‘দোয়েল’ নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা

 

প্রথমেই বলে নেয়া ভালো

প্রথমেই একটা জিনিস বলে রাখি, আমি যদিও পেশায় একজন তড়িৎ প্রকৌশলী কিন্তু কোন ইলেক্ট্রনিক গেজেট (ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, মোবাইল) এর রিভিউ কি ভাবে উপস্থাপন করা উচিৎ সে সম্পর্কে আমার ধারনা নেই বললেই চলে। আমার এই লেখাটির মূল উদ্দেশ্য হল সাধারণ ব্যবহারকারী  হিসেবে DOEL ব্যবহারের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা এবং আমার নিজের লজিক্যাল অ্যানালাইসিস এর উপর ভিত্তি করে একটি টেকনিক্যাল রিভিউ উপস্থাপন করা। এখানে আমি ডিভাইসটি ব্যাবহার করার পর নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সাথে শেয়ার করছি যাতে অন্যরা ডিভাইসটির উপর একটি প্রাথমিক ধারণা রাখতে পারেন।

যেভাবে হাতে পেলাম

আমার DOEL ল্যাপটপ, যা একটি বেসিক মডেল 0703 নেটবুক, ব্যবহারের পর এটির ভালো ও খারাপ দিকের আলোচনা এখানে করা হল। প্রথমেই বলে রাখা দরকার যে, যে সময় আমাদের DOEL ল্যাপটপ হাতে পাওয়ার কথা ছিলো তা আমরা পাইনি। আমি অনেক কষ্টে আমার DOEL নেটবুক টি যোগাড় করি, যদিও বাজারমূল্যের চাইতে বেশি দামে কেনা অনেকের কাছেই পছন্দনীয় নয়। সে যাই হোক, গত ২ সপ্তাহ টানা ব্যবহারের পর নেটবুকটির যে যে দুর্বলতাগুলো আমার চোখে ধরা পড়েছে তা আমি গুছিয়ে তুলে ধরছি,

 

যা যা ভালো লাগেনি

১। নেটবুকটির প্রধান সমস্যা যেটি আমাকে হতাশ করেছে (এবং অনেক ক্ষেত্রে ভুগিয়েছে), তা হল এর হিট ম্যানেজমেন্ট ডিজাইন। টেবিলে কিংবা এ জাতীয় কোন সমতল জায়গায় ল্যাপটপ রেখে কাজ করলে সমস্যা হয়না, কিন্তু বিছানায় বা এমন কোনো জায়গা যেখানে তাপ বের হতে একটু সমস্যা হয় সেখানে ঘড়ি ধরে ১৫ মিনিটের বেশি চালানো যায়না, তার আগেই অতিরিক্ত তাপের কারনে ল্যাপটপটি বন্ধ হয়ে যায়। যারা ল্যাপটপের technical support নিয়ে কাজ করেছেন তারা সবাই জানেন, ব্যাপারটি ঘটে বেশিরভাগ AMD প্রসেসর বেইজড ল্যাপটপ গুলোতে, যেগুলোর হিট ভেন্টিলেশন সিস্টেম ততটা উন্নত নয়। পক্ষান্তরে, Intel Atom বেইজড প্রসেসরে এমনটি হবার কথা নয়। নেটবুকটি ডিজাইন করবার সময় জিনিসটি মাথায় রাখা রাখলে ভালো হতো।

২। অনেকেই হয়তো নেটবুকটিতে অনেক রকম OS চালাতে চাইবেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার নানা রকম OS ব্যবহার ও test run এর পর আমি মনে করি নেটবুক-এ সবচাইতে ভালো পারফরমেন্স পাওয়া যাবে Windows XP SP2 ব্যবহার করে। তাছাড়া, যারা Windows 7 এ একান্ত আগ্রহী তাদের অনুরোধ করবো Windows 7 Home Premium এর উপর কোন কিছু install না করতে, করলে নেটবুকটি বেশ স্লো হয়ে যায়। OS install করাটা অনেকের জন্য ঝামেলা হতে পারে বিশেষ করে যাদের পেনড্রাইভ থেকে OS install করার কোন অভিজ্ঞতা নেই। তাদের জন্য আমি মনে করি অবশ্যই অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিতে অথবা একটি এক্সটার্নাল DVD drive কিনতে হবে।

৩। কোন একটি অদ্ভুত কারনে ল্যাপটপ টির ডান দিককার ‘SHIFT’ button টি arrow sign (←,↑,→,↓) গুলোরও ডান পাশে ফলে যারা touch typing করেন তাদের জন্য এটি একটি বিড়ম্বনা। ‘END’ button টির অবস্থানটিও সুবিধা জনক অবস্থায় নয়। তাছাড়া পুরো কিবোর্ড এর কোনো button শক্ত আবার কোনো button নরম। যা অনেক ক্ষেত্রেই টাইপিং এর সময় সমস্যা তৈরি করে।

৪। (এ পয়েন্টটি অবশ্য একান্তই আমার ব্যক্তিগত মত, কারো সাথে নাও মিলতে পারে)সাধারণত মানুষ যখন তার ল্যাপটপটিকে নাড়াচাড়ার জন্য ধরে, স্বভাবগত কারনেই সে ল্যাপটপের দুই পাশ ধরে থাকে। কিন্তু DOEL এর ক্ষেত্রে অনুভূতিটি যেন কেমন অদ্ভুত। আমি ব্যক্তিগতভাবে ধরবার গ্রিপ কেন যেন বারবার হারাই।

৫। শেষে যে কথাটি বলবো তা হলো, BIOS এ সৃতিসৌধের ছবি এবং এনিমেশন দিয়ে ল্যাপটপ টিকে স্লো করে ফেলা হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমরা আমাদের দেশকে যথেষ্ট পরিমান ভালবাসি, সৃতিসৌধের ছবি আর পাখি উড়বার ছবি দিয়ে তা জানান দেবার কোন প্রয়োজন ছিলনা।

শেষকথা

সব মিলিয়ে উপরের ছোট ছোট সমস্যাগুলো ছাড়া বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে কম্পিউটার পৌঁছে দেবার এই প্রকল্প কে আমি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে স্বাগত জানাই। দাম অনুযায়ী বাজারের অন্যান্য নেটবুকের চেয়ে এটি বেশ ভালো। আমাদের নিজেদের একটি পণ্য, কথাটি বলতেও বুক ফুলে যায়। শেষে এই বলে বিদায় নিতে চাই, আমি মন থেকে DOEL প্রকল্পের সার্থকতা কামনা করছি।

লেখকঃ মোহাম্মদ হাসিবুল হক

সম্পাদনাঃ ইমরান মাহমুদ

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: