ভারতে যে বইগুলো নিষিদ্ধ

গনতান্ত্রিক ভারতে যে বইগুলো নিষিদ্ধ

great_soul_cover

১.
Great Soul: Mahatma Gandhi and his struggle with India, written by Joseph Lelyveld
মহান আত্নাঃ মহাত্না গান্ধী ও ভারতে তার সংগ্রামী জীবন চলতি মাসেই প্রকাশিত গান্ধির নতুন জীবনী গ্রন্থ। নিউইয়র্ক টাইমের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক জোসেফ নেলিভেল্ড লিখিত বইটি গান্ধির জন্মস্থান গুজরাট সরকার নিষিদ্ধ করেছে সেটি বের হতে না হতেই। বইটিতে বলা হয়েছে, গান্ধীর সাথে এক জার্মান বডিবিল্ডারের সম্পর্ক ছিলো। যদিও নেলিভেল্ড তার বইতে গান্ধীকে অবৈধ সমকামী হিসেবে সরাসরি কিছু লিখেননি, তার পরেও ভারতের রাজনীতিবিদদের দাবী, বইটি অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে। করা হয়েছেও তাই।
jinnah-controversy.jpg

২.
Jinnah: India-Partition-Independence, written by Jaswant Singh
কায়েদে আজম জিন্নাহকে নিয়ে, জিন্নাহঃ ভারত-দেশভাগ ও স্বাধীনতা শীরোনামে বই লিখে মহা ফেসাদে পড়েন বিজেপির সাবেক নেতা জশবত সিং। পরে বিজেপি তাকে দল থেকেও বহিস্কার করে। নিউজ ইউক এই বইটিকে জিন্নাহর উপর লিখিত একটি ব্যালেন্সড (ভারসাম্যপুর্ণ) জীবনী গ্রন্থ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ২০০৯ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর পরেই বইটি সারা ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়।

22069472

৩.
Mother India, written by Katherine Mayo
আমেরিকান লেখিকা ক্যাথারিন মায়ো মাদার ইন্ডিয়া লিখেন সেই ১৯২৭ সালে। তখন বইটিতে ভারতীয়দের বাজেভাবে চিত্রিত করার অভিযোগ ঊঠে। বলা হয়, লেখিকা সেই বইয়ে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। স্ববং মহাত্না গান্ধী বইটির চরম বিরোধীতা করেন। সেই থেকে আজোও মাদার ইন্ডিয়া ভারতে নিষিদ্ধ।
MilitaryNineHoursToRama.jpg

৪.
Nine Hours to Ram by Stanley Wolpart
রামের দিকে নয় ঘন্টা নামক বইটি মুলত গান্ধীর আততায়ীর হাতে নিহিত হওয়ার শেষ দিন গুলো নিয়ে লিখিত একটি উপন্যাস, যা লিখেন প্রখ্যাত লেখক ষ্টেনলী ভোল্পার্ট। ১৯৬২ সালে ভারত সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে দেয়। সেটিতে দেখানো হয় হিন্ধু উগ্রবাদিরা কিভাবে গান্ধীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের ছক একেছিল। সাথে গান্ধীর নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের শৈথিল্যও তুলে ধরা হয়।
43d4828fd7a0d74bf57e0110.L._SL500_AA300_.jpg

৫.
The Ramayan: as told by Aubrey Menon, written by Aubrey Menon
রামায়নঃ আব্রী মেননের দৃষ্টিতে বইটি লিখেছিলেন আয়ারল্যান্ডে ভারতীয় বংশভুত রম্যলেখক আব্রী মেনন । তিনিই মুলত রামায়নের প্রথম নাট্যরুপ দেন। তার এই কাজে ক্ষেপে যায় ধর্মভিরু হিন্দুরা। জনগনের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার অভিযোগে তার বইটি নিষিদ্ধ করে দেয় ভারত সরকার সেই ১৯৫৬ সালে।
1571141.jpg

৬.
Ganesa: Lord of Obstacles, Lord of Beginnings, written by Paul Courtright
হিন্দুতের অন্যতম দেবতা গণেশের জন্ম, জীবন বৃত্তান্ত নিয়েই মুলত পল কটরাইটের এই লেখা । বইটিতে হিন্দু দেবতা গনেশের সাথে তার পিতাকে (শিবকে) কামাতুর বলে তুলে ধরার অভিযোগে হাজার হাজার হিন্দু ধর্মালম্বী লেখক ও বইয়ের প্রকাশকের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেন। ফলত ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দানের অভিযোগে ভারত সরকার সেটি নিষিদ্ধ করে ২০০১ সালে।
n68773.jpg

৭.
The Lotus and the Robot, written by Arthur Koestler
আর্থার কোষ্টলার ভারত ও জাপান ভ্রমন করে দি লোটাস এন্ড দি রোবট বইটি লিখেন ১৯৬০ সালে। বইটিতে তিনি ভারতের ভবিষ্যত নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। আর্থার এমনও বলেন, ভারতীয়রা গনতন্ত্রের উপযুক্ত নয়। ব্যস, এটুকুর জন্য বইটি নিষিদ্ধ করে দেয় ভারত সরকার, যা আজও নিষিদ্ধের তালিকায় আছে।
5018294546_deab76ea65.jpg

৮.
The Price of Power: Kissinger in the Nixon white House, written by Seymour M Hersh
প্রখ্যাত রাজনৈতিক ভাষ্যকার স্যামুর হার্স ক্ষমতার মুল্য শীর্ষক বইয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সময়কার ঘটনা বর্ননা করতে গিয়ে লিখেন, সেই সময় ভারতের প্রধান মন্ত্রী মেজরাজ দোশাই ছিলেন মুলত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর গুপ্তচর! খেপে গিয়ে মেজরাজ দোশাই লেখকের বিরুদ্ধে মামলা করেন, যদিও তিনি পরে মামলায় হেরে যান। তারপরেও বইটি নিষিদ্ধ করা হয় ভারতে।
51bgassivql

৯.
The Satanic Verses, written by Salman Rushdie
সালমান রুশদির সাটানিক ভার্শেস (শয়তানের পংতিমালা) নিষিদ্ধ কারী দেশগুলোর মধ্য ভারত প্রথম কাতারে ছিল। যদিও সেই সময় বই্টি নিষিদ্ধ করার পর ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের আচরনে অনেকেই আবাক হয়েছিলেন।
32049

১০.
Lady Chatterleys Lover, written by D. H. Lawrence
ল্যাডি চ্যাটার্লির প্রেমিকা বইটিতে ছিল মিসেস চ্যাটার্লির সাথে তারেই বাগানের মালির অবৈধ্য প্রেমলীলার রগ রগে বর্ননা। রক্ষনশীল ভারতীয় সমাজে এটা অশ্লীল বলে গন্য হতে পারে ভেবেই মুলত বইটি নিষিদ্ধ করা হয়।

http://www.sonarbangladesh.com/blog/actvisit/38416

2 Comments to “ভারতে যে বইগুলো নিষিদ্ধ”

  1. লেখাটা সুন্দর। কিন্তু একটা ব্যাপার অদ্ভুত লাগল। এই লেখাটার original লেখক (তুই যে এটা লেখস নাই তা আমি জানি) জিন্নাহ কে কয়েদে আযম সম্বোধন করসে, লেখক কি এখনও কয়েদী mentality ত্যাগ করতে পারে নাই?

  2. কায়েদ ই আযম অনেকটা আমাদের ‘জাতির পিতা’ বা তুরস্কের ‘আতাতুর্ক’ জাতীয় শব্দের সমার্থক। বিদেশি কেউ শেখ মুজিবুর রহমান কে ‘জাতির পিতা’ বা ‘বঙ্গবন্ধু’ বললে সেটা যেমন তাদের জন্য মর্যাদা হানিকর হয়, এটাও তেমনি।

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: