পৃথিবীর যেসব স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রকে বাংলাদেশ স্বীকার করেনা

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পরই বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর সব রাষ্ট্র স্বীকার করে নেয়নি । অনেকে স্বীকার করেনি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কারণে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুক্তি সম্পর্কে অবগত না থাকার কারণে অনেকে করেনি , অনেকে করেনি “মোড়ল” রাষ্ট্রের ভয়ে – পাছে আবার রোষপূর্ণ দৃষ্টি পরে যায়, অনেকেই আবার আপন স্বার্থের জন্য করেনি, কেউ কেউ করেনি “আদর্শগত” কারণে। আবার এমনও হয়েছে কারও আগ বাড়ানো স্বীকৃতি বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীতই হয়নি। তবে আস্তে আস্তে সব রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের সকল দেশ কর্তৃক স্বীকৃত স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র।

উপরোক্ত অনেক কারণে বাংলাদেশও বিভিন্ন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি। যাদের অনেকগুলোই আজ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে টিকে আছে। ডি ফ্যাক্টো রাষ্ট্রগুলোঃ

নাগানো কারবাখ রিপাবলিক : ১৯৯২ সালে আজারবাইজান হতে স্বাধীনতা ঘোষণা। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ সহ বিশ্বের কোন দেশ কর্তৃক স্বীকৃত নয়।

প্রিনেশ্ত্রভিয়ান মলদোভিয়ান রিপাবলিক (ট্রান্সনিস্ত্রিয়া) : ১৯৯০ সালে মলদোভা হতে স্বাধীনতা ঘোষণা। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ সহ বিশ্বের কোন দেশ কর্তৃক স্বীকৃত নয়।

রিপাবলিক অফ আবখাজিয়া : ১৯৯৯ সালে জর্জিয়া হতে স্বাধীনতা ঘোষণা। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত নয়। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ৬ টি দেশ কর্তৃক স্বীকৃত ।

রিপাবলিক অফ সাউথ ওসেটিয়া : ১১৯০ সালে জর্জিয়া হতে স্বাধীনতা ঘোষণা। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত নয়। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ৫ টি দেশ কর্তৃক স্বীকৃত।

রিপাবলিক অফ কসভো : ২০০৮ সালে সার্বিয়া হতে স্বাধীনতা ঘোষণা। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত নয়। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ৮৯ টি দেশ কর্তৃক স্বীকৃত।

সাহারা আরব ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক: ১৯৭৬ সালে মরক্কো হতে। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত নয়। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ৮৪ টি দেশ কর্তৃক স্বীকৃত।

রিপাবলিক অফ সোমালিল্যান্ড : ১৯৯১ সালে সোমালি ইউনিয়ন হতে বের হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা । বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ সহ বিশ্বের কোন দেশ কর্তৃক স্বীকৃত নয়।

তুর্কিশ রিপাবলিক অফ নর্দার্ন সাইপ্রাস : ১৯৮৩ সালে সাইপ্রাস হতে। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত নয় । জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১ টি দেশ কর্তৃক স্বীকৃত।

রিপাবলিক অফ চায়না (তাইওয়ান) : কখনো স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। গৃহযুদ্ধে কম্যুনিস্ট দের হাতে পরাজিত হয়ে পুঁজিবাদী সরকার ১৯৪৯ সালে তাইওয়ানে অস্থায়ী ভাবে রাজধানী স্থাপন করে । দেশটির সরকার মনে করে তারা গোটা চীনের (মূল ভূখণ্ড গণচীন তথা পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না সহ) নির্বাসনে অবস্থানকারী একমাত্র বৈধ সরকার । অপরপক্ষে, গণচীনের কম্যুনিস্ট সরকার মনে করে তাদের সরকার (তাইওয়ানের) পক্ষপরিবর্তনকারী বেআইনি প্রাদেশিক সরকার এবং তাইওয়ান চীনের প্রদেশ।

স্টেট অফ ইসরায়েল : ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ শাসন হতে স্বাধীনতা প্রাপ্তি । বাংলাদেশ কর্তৃক স্বীকৃত নয় । জাতিসংঘ এবং জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ৩২ টি দেশ কর্তৃক স্বীকৃত।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল বাংলাদেশের বিজয় দিবসের কিছু পরেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে চেয়েছিল এবং এর বদলে নিজেরা বাংলাদেশের স্বীকৃতি চেয়েছিল। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক উক্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। বাংলাদেশ মনে করে “স্টেট অফ ইসরায়েল”, “স্টেট অফ প্যালেস্টাইন” এর ভূমি জবর দখল করে আছে।
“স্টেট অফ প্যালেস্টাইন” বাংলাদেশ কর্তৃক স্বীকৃত একমাত্র ডি ইউরি রাষ্ট্র, যা ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বের স্বীকার।

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: