জাদুকন্যা আজরা জ্যাবিন-কে নিয়ে আমার কিছু স্মৃতি

জাদুকন্যা আজরা জ্যাবিন-কে নিয়ে আমার কিছু স্মৃতি।
১। স্কুলে টিফিনের পর খেলার মাঠে চলছিল অসংখ্য ক্ষুদে ক্রীড়াবিদদের ছুটোছুটি। বিশাল মাঠে আসলে যে কি খেলা হচ্ছে সেটা হঠাৎ করে কেও দেখলে বুঝতেই পারবেনা। বন্ধুদের সাথে খেলতে খেলতে হঠাৎ থমকে গেলাম, অবাক হয়ে চেয়ে দেখলাম স্কুলের দেয়ালের উপর একটা মাথা উকি দিচ্ছে। মাথা ভর্তি কোকড়ানো চুল,মুখ ভর্তি হাসি একটি মেয়ের মুখ। তার দু’চোখ যেন কি খুজছে। হঠাত করেই সে যেন পেয়ে গেল যা সে খুজছিল। নাম ধরে ডেকে উঠল কাকে যেনো। আর মাঠে থেমে থাকা অবাক দৃষ্টির মানুষগুলোর মধ্যে তিনটি পুতুলের মত মেয়ে দুহাত আকাশে মেলে দিয়ে দৌড়ে আসতে থাকল সেই মেয়েটির দিকে, আর উল্লাসে চিৎকার করছিল “খালাম্মা —খা্লাম্মা–খালাম্মা “, দেখে মনে হচ্ছিল যদি ডানা থাকতো তবে উড়ে চলে যেতো। সেই মেয়েটি ততক্ষনে দেয়াল টপকে ঢুকে গেছে স্কুলে, আর দু বাহু বাড়িয়ে টেনে নিল নিজের বুকের ভেতর সেই তিনটি ছোট্ট পরীকে।
তারপর আমরা সবাই জানলাম এই সেই ‘আজরা জ্যাবিন’ যার জাদু টিভিতে দেখে চোখের পলক ফেলতে ভুলে যাই ! ঢাকা থেকে নিজের বাড়িতে যাবার সময় তার মনে পড়লো যে তার প্রান ভ্রমরা গুলোতো (তার ভাগ্নীরা) এখন স্কুল এ।বাড়ি গিয়ে কি হবে ওদের ছাড়া, তাই স্কুলের দেয়াল টপকে ভেতরে আগমন। আর আমরা স্কুলের টিচার-স্টুডেন্ট সবাই তাকে ঘিরে ধরলাম, আমাদের জাদু দেখাতে হবে। তার মুখে হাসি ছাড়া কথা নেই। তার ভাগ্নীরাও ধরলো ‘জাদু দেখাতে হবে’। সবাই হল রুম এ হাজির হলাম, উত্তেজনায় কথা বন্ধ।তারপর শুরু হল-গ্লাস থেকে পানি উধাও হয়ে সেই পানি এক ছাত্রের কান থেকে বের করা, আজরা জ্যাবিন এর হাতের ইশারায় লাঠির নৃ্ত্য, এক টিচার এর ১০০ টাকার নোটকে সাদা কাগজ বানিয়ে আবার সেই নোট অন্য টিচারের পকেট থেকে বের করা। ওফ! সেই দৃশ্য এখনো চোখের সামনে ভাসছে।

২। এরপর শুধু টিভিতে জাদু দেখেই কাটছিলো দিন কিন্তু হঠাৎ করেই স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ব্রহ্মপুত্র নদএর শীতকালীন সাময়ীক সেতু(বেইলি ব্রীজ) পার হতে গিয়ে দেখি চারপাশ লোকে লোকারন্য। জানলাম জাদুকন্যা আজরা জ্যাবিন চোখ কালো কাপড়ে বেধেঁ মোটর সাইকেল চালাবেন। আমিও সবার মতো উত্তেজনা নিয়ে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে গেলাম। দূর থেকে হাত-তালির শব্দ শুনেই বুঝলাম যে আসছেন জাদুকন্যা। মনে হল ‘জাদুকন্যা’ নামটি সার্থক হলো। অলৌ্কিক ব্যাপারের মতো, চোখ বাধা থাকায় যেন কোন সমস্যা নেই। মনে হচ্ছিলো চোখ বেধে মটর সাইকেল চালানোই স্বাভাবিক ঘটনা। অবিশ্বাস্য সেই মুহুর্তটি আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।
** আমার মনে হয় মানুষ তার কৈশোরের স্মৃতিতে বেশী কাতর হয়। কিশোর-বেলার স্বপ্নের জগত ছেড়েই সবাই তরুন বয়সের বাস্তব জগতে প্রবেশ করে । শীর্ষ ব্লগারদের একজন মাহমুদ ভাই এর লেখা পড়ে পুরানো স্মৃতি নাড়া দিয়ে উঠল মনে। আবার কিছুটা সময়ের জন্য আমি ফিরে গেলাম আমার কিশোরী-বেলায়। আজরা জ্যবিন এর জাদু দেখে নিজেও অনেকবার ভেবেছি জাদু শিখে ফেলবো।তখন মনে হতো জাদু দিয়ে অনেক কিছু বদলে দেয়া যায়। যদিও অনেক আগেই আমার ভাবনা যে ভুল সেটা বুঝে গেছি —কিন্তু এখনো খুব ইচ্ছা করে, যদি পারতাম তবে জাদু দিয়ে বদলে দিতাম আমার প্রিয় দেশের , প্রিয় মানুষের সব কষ্ট।তবে আমরা সবাই কিন্তু একটা জাদু জানি, আর সেটা হচ্ছে ভালবাসা। ভালবাসা দিয়েই জাদুর চেয়েও কার্যকরী কিছু করে ফেলতে পারে একজন মানুষ। আমরা কি পারিনা আমাদের ভালবাসা দিয়ে আজরা জ্যাবিন-কে আবার বাস্তব জগতে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে? যে জাদুর জন্য সে আজ বিশ্ব-হারা, না হয় সেটা মিথ্যে জাদু তা বলে কি আমরা আমাদের ভালবাসার জাদু দিয়ে তার জীবন ভরিয়ে দিতে পারিনা?

http://www.somewhereinblog.net/blog/bdidol/29523311

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: