দেশান্তরের মানচিত্র

মূল লেখার লিংক
প্রতিদিন টেলিভিশনের পর্দা আর পত্রিকার ছবিতে নৌকাভর্তি ক্ষুধার্ত মানুষের অসহায় মুখ, দলে দলে উধাও হয়ে যাওয়ার পরিসংখ্যান এবং পাহাড়ি জঙ্গলে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার খবরের মধ্যে একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে বিবিসি- ইতিহাসে আর কখনো এত মানুষ দেশান্তরী হতে চেয়েছে?
শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনাহারে থেকে সাগরপথে ভয়ঙ্কর যাত্রা, পাচারকারী দালালদের হাতে দেশান্তরী মানুষের নির্যাতন আর মৃত্যুর মত মর্মান্তিক খবর সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম দখল করে রেখেছে গত কিছুদিন ধরে। আর যেসব দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলেছে, সেখান থেকে আসছে দলে দলে মানুষের সীমান্তমুখী মিছিলের খবর।     গত মার্চ থেকে প্রায় পাঁচলাখ ইয়েমেনি বাস্তুভিটা হারিয়ে এখন নিজ দেশে পরবাসী। এপ্রিলের পর বুরুন্ডির লাখখানেক মানুষ পালিয়ে গেছেন আশপাশের দেশগুলোতে।

শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনাহারে থেকে সাগরপথে ভয়ঙ্কর যাত্রা, পাচারকারী দালালদের হাতে দেশান্তরী মানুষের নির্যাতন আর মৃত্যুর মত মর্মান্তিক খবর সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম দখল করে রেখেছে গত কিছুদিন ধরে। আর যেসব দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলেছে, সেখান থেকে আসছে দলে দলে মানুষের সীমান্তমুখী মিছিলের খবর। গত মার্চ থেকে প্রায় পাঁচলাখ ইয়েমেনি বাস্তুভিটা হারিয়ে এখন নিজ দেশে পরবাসী। এপ্রিলের পর বুরুন্ডির লাখখানেক মানুষ পালিয়ে গেছেন আশপাশের দেশগুলোতে।

  • পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত ৭৬ লাখ সিরীয় এখন বাস্তুহারা, যা বিশ্বের বাস্তুচ্যুত মানুষের মোট সংখ্যার এক পঞ্চমাংশ।   বিবিসি জানার চেষ্টা করেছে, “এর আগে কখনো এর চেয়ে বেশি মানুষ অভিবাসী হতে চেয়েছে?”

    পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত ৭৬ লাখ সিরীয় এখন বাস্তুহারা, যা বিশ্বের বাস্তুচ্যুত মানুষের মোট সংখ্যার এক পঞ্চমাংশ। বিবিসি জানার চেষ্টা করেছে, “এর আগে কখনো এর চেয়ে বেশি মানুষ অভিবাসী হতে চেয়েছে?”

  • যেসব অঞ্চলে বড় ধরনের এই দেশান্তরের ঘটনা ঘটছে, তা বিশ্বের মানচিত্রে আঁকলে জটিল এক মাকড়শার জাল যেন ফুটে ওঠে।  তবে এতে ২০১৩ সালে ২৩ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশান্তরী হওয়ার (যারা অন্তত এক বছর জন্মভূমি ছেড়ে অন্য দেশে ছিলেন) ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।  শরণার্থী, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী অথবা অর্থনৈতিক অভিবাসী- সবার তথ্যই এ পরিসংখ্যানে এসেছে। বিচার এড়াতে বা বিপর্যয় থেকে বাঁচতে, কিংবা শুধুই আরেকটু ভাল থাকার আশায় আইনি বা বেআইনি পথে যারাই নিজের দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশে গেছেন, তাদের সবার তথ্যই এ পরিসংখ্যানে হিসাব করেছে জাতিসংঘ। “এবং অবশ্যই এ হিসাব প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম”, লিখেছে বিবিসি।

    যেসব অঞ্চলে বড় ধরনের এই দেশান্তরের ঘটনা ঘটছে, তা বিশ্বের মানচিত্রে আঁকলে জটিল এক মাকড়শার জাল যেন ফুটে ওঠে। তবে এতে ২০১৩ সালে ২৩ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশান্তরী হওয়ার (যারা অন্তত এক বছর জন্মভূমি ছেড়ে অন্য দেশে ছিলেন) ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। শরণার্থী, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী অথবা অর্থনৈতিক অভিবাসী- সবার তথ্যই এ পরিসংখ্যানে এসেছে। বিচার এড়াতে বা বিপর্যয় থেকে বাঁচতে, কিংবা শুধুই আরেকটু ভাল থাকার আশায় আইনি বা বেআইনি পথে যারাই নিজের দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশে গেছেন, তাদের সবার তথ্যই এ পরিসংখ্যানে হিসাব করেছে জাতিসংঘ। “এবং অবশ্যই এ হিসাব প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম”, লিখেছে বিবিসি।

  • দেশান্তরীরা কোথায় আছে? সাম্প্রতিক সময়ে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশান্তরী হয়েছেন, তাদের অর্ধেকই বর্তমানে আছেন মাত্র ১০টি রাষ্ট্রের আশ্রয়ে।  এই অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ এখন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্ম হয়েছে আফ্রিকায়। তবে চীন (২২ লাখ) ও ভারত (২১ লাখ) থেকে আসা অভিবাসীদের সেখানে সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে।

    দেশান্তরীরা কোথায় আছে? সাম্প্রতিক সময়ে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশান্তরী হয়েছেন, তাদের অর্ধেকই বর্তমানে আছেন মাত্র ১০টি রাষ্ট্রের আশ্রয়ে। এই অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ এখন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্ম হয়েছে আফ্রিকায়। তবে চীন (২২ লাখ) ও ভারত (২১ লাখ) থেকে আসা অভিবাসীদের সেখানে সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে।

  • এই দশ দেশের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর আগমনের প্রধান কারণ ইউক্রেন ও কাজাখস্তানের মতো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগ।  ইউরোপের দেশ জার্মানিতে তুরস্কের এবং ফ্রান্সে আলজেরিয়ার বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর বসবাস। আর সৌদি আরব ও উপসাগরীয় আঞ্চলের দেশগুলোতে অভিবাসীদের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।  সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট জনসংখ্যার ৮৪ শতাংশই অভিবাসী।

    এই দশ দেশের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর আগমনের প্রধান কারণ ইউক্রেন ও কাজাখস্তানের মতো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগ। ইউরোপের দেশ জার্মানিতে তুরস্কের এবং ফ্রান্সে আলজেরিয়ার বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর বসবাস। আর সৌদি আরব ও উপসাগরীয় আঞ্চলের দেশগুলোতে অভিবাসীদের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট জনসংখ্যার ৮৪ শতাংশই অভিবাসী।

  • ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ সঙ্কট ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপমুখী অভিবাসনের ভয়ঙ্কর চেষ্টায় হাজারো মানুষের মৃত্যুর খবর গত দুই বছরে বহুবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছে।  অথচ লিবিয়ায় স্বৈরাচার মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের আগে এ পথে অভিবাসনের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসছিল।  সে সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবপাচার নিয়ে গাদ্দাফিকে চাপে রেখেছিল, আর তেলসমৃদ্ধ দেশ লিবিয়াও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল।

    ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ সঙ্কট ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপমুখী অভিবাসনের ভয়ঙ্কর চেষ্টায় হাজারো মানুষের মৃত্যুর খবর গত দুই বছরে বহুবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। অথচ লিবিয়ায় স্বৈরাচার মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের আগে এ পথে অভিবাসনের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসছিল। সে সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবপাচার নিয়ে গাদ্দাফিকে চাপে রেখেছিল, আর তেলসমৃদ্ধ দেশ লিবিয়াও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল।

  • কিন্তু ২০১১ সালে লিবিয়ার ক্ষমতা থেকে গাদ্দাফিকে উৎখাত এবং গৃহযুদ্ধ শুরুর পরের বছর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ২০১৪ সালে লিবিয়া হয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালি পৌঁছেছে। এক বছরে ইউরোপে অভিবাসনের এই হার গত একশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    কিন্তু ২০১১ সালে লিবিয়ার ক্ষমতা থেকে গাদ্দাফিকে উৎখাত এবং গৃহযুদ্ধ শুরুর পরের বছর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ২০১৪ সালে লিবিয়া হয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালি পৌঁছেছে। এক বছরে ইউরোপে অভিবাসনের এই হার গত একশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

  • আফ্রিকা হয়ে ইউরোপ অভিবাসন মানচিত্রে মাকড়শার জাল এখানে সবচেয়ে জটিল। ইউরোপে যাওয়ার জন্য এই অঞ্চলের যাত্রাপথ সবচেয়ে বন্ধুর। সাব-সাহারা ও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর দুটি পথে দেশান্তরী মানুষকে রীতিমতো সাগর পাড়ি দিতে হয়, যার একটি আবার তপ্ত বালুর সাগর, অর্থাৎ মরুভূমি। এই পথ পাড়ি দিতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছরও লাগতে পারে।  গাম্বিয়া, সেনেগাল, নাইজেরিয়া থেকে আসা হাজার হাজার তরুণকে বেশ কয়েকটি দেশ পার হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর এই চেষ্টায় অনেকখানি পাচারকারীদের ‘দয়ায়’ বেঁচে থাকতে হয়।

    আফ্রিকা হয়ে ইউরোপ অভিবাসন মানচিত্রে মাকড়শার জাল এখানে সবচেয়ে জটিল। ইউরোপে যাওয়ার জন্য এই অঞ্চলের যাত্রাপথ সবচেয়ে বন্ধুর। সাব-সাহারা ও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর দুটি পথে দেশান্তরী মানুষকে রীতিমতো সাগর পাড়ি দিতে হয়, যার একটি আবার তপ্ত বালুর সাগর, অর্থাৎ মরুভূমি। এই পথ পাড়ি দিতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছরও লাগতে পারে। গাম্বিয়া, সেনেগাল, নাইজেরিয়া থেকে আসা হাজার হাজার তরুণকে বেশ কয়েকটি দেশ পার হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর এই চেষ্টায় অনেকখানি পাচারকারীদের ‘দয়ায়’ বেঁচে থাকতে হয়।

  • চলতি বছর লিবিয়া হয়ে ইউরোপে ঢোকা দলগুলোর মধ্যে রয়েছেন কয়েক হাজার ইরিত্রীয়, যারা বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যাওয়ার বদলে দেশান্তরী হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। নাইজেরিয়া ও সোমালিয়া থেকে আসা অভিবাসীর সংখ্যাও এখানে কম নয়।  ভূমধ্যসাগরের পূর্ব অংশে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে ঢুকেছেন বিপুল সংখ্যক সিরীয়; তাদের সঙ্গে আফগান ও ইরাকিরাও আছেন।

    চলতি বছর লিবিয়া হয়ে ইউরোপে ঢোকা দলগুলোর মধ্যে রয়েছেন কয়েক হাজার ইরিত্রীয়, যারা বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যাওয়ার বদলে দেশান্তরী হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। নাইজেরিয়া ও সোমালিয়া থেকে আসা অভিবাসীর সংখ্যাও এখানে কম নয়। ভূমধ্যসাগরের পূর্ব অংশে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে ঢুকেছেন বিপুল সংখ্যক সিরীয়; তাদের সঙ্গে আফগান ও ইরাকিরাও আছেন।

  • বাস্তুচ্যুতদের দেশ গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়ায় চলছে ভয়াবহ মানব বিপর্যয়। দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই এখন বাস্তুচ্যুত। অন্তত ৪০ লাখ সিরীয়র ঠাঁই হয়েছে প্রতিবেশী কোনো দেশের শরণার্থী শিবির। বর্তমানে শিল্পোন্নত দেশগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষের জন্মভূমি এই সিরিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে অভিবাসনে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা এখনই কেন সবচেয়ে বেশি, তার উত্তরও মিলবে এই সিরিয়াতেই।

    বাস্তুচ্যুতদের দেশ গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়ায় চলছে ভয়াবহ মানব বিপর্যয়। দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই এখন বাস্তুচ্যুত। অন্তত ৪০ লাখ সিরীয়র ঠাঁই হয়েছে প্রতিবেশী কোনো দেশের শরণার্থী শিবির। বর্তমানে শিল্পোন্নত দেশগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষের জন্মভূমি এই সিরিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে অভিবাসনে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা এখনই কেন সবচেয়ে বেশি, তার উত্তরও মিলবে এই সিরিয়াতেই।

  • পাচারকারীদের হাতে জিম্মি ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়েছেন ৮৮ হাজার মানুষ, যার মধ্যে ২৫ হাজারই দেশান্তরী হওয়ার চেষ্টা করেছেন চলতি বছর জানুয়ারির পর থেকে গত কয়েক মাসে।    এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, সাম্প্রতিক সময়ে আন্দামান সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়ামুখী অভিবাসনের মরিয়া চেষ্টা কেন বার বার সংবাদ শিরোনামে এসেছে। আর তাতে উঠে এসেছে পাচারকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নির্মম নির্যাতন, এমনকি মৃত্যুর মুখে পড়ার তথ্য।   ভূমধ্যসাগরের তুলনায় দেশান্তরী মানুষের সংখ্যা হয়তো এখানে কম, তবে তাতে পরিস্থিতির তেমন কোনো হেরফের হয়নি।

    পাচারকারীদের হাতে জিম্মি ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়েছেন ৮৮ হাজার মানুষ, যার মধ্যে ২৫ হাজারই দেশান্তরী হওয়ার চেষ্টা করেছেন চলতি বছর জানুয়ারির পর থেকে গত কয়েক মাসে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, সাম্প্রতিক সময়ে আন্দামান সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়ামুখী অভিবাসনের মরিয়া চেষ্টা কেন বার বার সংবাদ শিরোনামে এসেছে। আর তাতে উঠে এসেছে পাচারকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নির্মম নির্যাতন, এমনকি মৃত্যুর মুখে পড়ার তথ্য। ভূমধ্যসাগরের তুলনায় দেশান্তরী মানুষের সংখ্যা হয়তো এখানে কম, তবে তাতে পরিস্থিতির তেমন কোনো হেরফের হয়নি।

  • মেক্সিকো হয়ে উত্তরের যাত্রা সবকিছু ছাপিয়ে এখনও মেক্সিকো-টেক্সাস সীমান্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অভিবাসন করিডোর। মার্কিন সীমান্তরক্ষীদের হাতে আটক অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে মেক্সিকানদের সংখ্যা এতোদিন সবচেয়ে বেশি হলেও গতবছরই প্রথমবারের মতো মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোতে থাকা আসা মানুষের সংখ্যা তাদের ছাপিয়ে গেছে। মেক্সিকোর অর্থনৈতিক উন্নতি নিজেদের অভিবাসন কমিয়ে আনলেও নিরাপত্তার দুর্বলতার কারণে ওই পথেই হন্ডুরাস, এল সালভাদর ও গুয়াতেমালা থেকে আমেরিকায় ঢুকছে বিপুল সংখ্যক মানুষ।  সম্প্রতি এই পথে যারা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার শিশু, যাদের সঙ্গে কোনো পরিবারের আর কেউ ছিল না।

    মেক্সিকো হয়ে উত্তরের যাত্রা সবকিছু ছাপিয়ে এখনও মেক্সিকো-টেক্সাস সীমান্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অভিবাসন করিডোর। মার্কিন সীমান্তরক্ষীদের হাতে আটক অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে মেক্সিকানদের সংখ্যা এতোদিন সবচেয়ে বেশি হলেও গতবছরই প্রথমবারের মতো মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোতে থাকা আসা মানুষের সংখ্যা তাদের ছাপিয়ে গেছে। মেক্সিকোর অর্থনৈতিক উন্নতি নিজেদের অভিবাসন কমিয়ে আনলেও নিরাপত্তার দুর্বলতার কারণে ওই পথেই হন্ডুরাস, এল সালভাদর ও গুয়াতেমালা থেকে আমেরিকায় ঢুকছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। সম্প্রতি এই পথে যারা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার শিশু, যাদের সঙ্গে কোনো পরিবারের আর কেউ ছিল না।

  • বাড়ছে বিশ্ব জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশ মানুষ অভিবাসী; গত কয়েক বছরের তথ্যে এ আনুপাতে তেমন কোনো হেরফের হয়নি।  কিন্তু বিশ্বের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে জন্মস্থান থেকে দেশান্তরী হওয়া মানুষের সংখ্যা।  আর অভ্যন্তরীণ অভিবাসীর সংখ্যাও কম নয়, ৭ কোটি ৫০ লাখ। এ সংখ্যাও আসলে বাস্তব পরিস্থিতি থেকে অনেক কম। লাখ লাখ চীনা কৃষক, যারা প্রতিনিয়ত গ্রাম থেকে শহরমুখী হচ্ছেন, তাদের হিসাব রাখা আদৌ সম্ভব?  এর সঙ্গে আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ; প্রতি বছর অন্তত ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ অভিবাসনে বাধ্য হয়।

    বাড়ছে বিশ্ব জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশ মানুষ অভিবাসী; গত কয়েক বছরের তথ্যে এ আনুপাতে তেমন কোনো হেরফের হয়নি। কিন্তু বিশ্বের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে জন্মস্থান থেকে দেশান্তরী হওয়া মানুষের সংখ্যা। আর অভ্যন্তরীণ অভিবাসীর সংখ্যাও কম নয়, ৭ কোটি ৫০ লাখ। এ সংখ্যাও আসলে বাস্তব পরিস্থিতি থেকে অনেক কম। লাখ লাখ চীনা কৃষক, যারা প্রতিনিয়ত গ্রাম থেকে শহরমুখী হচ্ছেন, তাদের হিসাব রাখা আদৌ সম্ভব? এর সঙ্গে আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ; প্রতি বছর অন্তত ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ অভিবাসনে বাধ্য হয়।

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: