নাসীম হিযাজী : ইতিহাসের ঈগল পাখি

শ্রীমান প্রমথ চৌধুরীর নিরালা তপোবনীয় সাহিত্যের গুণবিচারে ‘কাগজে এ্যারেস্টেড’ যে খোল-নলচেসমৃদ্ধ সাহিত্যের পাত্তা পাওয়া যায়, তার মান্যতা নিয়ে ঈমানের অনীহা আছে। যখন সাহিত্যকে ঈমানের আতর দিয়ে খুশবুদার করার প্রত্যয় অনাদি, তখন এই কাগুজে সংজ্ঞা অস্বীকার করার গরজ থাকাটা আমাদের ফরজিয়্যাত। প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যে খেলা বা সাহিত্য নিয়ে খেলা কিংবা সাহিত্য দিয়ে খেলার ক্রিয়াকর্ম সম্পর্কিত যে প্রবন্ধ আমরা পাই সেখানে তিনি নিপাট আপ্লুত ভঙ্গিমায় বলেছেন- ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়’। কেবলই আনন্দ, শুধুই আনন্দ- সাহিত্যের কোন দায়ও নেই, দায়িত্বও নেই। সাহিত্যপাঠে পাঠক কাঁদবে, হাসবে, স্ফুর্তিতে উল্লসিত হবে- পাঠকের দায়িত্ব এটুকুনই। পাঠ শেষ, দায়িত্বের পাটও শেষ। দুঃখিত! প্রমথ চৌধুরীকে মানতে পারলাম না।

দৃশ্যপটে নিয়ে আসি বিদেশি এক লেখককে। নসীম হিযাজী। চেনা আছে সবার। পাকিস্তানি ঔপন্যাসিক। লিখেছেন উর্দুতে। ইতিহাসের বিষয়বস্তু তাঁর উপন্যাসের উপজীব্য। ইসলামের ইতিহাস, মুসলমানদের ইতিহাস; মুসলমানদের জয়-পরাজয়, উত্থান-পতনের ইতিহাস। ইতিহাসের ভেতর দিয়ে রচনা করেছেন উপন্যাসের দুরন্ত দ্যোতনা। উপন্যাসের পরতে পরতে খোঁজ দিয়েছেন ইতিহাসের নিখাদ আকরের। সে উপন্যাস পড়তে বসলে হাসতে হয়, কাঁদতে হয়, যাতনা হয়। ইতিহাসে আশ্রয় পাওয়া মানুষের ঘটনাপঞ্জি ভেতরে জন্ম দেয় ক্ষোভ, ঘৃনা, জাগৃতি। হাসসান, মাহবানু, নয়ীম, তাহির, সুফিয়া, বদর বিন মুগীরা, সালমান, মোয়াজ্জম আল, জিন- আরো যারা যারা ইতিহাসের স্রোতেলা সময়কে বেগবান করেছে হিযাজীর রচনায়, উপন্যাস পাঠশেষে তারা কেউ বিস্মৃত হয় না। হৃদয়ের অন্দরে জায়গা করে নেয় মর্জিমাফিক। সেখান থেকে বর্তমান আঁধারে আলো ছড়ায়, বর্তমান হতাশায় দেয় আশা জাগানিয়া আওয়াজ। কারণ তারা নসীম হিযাজীর সৃষ্টি। তাদের স্রষ্টা তাদের সৃষ্টিই করেছেন ইতিহাস হওয়ার জন্য। ইতিহাসের সলতে জ্বেলে ভবিষ্যত পথের দিশা দেয়ার তাগিদে। পাঠক এইসব ঐতিহাসিক চরিত্রকে ভোলে না। ভোলা যায় না। তারা সাহিত্যের ভেতর দিয়ে আবেদন করে নতুন বিপ্লবের। আর বিপ্লব কখনো অপসৃয়মান হয় না। তাই প্রমথ চৌধুরীর ‘শুধু আনন্দদাত্রী’ সাহিত্যদর্শন কালোত্তীর্ণ- এ কথা মানতে আমরা নারাজ। যেখানে হামেশা দেখে আসছি হিযাজীর ‘খাক আওর খুন’ পড়লে হৃদয় রক্তাক্ত হয়, সে রক্তক্ষরণ চলছে দিনকে দিন, রাতকে রাত; ‘আখেরী চাটান’ পড়ে অনুভূত ফুঁসে উঠার উন্মাদনা আজো মস্তিষ্কে নড়াচড়া করে, সেখানে কেমন করে বলি “আমাকে দু’দণ্ড আনন্দ দিয়েছিলো হিযাজীর একখানা বই”?
ইসলামের ইতিহাস ভিত্তি করে উপন্যাস রচনার কালজয়ী ঔপন্যাসিক নসীম হিযাজী অবিভক্ত ভারতের গুরুদাসপুরের সুজান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৯ মে ১৯১৪ সালে। ৪৭-এর দেশভাগের পর তিনি পাকিস্তানে হিজরত করেন।
লেখালেখি শুরু করেন ছাত্রাবস্থায়ই। শুরু থেকেই তিনি গতানুগতিক ধারার উর্ধ্বে উঠে নিজের লেখায় আলাদা একটি স্বয়ম্ভরতা আনার কোশেশ করতেন। বিংশ শতকের মুসলিম মানসে অতীত শতকের গৌরবজ্জ্বল বিজয়গাথা, দুনিয়াজোড়া মুসলিম শাসনের ইতিবৃত্ত ও পতনের অব্যাহত ধারা তুলে আনতেন সীমাহীন দরদে। তবে অন্য সবার মত করে নয়, তেজবান ও রোমান্টিক ধারায় তিনি তা তুলে ধরেন পাঠকের পঠনে। সমসাময়িককালীন অন্যান্য লেখক -বিশেষত ইবনে সুফি, সাদাত হাসান কিংবা শফিকুর রহমান প্রমুখদের সাথে তাঁর রচনার মৌলিক পার্থক্য এখানেই।
হিযাজীর আগে মাত্র দু’জন লেখকই উর্দুভাষায় ইতিহাসকে উপজীব্য করে উপন্যাসের মলাট লাগাতে সক্ষম হয়েছেন। আবদুল হালিম শারার লখনভি এবং সাদেক সারদানভি। কিন্তু উর্দূভাষী লেখকদের মাঝে নসীম হিযাজী যে কৃতিত্বের সাথে ইতিহাসের কালপঞ্জি গ্রন্থিত করেছেন তা অন্য কোনো কলমের পক্ষে সম্ভব হয়নি ইতোপূর্বে। অতি অভিনিবেশ সহযোগে তিনি ইতিহাসের পাঠোদ্ধার করেছেন, উপস্থাপন করেছেন যথাসম্ভব যর্থাথ প্রমাণালেখ্য সহযোগে, গল্পের প্লটে রং চড়িয়েছেন ঠিক যতোখানি না হলে যোজনায় ঢিল রয়ে যায় ঠিক ততোখানি।
হিযাজী তার প্রতিটি রচনায় সৃষ্টি করেছেন শক্তিশালী ভাববর্ণনা, যা ইতিহাস পাঠে সম্পূর্ণ নতুন ধারণা তৈরি করে। গল্পের কল্পিত চরিত্রগুলো পাঠকের মানসপটে এমন বাস্তবতার নিরীখে ঘূর্ণায়মান হতে থাকে, স্বয়ং হিযাজী নিজেই যেনো ইতিহাসের সেইসব অলিগলিতে সন্তরণ করে এসে বর্ণের গাঁথুনিতে ফুটিয়ে তুলছেন তা নিখুঁত ও নিপুণ দক্ষতায়।
এক্ষেত্রে হিযাজীর তুলনা চলে ওয়ালথার স্কটের সাথে, যিনি সুদীর্ঘ অতীতকে তুলে ধরেন রোমান্টিক আবহে। তবে ওয়ালথার স্কটের বর্ণনাভঙ্গিতে যতোটুকু রোমান্টিকতা পাওয়া যায়, ততোখানি পরিলক্ষিত হয় না ইতিহাসের নির্ভুল আবর্তন। কিংবা হ্যানরি রাইডার হ্যাগার্ডের ঐতিহাসিক উপন্যাসগুলোর উল্লেখ করা যেতে পারে। কিন্তু একই চরিত্র তার রচনার বেলায়ও ঘাটতি হয়ে দেখা যায়। হিযাজীর সফলতা এখানেই। তিনি তাঁর ইতিহাসের বিস্তৃত পাঠকে ছড়িয়ে দেন কল্পিতচরিত্রে, অথচ নির্ভুলভাবে। একইভাবে তাঁর রচনায় ঐতিহাসিক কাহিনী হয়ে উঠে জীবন্ত। বাজারে প্রচলিত আরো কাহিনীর ভিড়ে তা তৈরি করে নেয় আপন সত্ত্বা। সেটি একই সময়ে যেমন রোমান্টিক, তেমনিভাবে হয়ে উঠে প্রাণবন্ত ইতিহাসও। তাই দেখা যায়, নসীম হিযাজীর একটি উপন্যাস পড়ার পরে পাঠকের মনে আলোড়ন তুলে কেবল ইতিহাসটুকুই। চরিত্রগুলো হয়ে উঠে স্রেফ ইতিহাসের অনুঘটক। তখন বুঝা যায়, উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রদের এতক্ষণের কাজই ছিলো এই নিরেট ইতিহাসটিকে টেনে নিয়ে যাওয়া।
ইতিহাস বিচারের বেলায় নসীম হিযাজীর ছিল কঠোর মানদণ্ড। হিযাজী অত্যন্ত সর্তকতার সাথে সেইসব পৌরাণিক, আধা পৌরাণিক, লোককথা, কল্পিত কাহিনীসমূহ এড়িয়ে গেছেন, ইতিহাসে যার যথার্থ কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ৮ম শতকে মুসলিম জেনারেল মোহাম্মদ ইবনে কাসিম এবং সিন্ধু রাজা দাহিরের স্ত্রীকে নিয়ে যেসব সস্তা রোমান্টিক কাহিনী প্রচলিত আছে তা তিনি সযত্নে প্রত্যাখ্যান করেছেন। পারস্যের কায়সারদের নিয়ে যেসব লোককথা প্রচলিত রয়েছে ইতিহাসগ্রন্থসমূহে- সেসবও তিনি দেখেছেন জহুরীর নিবিড় দৃষ্টিতে।
নসীম হিযাজী মূলত কাজ করেছেন ইসলামী ইতিহাসকে ভিত্তি করে। তিনি চিত্রিত করেছেন ইতিহাসের চড়াই উতরাই, ইসলামী সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতনের কালক্রম। মোহাম্মদ বিন কাসিম, আখেরি মারাকা, কায়সার ও কিসরা এবং কাফেলায়ে হিজাজ প্রভৃতিগ্রন্থে ইসলামী সাম্রাজ্যের উত্থানের যুগে মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাব্যবস্থার পরিপূর্ণ চিত্র ফুটে উঠেছে। কীভাবে বিজয় কেতন উড়িয়ে মুসলিম বীর সেনানীরা ঋজু ভঙ্গিতে পায়ে মাড়িয়েছেন মরু, টপকে গেছেন পাহাড়, পাড়ি দিয়েছেন দরিয়া। তরবারীর ঝিলিক দিয়ে তৈরি করতেন বিজয়ের নতুন নতুন দাস্তান। সেই ঝিলিকের দ্যুতি যেনো আজো ঠিকরে বেরোয় যখন আমরা এসব বইয়ের মধ্যে ব্যাপ্ত হই।
তিনি যখন লিখেন ইউসুফ বিন তাশফিন, শাহিন, কালিসা আওর আগ এবং আন্ধিরি রাত কা মুসাফির তখন আমরা স্পেনে মুসলিম উত্থান-পতনের চালচিত্র অপলক নেত্রে প্রত্যক্ষ করি। সহসাই যেনো হয়ে যাই ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। কালিসা আওর আগ গ্রন্থে স্পেনে গৌরবময় মুসলিম শাসনের পরিসমাপ্তি ও একদা স্পেনের শাসক মুসলমানরা কীভাবে আপনসত্ত্বা হারিয়ে মুসলিম থেকে ‘মরিসকো’তে পরিণত হয়েছিলো তার বেদনাদায়ক ইতিহাস দেখতে পাই। কিন্তু লেখকের বর্ণনার শৈলী এমন যে, মনে হয় এটি কোনো জাতির পতন-কাহিনী নয় বরং এখানেই প্রোত্থিত আছে জেগে উঠবার, পুনরুদ্ধারের রসদ।
আখেরি চাটান গ্রন্থে মধ্য এশিয়ায় চেঙ্গিস খানের উত্থান ও খাওয়ারেজম সালতানাতের দুঃখজনক পরিণতি উঠে এসেছে। উপন্যাসের পুরো অবয়বে মঙ্গোলীয় বর্বর নেতা চেঙ্গিস খান কর্তৃক ইতিহাসের নজিরবিহীন সামরিক গণহত্যা, জালালুদ্দিন মোহাম্মদ খাওয়ারিজম শাহের অমর বীরত্বগাথা ও বাগদাদের অযোগ্য আব্বাসীয় খলিফাদের নিষ্ক্রিয়তা তুলে ধরেছেন নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গিতে।
নসীম হিযাজী উপনিবেশিক ভারতের ইতিহাস তুলে ধরেছেন দু’টি ক্রমিক উপন্যাসে। সেখানে তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতীয় জনতার ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো কীভাবে বৃটিশদের জায়গা করে দিয়েছিলো তা বর্ণনা করেছেন। ‘মোয়াজ্জম আলি’- যিনি পলাশীর যুদ্ধের আগে জন্মগ্রহন করেন। পরিণত বয়সে মোয়াজ্জম আলি নবাব সিরাজুদৌল্লার বাহিনীতে যোগ দেন বৃটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে সামরিক যুদ্ধে। কিন্তু একদল গাদ্দারের অশুভ তৎপরতায় বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হলে মোয়াজ্জম আলি ব্যাথাভরা হৃদয়ে দেশ-বিদেশে ঘুরতে থাকেন। খুঁজতে থাকেন তাঁর স্বপ্নের গৌরবময় আযাদ ভূমি। এসময় মোয়াজ্জম আলি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং অসম সাহস ও বীরত্বের সাথে এ যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আহমাদ শাহ আবদালির নজর কাড়লেও তিনি তাঁর সাথে থেকে যেতে অস্বীকৃত হন এবং শেষ পর্যন্ত হায়দর আলির স্বাধীন সালতানাত সেরিংগাপটমের পথ ধরেন। হায়দর আলির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বইটির পাঠ শেষ হয়। শেষ হয় না পাঠকের অপেক্ষা, আগ্রহ আর ইতিহাসের পথ পরিক্রমা।
‘আওর তলওয়ার টুট গেয়ি’ ইতিহাসের সে অমর আখ্যান, যা শুধু উপমহাদেশ নয়, গোটা দুনিয়ায় আযাদীর গৌরজ্জ্বল ও দ্বীপ্তিময় এক আলোকবর্তিকা। মোয়াজ্জম আলির স্বপ্নের স্বাধীন সালতানাত, আযাদীর লৌহ মানব হায়দর পুত্র সুলতান ফতেহ আলী টিপুর অপরাজেয় বীরত্ব, বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র উঠে এসেছে ইতিহাসের নাকারা বাজিয়ে। দেশীয় গাদ্দারদের অপতৎরতা এবং নিযামের বিশ্বাসঘাতকতার মাঝেও ফতেহ আলী টিপুর সেরিংগাপটমে আজাদির পতাকা উর্ধ্বে তুলে ধরার যে উপাখ্যান আমাদের মানসচক্ষে উদ্গত হয়- ইতিহাস সাক্ষী দেবে এই মরণবাজী রাখা উপাখ্যানই পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ বুনে গেছে। সেরিংগাটপমের মাটি ও মানুষের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য নিজের বুকের শেষ রক্তবিন্দু বিলিয়ে দেন খোদাদাদ সালতানাতের এ বুজুর্গ শাসক। তাঁর মহান শাহাদাতের মধ্য দিয়ে লেখক এ বইয়ের বেদনাবিধুর বর্ণনার ইতি টানেন।
পাকিস্তানের স্বাধীনতা নিয়ে হিযাজী লিখেছেন ‘খাক আওর খুন’। এতে তিনি খুনের দামে মাটি কেনার রক্তাক্ত উপাখ্যান চিত্রিত করেন। অনেকে বিশ্বাস করেন, এ কাহিনী তাঁর আত্মজৈবনিক।
নসীম হিযাজী আল্লামা মোহাম্মদ ইকবালের কবিতায় ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত হন। ইকবালের ভাবাদর্শ, ইসলামী অনুপ্রেরণা তাঁর মাঝে বিশেষভাবে কাজ করে। ইকবালের ‘খুদি’ উর্দুভাষার অসাধারণ গদ্য, যা তাকে দারুণ প্রভাবিত করে। ইকবালের ইসলামী চিন্তা মানসের পুনর্গঠন ভাবনা তার মাঝে আন্দোলিত হয়।
তিনি পাকিস্তানে ইসলামী ভাবাদর্শের অন্যতম তাত্ত্বিক ছিলেন। বিশেষ করে সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে তিনি মুসলিম সমাজে ইসলামী চেতনা জাগরণে সবিশেষ ও নির্ভীক ভূমিকা রাখেন। পাকিস্তানি শিক্ষিত তরুণ মহলে হিযাজী সেই ৫০ দশক থেকে অদ্যবধি একজন শক্তিমান, কীর্তিমান ও ইসলামি আদর্শের অনুপ্রেরণাদাতা হিসেবে স্থায়ী আসন গেড়ে আছেন। তাঁর লেখনী তাঁকে দিয়েছে অমরত্ব। মৃত্যুর পরও বিশ্বের বহুভাষী মানুষের নিকট তিনি হয়ে আছেন ইতিহাসের ইতিহাস।
নসীম হিযাজী বাংলাদেশে কতোটা জনপ্রিয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলা ভাষায় তাঁর প্রায় সব বই অনূদিত হয়েছে অনেক আগেই। এমন পাঠক খুব কমই পাওয়া যাবে যারা নসীম হিযাজীর একটি কিংবা দু’টি বই পড়েছে। কেননা তাঁর উপন্যাসের আকর্ষণ এমনই স্বার্থক যে, পাঠক একটি দু’টি বই পড়ে পাঠক্ষুধা নিবৃত্ত করতে পারে না। তাকে আবার আসতে হয় নতুন এক নসীম হিযাজীর খোঁজে। এমন অনেক পাঠক পাওয়া যাবে যাদের পাঠাভ্যাস গড়ে উঠেছে নসীম হিযাজীর কালোত্তীর্ণ কোন উপন্যাস দিয়ে। আবার এমন অনেক লেখকও পাওয়া যাবে যাদের লেখার অনুপ্রেরণায় আছে তাঁর ঐতিহাসিক চরিত্রের কোনো নায়ক নায়িকা।

১. খাক আওর খুন – উপন্যাস
২. ইউসুফ বিন তাশফিন – উপন্যাস
৩. আখেরি চাটান ১-২ উপন্যাস
৪. আখেরি মা’রাকা – উপন্যাস
৫. আন্ধেরি রাত কি মুসাফির – উপন্যাস
৬. আওর তলোয়ার টুট গেয়ি – উপন্যাস
৭. দাস্তান-ই-মুজাহিদ – উপন্যাস
৮. গুমসুদা কাফেলা – উপন্যাস
৯. ইনসান আওর দেবতা – উপন্যাস
১০. কালিসা আওর আগ – উপন্যাস
১১. মোয়াজ্জম আলী – ১-২, উপন্যাস
১২. মুহাম্মদ বিন কাসিম – উপন্যাস
১৩. পাকিস্তান সে দেয়ারে হেরেম তক – ভ্রমণ কাহিনী
১৪. পরদেশী দারাখত্ – উপন্যাস
১৫. পুরস কি হাতী – রম্য
১৬. কাফেলা-য়ে-হিযাজ – উপন্যাস
১৭. কায়সার ও কিসরা – উপন্যাস
১৮. সাকাফাত কি তালাশ – রম্য
১৯. শাহীন – ১-২ উপন্যাস
২০. সো সাল বাদ – রম্য
২১. সফেদ জাজীরাহ – রম্য।

সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

http://www.sonarbangladesh.com/blog/01911856333/84302

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: