মানব শিশুর ডিজিটাল বিবর্তন

‘মানব শিশুর ডিজিটাল বিবর্তন’ শিরোনামে একটা লেখা কম্পিউটারে কম্পোজ করতে নিয়ে কী এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা যে হল সেদিন– কী আর বলব! যতবারই টাইপ করতে যাই, নির্দিষ্ট একটা জায়গায় গিয়ে হঠাৎ ক্রাশ করে সিস্টেম!

লেখাটা দেখবেন? দেখুনঃ

আদি প্রজন্মঃ
এই প্রজন্মের শিশুরা ছিল আক্ষরিক অর্থেই ‘শিশু’, যাদের কিনা ‘নাক টিপলে দুধ পড়ে’। উদোম গায়ে এরা সারাদিন চষে বেড়াত পাড়া কে পাড়া, গ্রাম কে গ্রাম। এর গাছের ফল চুরি তো ওর সাইকেলের পাম্প ছেড়ে দিয়ে এরা পেত বিশ্বজয়ের আনন্দ। প্রাকৃতিক কর্ম সারতে আড়ালে যাওয়া এদের কাছে মনে হত আদিখ্যেতা। খেলনা হিসেবে ঘুড়ি-নাটাই কিংবা মাটির পুতুল-ই ছিল কাফী। এরা জাম্বুরাকে বানাত ফুটবল, গাছের পাতায় তৈরি করত বাঁশি। রহিম কি রহিমা, সালেহ্‌ কি সালেহা– বাঁদরামির ষোলকলা পুরণ করে, ধূলামাটিতে মাখামখি হয়ে দিনশেষে যখন বাড়ি ফিরত এরা, হঠাৎ দেখায় ভূত কিংবা পেত্নী ঠাওরে পিলে চমকাতো সবার। দিন-দুপুরে জনসমক্ষে দিগম্বর করে আপাদমস্তক সরিষার তেল মেখে এদের রোদে বসিয়ে দিতেন মায়েরা। মায়ের সাথে এরা ফষ্টিনষ্টি যা-ই করুক, বাবাকে ভয় পেত সাক্ষাৎ যমের মত। বাবা মুলি বাঁশ হাতে ধাওয়া করছেন আর দোপেয়ে বান্দরেরা “আম্মা গোওওওওও” বলে সবেগে ছুটছে– এটা এই প্রজন্মের অত্যন্ত পরিচিত একটা দৃশ্য। মানব জাতির বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া সম্পর্কে এদের ধারণা ছিল একেবারেই সোজা-সাপ্টা– আল্লাহর কাছে চাইতে হয়, ফেরেস্তা এসে দিয়ে যায়।

মধ্যম প্রজন্মঃ
এই প্রজন্মের শিশুরা অনেকটাই ‘কালচার্‌ড’। এরা টয়লেট ছাড়া যেখানে-সেখানে হাগু-মুতু তো করতই না, বরং টয়লেটেরও দরজা আটকে তারপর কাজ সারতো। টেলিভিশন নামক আজব যন্ত্রের ভোক্তা এরা। মাঠে-ঘাটে ছুটে বেড়ানোর চেয়ে টিভি সেটের সামনে বসে কার্টুন আর বিভিন্ন রকম সিরিয়াল দেখাটা এরা ভালো পেত। এর প্রভাবেই হোক কিংবা অন্য যেকোন কারণে, এই যুগ থেকেই এদের মাঝে লিঙ্গভেদের ব্যাপারটা কাজ করতে শুরু করে। নানা ক্ষেত্রে এরা বিপরীত লিঙ্গের মুখোমুখি যখন হত, দেখা যেত এদের মুখ-কান লাল হয়ে যাচ্ছে, নাক ঘামছে, কথা জড়িয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে আসল জায়গায় অবশ্য যথেষ্টই চাল্লু ছিল এরা। বেত হাতে বাবার ধাওয়া খেয়ে আর চোখ-কান বন্ধ করে ছুটত না এই প্রজন্মের শিশুরা, খানিকটা দৌড়ে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যেত। তখন দেখা যেত বাবাও দৌঁড় থামিয়ে দিয়ে বলছেন, “কিরে দৌঁড়াস না ক্যান্‌?”। মানবজাতির বংশবৃদ্ধিতে মা-বাবার যে খানিকটা হাত আছে, এটা শিশুরা বুঝতে শুরু করে এই প্রজন্মে এসেই। ‘ইঁচড়েপাকা’ বিশেষণটির ‘ব্যবহারিক’ প্রয়োগও এ সময় থেকেই শুরু হয়। এই প্রজন্মের শেষ দিকেই আবির্ভূত হয় চারচোখের শিশু।

আধুনিক প্রজন্মঃ
আমাদের বর্তমান এই প্রজন্মকে বলা হচ্ছে আধুনিক প্রজন্ম। এ যুগের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য, শতকরা ৯০ জন শিশুই চারচোখের অধিকারী। এরা কাঁধে আধমণি আটার বস্তার মত বিশাল একখানা বই-খাতা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। মাঠ-ঘাটে ছোটাছুটি দূরে থাকুক, এক চিলতে খোলা জায়গা খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর এদের জন্য। এরা ‘কম্পিউটার’ নামক নেশায় নেশাগ্রস্ত, এরা ‘ফেইসবুক ম্যানিয়া’য় আক্রান্ত। দৌঁড়ানি তো বহু দূর, সামান্য চোখ গরম করে তাকালেও এই শিশুরা তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে এসবের কুপ্রভাব নিয়ে জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা ঝেড়ে বসে। এদের মাতৃভাষা ‘বাংলিশ’। ‘মাল্টিমিডিয়া’ মোবাইল ফোন এ যুগের শিশুদের নিত্যদিনের সঙ্গী। সে মোবাইলে তারা কী করছে, কী দেখছে– অত কিছু ভাববার সময়-সুযোগ এ প্রজন্মের অভিভাবকদের হয় না। সবচেয়ে বড় বিষয়, মানবের বংশ বিস্তার প্রক্রিয়া সম্পর্কে এ প্রজন্মের শিশুরা পরিষ্কার ধারণা রাখে– সহজলভ্য বিভিন্ন রকম ভিডিও চিত্রের একদম জীবন্ত-চলমান দৃশ্যের সুবাদে।

অতি আধুনিক (Ultra Modern) বা অদূর ভবিষ্যৎ প্রজন্মঃ
ধারণা করা যায়, এই প্রজন্মের শিশুরা হবে ‘ক্ষেপণাস্ত্র’ প্রকৃতির। এরা—

[ট্যাঁট-ট্যাঁট-ট্যাঁট!!]

লেখাটার এ পর্যন্ত আসলেই সিস্টেম কেন জানি না ক্রাশ করছে বারবার!

মূল লেখার লিংক
http://www.sachalayatan.com/mounokuhor/40353

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: