সময়ের কথা

যদিও শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে ইতিহাস নিয়ে কথা বলবো, আসলে তা কিন্তু নয়। মূলত আমি সময় নিয়ে কথা বলবো। সময় নিয়ে তেমন ভাবে বলার কিছুও নেই, আমরা সকলেই জানি সময় হচ্ছে প্রবাহিত নদীর মত, বয়ে চলে যায়। সময়কে মাপার জন্য অনেকগুলি একক আমরা তৈরি করে রেখেছি যাদের সেকেন্ড-মিনিট-ঘন্টা ইত্যাদি ইত্যাদিতে প্রকাশ করা হয়। আজকের এই ক্ষুদ্র আলোচনায় আপনাদের সামনে সেইসব একককেই তুলে ধরতে যাচ্ছি। এগুলি হয়তো অনেকেরই জানা, কিন্তু গুটিকয়েক জনেরও যদি জানা না থাকে আর আমার এই লেখা থেকে তারা যদি তা জানতে পারেন তাতেই আমি খুশি। তাহলে শুরু করা যাক সময়ের এককগুলি জেনে নেয়ার এই চেষ্টা।

সিদ্ধান্তজ্যোতিষের (৩০০-১২০০খৃ:) সময়ে সময়কে অনেকগুলি বিভাগে ভাগ করা হতো। সেই বিভাগগুলি দেখার আগে আরও কিছু জিনিস আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। বাংলা চলচিত্রের একটি বিখ্যাত গান আছে –

“এক পলকে একটু দেখা
আরও একটু বেশি হলে ক্ষতি কি?”

আরও একটু বেশি হলে কোন ক্ষতি ছিল কিনা তা যারা ছবিটি দেখেছেন তারাই বলতে পারবেন, কিন্তু আমরা কজন জানি “১ পল” সমান-সমান কতটা সময়?

আমরা অহরহই বলি- “এক দণ্ড দাঁড়ানোর সময় নাই।”
এখন প্রশ্ন হচ্ছে “১ দণ্ড” বা “১ প্রহর” সমান-সমান কতটা সময়?

যারা জানেন তাদের অভিনন্দন আর যারা জানেন না তারা আজকের পর থেকে জেনে যাবেন। আমি যদি বলি “এক সূর্যোদয় থেকে আরেক সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়কে মোট ৬০টি দণ্ডে ভাগ করা হয়েছে” তাহলে দাঁড়ায়
২৪ ঘন্টা = ৬০ দণ্ড।
বা ১ ঘন্টা = (৬০÷২৪) দণ্ড বা ২.৫ দণ্ড
অতএব ২.৫ দণ্ড = ১ ঘন্টা
বা ২.৫ দণ্ড = ৬০ মিনিট
বা ১ দণ্ড = (৬০÷২.৫) মিনিট বা ২৪ মিনিট।
তাহলে দেখা যাচ্ছে ২৪ মিনিটে হয় ১ দণ্ড।

তাহলে উপরের হিসাব থেকে দেখতে পাচ্ছি যে কেউ যখন বলে “এক দণ্ড দাঁড়ানোর সময় নাই” তার অর্থ হচ্ছে উনি ২৪ মিনিট দাঁড়াতে পারবেন না।

আবার আমরা এটা বলে থাকি যে – “অষ্টপ্রহর ব্যস্ত থাকতে হয়।
এখানে জেনে রাখুন, ৮ প্রহর = ৬০ দণ্ড।
আর আমরা আগেই জেনেছি ৬০ দণ্ড = ১ দিবারাত্রি।
অর্থাৎ
৮ প্রহর = ২৪ ঘন্টা
বা ১ প্রহর = (২৪÷৮) ঘন্টা
বা ১ প্রহর = ৩ ঘন্টা।
তাহলে দেখতে পাচ্ছি ৩ ঘন্টায় হয় ১ প্রহর।

চোখের পলক ফেলার আগেই যদি কেউ হাওয়া হয়ে যায়, তাহলে তার হাওয়া হতে কত সময় লেগেছে বলতে পারবেন? চোখের পলক ফেলতে আমাদের হয়ত সেকেন্ডেরও কম সময় লাগে, কিন্তু জেনে রেখেন ১ পল সমান-সমান কিন্তু ২৪ সেকেন্ড। ২৪ সেকেন্ডে কেউ হাওয়া হয়ে যেতে পারে কিনা তার হিসাব এবার আপনারা করেন।

যাইহোক ইউরোপিয়ান রীতিতে আমরা জানি
১০০০০০০ নেনোসেকেন্ড = ১ মিলিসেকেন্ড।
১০০০ মিলিসেকেন্ড = ১ সেকেন্ড।
৬০ সেকেন্ড = ১ মিনিট।
৬০ মিনিট = ১ ঘন্টা।
২৪ ঘন্টা = ১ দিন। (দিবারাত্রি)
৭ দিন = ১ সপ্তাহ।
৩০ দিন = ১ মাস।
১২ মাস বা ৩৬৫ দিন = ১ বছর।
১০০ বছর = ১ শতাব্দী।
কিন্তু সত্যিকারের নক্ষত্রীয় সময়ে ৬০ সেকেন্ড = ১ মিনিট নয়, বরং ৫৯.৮৩৬১৭ সেকেন্ড = ১ মিনিট হয়।

আবার যদিও বলা হচ্ছে ৩০ দিনে এক মাস, আসলে বলা উচিত-
২৮, ২৯, ৩০ বা ৩১ দিনে এক মাস।
ফেব্রুয়ারি মাস হয় ২৮ দিনে, লিপইয়ারে আবার হয় ২৯ দিনে। আবার কিছু মাস হয় ৩০ বা ৩১ দিনেও

আমরা বলি ৩৬৫ দিনে ১ বছর, আসলে-তো ৩৫৬ বা ৩৬৬(লিপ ইয়ার) দিনে এক বছর হয়।

সময়ের প্যাঁচাল আজ এই পর্যন্তই রইলো, সকলে ভালো থাকবেন।

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: