মাউন্ট এভারেস্ট

mount_everest_as_seen_from_drukair2_plw_edit
সর্বোচ্চ পর্বতচূড়ার নামকরণ
আবিষ্কার হলো সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া কিন্তু এর নাম কি দেয়া হবে।ভাবতে লাগলেন কর্নেল এন্ড্রু ওয়াহ।তিনি দেখলেন যে এটাই এখন তার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।জরিপকারীরা সবাই চাচ্ছিলো যে নামটা স্থানীয় কোনো নামের হোক।কিন্তু তারা কোনো স্থানীয় নাম খুজে পেলনা।করণ তখন তিব্বত ও নেপালে বিদেশীদের প্রবেশ ছিল বন্ন্ধ।তাই তারা স্থানীয় নাম খুজে পাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হলো।তবে বেশ কিছু স্থানীয় নাম প্রচলিত থাকলেও এদের মধ্যে সুপরিচিত ছিল তিব্বতিদের ব্যাবহার করা কয়েকশ’ বছরের পুরনো নাম “চোমোলুংমা”।কিন্তু এইনামের আবার অনেক উপনাম থাকার কারণে তিনি এই নাম নাকচ করে দেন।তাই তিনি সহ সবাই মিলে এর নাম রাখার সিধান্ত নেন তাদের পূর্বসূরি ভারতের প্রাক্তন জরিপ পরিচালক জর্জ এভারেস্টের নামে।

এ সম্পকে ওয়াহা লিখেন —-
‘আমার সম্মানিত পূর্বসূরি জরিপ প্রধান কর্ণেল স্যার জর্জ এভারেস্ট আমাকে প্রতিটি ভৌগলিক উপাদান স্থানীয়ভাবে প্রচলিত নামকরণ করতে শিখিয়েছিলেন। কিন্তু এই পর্বতটি, যা কিনা খুব সম্ভবতঃ পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত- এর কোন স্থানীয় নাম আমরা খুঁজে পাইনি, আর কোন স্থানীয় নাম থেকে থাকলেও নেপালে প্রবেশের আগে তা আমাদের পক্ষে নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। এরমধ্যেই চূড়াটির নামকরণ করার সুযোগ এবং পাশাপাশি দায়িত্বও আমার কাঁধে বর্তেছে……এমন একটি নাম যা কিনা দেশ-বিদেশের ভূগোলবিদরা জানবে এবং পৃথিবীর সভ্য জাতির লোকদের মুখে মুখে ফিরবে।’কিন্তু জর্জ এভারেস্ট এটাকে প্রত্যাখান করেন।কিন্তু তা বেশিদিন টেকেনি।অবশেষে ১৮৬৫ সালে “রয়েল জিওগ্রাফিক সোসাইটি” আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতচূড়ার নামকরণ করে মাউন্ট এভারেস্ট।
এরপর থেকেই এই “চূড়ো ১৫” ই হয়ে গেল “মাউন্ট এভারেস্ট”।তাছাড়া নেপালের সবাই একে ডাকে “সাগরমাথা’ (আকাশের দেবী)।আর তিব্বতীয়রা একে এখনো ডাকে “চোমোলুংমা”।যার মানে হলো “মহাবিশ্বের দেবী মা”

শুরু হল পর্বত জয় করার মিশনঃ
হলো আবিষ্কার,হলো নামকরণ ও ,এবার পালা চূড়োয় চড়া।আমরা জানি যারা পাহাড় থেকে পাহাড়ে ঘুরে বেড়া তাদেরকে পর্বতারোহী বলা হয়।তাদের নেশা পেশা সবই এই পাহাড়কে ঘিরেই।এই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে সকল অদম্য সাহসী পর্বতারোহীরা উঠে পড়ে লেগে গেলেন এভারেস্ট জয় করার জন্য।নানা দেশ থেকে নানা পর্বতারোহী এসে ভিড় জমাতে লাগলেন এভারেস্টের দেশ নেপালে।তবে আবিষ্কারের ও আগে ব্রিটিশরা ১৯২১ সালের অভিযানে হিমালয়ে প্রত্যাবর্তন করে। এতে জর্জ ফিনচ প্রথমবারের মত অক্সিজেন ব্যবহার করে পর্বতারোহণ করেন। তার আরোহণের গতি ছিলো বিস্ময়কর – ঘন্টায় প্রায় ৯৫০ ফুট (২৯০ মি)। তিনি ৮,৩২০ মিটার (২৭,৩০০ ফুট) ওপরে ওঠেন, যা ছিল সর্বপ্রথম কোনো মানুষের ৮,০০ মিটারের বেশি উচুতে আরোহণ। ম্যালোরি এবং কর্ণেল ফেলিক্স দ্বিতীয়বারের মতো ব্যর্থ অভিযান করেন। ম্যালোরির নেতৃত্বাধীন দলটি উত্তরের গিরিখাত বেয়ে নামতে গিয়ে ভূমিধ্বসের কবলে পড়ে এবং সাতজন পর্বতারোহী নিহত হয়।এভাবে চলতে থাকে আরো ৩২ বছর।এর মধ্যে অনেকে প্রাণ হারান এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে।কিন্তু কেউই থেমে থাকেন নি একের পর এক অভিজান তারা চালু করেন।
এমন সময় ১৯৯৫৩ সালে এক পর্বতারোহী জেনে যান যে এভারেস্টই পৃথিবীর সবচেয়ে উচু পাহাড়।ব্যস রওনা দিলেন এভারেস্টের উদ্দেশ্য।জানেন এই লোকটি কে?ঠিক বলেছেন তিনিই ছিলেন এডমন্ড হিলারি।জন্মস্থান ছিল তার নিউজিল্যান্ডে।

সুদুর নিউজিল্যান্ডে থেকে তিনি চলে আসেন নেপালে।খুজতে থাকেন একজন সঙ্গী।পেয়েও যান।আর সেই সঙ্গীই ছিলো নেপালের লোকের কাছে দেবতাতূল্য “তেনজিং নরগে”।

এই দুইজন মিলে শুরু করেন অসম্ভবকে সম্ভব করার মিশন।তবে এর আগে ১৯৫২ সালে তেনজিং নোরক দক্ষিণ-পূর্ব রিজের হয়ে ৮,৫৯৫ মিটার (২৮,১৯৯ ফুট) ওপরে ওঠেন, যা ছিল এভারেস্ট বিজয়ের আগে উচ্চতা আরোহণে মানুষের নতুন রেকর্ড।তিনি তার এই অভিজ্ঞতা ১৯৫৩ সালের মিশনে কাজে লাগান।
১৯৫৩ সাল ব্রিটিশ অভিযাত্রীক দল খুজতে থাকেন সাহসী দুই পর্বতারোহীকে।সে সুবাদে তারা পেয়ে যান এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নরগেকে।

তারা ১৯৫৩ সালের ২৮ শে মে রওনা দেন এভারেস্ট জয়ের উদ্দেশ্যে।সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে তারা শুরু করেন তাদের অভিজান।এর মধ্যে অনেক প্রতিকূলতা,বাধা বিপত্তি না মেনে চলতে থাকেন আবিরাম।সে সুবাদেই ১৯ মে ১৯৫৩ সালের ২৯ মে সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখেন এভারেস্টের চূড়োয়।তবে এডমন্ড হিলারিই সবার আগে উঠেন হিমালয়ে।তখন নেরগে ছিলেন তার চেয়ে মাত্র ১০০ মিটার নিচে। এভাবেই মানুষ প্রথম জয় করে এভারেস্টের মত অসম্ভব এক জগতকে।

এভারেস্ট জয় করার খবর পেয়ে তাদের সংবর্ধনা দেয়ার জন্য সূদূর লন্ডন থকে রানী ২য় এলিজাবেথ নেপালে এসে তাদেরকে বীর হিসাবে আখ্যায়িত করেন।আর নেপালের সবাইতো তেনজিংকে তাদের দেবতা হিসাবেই মানে।
তাদের এই জয়ের পরে থেমে আর থেমে থাকেনি জয়ের ধারা।সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২ শ’র বেশি পর্বতারোহী উঠেছেন এভারেস্টে।সেখানে আমাদের দেশকেও উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশের দামাল ছেলে মুসা ইব্রাহিম। ২০১০ এর ২৩ মে তিনি জয় করে ফিরেন এভারেস্ট।

http://www.sonarbangladesh.com/blog/MATHEMATICS/87124

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: