ব্যোমকেশ বক্সী, কিরীটি রায়, ফেলুদা, কর্নেল নিলাদ্রি সরকার এর স্রষ্টারা

বাংলা রহস্য সাহিত্যের চার দিকপাল নিয়ে আমার এ লেখার অবতারনা। শরদিন্দুর ব্যোমকেশ বক্সী, নিহার রঞ্জন গুপ্ত এর কিরীটি রায়, সত্যজিৎ রায় এর ফেলুদা, সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ় এর কর্নেল নিলাদ্রি সরকার এদের কে আর খুব বেশি পরিচয় এর প্রয়জন পরে না। সৃস্টি পরিচয় স্রষ্টার থেকে ছাপিয়ে গেছে। তাই এখানে চার স্রষ্টার ওপর কিছু আলোচনা করতে চাই

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
(মার্চ ৩০, ১৮৯৯ – সেপ্টেম্বর ২২, ১৯৭০) একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক । তাঁর জন্ম উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর শহরে। তাঁর রচিত প্রথম সাহিত্য প্রকাশিত হয় তাঁর ২০ বছর বয়সে, যখন তিনি কলকাতায় বিদ্যাসাগর কলেজে আইন নিয়ে পড়াশুনো করছিলেন। পড়াশুনোর সাথেই তিনি সাহিত্য চর্চাও করতে থাকেন। তার সৃষ্টি গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সী আত্মপ্রকাশ করে ১৯৩২ সালে।
শরদিন্দু ১৯৩৮ সালে বম্বের বম্বে টকিজ এ চিত্রনাট্যকাররুপে কাজ শুরু করেন। ১৯৫২এ সিনেমার কাজ ছেড়ে স্থায়ীভাবে পূনায় বসবাস করতে শুরু করেন। পরবর্তী ১৮ বছর তিনি সাহিত্য চর্চায় অতিবাহিত করেন। ১৯৭০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
শরদিন্দুর প্রসিদ্ধতম সৃষ্টি হল সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী। ১৯৩২ এ ‘পথের কাঁটা’ উপন্যাসে ব্যোমকেশের আত্মপ্রকাশ। প্রথমে শরদিন্দু অজিতের কলমে লিখতেন। কিন্তু পরে তিনি তৃতীয়পুরুষে লিখতে শুরু করেন। এছাড়া উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপন্যাস। যেমন ‘কালের মন্দিরা’, ‘গৌর মল্লার’, ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘ’, ‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’, ইত্যাদি। সামাজিক উপন্যাস যেমন ‘বিষের ধোঁয়া’ বা অতিপ্রাকৃত নিয়ে তার ‘বরদা সিরিজ’ ও অন্যান্য গল্প এখনো বেস্টসেলার।
শরদিন্দুর জীবনে সিনেমার, বিশেষ করে বম্বের সিনেমার, খুব বড় ভূমিকা ছিল। তিনি যে ছবিগুলিতে চিত্রনাট্যকারের কাজ করেছেন সেগুলি হল দূর্গা (১৯৩৯), কঙ্গন(১৯৩৯), নবজীবন(১৯৩৯) ও আজাদ(১৯৪০)। তাঁর বিভিন্ন রচনা থেকেও সিনেমা প্রস্তুত হয়েছে, যেমন নিম্নলিখিত বাংলা সিনেমাগুলি
• চিড়িয়াখানা – নির্দেশক সত্যজিত রায়
• ঝিন্দের বন্দী – নির্দেশক তপন সিংঘ
• বিষের ধোঁয়া
• দাদার কীর্তি – নির্দেশক তরুণ মজুমদার
‘তিশগ্নি’ নামে একটি পুরস্কারপ্রাপ্ত হিন্দি ছবি লেখকের ঐতিহাসিক ছোটগল্প ‘মরু ও সঙ্ঘ’র চিত্ররুপ।
তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (উপন্যাস ‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’র জন্য), শরৎস্মৃতি পুরস্কার, মতিলাল পুরস্কার প্রভৃতি পুরস্কার লাভ করেন।
ব্যোমকেশ বক্সী শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সৃষ্ট বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র।
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ চরিত্র নিয়ে ৩৩টি কাহিনী রচনা করেছেন। এর মাঝে ১টি অসম্পূর্ণ। এই কাহিনীগুলি হলঃ
• সত্যান্বেষী
• পথের কাঁটা
• সীমন্ত-হীরা
• মাকড়সার রস
• অর্থমনর্থম্‌
• চোরাবালি
• অগ্নিবাণ
• উপসংহার
• রক্তমুখী নীলা
• ব্যোমকেশ ও বরদা
• চিত্রচোর • দুর্গরহস্য
• চিড়িয়াখানা
• আদিম রিপু
• বহ্নি-পতঙ্গ
• রক্তের দাগ
• মণিমন্ডন
• অমৃতের মৃত্যু
• শৈলরহস্য
• অচিন পাখি
• কহেন কবি কালিদাস
• অদৃশ্য ত্রিকোণ • খুঁজি খুঁজি নারি
• অদ্বিতীয়
• মগ্নমৈনাক
• দুষ্টচক্র
• হেঁয়ালির ছন্দ
• রুম নম্বর দুই
• ছলনার ছন্দ
• শজারুর কাঁটা
• বেণীসংহার
• লোহার বিস্কুট
• বিশুপাল বধ (অসমাপ্ত)

নিহার রঞ্জন গুপ্ত
ডাঃ নীহার রঞ্জন গুপ্ত (জন্মঃ ৬ই জুন, ১৯১১ – মৃত্যুঃ ২০শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬) একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক। তিনি ছিলেন জনপ্রিয় রহস্য কাহিনীকার এবং চিকিৎসক। তিনি বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র কিরীটি রায়ের স্রষ্টা হিসেবে উপমহাদেশে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
১৯১১ সালের ৬ই জুন তৎকালীন যশোরের লোহাগড়া উপজেলার ইটনায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার ছিল বিখ্যাত কবিরাজ বংশীয়। তাঁর পিতা-মাতার নাম সত্যরঞ্জন গুপ্ত এবং লবঙ্গলতা দেবী। তিনি শৈশবকাল অতিবাহিত করেন কলকাতায়। পিতার স্থানান্তরিত চাকুরীর কারণে তিনি অনেক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তন্মধ্যে – গাইবান্দা উচ্চ বিদ্যালয় অন্যতম।১৯৩০ সালে কোন্নগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন অর্জন করেন। কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে আই.এসসি ডিগ্রী অর্জনের পর তিনি কলকাতায় কারমাইকেল মেডিকেল কলেজ (বর্তমানে আর. জি. কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল) থেকে তিনি ডাক্তারি বিদ্যায় কৃতকার্য হন। এরপর তিনি লন্ডন থেকে ডাক্তারি শাস্ত্রের ডার্মেটোলোজি বা চর্মবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
ছাত্রাবস্থায় তার বড় বোন পোকার কামড়ে মারা যায়। ফলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মহান পেশায় নিয়োজিত থেকে এই রোগ সাড়ানোর জন্য স্বপ্ন দেখেন ও পরবর্তী জীবনে বাস্তবায়িত হয়।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ও বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হন। এরপর তিনি মেজর পদে উন্নীত হন। এই চাকুরীর সূত্রে তিনি চট্টগ্রাম, বার্মা (বর্তমানঃ মায়ানমার) থেকে মিশর পর্যন্ত বিভিন্ন রণাঙ্গনে ঘুরে বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষ ডিগ্রী অর্জন শেষে তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে যোগ দেন। এরপর তিনি ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করেছেন। ভারত বিভক্তির পর ১৯৪৭ সালে তিনি ও তার পরিবার স্থায়ীভাবে কলকাতায় অভিবাসিত হন।

শৈশবকাল থেকেই তিনি সর্বদাই স্বপ্ন দেখতেন লেখক হবার। একসময় তিনি শান্তিনিকেতনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশীর্বাদ গ্রহণসহ তাঁর স্বাক্ষর বা অটোগ্রাফ সংগ্রহ করেন। আঠারো বছর বয়সে নীহাররঞ্জন তাঁর প্রথম উপন্যাস রাজকুমার রচনা করেন। ইংল্যান্ডে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি গোয়েন্দা গল্প রচনায় আগ্রহান্বিত হয়ে স্বীয় লেখার উত্তোরন ঘটান এবং আগাথা ক্রিস্টির সাথে সাক্ষাৎ করেন। ভারতে ফিরে এসে তিনি তাঁর ১ম গোয়েন্দা উপন্যাস কালো ভ্রমর রচনা করেন। এতে তিনি গোয়েন্দা চরিত্র হিসেবে কিরীটি রায়কে সংযোজন করেন যা বাংলা কিশোর সাহিত্যে এক অনবদ্য সৃষ্টি। তিনি বাংলা সাহিত্যে রহস্য কাহিনী রচনার ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেখক ছিলেন।
উপমহাদেশীয় প্রেক্ষাপট ও উপযোগী করে রচিত হয়েছে তাঁর রহস্য উপন্যাসগুলো। এ পর্যন্ত প্রায় পঁয়তাল্লিশটি উপন্যাসকে বাংলা ও হিন্দি ভাষায় চলচ্চিত্রায়ণ করা হয়েছে যথাক্রমে টালিউড ও বলিউডের চলচ্চিত্রাঙ্গনে।এছাড়াও তিনি শিশুদের উপযোগী সাহিত্য পত্রিকা সবুজ সাহিত্যের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

রচনাসমগ্র
বড়দের ও ছোটদের উপযোগী – উভয় ধরনের গোয়েন্দা উপন্যাস রচনায় সবিশেষ পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন নীহাররঞ্জন। মোট দুই শতাধিক গ্রন্থ তিনি রচনা করে গেছেন। উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো –
• কালোভ্রমর
• মৃত্যুবাণ
• কালনাগ
• উল্কা
• উত্তরফাল্গুনী
• হাসপাতাল
• কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী
• লালুভুলু
• রাতের রজনীগন্ধা
• কিরীটি অমনিবাস

সত্যজিৎ রায়
(২ মে, ১৯২১ – ২৩ এপ্রিল, ১৯৯২) একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক। কলকাতা শহরে সাহিত্য ও শিল্পের জগতে খ্যাতনামা এক বাঙালি পরিবারে তাঁর জন্ম হয়।তাঁর পূর্বপুরুষের ভিটা ছিল বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রামে।। তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সত্যজিতের কর্মজীবন একজন বাণিজ্যিক চিত্রকর হিসেবে শুরু হলেও প্রথমে কলকাতায় ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা জঁ রনোয়ারের সাথে সাক্ষাৎ ও পরে লন্ডন শহরে সফররত অবস্থায় ইতালীয় নব্য বাস্তবতাবাদী ছবি লাদ্রি দি বিচিক্লেত্তে (ইতালীয় ভাষায় Ladri di biciclette, “বাইসাইকেল চোর”) দেখার পর তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্বুদ্ধ হন।
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে সত্যজিৎ ছিলেন বহুমুখী এবং তাঁর কাজের পরিমাণ বিপুল। তিনি ৩৭টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র পথের পাঁচালী ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিল কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাওয়া “শ্রেষ্ঠ মানব দলিল” (Best Human Document) পুরস্কারটি। পথের পাঁচালি, অপরাজিত ও অপুর সংসার – এই তিনটি চলচ্চিত্রকে একত্রে অপু ত্রয়ী বলা হয়, এবং এই চলচ্চিত্র-ত্রয়ী তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ বা ম্যাগনাম ওপাস হিসেবে বহুল স্বীকৃত। চলচ্চিত্র মাধ্যমে সত্যজিৎ চিত্রনাট্য রচনা, চরিত্রায়ন, সঙ্গীত স্বরলিপি রচনা, চিত্র গ্রহণ, শিল্প নির্দেশনা, সম্পাদনা, শিল্পী-কুশলীদের নামের তালিকা ও প্রচারণাপত্র নকশা করাসহ নানা কাজ করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের বাইরে তিনি ছিলেন একাধারে কল্পকাহিনী লেখক, প্রকাশক, চিত্রকর, গ্রাফিক নকশাবিদ ও চলচ্চিত্র সমালোচক। বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তবে এগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল ১৯৯১ সালে পাওয়া একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কারটি (অস্কার), যা তিনি সমগ্র কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন।
প্রদোষচন্দ্র মিত্র ওরফে ফেলুদা সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র। ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসের সন্দেশ পত্রিকায় ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্প “ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি” প্রকাশিত হয়। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। ফেলুদার প্রধান সহকারী তাঁর খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে ও লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি (ছদ্মনাম জটায়ু)। সত্যজিৎ রায় ফেলুদার সোনার কেল্লা ও জয় বাবা ফেলুনাথ উপন্যাসদুটিকে চলচ্চিত্রায়িত করেন। এই দুই ছবিতে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। বর্তমানে সত্যজিতের পুত্র সন্দীপ রায় ফেলুদার গল্প ও উপন্যাস নিয়ে টেলিভিশন ধারাবাহিক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

ফেলুদা সিরিজ
গল্প/উপন্যাস প্রথম প্রকাশ গ্রন্থভুক্তি অতিরিক্ত তথ্য
ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি (গল্প) সন্দেশ, ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫-৬৬ এক ডজন গপ্‌পো, ১৯৭০
পাহাড়ে ফেলুদা, ১৯৯৬ প্রথম ফেলুদা-গল্প
বাদশাহী আংটি (উপন্যাস)
সন্দেশ, মে-মে, ১৯৬৬-৬৭ বাদশাহী আংটি, ১৯৬৯
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮ প্রথম ফেলুদা-উপন্যাস
কৈলাস চৌধুরীর পাথর (গল্প) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৬৭
এক ডজন গপ্‌পো, ১৯৭০
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮ –
শেয়াল-দেবতা রহস্য (গল্প)
সন্দেশ, গ্রীষ্ম সংখ্যা, মে-জুন, ১৯৭০ আরো এক ডজন, ১৯৭৬
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮ –
গ্যাংটকে গণ্ডগোল (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭০
গ্যাংটকে গণ্ডগোল, ১৯৭১
পাহাড়ে ফেলুদা, ১৯৯৬ –
সোনার কেল্লা (উপন্যাস)
শারদীয় দেশ, ১৯৭১
সোনার কেল্লা, ১৯৭২
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮ প্রথম চলচ্চিত্রায়িত ফেলুদা উপন্যাস
বাক্স-রহস্য (উপন্যাস)
শারদীয় দেশ, ১৯৭২
বাক্স-রহস্য, ১৯৭৩
ফেলুদার পান্‌চ, ২০০০ –
কৈলাসে কেলেঙ্কারি (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭৩
কৈলাসে কেলেঙ্কারি, ১৯৭৪
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮ –
সমাদ্দারের চাবি (গল্প)
শারদীয় সন্দেশ, ১৯৭৩
আরো এক ডজন, ১৯৭৬
ফেলুদা একাদশ, ২০০০ –
রয়েল বেঙ্গল রহস্য (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭৪
রয়েল বেঙ্গল রহস্য, ১৯৭৫
ফেলুদার পান্‌চ, ২০০০ –
ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা (গল্প)
শারদীয় সন্দেশ, ১৯৭৫
আরো এক ডজন, ১৯৭৬
ফেলুদা একাদশ, ২০০০ –
জয় বাবা ফেলুনাথ (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭৫
জয় বাবা ফেলুনাথ, ১৯৭৬
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮ দ্বিতীয় চলচ্চিত্রায়িত ফেলুদা-উপন্যাস
বোম্বাইয়ের বোম্বেটে (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭৬
ফেলুদা এণ্ড কোং, ১৯৭৭
ফেলুদা একাদশ, ২০০০ সন্দীপ রায় কর্তৃক চলচ্চিত্রায়িত
গোঁসাইপুর সরগরম (উপন্যাস) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৭৬
ফেলুদা এণ্ড কোং, ১৯৭৭
ফেলুদা একাদশ, ২০০০ –
গোরস্থানে সাবধান! (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭৭
গোরস্থানে সাবধান!, ১৯৭৯
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮ -চলচ্চিত্রায়িত ফেলুদা-উপন্যাস
ছিন্নমস্তার অভিশাপ (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭৮
ছিন্নমস্তার অভিশাপ, ১৯৮১
ফেলুদার পান্‌চ, ২০০০ –
হত্যাপুরী (উপন্যাস)
শারদীয় সন্দেশ, ১৯৭৯
হত্যাপুরী, ১৯৮১
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮ –
গোলোকধাম রহস্য (গল্প)
সন্দেশ, মে-অগস্ট, ১৯৮০ আরো বারো, ১৯৮১
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮ –
যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৮০
যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে, ১৯৮১
পাহাড়ে ফেলুদা, ১৯৯৬ –
নেপোলিয়নের চিঠি (গল্প)
শারদীয় সন্দেশ, ১৯৮১ ফেলুদা ওয়ান ফেলুদা টু, ১৯৮৫
ফেলুদা একাদশ, ২০০০ –
টিনটোরেটোর যীশু (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৮২
টিনটোরেটোর যীশু, ১৯৮৫
ফেলুদার পান্‌চ, ২০০০ সন্দীপ রায় কর্তৃক চলচ্চিত্রায়িত
অম্বর সেন অন্তর্ধান রহস্য (গল্প) আনন্দমেলা, ৪ মে-১৫ জুন, ১৯৮৩ এবারো বারো, ১৯৮৪
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮ –
জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা (গল্প)
শারদীয় সন্দেশ, ১৯৮৩ এবারো বারো, ১৯৮৪
ফেলুদা একাদশ, ২০০০ –
এবার কাণ্ড কেদারনাথে (গল্প) শারদীয় দেশ, ১৯৮৪
ফেলুদা ওয়ান ফেলুদা টু, ১৯৮৫
পাহাড়ে ফেলুদা, ১৯৯৬ –
বোসপুকুরে খুনখারাপি (গল্প)
শারদীয় সন্দেশ, ১৯৮৫ একের পিঠে দুই, ১৯৮৮
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮ –
দার্জিলিং জমজমাট (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৮৬
দার্জিলিং জমজমাট, ১৯৮৮
পাহাড়ে ফেলুদা, ১৯৯৬ –
অপ্সরা থিয়েটারের মামলা (গল্প) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৮৭ ডবল ফেলুদা, ১৯৮৯
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮ –
ভূস্বর্গ ভয়ংকর (গল্প)
শারদীয় দেশ, ১৯৮৭
ডবল ফেলুদা, ১৯৮৯
পাহাড়ে ফেলুদা, ১৯৯৬ –
শকুন্তলার কণ্ঠহার (গল্প)
শারদীয় দেশ, ১৯৮৮
আরো সত্যজিৎ, ১৯৯৩
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮ –
লন্ডনে ফেলুদা (গল্প)
শারদীয় দেশ, ১৯৮৯
ফেলুদা প্লাস ফেলুদা, ১৯৯২
ফেলুদা একাদশ, ২০০০ –
ডাঃ মুন্সীর ডায়রি (গল্প)
শারদীয় সন্দেশ, ১৯৯০
বাঃ! বারো, ১৯৯৪
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮ –
নয়ন রহস্য (উপন্যাস)
শারদীয় দেশ, ১৯৯০
নয়ন রহস্য, ১৯৯১
ফেলুদার পান্‌চ, ২০০০ –
রবার্টসনের রুবি (উপন্যাস)
শারদীয় দেশ, ১৯৯২
রবার্টসনের রুবি, ১৯৯১
ফেলুদা একাদশ, ২০০০ সর্বশেষ সম্পূর্ণ ফেলুদা উপন্যাস
গোলাপী মুক্তা রহস্য (গল্প)
— ফেলুদা প্লাস ফেলুদা, ১৯৯১
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮ সর্বশেষ সম্পূর্ণ ফেলুদা উপন্যাস
ইন্দ্রজাল রহস্য (গল্প)
সন্দেশ, ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫-৯৬ কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮ সর্বশেষ সম্পূর্ণ ফেলুদা-গল্প
বাক্স রহস্য (প্রথম খসড়া) (অসম্পূর্ণ) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৯৫
ফেলুদা একাদশ, ২০০০ –
তোতা রহস্য (প্রথম ও দ্বিতীয় খসড়া) (অসম্পূর্ণ) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৯৬ ফেলুদা একাদশ, ২০০০ –
আদিত্য বর্ধনের আবিষ্কার (অসম্পূর্ণ) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৯৭
ফেলুদা একাদশ, ২০০০ –

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
: ১৪ অক্টোবর, ১৯৩০ – মৃত্যু: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১২ প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ মুর্শিদাবাদ খোশবাসপুর গ্রামে ১৯৩০ সালে অক্টোবর মাসে জন্মগ্রহণ করেন ৷ প্রথম জীবনে বাড়ি থেকে পলাতক কিশোরের জীবন অতিবাহিত করেছেন ৷ রাঢ় বাংলার লোকনাট্য “আলকাপের” সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাচ-গান-অভিনয়ে নিমজ্জিত হয়ে জেলায় জেলায় ঘুরেছেন ৷ তিনি ছিলেন ‘আলকাপ’ দলের “ওস্তাদ” (গুরু) । নাচ-গানের প্রশিক্ষক । নিজে আলকাপের আসরে বসে হ্যাসাগের আলোয় দর্শকের সামনে বাঁশের বাঁশি বাজাতেন । নিজের দল নিয়ে ঘুরেছেন সারা পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, এমনকি বিহার-ঝাড়খন্ডেও । তাই পরবর্তী জীবনে কলকাতায় বাস করলেও নিজেকে কলকাতায় প্রবাসী ভাবতেই ভালবাসতেন । তাই সুযোগ পেলেই বার বার মুর্শিদাবাদের গ্রামে পালিয়ে যেতেন । সেই পলাতক কিশোর তাঁর চরিত্রের মধ্যে লুকিয়ে ছিল । ঘুরতেন সেই রাখাল বালকের মাঠে, হিজলের বিলে, ঘাসবন ও উলুখড়ের জঙ্গলে, পাখির ঠোঁটে খড়কুটো আর হট্টিটির নীলাভ ডিম -সেই মায়াময় আদিম স্যাঁতসেতে জগতে ।
তাঁর পিতার সঙ্গে বর্ধমানের কর্ড লাইনে নবগ্রাম রেল স্টেশনের কাছে কিছুদিন ছিলেন । সেখানে গোপালপুর মুক্তকেশী বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন । সেই নবগ্রাম গোপালপুরের প্রেক্ষাপটে তিনি লিখেছিলেন ‘প্রেমের প্রথম পাঠ’ উপন্যাস । তাঁর লেখকজীবনের প্রথম দিকের অপূর্ব উপন্যাস । গোপালপুর থেকে পাশ করে তিনি ভর্তি হন বহরমপুর কলেজে ।

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের লেখক সত্তায় জড়িয়ে ছিল রাঢ়ের রুক্ষ মাটি । মুর্শিদাবাদের পাশের জেলা বীরভূম, যেখানে লাভপুর গ্রামে তারাশঙ্করের জন্ম । একই জলহাওয়া তাঁদের দুজনকেই প্রাণোন্মাদনা দিয়েছিল । তাই তারাশঙ্কর বলতেন, “আমার পরেই সিরাজ, সিরাজই আমার পরে অধিষ্ঠান করবে ।”
তাঁর “ইন্তি, পিসি ও ঘাটবাবু”, “ভালোবাসা ও ডাউনট্রেন”, “তরঙ্গিনীর চোখ”,”জল সাপ ভালোবাসা”, “হিজলবিলের রাখালেরা”, “রণভূমি”, “উড়োপাখির ছায়া”, “রক্তের প্রত্যাশা”, “মৃত্যুর ঘোড়া”, “গোঘ্ন”, “রানীরঘাটের বৃত্তান্ত”, ইত্যাদি অসংখ্য ছোটগল্প অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে । তাঁর প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস – “নীলঘরের নটী”। পর পর প্রকাশিত হয় “পিঞ্জর সোহাগিনী”, “কিংবদন্তীর নায়ক”,”হিজলকন্যা”,”আশমানতারা”, “উত্তর জাহ্নবী”, “তৃণভূমি”, “প্রেমের প্রথম পাঠ”, “বন্যা”,”নিশিমৃগয়া”,”কামনার সুখদুঃখ”, “নিশিলতা”, “এক বোন পারুল”, “কৃষ্ণা বাড়ি ফেরেনি”, “নৃশংস”,”রোডসাহেব”, “জানগুরু” ইত্যাদি ইত্যাদি ৷ তাঁর গল্প ও একাধিক গ্রন্থ ভারতের সমস্ত স্বীকৃত ভাষায় অনূদিত হয়েছে, এমনকি ইংরেজি তো বটেই, বিশ্বের বহু ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে ৷
পাঠকদের দাবি মেটাতে তিনি সৃষ্টি করলেন “গোয়েন্দা কর্নেল” নামে একজন রহ্স্যময় চরিত্র , যাঁর মাথা জোড়া টাক, ঠোঁটে চুরুট, অবসরপ্রাপ্ত মিলিটারি অফিসার, এখন প্রজাপতি ও পাখি দেখতে ভালোবাসেন ৷ অথচ তিনি অনেক অপরাধ ও হত্যার কিনারা করে শখের গোয়েন্দাগিরি করেন ৷”গোয়েন্দা কর্নেল” পাঠকের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ৷”গোয়েন্দা কর্নেল সমগ্র” খন্ডে খন্ডে প্রকাশিত হয়ে চলেছে ৷ অনেকের ধারণা, কর্নেলের যে চেহারা ও অবয়ব চিত্রিত হয়েছে তা নাকি ফাদার দ্যতিয়েনের সঙ্গে মিলে যায় !
বুড়ো ভদ্রলোকের মুখে সান্তা ক্লজের মতো সাদা গোঁফ-দাড়ি। গায়ের রং টকটকে ফর্সা। মাথায় টাক, তবে অনেক সময়ই তা ঢাকা থাকে টুপিতে। পিঠের কিট ব্যাগ থেকে উঁকি দিচ্ছে প্রজাপতি ধরার নেট-স্টিক, গলায় ঝুলছে বাইনোকুলার আর ক্যামেরা। কি এখনো চিনতে পারনি? ইনি কর্নেল নীলাদ্রি সরকার।

চা আর চুরুটে তাঁর বেজায় নেশা। যাদের স্নেহ করেন তাদের ডার্লিং ডাকতে ভালোবাসেন। বিরল পাখি, প্রজাপতি, ক্যাকটাস আর অর্কিডের খোঁজে পাহাড়-জঙ্গল চষে বেড়ান। তবে এসব ছাড়া আর একটা নেশা আছে তাঁর, সেটা হলো জটিল জটিল সব রহস্য উদ্ঘাটন করা। যেখানেই জান রহস্যও মিলে যায়। কর্নেল হয়তো বা এমনি বেড়াতে গিয়েছেন কোথাও, দেখা যাবে ঠিকই একটা না ঘোট পাকিয়ে গেছে। কর্নেলের খ্যাতি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, কোথাও রহস্যময় কোনো খুন-খারাপি কিংবা অপরাধ হলেই হয়েছে, ডাক পড়ে তাঁর।

এই কর্নেল কিন্তু বাস্তবের কোনো চরিত্র নয়, তিনি সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র। অবশ্য কর্নেল চরিত্রটি মুস্তাফা সিরাজ সৃষ্টি করেছেন বাস্তবের একজন মানুষে অনুপ্রাণিত হয়েই। ১৯৫৬ সালে মুর্শিদাবাদের লালবাগের বিখ্যাত নবাবী প্রাসাদ হাজারদুয়ারিতে এমনই একজন লোক দেখেছিলেন। বিদেশি মনে করে গাইড তাঁর সঙ্গে ভুলভাল ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু ভদ্রলোক যেই বাংলায় কথা বলে উঠলেন, গাইড তো গাইড মুস্তাফা সিরাজও অবাক। তাঁর কেন যেন মনে হলো এই বুড়ো ভদ্রলোক একজন সামরিক অফিসার। তাই নীলাদ্রি সরকারকে বানানো হলো অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল।

কর্নেলের প্রথম উপন্যাসটি ছাপা হয়েছিল একটি সাময়িকীতে ধারাবাহিকভাবে। সেটা পড়ে কর্নেলের দারুণ ভক্ত হয়ে গিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়ও। পরে সন্দেশ পত্রিকায়ও ছাপা হয় কর্নেল। এখানে কর্নেলের যে কাহিনীগুলো ছাপা হয়েছে তার সবকটির অলংকরণ করেছেন সত্যজিৎ রায় স্বয়ং।
কর্নেলের নিত্যসঙ্গী তরুণ সাংবাদিক জয়ন্ত চৌধুরী। দৈনিক সত্যসেবক পত্রিকার এ রিপোর্টারের জবানিতেই আমরা কর্নেলের গল্পগুলো শুনি। কর্নেলের বইয়ে আরো দেখা মেলে মজার চরিত্র কে কে হালদারের। একসময় ছিলেন মফস্বলের দাপুটে পুলিশ ইন্সপেক্টর। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর একটি বেসরকারি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন।

কর্নেলের বইয়ের রহস্যগুলোও এক একখানা যা না। একবার হাতে নিলে আর নাওয়া-খাওয়া, গেমস কিছুর কথাই মনে থাকবে না। কখনো কখনো শরীর কাটা দেওয়া ভৌতিক সব কাণ্ডকীর্তিও ঘটে। একবার যেমন ভৈরবগড় নামের এক খনি এলাকায় পরপর দুইজন খুন হলো। এদিকে সন্ধ্যা নামলেই শোনা যায় চুরাইলের গা শিউরানো কাঁপা কাঁপা, চেরা ডাক। চুরাইল বোঝো তো, এটা হলো এক ধরনের পেত্নী। তো রহস্য সমাধানে ডাক পড়ল কর্নেলের। সেখানে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই জয়ন্ত পেত্নীটার দেখাও পেয়ে গেল। শেষমেষ কর্নেলের বুদ্ধিতে সমাধান হলো রহস্যের, পরিচয় পাওয়া গেল প্রেত্নীরও।

আরেকবার আবার একটা খুনের মামলার তদন্ত করতে রানীডিহি নামের একটি জায়গায় জয়েন্তকে নিয়ে হাজির হলেন কর্নেল। সেখানে কয়েকজন তরুণ-তরুণী মিলে কর্নেলের বুদ্ধির পরীক্ষা নেওয়ার জন্য মিথ্যা একটা কেস দাঁড় করাল। প্ল্যান মতো পরিকল্পনাকারীদের একজন দীপ্তি মরা সেজে পড়ে রইল। কিছু মিথ্যে ক্লুও সাজানো হলো। কিন্তু এই সাজানো নাটকে ঘটল ভয়াবহ ঘটনা। দীপ্তির পড়ে থাকা শরীরটা পরীক্ষা করতে গিয়ে কর্নেল আবিষ্কার করলেন সত্যি সত্যি খুন হয়েছে মেয়েটা। কর্নেল ধুরন্ধর খুনির পরিচয় ঠিকই বের করলেন।

এই গোয়েন্দা কর্নেলের লেখক গত ৪ সেপ্টেম্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। ৮২ বছর বয়সী এ লেখকের জন্ম ভারতের মুর্শিদাবাদে। কর্নেলকে নিয়ে লিখেছেন টানটান উত্তেজনায় ভরা অনেক উপন্যাস আর গল্প।

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: