ডাবল সেঞ্চুরি করেও পরের ম্যাচেই বাদ!

মূল লেখার লিংক
বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজের শেষ টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করে মাঠ ছাড়ছেন গিলেস্পি। সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজের শেষ টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করে মাঠ ছাড়ছেন গিলেস্পি। সংগৃহীত ছবি
পাঁচ বছর পর টেস্ট দলে জায়গা পেয়েই ২৪৫ রানের এক ইনিংস খেলেছিলেন শোয়েব মালিক। ‘রাজকীয় প্রত্যাবর্তন’ যাকে বলে। সেই স্মৃতি তাজা থাকতে থাকতে অবসরের ঘোষণাও দিয়ে দিলেন মালিক। তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য স্থান ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও অবচেতন মনে কিছুটা হলেও সুখস্মৃতি নিয়ে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছে নিশ্চয় ছিল তাঁর। একেবারে মাথা উঁচু করে বিদায়। কিন্তু রাজসিক বিদায়ে মালিক বেশ পিছিয়ে আছেন। বিদায়ী ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডও যে আছে টেস্ট ক্রিকেটে, তাও এক দুবার নয় পাঁচবার!
১৯৩৪ সালে ওভাল টেস্টে বিল পন্সফোর্ড ডন ব্র্যাডম্যানকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪৫১ রান তুলেছিলেন। এই পাহাড়সম জুটি গড়ার পথেই ক্যারিয়ার সেরা ২৬৬ রান নিয়েছিলেন পন্সফোর্ড। ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি ছিল এটি পন্সফোর্ডের। ওই টেস্ট শেষে দেশে ফিরেই চমকে দিলেন সবাইকে। ‘বিনা মেঘে বজ্রপাতে’র মতো অবসরের ঘোষণা দিয়ে দিলেন। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি নিয়ে বিদায় নেওয়ার লোভ বোধ হয় সামলাতে পারেননি লম্বা ইনিংস খেলার জন্য বিখ্যাত পন্সফোর্ড।
সিমুর নার্সের ঘটনাটা আরও মজার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান তো একেবারে বলে কয়ে অবসর নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চে নিজের শেষ ইনিংসে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন নার্স। এটিও তাঁর ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ২৫৮ রান। এমন এক ইনিংস যিনি খেলেতে পারেন তাঁর অবসর নেওয়ার কী দরকার! অধিনায়ক গ্যারি সোবার্স অনেক চেষ্টা করেছেন নার্সের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের। কিন্তু রাজি হননি নার্স, মাত্র ২৯ টেস্ট খেলে ক্যারিয়ার শেষ করেন তিনি।
রাজসিক বিদায়ের বাকি তিন গল্প কিন্তু হতাশামাখা। যার প্রথমটি অ্যান্ডি স্যান্ডহামের। টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান স্যান্ডহাম। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংস্টনে প্রথম ইনিংসে ৩২৫ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রান করেছিলেন তিনি। ইতিহাস গড়া এমন এক টেস্ট খেলার পরও ইংল্যান্ড দলে আর কখনো খেলার সুযোগ হয়নি তাঁর। কারণটা বেশ অদ্ভুত, ইতিহাস গড়া সেই টেস্টটি খেলেছিল ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় দল। মূল দলটি তখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ছিল। স্যান্ডহামের এমন ইনিংসও মূল দলে ফেরার জন্য যথেষ্ট মনে হয়নি ইংলিশ নির্বাচকদের।

পরের দুটি ঘটনা এই শতাব্দীর এবং দুটি ঘটনার সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম। ২০০২ সালে কলম্বো টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে অরবিন্দ ডি সিলভা মাত্র ২৩৪ বলেই ২০৬ রান করেছিলেন। সিরিজের পরের টেস্টে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়, এর পর শ্রীলঙ্কা দলের হয়ে আর টেস্ট খেলা হয়নি তাঁর। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিটা নিজের শেষ ইনিংসে খেলেই বিদায় নিয়েছেন ডি সিলভা।
পরের ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্য বেশ লজ্জার এক ঘটনা। ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নেমেছিলেন জেসন গিলেস্পি। সেই যে ব্যাট করতে নামলেন, তাঁকে আর আউট করতে পারলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। ২০১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। কিন্তু তাঁর মূল দায়িত্ব বোলিংয়ে তেমন কিছু করতে না পারায় অস্ট্রেলিয়ান দল থেকে ছিটকে পড়েন গিলেস্পি। ‘ব্যাগি গ্রিন’ আর কখনো মাথায় চাপানো হয়নি তাঁর। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা একমাত্র সেঞ্চুরিতেই পরিণত হয় তাঁর।
ডাবল সেঞ্চুরি করেও বাদ—গিলেস্পির মূল পরিচয় না জেনে শুধু ইনিংসটার কথা মাথায় রাখলে, ভবিষ্যতে কেউ হয়তো বিভ্রান্তই হবে!

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: