নিল আর্মস্ট্রং-এর একমাত্র স্বীকৃত জীবনীগ্রন্থ- ফার্স্ট ম্যান

নিল আর্মস্ট্রং কে?

উত্তর সবারই জানা, চাঁদে পা দেওয়া প্রথম মানব।

কিন্তু জেমস আর হ্যানসেনের লেখা নিল আর্মস্ট্রং-এর একমাত্র স্বীকৃত জীবনীগ্রন্থ ফার্স্ট ম্যান পড়ে মনে হল খুব সহজেই নিলের আরেকটি পরিচয় হতে পারে বিশ্বের নির্লোভতম মানুষ বা মানুষদের একজন। যে ব্যক্তি প্রতিদিন বিকালের কফিপানের সময় মাত্র ২ ঘণ্টা সাক্ষর দিয়ে ( অটোগ্রাফ) ১ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করতে পারেন ( বছরের ৩৬৫ দিনই) কিন্তু বিশেষ ব্যক্তিগত কারণে করেন না, এবং সেই কারণটি হচ্ছে চাঁদে নিল আর্মস্ট্রং-এর পা দেবার পিছনে তার কোন একক অবদান আছে বলে তিনি মনে করেন না, বরং সেই বিশাল সাফল্য এক দলের যার অন্তর্গত যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ প্রজেক্টের সাথে যুক্ত সবাই, সেই বিশেষ ব্যক্তিটিকে নির্লোভতম না বলে উপায় থাকে না।

প্রায় ৮০০ পাতার থান ইটের মত বইটির শুরু অবশ্য বেশ ম্যাড়মেড়ে, লেখক চলে গেছেন ১৩০০ সালের স্কটল্যান্ডে আর্মস্ট্রং নামটির পিছনের রহস্য উদঘাটন করতে, শেষমেশ জানতে পারলেন এর মানে স্ট্রং আর্ম বা বলিষ্ঠ বাহু ! এরপরে কি করে তার পরদাদাদের আমেরিকায় আগমন ঘটল তার বিশাল ফিরিস্তি, এমনকি নিলের বাবা-মার জীবনের নিখুঁত বর্ণনা এবং তার নামকরণের পিছনের কারণ পর্যন্ত লেখক খুঁড়ে বাহির করেছেন একজন সত্যিকারের অনুসন্ধিৎসুর দৃষ্টি নিয়ে, যদিও তার খুব দরকার ছিল বলে মনে হয় নি আপাত দৃষ্টিতে। গেইলিক ভাষার স্কটিশ আবহে নিল শব্দের মানে চ্যাম্পিয়ন!

এরপরে নানা অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে নিলের ১৯৩০ সালে জন্ম নেওয়া, তরুণ বাবা-মার প্রথম সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠার বর্ণনা, তার বই প্রীতি, ধর্মবিশ্বাস থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাওয়া, স্কুলের বন্ধুরা।
নিছক শখ থেকে নেশাতে পরিণত হয়ে ওঠে তার বিমান চালানো, ১৯৪৬সালের ৫ আগস্ট মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গাড়ী চালাবার লাইসেন্স পাবার আগেই ক্ষুদে বিমান চালাবার অনুমতিপত্র মিলে যায় তার!

এরপরে তার অ্যারোন্টিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ওঠার কাহিনী, কোরিয়া যুদ্ধ, জীবনের নানা বাঁক। ১৯৫২ সালে নেভী ছেড়ে যাওয়া , পুনরায় পারডিউ বিশ্ব-বিদ্যালয়ের ছাত্র জীবন, প্রথম বিবাহ, প্রথম কন্যার অকাল মৃত্যু এবং অবশেষে তার নাসার অধীনে চাকরি করার পর্যায়ে মহাকাশচারী হয়ে ওঠার প্রচেষ্টার গল্পগাথা।

অবশেষে ১৯৬২ সালে সেপ্টেম্বরে নাসা মহাকাশ যাত্রার জন্য যে নয়জন মহাকাশচারীর নাম ঘোষণা করে তাতে ঠাই পান নিল। মহা কষ্টকর জঙ্গল ট্রেনিং-এর সময় পানামার বনে তার সাথী হিসেবে ছিলে আরেক কিংবদন্তী জন গ্লেন ( শূন্যে পৃথিবী প্রদিক্ষন করা প্রথম মার্কিন এবং সেই সাথে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ হিসেবে মহাশূন্যে যাবার গৌরবের অধিকারী)। এরপরই আসে জেমিনি মিশনের সাতকাহন, অনেক ভিতরের খবর।

অবশেষে একজন মহাকাশচারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর সাড়ে তিন বছর পর (১২৭৭ দিন) নিল ৩৫ বছর বয়সে প্রথম বারের মত রকেটে বসে মহাকাশযাত্রা শুরু করেন, ঐতিহাসিক সেই রকেটের নাম জেমিনি-৮, তার সঙ্গী ছিলেন ডেভিড স্কট, ১৯৬৬ সালের ১৬ মার্চ। এরপরে বেশ কয় পাতা জুড়ে মহাকাশ থেকে তাদের নীল গ্রহ অবলোকনের বিস্ময় ভরা কথোপকথন এবং হিউস্টনের সাথে বার্তা বিনিময়ের প্রতিলিপি।

শুরু হয় সারা বিশ্বকে প্রতীক্ষায় রাখা, প্রেসিডেন্ট কেনেডির প্রতিশ্রুত চাঁদে মানুষ পদার্পণের মিশন অ্যাপোলো। সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অ্যাপোলো-১, ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন বিখ্যাত মহাকাশচারী গ্যাস গ্রিসসম, রজার চ্যাফে এবং এড হোয়াইট। পিছিয়ে যায় অনেক পরিকল্পনা, সেই সাথে জল্পনা কল্পনা চলতেই থাকে চাঁদে প্রথম নামবে অ্যাপোলোর কোন রকেটটি এবং সেখানে প্রথম পা রাখবেন কোন জন !

এরপরে কোন দুর্ঘটনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলতে থাকে একের পর এক অ্যাপোলো মিশন, অ্যাপোলো-৮ এর ব্যাকআপ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন নিল। অবশেষে রাষ্ট্রীয় ভাবে ঘোষণা করা হয় অ্যাপোলো-১১ চেষ্টা করবে চাঁদের পিঠে অবতরণের, নানা নাটকীয়তার পর, অনেক যাচাই বাছাই করে অবশেষে তিনজন ক্রু নেয়া হল সেই মহা গুরুত্বপূর্ণ মিশনের জন্য – নিল আর্মস্ট্রং, এডউইন অলড্রিন, মাইকেল কলিন্স। কিন্তু চাঁদে প্রথম নামবে কোন জন এর উত্তর তখনো জানা নেই।

এদিকে নানা পত্রপত্রিকায় নাসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিবৃতি দিয়ে জানালো হল, চাঁদে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন এক দিতে যাচ্ছেন অলড্রিন, নিজের আত্মজীবনী রিটার্ন টু আর্থ-এ অলড্রিন নিজেও স্বীকার করেছেন ১৯৬৯-এর প্রথম কয়েক মাস পর্যন্ত তিনি জানতেন সেই গৌরবটা তারই হবে। অন্য দিকে নিল সবসময় বলে এসেছিলেন মিশনের সাফল্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেটার জন্য যেটা করা দরকার নাসা সেটাই করবে, এবং চাঁদের ভূমিতে দুই মহাকাশচারীর প্রতিটি পদক্ষেপই থাকবে পৃথিবীতে করা চুলচেরা হিসাব মোতাবেক।

অবশেষে জানা যায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিল আর্মস্ট্রং প্রথম মানব হিসেবে চাঁদে পদার্পণ করবেন কারণ তিনি সামরিক বাহিনীর সদস্য নন, একজন সিভিলিয়ান ( যেহেতু নেভীর সাথে সকল সম্পর্ক নিল অনেক আগেই ছিন্ন করেছেন) । সেই চরম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে ও পরে নিল ও অলড্রিনের মানসিক অবস্থার চিত্রায়ন করেছেন লেখক বাস্তবতার নিরিখে, রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে দুই বন্ধুর, দুই সহঅভিযাত্রীর মধ্যকার সম্পর্ককে।

সেই সাথে এই অলড্রিন এও বলেন কমান্ডার হিসেবে নিল থাকবে ঈগল খেয়াযানের বাম দিকে, যেখানে থাকবে বেরিয়া যাবার হ্যাচ ( ঢাকনা) আর আমি থাকব ডান দিকে পাইলট হিসেবে। কাজেই চাঁদে অবতরণের পর সেই স্বল্প পরিসরের মাঝে আমরা আবার স্থান পরিবর্তন করব কেবল আমার চাঁদে নামার জন্য, এই ধারণা পুরোই অকেজো! নাসার সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।

সবচেয়ে অবাক ব্যাপার ছিল এই ব্যাপার জানার পরও নিলের নিঃস্পৃহতা, এমনকি তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথেও এই নিয়ে কথা বলেন নি। পরবর্তীতে তার বাবা পর্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন আমি তো জানতাম অলড্রিন প্রথম চাঁদে নামবে, কারণ নিল তো সেই মিশনের কমান্ডার!

এরপরে চলতে থাকে অন্যান্য মহাযজ্ঞ, ঠিক করা হয় চাঁদে তারা রেখে আসবেন তিনটি বস্ত, যার মধ্যে একটি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা। এই নিয়ে নিল বলেন, আলোচনা চলছিল আমরা জাতিসংঘের পতাকা নিয়ে যাব কিনা, অথবা অনেকগুলো দেশের পতাকা! কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় যেহেতু চন্দ্রগমন সম্পূর্ণ আমেরিকার অর্থায়নের বাস্তবায়িত কাজেই আমরা আমেরিকার পতাকা নিয়েই যাব, কোন দাবী নিয়ে নয়, কেবল বিশ্বকে জানাবার জন্য যে আমরা সেখানে গিয়েছি।

সেই সাথে সবাই জানতে চাইছিল চাঁদে পা রাখার পর নিল প্রথম কোন কথাটি বলবেন, এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে নিল বলতেন- চিন্তা করছি এখনো! এমনকি রকেটে যাত্রাকালীন সময়েও কলিন্স ও অলড্রিন এই নিয়ে প্রশ্ন করলে একই উত্তর দিতেন তিনি।

অবশেষে শুরু হল চাঁদে অভিযান, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা নিঃসন্দেহে সমৃদ্ধ করেছে বইটিকে, সেই সাথে আছে সেই রহস্যময় ফ্লাইং সসার দর্শন নিয়ে তাদের কথামালা।
কলম্বিয়ার সাথে বিচ্ছিন্ন হবার পর ঈগলের অবতরণের আগ পর্যন্ত তাদের বাক্য বিনিময়, হিউস্টনের সাথে আলাপ সবই সংরক্ষিত আছে পাতার পর পাতা জুড়ে আর আছে নিলের চাঁদের মাটিতে পা দিয়ে বলা প্রথম কথা –
Thats one small step for man,
one giant leap for mankind

অমর হয়ে যাওয়া এই বাক্যটিতে for a man হবার কথা ছিল, তাড়াহুড়োয় নিল a বলেন নি, এবং পরে তিনি বলেছেন চাঁদে আমাদের অবস্থানের সময়কার ভিডিওটেপ দেখার সময় খেয়াল করলেই শুনবেন আমার কথায় অনেক গ্রামার বিচ্যুত হয়েছে, কিন্তু সেই সময়ে হয়ত এটাই স্বাভাবিক ছিল। আর বিখ্যাত সেই বাক্য নিয়ে তার চাছাছোলা মন্তব্য- এটি সেই সময়ে আমার মনে এসেছিল, অবশ্যই আমি যাই বলে থাকে এটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়, কিন্তু মিডিয়ার কারণে সমগ্র মানব জাতির কাছে এটা মহাগুরুত্বপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল!

সেই সাথে অ্যাপোলো-১১ এ একটা ট্র্যাজেডি হয়ে থাকে চাঁদে পদার্পণকারি প্রথম মানুষের চাঁদে কোন সরাসরি আলোকচিত্র না থাকায় ( এমন ৫ টা মাত্র ছবি আছে যেখানে নিলের উপস্থিতি বোঝা যায়)! কারণ নিলের কাছেই সবসময় ক্যামেরাটি ছিল, আর তার তোলা বিখ্যাত যে ছবিগুলো আমরা দেখি সেখানে সর্বদাই বর্তমান অলড্রিন! আসলে এই ব্যাপারটি ধরা পরে পৃথিবীতে এসে সমস্ত ছবি প্রিন্ট করার পরে! ( এইখানে কেন জানি প্রথম এভারেস্ট আরোহী এডমুন্ড হিলারির কথা মনে পড়ে, উনারও এভারেস্ট শৃঙ্গে কোন ছবি নেই, আছে উনারই তোলা তেনজিং নোরগের ছবি) ।

অবশেষে ২৭.১ কিলোগ্রাম চাঁদের নুড়ি পাথর নিয়ে তারা নিরাপদের ফিরে আসেন নীল গ্রহে, তাদের উদ্ধার পর্বের রয়েছে বিস্তারিত বর্ণনা, যা সবারই কম বেশী জানা।
এবং এর পরপরই তাদের বিশ্ব ভ্রমণের কাহিনী( যখন তারা ঢাকাতেও পদার্পণ করেছিলেন)।

এর পরপরই আসে মহা বিখ্যাত চন্দ্রমানবে পরিণত হবার পর তার পরিবর্তিত জীবনের গল্প, যেখানে তিনি এড়িয়ে চলেন মিডিয়া, দেন না কোন সাক্ষাৎকার, কারণ হিসেবে বলেন আমাদের অ্যাপোলো মিশনে হাজার হাজার মানুষ সুচারু ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করার ফলেই এটি সফল হয়েছে। যে মানুষটি প্রতিদিন বাথরুমের মেঝে পরিষ্কার করত তার অবদানও আমার চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। আর এত মানুষের অবদান অগ্রাহ্য করে কেবল মাত্র রাষ্ট্র আমাকে এই কাজে বেছে নিয়েছিল বলে আমিই ক্যামেরার সমানে গৌরবের ভাগীদার হব, এমনটা আমি কখনোই পারব না।

অন্য দিকে অলড্রিন এবং কলিন্স কিন্তু একের পর এক টিভিশোতে উপস্থিত হয়েছেন, মোটা টাকার বিনিময়ে সাক্ষাৎকার দিয়েই যাচ্ছেন এখনো, লেখালেখি চালাচ্ছেন, এই ব্যাপারে মৃদুভাষী নিলে উত্তর- ব্যক্তিগত ব্যাপার!
এক পর্যায়ে শুরু হয়ে যায় নিলের ব্যবহৃত যে কোন দ্রব্য , এমনকি তার ভিজিটিং কার্ড নিয়ে পর্যন্ত মোটা টাকার বাণিজ্য, বাধ্য হয়ে অটোগ্রাফ দেওয়া বন্ধ করেন তিনি।

সেই সাথে বার বার এসেছে নিলের বিখ্যাত হয়ে ওঠার পরে তাকে নিয়ে অনেকের বাণিজ্য করবার বা মিথ্যা কথনের ব্যাপারটা। যেমন তার বেড়ে ওঠা যে শহরে, সেই শহরের একমাত্র মানমন্দিরের এক কর্মকর্তা ১৯৬৯ সালে বার বার বলেছেন ছোট নিল তার কাছেই টেলিস্কোপ দিয়ে প্রথম চাঁদকে ভাল ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল, এমনকি সেই নিলের মাথায় চাঁদ ব্যাপারটা ঢুকিয়ে ছিল! নানা পত্রিকায় ফলাও করে ছাপা হয়ে ছিল তার সাক্ষাৎকার, স্বভাবসুলভ ভাবেই নিল এর বিরুদ্ধে সরাসরি কিছু বলেন নি, কিন্তু লেখকের কাছে জানিয়েছেন এগুলো সবই রটনা !

এর পরপরই আসল ধর্ম প্রচারকরা, প্রথমের তারা প্রচার করতে চাইল চাঁদের বুকে পা দেওয়া প্রথম মানুষটি একজন খ্রিস্টান, যা এক প্রবল গর্বের ব্যাপার। কিন্তু এই ব্যাপারে নিল কোন উচ্চ্যবাচ্য না করাই তারা দমে যেয়ে চাঁদে অভিযান নিয়ে নানা কুৎসা রটনা করে, যেমন চাঁদ থেকে যে ফোন নম্বর দিয়ে তারা সরাসরি মার্কিন রাষ্ট্রপতির সাথে কথা বলে সেই নম্বর ছিল ৬৬৬-৬৬৬৬ , যা খ্রিষ্ট বিরোধী! সেই সাথে অলড্রিনের কাধে ম্যাসন পতাকা পরিবহনেরও নিন্দা জানায় তারা।

সবচেয়ে বড় গুজবটি ঘটে মুসলিম বিশ্বে, বেশ কিছু দেশে প্রচার করা হয় নিল চাঁদে যেয়ে আযান শুনেছেন এবং পরবর্তীতে এক ইসলামিক রাষ্ট্র ভ্রমণের সময় একই ধ্বনি শুনতে পেয়ে অনুসন্ধান করে জানেন তা আসছে ইসলামিক উপাসনালয় মসজিদ থেকে তাই তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মসুলমান হয়ে যান। এই গল্পের অবশ্য কিছু পরিবর্তিত ভার্সন আছে, কোথাও বলে চাঁদে ফাটল দেখা বা মক্কা থেকে নির্গত রেডিয়শনের প্রমাণ পেয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এই গুজবটি এতই বিস্তৃত হয় যে ১৯৮৩ সালের মার্চে নিল কোন ধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন না করে অত্যন্ত বিনীত ভাবে প্রেস রিলিজ দিয়ে জানান- তিনি কোন সময়ই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন নি এবং অদূর ভবিষ্যতেও তার এমন কোন ইচ্ছা নেই।

লেখকের সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে এই ব্যাপার নিল তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিশ্ব- বিদ্যালয়ের এক আরব ছাত্র তাকে সরাসরি প্রশ্ন করে বসে, প্রফেসর আর্মস্ট্রং, আপনি কি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন? নিল সরাসরি বলেন – না । তখন সেই ছাত্র আমার দিকে এমন ভাবে তাকায় যেন আমি তার সাথে আমার নিজেকে নিয়ে মিথ্যা কথা বলছি!!

এরপরে নিলকে গ্রহান্তরের আগন্তক তত্ত্বের জনক সুইস নাগরিক এরিক ফন দানিকেনও ইকুয়েডরের এক গুহাতে প্রাপ্ত বস্তসমূহের মাধ্যমে তার তত্ত্ব প্রমাণের কাজে ব্যবহারের চেষ্টা চালান, অতি ভদ্রলোক নিল কেবল চিঠি দিয়ে তার কল্যাণ কামনা করে সেই যাত্রা এড়িয়ে যান।

কিন্তু মুদ্রার অন্য পিঠও আছে, এভাবেই একদিন নিল আর্মস্ট্রং আমাদের মানব সমাজের অন্যতম নির্লোভ মানুষ এডমুণ্ড হিলারির সাথে উত্তর মেরু ভ্রমণ করেন। পান বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি মানুষের নিঃশর্ত ভালবাসা। এবং এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন তার জীবনের সেরা প্রেম- বিমান চালানো!!

নিল আর্মস্ট্রংকে নিয়ে মানুষের উৎসাহের শেষ নেয় এখনো, তাকে নিয়ে বাজারে যে কত বই প্রকাশিত হয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই, কিন্তু এই বইটিই একমাত্র বই যার প্রতিটি লাইন নিল প্রকাশের আগে পড়ে তারপরেই অনুমোদন করেছেন। ২০০৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

9780743492324_PI

( নিল আর্মস্ট্রং আমাদের গর্ব, কেবল চাঁদে যাওয়া প্রথম মানুষ হিসেবে নন, তার সমগ্র জীবনবোধের কারণে।

আমি অত্যন্ত সন্তুষ্টি অনুভব করি যে তার মত মহান চরিত্রের একজন মানুষ প্রথম চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করেছেন।

আমি জানি, গত দশকে মানুষ চাঁদে আসলেই গিয়েছে নাকি, নিলদের এই অর্জন আমেরিকায় এরিয়া-৫১ এ করা কিনা, চাঁদে বাতাস নেই তো পতাকা উড়ল কেন এই নিয়ে খামোখা জল ঘোলা করে কিছু মহল অনেক টাকা কামিয়ে নিয়েছে ফালতু বই লিখে আর ডকুমেন্টরি বানিয়ে। আশা রাখি কোন সচল পাঠক তাদের ফাঁদে পা দিবেন না এবং সেই বিরক্তিকর ব্যাপার নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না। )
.
.
.
.
http://www.sachalayatan.com/tareqanu/43072

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: