শান্তশিষ্ট কোয়েলার কথা

কোয়েলাদের বলা হয় Marsupilas, ক্যাঙ্গারুদের মতো। অধিকাংশ মারসুপিলাসদের পাউচ থাকে। ক্যাঙ্গারুদের পেটে থলের মতো থাকে তাকেই পাউচ বলে। কোয়েলাদেরও পাউচ থাকে। এখানেই বাচ্চারা বড় হয়। একটি মা কোয়েলা সাধারণত একবার একটি বাচ্চা দেয়।

কোয়েলা বাচ্চাদের ‘যোয়ে’ বলে। সদ্য জন্ম নেয়া একটি ‘যোয়ে’ জেলিবিনের মতো ছোট থাকে। জন্মের সময় এদের চোখ থাকে না, গায়ে কোনো পশম থাকে না- থাকে হাল্কা একটি আবরণ, কানও থাকে না। জন্ম নেয়া মাত্র নিজে নিজে এই ক্ষুদ্র সৃষ্টি ‘যোয়ে’ মা কোয়েলার পাউচে চলে আসে। এখন প্রশ্ন জাগা খুবই স্বাভাবিক যে, এর চোখ নেই, কান নেই- এ পাউচে যাবে কি করে। ‘যোয়ে’ জন্ম নেয় দু’টো শক্তিশালী এবং পরিপূর্ণ ইন্দ্রীয় নিয়ে ঘ্রাণ এবং স্পর্শ এছাড়া তার সামনের পা এবং পায়ের পাতা এতটাই স্পর্শকাতর যে, সে বুঝে যায় কোন দিকে যেতে হবে- এভাবে সে পৌঁছে যায় পাউচে। এখানে সে নিরাপদের সাথে বসবাস করতে থাকে- সাত মাস ধরে সে এখানে বাস করে আর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।

‘যোয়ে’ মা কোয়েলার পাউচে ছয় মাস অতিবাহিত করার পর, মা কোয়েলা এক বিশেষ ধরনের জিনিস তৈরি করেন যার নাম ‘পেপ’। ‘যোয়ে’ দুর্বের সাথে ‘পেপ’ খাওয়া শুরু করে। এই খাবার তাকে শক্ত খাবার হজম করতে সহায়তা করবে। সাত মাস পর ‘যোয়ে’ পাউচ থেকে বেরিয়ে পড়ে, পাতা খেতে শুরু করে। এরা সাধারণত ইউকেলিপ্টাসের পাতা খায়। আবার ফির আসে মার কাছে, সেবা পাবার জন্য। এক বছর পূর্ণ হবার পর সে আত্মনির্ভরশীল হয়ে যায়।

অজানা তথ্যঃ কোয়েলা
>> কোয়েলার বৈজ্ঞানিক নাম Phascolarctos Cinercus|
>> ‘কোয়েলা’ শব্দটি সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ান এবোরেজিন (আদিবাসী) দের কাছ থেকে এসেছে যার অর্থ No Drink, যদিও কোয়েলারা পানি পান করে যখন দরকার।
>> কোয়েলা এবং অন্যান্য সারসুপিয়ালরা অস্ট্রেলিয়া এবং তার আশপাশের দ্বীপগুলোয় বাস করে।
>> কোয়েলরা বাঁশ বনে বাস করে, এখানে সবার নিজস্ব ঘর থাকে।
>> বর্তমানে কোয়েলা দেখা যায শুধুমাত্র পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায়। দক্ষিণের কোয়েলাদের ওজন ২০ থেকে ৩০ পাউন্ড আর উত্তরের গুলো ১৩ থেকে ১৬ পাউন্ড।
>> কোয়েলাদের শরীর মোটা ছাই রঙের পশমে আবৃত। বুকের দিকটা, হাতের নিচের দিক এবং কানের সামান্য অংশ সাদা পশম দিয়ে আবৃত থাকে।
>> এদের বড় বড় লোশম কান আর চামড়ার নাক থাকে।
>> কোয়েলাদের মোটা পশম তাদের গরম আর ঠাণ্ডার হাত থেকে রক্ষা করে। আবার বৃষ্টির সময় রেইনকোট হিসেবেও কাজ করে।
>> এরা সাধারণত ইউকেলিপ্টাসের পাতা খায়। তবে সব ধরনের ইউকেলিপ্টাস এরা খায় না। বিভিন্ন এলাকার কোয়েলা বিভিন্ন ইউকেলিপ্টাস খায়।
>> কোয়েলারা দিনের প্রায় ১৮ ঘণ্টাই ঘুমায় আর বিশ্রাম নেয়।
>> পাঁচ ভাগের চার ভাগ কোয়েলা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: