দি আর্টিস্ট

মূল লেখার লিংক
1.png

বিবিসি বাংলা আমাদের বলেন, ‘এবছর আমেরিকান মোশন পিকচার একাডেমি পুরস্কার বা অস্কার সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছে ‘দি আর্টিস্ট‘ – যা একটি নির্বাক এবং সাদাকালো ছবি, ১৯২৯ সালে – যে বছর প্রথম অস্কার দেয়া হয়েছিল – তার পর এই প্রথম একটি নির্বাক ছবি অস্কার জিতলো। আজকের দিনে, যখন সিনেমায় শব্দ, আর রঙ এসে গেছে বহু দশক আগেই, এবং বলা যায় যে এখন থ্রি-ডাইমেনশনাল বা ত্রিমাত্রিক ছবির যুগ শুরু হয়ে গেছে, তখন এই দি আর্টিস্ট ছবিটি সিনেমার পুরোনো যুগের কথাই নতুন করে মনে পড়িয়ে দিয়েছে, এবং সারা পৃথিবীতেই সিনেমাভক্তদের মধ্যে এর অভিনবত্ব একটা দারুণ সাড়া ফেলেছে।

শুধু সেরা ছবিই নয়, ‘দি আর্টিস্ট‘ এর পরিচালক মিশেল হাজানাভিসিয়াস এবং প্রধান অভিনেতা জঁ দুজারদাঁ-ও শ্রেষ্ঠ পরিচালক এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়াও সেরা আবহসঙ্গীত এবং সেরা পোশাক-পরিকল্পনার পুরস্কার সহ মোট পাচটি অস্কার জিতেছে ফরাসী-প্রযোজনাটি। এর কাহিনী গড়ে উঠেছে ১৯২৭ থেকে ১৯৩২ পর্যন্ত সময়কালে হলিউডের একজন নির্বাক ছবির তারকা এবং একজন উদীয়মান অভিনেত্রীর মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে…’

দি আর্টিস্ট দেখেছি কয়েকদিন হয়ে গেল। দেখে বেশ ভাল লেগেছিল। ভাবছিলাম একটা লেখা লিখবো_ চলচ্চিত্রটি আমাকে কেমন নাড়া দিয়েছে তা নিয়ে। ভাবার অবকাশ এবং তারপর লেখা… আর হচ্ছিলো না। এভাবে না লিখে কাটিয়ে দিলাম অনেকগুলোদিন। শেষ পর্যন্ত মনে হলো পরিকল্পিত কাজটি বুঝি হলোইনা! ভাবতে ভাবতে ছুটির একটা দিন কাটালাম আর আজকের মধ্যরাতে ভুতে পাওয়া মানুষের মত লিখতে বসে গেলাম দি আর্টিষ্ট নিয়ে! নিজের অনুভূতির কথা হাতড়ে বলার মত তেমন কিছু কি-বোর্ডে এলো না। ভাবলাম এর কাহিনীটাই বরং তুলে দেই! উইকি ঘেঁটে তাই এ-কাজ সমাধা করা ছাড়া বিশেষ কিছু করা গেল না।

১৯২৭ সালের কথা। নির্বাক ছবির নামকরা তারকা জর্জ ভ্যালেন্টিন (জাঁ দুয়ারদাঁ) তাঁর সর্ব-সাম্প্রতিক ছবি ‘আ রাশান অ্যাফেয়ার’-এর উদ্বোধনী শো দেখতে এসেছেন। সিনেমা হলের বাইরে ক্যামেরার সামনে পোজ দিচ্ছেন তিনি, এমন সময় পেপি মিলার (বেরেনিস বেজো) নামে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণী ভক্তের হাত থেকে পড়ে গেল অটোগ্রাফের খাতাটা। খাতা নেয়ার জন্য নিচু হতেই ধাক্কাধাক্কিতে একেবারে নায়কের গায়েই পড়ে যায় পেপি। ভ্যালেন্টিনও দেখান নায়কোচিত প্রতিক্রিয়া – তরুণী ভক্তকে তুলে ধরার ব্যাপারটি বেশ কায়দা করেই উপস্থাপন করেন চিত্রসাংবাদিকদের সামনে। পরের দিনই ভ্যারাইটি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় নিজের ছবি আবিষ্কার করে পেপি, সঙ্গে বিশাল শিরোনাম: কে এই তরুণী? পরবর্তী সময়ে নর্তকী হিসেবে অডিশন দেয় পেপি এবং চোখে পড়ে যায় জর্জ ভ্যালেন্টিনের। তিনি জেদ ধরেন, কাইনোগ্রাফ প্রোডাকশনের পরবর্তী ছবিতে পেপিকে তাঁর সঙ্গে ছোট হলেও একটা ‘পার্ট’ দিতে হবে। স্টুডিওর কর্তা আল জিমার (জন গুডম্যান) রাজি নন একেবারেই, কিন্তু নায়কের গোঁ বলে কথা! ‘আ জার্মান অ্যাফেয়ার’ নামে এক ছবির নাচের দৃশ্যে স্থান হয়ে যায় পেপির। জর্জ ভ্যালেন্টিনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় পেপি ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয় শো বিজনেসে, অচিরেই কেন্দ্রীয় সব চরিত্রে দেখা যেতে থাকে তাকে।

দু বছর পরের কথা। কাইনোগ্রাফ স্টুডিও আর নির্বাক ছবি বানাবে না বলে ঘোষণা দেন জিমার, কিন্তু ব্যাপারটা তুড়ি মেরেই উড়িয়ে দেন ভ্যালেন্টিন। সবাক ছবি নেহাতই দু দিনের তামাশা – এ মতে স্থির বিশ্বাস তার। কেবল তাই নয়, নিজের গাঁটের পয়সায় একটি নির্বাক ছবি বানানোর ঘোষণাও দিয়ে বসেন তিনি। যথাসময়ে মুক্তি পায় ভ্যালেন্টিনের নির্বাক ছবি। ঘটনাচক্রে একই দিন মুক্তি পায় পেপির একটি সবাক ছবিও। দুই ছবির মুক্তির সঙ্গে দৈবক্রমে মিলে যায় ১৯২৯ সালে মার্কিন মুল্লুকের সাড়া জাগানো শেয়ার বাজারের মহাধসও। দুর্ভাগ্যক্রমে, জনতা দল বেঁধে দেখতে যায় পেপির ছবিটিই, ভ্যালেন্টিনের ছবির কপালে জোটে ফ্লপের তকমা। জীবনে ঘোর অমানিশা নেমে আসে জর্জ ভ্যালেন্টিনের। দেউলিয়াত্বের পাশাপাশি খ্যাতির শীর্ষ থেকে রাতারাতি পতন ঘটে তার। এখানেই শেষ নয়। সঙ্গে জোটে স্ত্রী ডরিস (পেনিলোপ অ্যান মিলার)-এর চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যানও। ভ্যালেন্টিনকে ঘর থেকে বের করে দেয় সে। বিশ্বস্ত সহচর ক্লিফটন (জেমস ক্রমওয়েল)-কে নিয়ে ছোট্ট এক অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন ভ্যালেন্টিন। এদিকে দ্রুতই খ্যাতির শীর্ষে উঠে যায় পেপি, পরিণত হয় হলিউডের এক মহাতারকায়।

দেউলিয়া ভ্যালেন্টিন বাধ্য হন তার ব্যক্তিগত সব জিনিসপত্র নিলামে তুলতে, ক্লিফটনকেও বলেন চাকরি ছাড়তে। কিন্তু এক বছরের বেতন বকেয়া পড়লেও মনিবের প্রতি মায়াবশত চাকরি ছাড়ার ব্যাপার দোনোমনো করে ক্লিফটন। জীবনযুদ্ধে পরাজিত এবং পুরোদস্তুর মাতাল ভ্যালেন্টিন তার পুরনো ছবিগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন, সে আগুনে আটকা পড়ে যান ভ্যালেন্টিন; নিজের একটি ছবির ফিল্ম আঁকড়ে ধরে অসহায়ের মত বসে থাকেন তিনি। তাঁর পোষা কুকুর উগি-র সৌজন্যে এক পুলিশ অফিসারের দৃষ্টি যায় আগুনের দিকে, একেবারে শেষ মুহূর্তে আগুন থেকে উদ্ধার পান ভ্যালেন্টিন। কয়েকদিন হাসপাতালে কাটাতে হয় তাঁকে, আর সেখানেই তাঁকে দেখতে আসে পেপি। আবিষ্কার করে, মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে যে ছবিটি আঁকড়ে ধরেছিলেন ভ্যালেন্টিন, সেটি তার, মানে পেপিরই অভিনীত প্রথম ছবি! আরো ভালো করে সেবাযত্ন করার জন্য নিজের বাড়িতে ভ্যালেন্টিনকে নিয়ে যায় পেপি। সেখানে ঘুম ভেঙে ভ্যালেন্টিন আবিষ্কার করেন, ক্লিফটন এখন কাজ করছে পেপির বাড়িতেই!

এদিকে পেপি জিমার-এর ওপর চাপ দেয় পরবর্তী ছবিতে ভ্যালেন্টিনকে তার বিপরীতে নেয়ার জন্য। অন্যথায় কাইনোগ্রাফ স্টুডিও ছাড়ার হুমকিও দেয় সে। ভ্যালেন্টিন একদিন জানতে পারেন, নিলামে তোলা তাঁর সব জিনিসই কিনে নিয়েছে পেপি। জেনে নিজের পোড়া বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। আতঙ্কিত পেপি তার খোঁজে এসে দেখে, আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভ্যালেন্টিন। এখানেই এক আবেগঘন পরিবেশে দুজনের সমস্ত মান-অভিমানের সমাপ্তি ঘটে। নাচে ভ্যালেন্টিনের পারদর্শিতার কথা মাথায় রেখে পেপি জিমারকে চাপ দেয় তার ও ভ্যালেন্টিনের একটি মিউজিক্যাল মুভি তৈরি করার জন্য।

অবশেষে এতক্ষণের নির্বাক ছবিতে আগমন ঘটে শব্দের, যখন পেপি মিলার আর জর্জ ভ্যালেন্টিনের একটি নাচের দৃশ্যের চিত্রগ্রহণ শুরু হয়। দৃশ্যটি গ্রহণ শেষ হলেই জিমারের কণ্ঠ শোনা যায়, ‘কাট! নিখুঁত। চমৎকার। এরকম আরেকটা কি পেতে পারি?’

গোটা ছবিতে এই প্রথম স্পষ্ট করে শোনা যায় জর্জ ভ্যালেন্টিন-এর কণ্ঠস্বর। ‘আনন্দের সঙ্গে!’ কড়া ফরাসী টানে জবাব দেন তিনি।

Jean_Dujardin-1.jpg

-জঁ দুজারদাঁ

wallpaper-berenice-bejo.jpg

-বেরেনিস বেজো

2 Comments to “দি আর্টিস্ট”

  1. মুভিটা দেখা করকার।

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: