চে’র বিখ্যাত সেই ছবি : যেভাবে বিখ্যাত হলো এবং আলবার্তো কোরোদা, যিনি তুললেন

মূল লেখার লিংক

বিখ্যাত সেই ছবিটি।

ঠোঁটের ওপর হালকা গোঁফ, মুখে দাড়ি, চোখে বিষণ্নতা, অবিন্যস্ত লম্বা চুলের ওপর চ্যাপ্টা গোল টুপি। একনজরেই বলে দেওয়া যায়, এ ছবি আর দশটা ছবির চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। অন্যায়, নিপীড়ন আর শোষণবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে এই ছবি; ভেঙে দেয় দেশকালের সীমা। ৪১ বছর আগে আততায়ীর গুলিতে খুন হয়েছেন ছবির মানুষটি, কিন্তু তাঁর সেই ছবি আজও বিশ্বমানবের হূদয়পটে অম্লান। বুঝতেই পারছেন, আমরা চের বিখ্যাত সেই ছবির কথা বলছি।

১৯৬০ সালের ৫ মার্চ চের এই ছবিটি তোলেন আলোকচিত্রী আলবের্তো কোর্দা। ঠিক তার এক দিন আগেই হাভানা বন্দরে বোমা ও বিস্কোরকবোঝাই একটি ফরাসি মালবাহী জাহাজ বিস্কোরিত হয়ে মারা যায় ৮০ জন কিউবান। তাদের গণ-শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে সেদিন সেখানে গিয়েছিলেন চে। আর তখনই জ্বলে ওঠে কোর্দার ক্যামেরার ফ্ল্যাশ। ফ্রেমবন্দী হয় পৃথিবীর সর্বকালের সেরা এক আলোকচিত্র।


এই সেই ক্যামেরা


পুরো নেগেটিভ


মূল ছবি টি.


ছবির নেগেটিভ হাতে আলবের্তো কোর্দা


আলোকচিত্রী আলবের্তো কোর্দা তার তোলা ছবিটি হাতে ।

তারপর অনেক দিন ছবিটি কোথাও প্রকাশিত হয়নি। কোর্দার স্টুডিওতে যাঁরা আসা-যাওয়া করতেন, তাঁদের চোখেই শুধু পড়েছে দেয়ালে ঝুলে থাকা ক্রুদ্ধ, বিষণ্ন এক বিপ্লবীর মুখ। সাত বছর পর চের ছবিটি দেখে আকৃষ্ট হন ইতালীয় বামপন্থী প্রকাশক ও বুদ্ধিজীবী গিয়াংগিয়াকোমো ফেলত্রিনেল্লি। ইতালিতে ছবিটি নিয়ে আসেন তিনি। তাঁর মাধ্যমেই প্রথম পোস্টার আকারে ইউরোপে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে ছাপা হওয়ার পর ছবিটি ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়। চিত্রবিশ্লেষক ত্রিশা জিফ বলেন, ‘লোকে শোষণ ও বৈষম্যের অবসান চায়, চায় পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠে চের ছবি।’

আলবের্তো কোর্দা কখনই এ ছবিটির বিনিময়ে কোনো টাকা নেন নি, কোনো প্রতিষ্ঠান এই ছবিটি ব্যবহার করতো. তখন আলবের্তো কোর্দা কে রয়ালেটির টাকা দিতে চাইলে তা সে ফিরিয়ে দিতো ।

আলবের্তো কোর্দা মামলা করেন ছবি যখন স্মিয়ার্টওফ নামের একটা ভদকার বোতলে ব্যাবহার করা হয় । এ জন্য মামলায় তিনি জয় পান এবং ক্ষতিপূরন পান ৫০,০০০ ডলার । টাকা টি তিনি পুরোটাই কিউবান হেলথ কেয়ার একটি সংস্থা কে দান করেন । তিনি টাকা টি দান করার ব্যাপারে বলেন, চে যদি বেচে থাকতো, সে ও একি কাজটি করতো

এর পর তিনি বলেন, As a supporter of the ideals for which Che Guevara died, I am not averse to its reproduction by those who wish to propagate his memory and the cause of social justice throughout the world, but I am categorically against the exploitation of Che’s image for the promotion of products such as alcohol, or for any purpose that denigrates the reputation of Che[/sb

তার একটি বিখ্যাত কথা-

“Forget the camera, forget the lens, forget all of that. With any four-dollar camera, you can capture the best picture.”

কোর্দা সব সময় ফিদেল এর সাথে থাকতেন, ছবি তুলতেন এবং ফিদেল ও তাকে অনেক পছন্দ করতেন ।

আর এখন টি-শার্ট, দেয়াল, আইসক্রিমের মোড়ক, সিগারেট থেকে শুরু করে কোথায় নেই এই ছবি! এমনকি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও মুষ্টিযোদ্ধা মাইক টাইসনের শরীরে পর্যন্ত উল্কির আকারে জায়গা করে নিয়েছে এই ছবি। ‘চে গুয়েভারা নিজেই এখন একটা ব্র্যান্ড। এই ব্র্যান্ডের লোগো হচ্ছে চের সেই বিখ্যাত ছবি, যার অর্থ পরিবর্তন। ছবিটি যুদ্ধ ও বিশ্বায়নবিরোধী তথা পরিবেশবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে।’ বললেন ত্রিশা জিফ।

বিবিসি এবং উইকি ।

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: