এদের চিনে রাখুন, একদিন এরাই আপনাদের ছিড়ে-খুঁড়ে খেয়েছিল (ষষ্ঠ পর্ব)

লর্ড ময়রা Lord Moira (1754-182)
lord_moira

এই সাহেব ভুমিষ্ঠ হন ১৭৫৪ তে। তিনি ১৮১৩ থেকে ১৮২৩ এই দশ বছর ধরে ছিলেন ভারতের বড়লাট। কলাকৌশল বা ছলনা করে গোর্খাজাতির মধ্যে ঢুকে তাদেরকেই আবার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেন তিনি। গোর্খারা ইংরেজদের হিংস্র থাবার আঘাতে পরাজিত হন মর্মান্তিকভাবে। ইংলণ্ড তাঁর প্রতি খুশী হয়ে তাঁর একটা নাম দিলেন মারক্যুইস অব হেস্টিংস [Murcuis of Hestings]। মোট কথা নেপাল যুদ্ধ, পিণ্ডারীদের নিষ্ঠুরভাবে দমন এবং মারাঠাযুদ্ধে মারাঠাদের সর্বনাশ সাধন করে ইংরেজ রাজত্ব কায়েম করার দিকে অনেকটাই সাহস জুগিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যু ঘটে ১৮২৬ খৃষ্টাব্দে।

স্যার ড্যাভিড অকটোরলোনি Sir David Ochterlony, 1st Baronet GCB (12 February 1758 – 15 July 1825)
220px-david_ochterlony

তিনি ছেলেন একজন বিখ্যাত সেনাপতি। লর্ড ওয়েলেসলীর সময় তিনি ছিলেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট কর্ণেল। ১৮০৪-এ তিনি পরাজিত করেছিলেন হোলকারকে। ১৮১৫ তে নেপালী সেনাপতি অমর সিংহকে পরাজিত করে সন্ধি করতে বাধ্য করেছিলেন তাঁকে। কলকাতার গড়ের মাঠে মনুমেন্টটি তাঁরই নামের সাক্ষী।
ochterlony-monument-18602527s

কলকাতার গড়ের মাঠে তাঁর মনুমেন্ট


জেমস মনরো James Monroe (April 28, 1758 – July 4, 1831)

james_monroe_by_john_vanderlyn_1816_-_dsc03228

ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশে তিনি খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব। তার কারণ তিনি একটি একতার রজ্জু বন্ধনের ব্যবস্থা করেছিলেন যেটির ক্ষ্যাতি আছে ‘মনরো ডকট্রিন’ বলে। ঐ ডকট্রিনের বলে ঠিক হয় যে ইউরোপ ও ইউরোপীয় জাতি, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কোন রাজ্য সম্পর্কে একে অপরের ব্যাপারে মাথা গলাবে না, কেউ কারও শোষণ-শাসনে বিশেষ করে মৌল স্বার্থে তুলবে না কোন বাধা বা আপত্তি। ফলে বৃটিশের শাসন-শোষণ ব্যাপারে ঐ প্রতিশ্রুত দেশগুলো শুধু নিরপেক্ষ থাকেনি বরং করে গেছে পূর্ণ সাহায্য ও সহযোগিতা। ঐ ‘মনরো ডকট্রিন’ সৃষ্টি হওয়ার ফলে ইংলন্ড তাদের পদানত দেশগুলিকে শাসন ও শোষণ করতে নানা দেশে অফিস, ঘাঁটি, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, মিউজিয়াম প্রভৃতি তৈরি করতে পেরেছিল সহজেই

উইলিয়াম পিট William Pitt the Younger (28 May 1759 – 23 January 1806)
olderpittthe_younger

তিনি ছলেন প্রচণ্ড বুদ্ধিমান ও প্রতিভাসম্পন্ন ব্যক্তি। ২৪ বছর বয়সে ইংলণ্ডের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনিই পরামর্শ দিয়েছিলেন ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির হাত হতে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে ইংলণ্ড প্রশাসনের হাতে নিয়ে আসার।

রিচার্ড ওয়েলেসলি মারকুইস Richard Colley Wesley, later Wellesley, 1st Marquess Wellesley KG, PC, PC (Ire) (20 June 1760 – 26 September 1842)

richard_colley_wellesley_marquess_wellesley_by_john_philip_davis_pope_davis

আমাদের দেশ যখন অভাব, অনটন, দুর্ভিক্ষে জর্জরিত হয়ে পড়ল তখন মিঃ ওয়েল্সলী ইংলন্ড সরকারকে অভয় দিলেন চিন্তার কারণ নেই। ভারতে সংকট যতই হোক কর আদায় অব্যাহত রাখা যাবে। ১৭৯৭-এ ওয়েলসলীকে করে দেওয়া হয় ভারতের গভর্নর জেনারেল। তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ইংলন্ড তথা সারা পৃথিবীকে হতবাক করে দেন- যেখানে কর আদায়কারীরা সে বাজারে ৭০লক্ষ টাকা আদায় করেছিলেন, সেখানে ওয়েলসলী আদার করালেন ১৫০ লক্ষ অর্থাৎ দেড়কোটি টাকা। শাসক শ্রেণী খুব খুশী হয়ে নানা পুরষ্কার তো দিয়েছিলেন-ই সেই সঙ্গে ‘লর্ড’ উপাধি পাওয়া অত্যাচারী শোষক ও শাসককে স্পেনের দূত হিসাবে পাঠানো হয় ১৮০৮ এ।
http://www.sonarbangladesh.com/blog/evileraser/36170

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: