ররা মনস্থির করে যে, ভাষা শহীদদের স্মরণে তারা একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করবে। যে স্থানে গুলি হয়েছে সেখানে নির্মাণ করবে ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নাম খচিত স্মৃতির মিনার। এই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভই পরে হয়ে ওঠে ‘শহীদ মিনার’। ২৩ ফেব্রুয়ারির আগেই ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের’ নক্শা তৈরি করা হয়। মেডিক্যাল কলেজ ভবনের সমপ্রসারণের যে কাজ চলছিল তার ঠিকাদার ছিলেন পিয়ারু সরদার। সেখানে কাজের জন্য যে বালু ও ইট মজুত ছিল শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য তা ছিল পর্যাপ্ত। কিন্তু সিমেন্ট রাখা ছিল তালাবদ্ধ গুদামে। গুদামের চাবিটি ছিল খোদ পিয়ারু সরদারের কাছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের দু’জন ছাত্র-কর্মীকে পাঠানো হয় তার কাছে সিমেন্টের জন্য আবদার নিয়ে। সব শুনে পিয়ারু সরদার নিঃশব্দে বাড়ির ভিতরে গেলেন। চাবি হাতে ফিরে এসে তা ছাত্রদের হাতে তুলে দিলেন। শুধু বললেন, কাজশেষ করে পরদিন যেন চাবিটি তাকে ফেরত দিয়ে দেয়া হয়। এভাবে পিয়ারু সরদারের সম্মতিতে ইট, বালু, সিমেন্ট জোগাড় হয়ে যায়।
এই সম্মতি দেয়াতে পিয়ারু সরদারের উপর বড়রকম বিপদও নেমে আসার শঙ্কা ছিল। তিনি তার পরোয়া করেননি। সেই প্রথম নির্মিত শহীদ মিনারটি ২৬ ফেব্রুয়ারি ভেঙে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর পিয়ারু সরদারের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং তার তত্ত্বাবধানে সেটি আবার আরও বড় করে নির্মাণ করা হয়েছিল।

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: