কবরীর একাল আর সেকালের মধ্যে পার্থক্য

উনিশ শতকের শুরুর দিকে একজন অভিনেতা বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। এখন সবাই আলোচিত হয়, কিন্তু তখনকার যে দুয়েকজন আলোচিত হতো তাদের মধ্যে ইনি বেশ আলোচিত ছিলেন। উনার নাম রবার্ট কোর্টস। এনার অভিনয় দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে লোকজন চলে আসতো। তিনি এমনই অভিনয় করতেন যে দর্শকরা তার সামান্য অভিনয় দেখার জন্যই এসে ভীড় জমাতো। তিনি খুব ভালো অভিনয় করতেন বলে এরা তাকে দেখতে আসতো ভাবলে ভুল করবেন। রবার্ট কোর্টস এতটাই বাজে অভিনয় করতো যে সেটা দেখতে দেখতেই লোকজনের আগ্রহ জন্মে গিয়েছিলো। একজন মানুষ কতটা বাজে অভিনয় করতে পারে তা নিয়ে অন্য অভিনেতাদের অভিনয় ক্ষমতার সাথে তুলনা করে দর্শকরা নিজেদের মধ্যে বাজিও ধরতো। রদ্দিমার্কা অভিনয় করেও কোটিপতি হয়ে যাবার মতো ঘটনা রবার্ট কোর্টস ছাড়া আর কেউ করে দেখাতে পারেনি। সে তুলনায় আমাদের অপু-বিশ্বাস কিংবা শাকিবখানরা এমন রদ্দিমার্কা অভিনয় করে না। কিন্তু তাদের দেখতে হল-ভাঙ্গে। কারন তাদেরকে জড়িয়ে থাকে হাজার খানেক কাটপিস,লক্ষাধিক স্ক্যান্ডাল। যার যতো স্ক্যান্ডাল তার ওজন তত বেশী। ব্যতিক্রম ছিলেন কবরীরা, স্ক্যান্ডাল না ঘটিয়েও দাপটে বেড়িয়েছেন এককালে।
ইদানিংকার ঢালিউডের নায়ক নায়িকাদের সাথে রাজনীতিকদের বেশ ভালো যোগাযোগ থাকে। ডিপজলরা তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই এই সখ্যতা গড়ে তুলছেন। অনেকেই বোধহয় জানেন না, নায়িকা অপু বিশ্বাসের উত্থান কাহিনী। তিনি কিভাবে চলচিত্রে এলেন এ খবর অনেকেরই অজানা। শাকিব খানের সাথে বিবাদের এক পর্যায়ে তিনি মিডিয়ার সামনে মুখ খুলেন-

opu+biswas.JPG
ছবি সূত্র- আমার দেশ
একদম শূন্য থেকে উপরে উঠার জন্য অপু বিশ্বাসের হয়ে সিড়ির কাজ করেছিলেন রাজনীতির বরপুত্র তারেক জিয়া। বগুড়ার সেই চিপা গলির অপু বিশ্বাসের পক্ষে এতোটুকু রাস্তা পাড়ি দিয়ে শাকিব খানের সাথে জুটি করার মুরোদ কোনদিনই ছিলো না। বগুড়া শহরের প্রতিটি দোকানদার, হকার, ছেলেপেলে অপু বিশ্বাসের ইতিহাস জানে। আমাকে যিনি জানিয়েছেন তিনি অপু বিশ্বাসেরই একধরনের লতায় পাতার আত্মীয়। সে তারেক জিয়ার হাত ধরে চলচিত্রে আসে। রাজনীতিকদের মিডিয়ায় ছড়ি ঘুরানোর কথা আজ নতুন নয়।
তারেক জিয়া কেন তাকে চলচিত্রে আসতে সাহায্য করলেন?
টাকা পয়সা খাইয়ে আসা সম্ভব ছিলো না অপু বিশ্বাসের। যতদূর জানি তিনি ছিলেন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তিনি সম্ভবত একই পদ্ধতি গ্রহন করেছিলেন চলচিত্র অঙ্গনের আসার জন্য তারেক জিয়ার সাথে, যা করেছিলেন ভালো ভালো বাজেটের মুভিগুলো বাগিয়ে নেওয়ার জন্য শাকিব খানের সাথে। কথাটা ওপেন সিক্রেট এফডিসির এগারো ফুট বাউন্ডারির ভিতরে এবং বাইরে।
কবরীর কথা বলি-
মিষ্টি মেয়ে কবরী ১৯৬৪ তে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ ছবির মাধ্যমে চলচিত্রে আসেন। তারপর তার পদাভারে কম্পিত হয় এফডিসি। এখন তিনি দাপটে বেড়ান রাজপথ। মুখের থুতু দিয়ে ভেজান ফতুল্লার রাস্তাঘাট। সিনেমার নায়কদের বাদ দিয়ে সন্ত্রাসী গডফাদারদের পটান। মিষ্টি মেয়ে থেকে তিনি ‘ডাইনি সম্রাজ্ঞীতে’ বিবর্তিত হয়েছেন।
কিছুদিন আগেই শুনলাম কবরী সারোয়ার নতুন মুভি পরিচালনা করতে যাচ্ছেন । ছবির নাম ‘রাজনীতি’। সেখানে কবরী তুলে ধরবেন সংসদের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সমাজের বেপরোয়া চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে তিনি কিভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। বাস্তবক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান দিয়ে লাভের গুড় খেতে পারে ক’জন, সেদিক থেকে কবরী সারোয়ার বুদ্ধিমান।

আসুন খুজে বের করি কবরীর একাল আর সেকালের মধ্যে পার্থক্য গুলো। একাল-সেকাল আকাশ পাতাল পার্থক্যঃ

কবরীর সেকাল কবরীর একাল
আলমগীর, কবরী আর বুলবুল আহমেদের মধ্যে ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী চলছে। বুলবুল ভালোবাসে কবরীকে, আলমগীরও ভঅলোবাসে কবরীকে। কবরীর ব্যাপারটা অবোধ্য। কাহিনীর একপর্যায়ে এসে বুলবুল আহমেদের হাতে খুন হন আলমগীর। কবরীর মা ভাবী জামাইকে রক্ষা করার জন্য নিজের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগান। বেচে যান বুলবুল।
মুভির নামঃ- দাগী আসামী [সম্ভবত]
কবরী পুত্র অঞ্জন,তার গার্লফ্রেন্ড এবং শিলু নামক একজনের সম্পর্কের জের ধরে খুন হয় শিলু। শিলু হত্যার মামলা নথিভুক্ত হয় ধানমন্ডী থানায়। অঞ্জন এই মামলার প্রধান আসামী। কিন্তু প্রভাবশালী অভিনেত্রী + নিয়মিত মন্ত্রীদের সাথে উঠবস করার সুবাদে মামলার কাগজপত্র দিন দশেক পরে তেলাপোকায় কেটে ফেলে।
মুভির নামঃ- কবরী কি জালওয়া।
আনোয়ার সাহেব বর্ষীয়ান রিকশাচালক। পোলাপানের মুখে খাবার তুলে দেবার জন্য এসে না খেয়ে রিকশা চালাচ্ছেন। রিকশাচালাতে চালাতে হঠাৎ অজ্ঞান…
অতঃপর রিকশার প্যাসেঞ্জার হিসেবে বসে থাকা কবরী তাকে তুলে নিয়ে হাসপাতালে গেলেন। নিজের শরীর থেকে রক্ত দিলেন [অজ্ঞান হইলে রক্ত দেওয়ার রেওয়াজ এখনো চালু আছে]।
নবম জাতীয় সংসদ চলাকালে, কবরী সংসদের লিফটম্যানকে আদেশ দেন অন্যলোকদের যেন লিফটে তোলা না হয়। লিফটম্যান চাননি অন্যদের অপেক্ষা করিয়ে রাখতে। তাই কবরীর আদেশ অমান্য করে অপেক্ষারত লোকজনদেরও তুলে নেন লিফটে, আর তারপরই কবরী বার সিক্কার চড় লাগিয়ে দেন লিফটম্যানের গালে।
বৃদ্ধ আনোয়ার সাহেবের কবরীর উদ্দেশ্যে প্রশ্নঃ ‘মা, কি শুনছি এসব তোমার নামে? তুমি নাকি আমার টাকায় একটা বৃদ্ধাশ্রম খুলেছ? এসব করে শুধু শুধু…. ‘
কবরীঃ- ‘বাবা, তুমি এসব ভুল শুনেছ।’
জাতীয় সংসদের স্পীকার কবরীর উদ্দেশ্যেঃ ‘কবরী, আপনি রুপালি জগতে হার্টথ্রব নায়িকা, কি শোনা যাচ্ছে এখন আপনার নামে পত্র পত্রিকায়?’
কবরীঃ মাননীয় স্পীকার, আপনি যা শুনেছেন বা দেখেছেন, তা আমার বিরুদ্ধে স্বার্থান্বেষী মহলের করা ষড়যন্ত্র।
জনসাধারন মতামত, ছবি দেখার পরঃ ‘মিষ্টি মেয়ে কবরী!!’ জনসাধারন মতামত, পত্রিকা পড়ার পরঃ ‘ক্যাডার রানী কবরী!!’
কবরীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ কলাকুশলি, সাংবাদিক, দর্শক সবাই। কবরী চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, সবার ভালোবাসায় আজকের কবরী সুপারস্টার কবরী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি বেঁচে আছি। কবরী বলেন আমার নামে পত্র পত্রিকায় যা লেখা হয় তা স্বার্থান্বেষি মহলের দ্বারা সাজানো নাটক এবং ষড়যন্ত্র। এসব ভাড়াটে সাংবাদিক আমার নামে মিথ্যে কথা লিখছে পত্র পত্রিকায়।
সাংবাদিক রাজ্জাক অকুতোভয় সাংবাদিক। রাজনীতির কালো অধ্যায় নিয়ে তিনি লেখালেখি করেন। সমাজের কীটদের মুখোশ খুলে দেন। আর তার এই সৎসাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে তার প্রেমে পড়ে যান কবরী সারোয়ার।
কাহিনীর পটভূমিতে পরিবর্তন আসে ক্রমশ। রাজ্জাক টাকা খেয়ে সন্ত্রাসীদের পক্ষে লেখালেখি শুরু করেন। কবরী তখন ডায়ালগ দেন, ‘তুমি টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছ। তোমার মতো অসৎ মানুষকে ভালোবাসা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’
নারায়নগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বাদল বলেন, সব সাংবাদিক ভালো নয়,আবার সব সাংবাদিকই খারাপ নয়। ভালো খারাপ মিলিয়েই আছে। তবে শীর্ষস্থানীয় পত্র পত্রিকায় যে খবর ছাপা হয়, তা যাচাই বাছাই না করে ছাপা হয় না।
তারপর তিনি কবরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখন যদি আমি পত্রিকায় গিয়ে লিখি, আপনি রমজান মাসে এতজন লোকের সামনে দুপুরবেলা পানি খেয়েছেন, তবে সেটাকি মিথ্যে হবে?
কবরী তখন তাকে চিৎকার চেচাঁমেচি করে গালাগাল করতে থাকেন সবার সামনে।
>ভুবনমোহিনী হাসির আর এক নাম কবরী। সাংসদ হয়ে জনগনের পাশে দাঁড়ানোর আকাঙ্খা তার দীর্ঘদিনের। :সূত্র: নারায়নগঞ্জ-৪ এর ত্রাসের অপর নাম কবরী। ক্যাডারদের পাশে দাড়িয়ে চাঁদার টাকা আদায় দেখার ইচ্ছা তার বেশ কদিনের। কারন তিনি সন্দেহ করছেন তার ক্যাডার বাহিনী আদায় করা চাঁদার টাকা মেরে দিচ্ছে। :সূত্র:
পুরোনো দিনের কথা নিয়ে রোমন্থন চলছিল। শাবানা, কবরী আর রাজ্জাক আড্ডায়। আড্ডার এক ফাঁকে শাবানা মিনিট দুয়েকের জন্য উঠে যান, আর এই ফাঁকে কবরী গিয়ে শাবানার চেয়ারটা দখল করে ফেলেন। তার চেয়ার অপেক্ষা শাবানার চেয়ারটা বেশী আরামদায়ক ছিলো। শাবানা ফিরে এলো কবরী স্বভাবসুলভ মিষ্টি হাসি দিয়ে বলেন, ‘আপনারটা তো দখল করে নিলাম ভাই।’
সূত্র: মাসিক ম্যাগাজিন চিত্রজগৎ।
কবরী তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লার শিল্পাঞ্চলের ঝুট ও তেল সেক্টর দখল করে নেন কবরী। তার সহযোগী ক্যাডার বাহিনীর সহযোগীতায় নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য বিক্রেতা বহুমুখী সমবায় সমিতির অফিস ক্যাডার বাহিনীর মহড়া ও হামলা চালিয়ে দখল করে নেন। এসময় তার সাথে শীর্ষসন্ত্রাসী সেন্টু।
খবরে প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি বলেন, ‘ এগুলো মিথ্যে ষড়যন্ত্র।’
১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্ত তার ‘সুতরাং’ ছবির মাধ্যমে এক শিশুশিল্পীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন দেশের সবাইকে। সেই শিশুশিল্পী তার পর থেকে টানা ত্রিশ বছর আগ্রাসী হয়ে ভালোবাসা কেড়ে নিয়েছে সবার কাছ থেকে। তার প্রতিদানও তিনি দিচ্ছেন অকুন্ঠ ভাবে। সন্ত্রাস মাতা হাসিনা খোলা ময়দানে হাজার হাজার লোকজনের সামনে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন আরেকজন ক্যাডারমাতাকে।
dishari2011011012946376.jpg
রাতের বেলায় একাকী বাড়িতে ফিরছিলেন কবরী। এসময় কিছু দুবৃত্ত তাকে আক্রমন করে। বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে করতে তিনি পালাতে থাকেন। কিন্তু কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে না আসায় তিনি আল্লার নাম বলে নিজেই ঘুরে দাড়ান। পাশ থেকে ঝাড়ু তুলে নিয়ে সবাইকে ঝাঁটাপেটা করে টিট্ করে দেন। মধ্য ধর্মগঞ্জ এলাকায় গোয়ালপাড়া খাল খনন কাজ উদ্বোধনের সময় ক্যাডারমাতা কবরী ‘দৈনিক শীতলক্ষা’ পত্রিকার ফটোসাংবাদিক শহিদুল আলম সেন্টুকে জনসমক্ষে চড় মারেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ঐ পত্রিকা কবরীরর বিরুদ্ধে লেখালেখি করছে।
কবরীর আর আলমগীর এর ছেলেরা মারামারি করছে, ছেলে দুইটা জানে না যে- তারা দুইজন ভাই। কাহিনী শেষের দিকে প্যাথেটিক রূপ নেয়। dishari2011010512942069.jpg
না’গঞ্জে এমপি কবরী ও শ্রমিক লীগের পলাশ গ্রুপের সংঘর্ষ : আহত ১০ সড়ক অবরোধ গাড়ি ভাংচুর
কবরী সারোয়ার চিত্রজগৎ পত্রিকায় বেশ কিছু সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। একজায়গায় তিনি তার দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলছেন, এত ভালোবাসা যেন দর্শক তাকে কখনো না বাসে, কেননা তিনি এত ভালোবাসার ভার বহন করতে পারবেন না। তখন সাংবাদিক তাকে বলেন, আমি কি দর্শকদের অনুরোধ করবো আপনাকে যাতে একটু কম কম ভালোবাসে?
তখন কবরী হাসতে হাসতে বলেন, ‘না না, সেটা লেখার দরকার নেই।’
কবরী লিফলেট ছাড়েন তার পোষা সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে- ‘নারায়গঞ্জবাসীর প্রতি আমার কিছু কথা‘, সেখানে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি বিষেদাগার করেন। কিন্তু পত্রিকায় এ লিফলেট হুবুহু তুলে ধরা হলে আর এর মিথ্যাচার নিয়ে লেখা হলে দান উল্টে যায়। লোকজন বুঝে যায় এটা কবরীর চাল। তখন কবরীও দান পাল্টে বলেন, এটা আমি প্রকাশ করিনি। আমার প্রতিপক্ষ, যারা সাংবাদিকদের টাকা খাইয়ে বশ করেছে, তারাই টাকা দিয়ে এটা ছেপেছে।
উজ্জ্বল কোন এক ছবিতে কবরীর পার্সোনাল সেক্রেটারী থাকে। কবরীর হয়ে কবরীর সকল অফিশিয়াল কাজকর্ম দেখাশোনা করত। কবরী তার উপর খুবই নির্ভরশীল ছিলো। ছবির এক পর্যায়ে উজ্জ্বল চাকরী ছেড়ে চলে গেলে, কবরী বিশাল কাজকর্ম নিয়ে অকুল পাথারে পড়ে যায়। নারায়নগঞ্জের সিরাজুল আলম সেন্টু হলো কবরীর পিএস। সেন্টু কবরীর হয়ে পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জমিতে ভাড়া দেওয়া ইট,বালু, সিমেন্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে। সেন্টু না থাকলে কবরী বেশ সমস্যা পড়ে যেতেন, এতগুলো দোকানের চাঁদা কলেক্ট করতে গিয়ে।
নায়ক রাজ্জাকের সাথেই কবরীর জুটিটা বেশী ছিলো, তাই তার কোন ছবির কথা কল্পনা করতে গেলেই কেবলই মনে আসে কবরী-রাজ্জাক জুটির কথা। ছবির নাম মনে আসছে না, তবে নায়ক ছিলো সে ছবিতে সাংবাদিক সত্যের পক্ষে কলম তো ধরেছিলোই, রাস্তায় দাড়িয়ে কবরীকে উত্যক্ত করার সময় তাদের পিটিয়ে হাড় মাংস এক করেছিলো।
[মনে করতে পারছি না]
তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা কলম তুলে ধরলে তিনি সহ্য করতে পারেন না। উগ্র রক্ষনশীলেরা নানা রকম বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে অন্যদের বিভ্রান্তকরে প্রতিরোধ করেন। মিষ্টি মেয়ে কবরী তার ধার কাছ দিয়ে যান না। তিনি সাংবাদিক পিটিয়ে পেশীর শ্রাদ্ধ করেন। স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক তার হাতে নির্যাতিত হয়েছে নানাবিধ চাপের মধ্যে থাকছে। বিরুদ্ধতা কবরী একেবারেই সহ্য করতে পারে না। আর তাইতো স্থানীয় পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে খবর ছাপা হলে তিনি সেই সাংবাদিককে চড়িয়ে থাপড়িয়ে একশেষ করেন।
“তোদের পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে লেখিস, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিস তোরা।” এই বলে ফটোসাংবাদিক শহীদুল আলম সেন্টুকে তিনি চড় থাপ্পড় মারেন।
74050_127853723934941_100001309434517_138949_2928991_n.jpg 16823314561708549215610.jpg
বড় করে দেখতে

অনুকরন আমরা নানাভাবে একে অন্যকে করে থাকি, কেউ কারও হাঁটার অনুকরন করি, কারও কথা বলার ভঙ্গিমার অনুকরন করি। অনুকরনের তালিকায় সেলিব্রেটি অভিনেতা অভিনেত্রীরা, থাকে রাজনীতিবিদরাও। লুৎফর জামান বাবরের ড্রেসআপ পছন্দ হতো আমার। উনার হেয়ার জেলের কালেকশন দেখে ভাবছিলাম উনি বোধহয় গোফে জেল দেন, আমি নিজেও কয়েকদিন তাকে অনুকরন করে দাড়িতে জেল মেরেছি। অনুকরনপ্রিয়তার কারনেই পল্টন সুইমিংপুলে আজম খানের পাশাপাশি দাড়িয়ে হাজার বার তার অনুকরনে নির্লিপ্ত থাকার প্রাকটিস করতাম। আজম খানের দেখাদেখি পানাসক্ত হয়ে গিয়েছিল আমাদের দেশের প্রচুর যুবক-কারনটা সম্ভবত একই। বাংলাদেশের হাজার হাজার কবরীভক্ত মেয়েরা চুল বাধত কবরীর মতো করে, হাসতো কবরীর ভঙ্গিমায়। অনুকরনীয় হয়েছিলো কবরী নিজস্ব দক্ষতার দাবীতে।

http://www.nagorikblog.com/node/3673

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: