আর্কাডিয়ান পেইন্টিং – ০১

প্রথমেই আর্কাডিয়ান কিছু পেইন্টিং এর সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেই-
এইখানে বেশ কিছু ছবি পাবেন আর্কিডিয়ান পেইন্টিং এর উপর- http://www.willemswebs.com/ringlingdocents/pages/Gallery17.pdf। এছাড়াও গুগল ইমেজে সার্চ দিলে আরো হাজার খানেক আর্কিডিয়ান পেইন্টিং দেখতে পাবেন। এখানে কেবল দুটি দিলাম।

প্রথমটি-
39499rubensjudgmentofpa.jpg
দ্যা জাজমেন্ট ডে অভ প্যারিস

713pxetinarcadiaego.jpg
Et in Arcadia ego
গুর্য়েসিনোর আঁকা আনুমানিক ১৬১৮-১৬২২ এর সময়কার চিত্রকর্ম এটি। এর ডাইমেনশন ৮১সেমি X ৯১ সেমি।

এই পেইন্টিং গুলোকে নিয়ে প্রথম পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় এক সাথে "The Holy Blood and the Holy Grail" বইতে, সেটা প্রায় ১৯৮২ সালের ঘটনা। বইয়টি প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে প্রায় সকল মহলে বইগুলো আলোচনার টেবিলে হটকেক হয়ে যায়। বইটিতে চমকে যাবার মতো বেশ কিছু ছবি এবং সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষ নিরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। যার প্রায় অনেকগুলো ছবিই আমি পোস্টে দিয়ে দিয়েছি। এই ব্যাপারে প্রায় সবার মতের মধ্যেই মিল লক্ষ্য করা যায় যে, অনেকেই বিশ্বাস করে থাকে এই পেইন্টিং গুলোর মধ্যে কোন কোড, কোন তথ্য বা কোন বিশেষ কিছু মেসেজ লুকিয়ে রাখা হয়েছে। মানুষের আগ্রহ উদ্দীপিত করে এরকম কোন বস্তু বা নৃতাত্বিক বস্তু বা সম্ভবত কোন গুপ্তধনের নকশা দিয়ে দেওয়া হয়েছে এই পেইন্টিং এর আড়ালে এমনটাও দাবী উঠেছে একসময়। সবচেয়ে যে ধারনাটা কাঠামোপ্রাপ্ত হয়েছে তা হলো এই ছবিগুলো পেন্টাগোনাল বা পঞ্চভূজীয় জ্যামিতির উপর নির্ভর করে আঁকা, যা আসলে নির্দেশ করছে ফ্রান্সের দক্ষিন দিকের কোন অংশের কথা, যদিও এই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে কোন গবেষকই স্পষ্ট কোন তত্ব দাড় করাতে পারেন না তাদের পক্ষে। সেহেতু আমরা বলতেই পারি এটা কেবল একটা ধারনা মাত্র। এ ব্যাপারে আগ্রহ থাকলে গ্যারি অসবর্নের এই ব্যাপারে সমৃদ্ধ বেশ কয়েকটি গবেষনা প্রবন্ধ রয়েছে- সেগুলো পড়ে দেখতে পারেন। গ্যারি অসবর্নের বইটা লেখা হয়েছিল সম্ভবত ২০০৬ সালে। বইটির ডাউনলোড লিংক পেলে আমি পোস্টের নিচে দিয়ে দেবার চেষ্টা করবো।

ঠিক একই ভাবে ডান ব্রাউনের "দ্য ডি ভিঞ্চি কোড" কোড নিয়ে ফিকশনাল ওয়ার্ক এর অনেক কথাই উঠে এসেছে এই দ্য হলি ব্লাড এবং দ্য হলি গ্রেইল বইটিতে। কিন্তু বইতে যে যিশু খ্রিস্ট এবং হলি গ্রেইল সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা অনেকটাই আসলে আদতে সেরকম নয় বলেও সেটা নিয়ে বিস্তর সমালোচনার তীর ছোড়াছুড়ি হয়েছে। যেহেতু ডান ব্রাউনের কাজ সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা নেই, কিন্তু আর্কাডিয়ান পেইন্টিং নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে তথ্যটা আকর্ষনীয় মনে হলো। আকর্ষনীয় মনে হলো এই কারনে যে, আর্কাডিয়ান পেইন্টিং গুলো কিছু প্রাসঙ্গিক সুসঙ্গত তথ্য ধারন করে থাকে তার রঙতুলিতে তোলা ছবিগুলোর মধ্যে, যা একটু ভালো করে খুটিয়ে বের করা সম্ভব না, রীতিমত পর্যবেক্ষকের দৃষ্টি সরিয়ে গানিতিক দৃষ্টিতে নিয়ে ব্যবচ্ছেদ করলে তবে এর অস্তিত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া যায়।
এখানে অসবর্নের লেখাকে পুজি করেই বলি, অসর্বন ধারনা করেছেন এই পেইন্টিংগুলোতে বেশ কিছু সিম্বলিক ইনফরমেশন দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেগুলো দেখে তিনি ধারনা করেছেন এই ছবিগুলোতে আসলেই কোন এনসিয়েন্ট কোড দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো সম্ভবত বাইবেল সম্বন্ধনীয় কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কোন মেসেজ। প্রায় একই ধরনের কোড এমবেড করা আছে গিজার [Giza] মুনমেন্টের কাছে, যা দেখে বোঝা যায় সেগুলো বোঝাতে চাচ্ছে পৃথিবীর ঘূর্ণনগতির কথা- যেখানে পৃথিবীর তার নিজ অক্ষের উপর দিয়ে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় ক্রমে সূর্যের বিষুবরেখা অতিক্রমের সময় প্রতিবছর যে একটু একটু করে এগিয়ে আসে তার কথা। কিছু আধুনিক গবেষক এই ধরনের কোড বা মেসেজকে বলে থাকেন এই গিজা হলো গিয়ে একটি প্রিসেশনাল ক্লক, যাকে আমরা বাংলায় বলতে পারি অয়নচলিত ঘড়ি। এই প্রিসেশনাল ক্লক তার অক্ষের উপর দিয়ে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় সূর্য্যের বিষুবরেখা অতিক্রমের সময় এর অবনতি ঘটে প্রায় ২৩.৫ ডিগ্রী যা বিভিন্ন বইতে উল্লেখ করা থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর অবনতি ঘটে এক্জাক্টলি ২৩.৪৩ ডিগ্রী। এই আধুনিক গবেষকদের মধ্যে রর্বাট ব্যাভাল এবং স্কট ক্রেইগটনের কথা বলা যেতে পারে। স্কট তার ২০০৬ সালে লেখা "দ্যা গিজা ওরাকল" বইতে বলেছেন, গিজা আসলে একটা প্রিসেশনাল ক্লক- যেটা উপরে আগেই উল্লেখ করেছি।
স্কট বিশ্বাস করতেন যে, একটা প্রাকৃতিক বিপর্যয়- খুব বড় ধরনের একটা দুর্যোগ হয়ে গিয়েছে আজ থেকে প্রায় ১৩,০০০ হাজার বছর পূর্বে আর গিজার পিরামিড এবং অন্যান্য স্থাপনাগুলো যেগুলো পৃথিবীর চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইতস্তত সেই সময়কার, সেগুলো প্রধানত বানানো হয়েছে সেই সময়কার ঘটনাবলির সাইন্টিফিক তথ্যগুলো সংরক্ষন করে রাখা, যা বর্তমান সময়কে জানাবে তার পূর্ববর্তীদের কথা- যাতে করে আমরা একটা ধারনা পেতে পারি, যারা সবসময়ই দাবী করে আসছি পৃথিবী এখন একটা পারফেক্ট কন্ডিশনে আছে ঠিক যেমনটা ছিলো তার পূর্বকার সময়ে। এখানে বলে রাখা ভাল একমাত্র স্কটই এই ধরনের ধারনা পোষন করে থাকেন তা নয়, এরকম আরো অনেকেই এই ধরনের ধারনা করে থাকেন এই মাউন্টেন গুলো অবস্থানের কারনগুলো চিন্তা করতে গিয়ে, আমার পোস্টে স্কট কেবল মাত্র তাদের একজন প্রতিনিধি।
প্রথম ছবি যেটা উল্লেখ করছি এখানে সেটা বিভ্রান্তিকর প্রকাশভঙ্গির কারনে এই পেইন্টিং এর অর্ন্তনিহিত তথ্য তেমন কিছু উদ্ধার করা যায় না। এই ET IN ARCADIA EGO টি একেঁছেনে গুয়ের্সিনো, পুরো নাম Giovanni Francesco Barbieri Guerchin (১৫৯১-১৬৬৬), তিনি একজন একজন ইটালিয়ান বারোক পিরিয়ড পেইন্টার। বারোক মানে হলো ইউরোপের কিছু অলঙ্কারবহুল (বিশেষত স্থাপত্যে) অতিরঞ্জনমূলক শিল্পরীতি। তিনি এই ছবিটি একেছিলেন আনুমানিক ১৬১৮ থেকে ১৬২২ এর মধ্যে কোন এক সময়ে। নিচে ছবিটি দিয়ে দিলাম।
713pxetinarcadiaego.jpg

উপরের ছবিতে দুই মেষপালককে দেখা যাচ্ছে। একজনকে দেখা যাচ্ছে পরিপাটি করে শেভ করা, তার গায়ে একটা সাদা জামা আর ছবিতে যে আরেকজনকে দেখা যাচ্ছে তার গালে বেশ বড় দাড়ি, এবং তার গায়ে একটা উৎকট রকমের লাল জামা। আমরা এই দুজনকে সিম্বলিকভাবে লাল এবং সাদা বলে চিহ্নিত করতে পারি। নিচে এই ছবির কিছু লক্ষ্যনীয় বিষয় তুলে ধরছি।

লাল, সাদা এবং কালো
প্লেটো আটলান্টিস সম্বন্ধে বর্ণনা দিতে গিয়ে বলছিলেন, এটাকে বলা হতো পাথরের খনি। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে তার আগের অবস্থা এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নাই। প্লেটো তার বর্ননায় আরো বিশদ ভাবে বলছিলেন তিনটা পাথর সম্বন্ধে। এর মধ্যে একটা ছিলো সাদা, একটা ছিলো দেখতে লাল এবং অন্যটা ছিলো দেখতে কালো রঙের। পাহারের পাদদেশে ছিলো আরো ঠিক একই রঙের নানা আকৃতির বহুমূল্য মার্বেল পাথর। আটলান্টিয়ান স্থাপনাগুলোতে সাধারনত এই তিন ধরনের, তিন রঙের পাথর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সেখানকার বাড়ী ঘর নির্মানে এই তিন রঙের মার্বেল – কালো, সাদা এবং লালের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়।
এখানে বর্ণগুলো অর্থবোধক এবং Yin এবং yang দ্বারা লাল এবং সাদাকে যথাক্রমে পজিটিভ এবং নেগেটিভ অপোজিশন দুটোই বোঝায়। এর আরো অন্য অর্থও থাকতে পারে। যেমন লাল দ্বারা পুরুষ এবং সাদা দ্বারা নারী ইত্যাদি। এখানে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সাদা এবং লাল দুই বিপরীত নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে কিন্তু অপর বর্ন কালোর অর্থ খুজে বের করাটা বেশ কষ্টকর। এটা অনেক দুর্বোধ্য এবং অবোধ্যও বটে। এই কালোর নির্দেশক খুজতে গিয়ে বেশ কিছু ধারনা আমদানী করা হয়। এর মধ্যে একটি হলো, কালো মূলত সাদা-লাল দুই বিপরীতক্রমের মাঝে অবস্থান করে তাদের বৈপরীত্যকে নিউট্রাল করার চেষ্টা করতে থাকে। আবার অন্য আরো অনেক ধারনা প্রচলিত আছে। তবে এখানে আটলান্টিসের ব্যাপারটা অমিমাংসিত।
হিন্দু সৃষ্টিতত্বে, ভগবান শিবার গায়ের রং লাল। আবার বিষ্ণু ও কৃষ্ণার গায়ের রং যথাক্রমে নীল এবং কালো। ব্রক্ষ্মার রং সাদা। এই রংগুলো তেমন কিছু নির্দেশ করে না আবার অর্নিদিষ্ট করে বুঝিয়ে দেয় আমরা যেখান থেকে জ্ঞান পাই না কেন, সিস্টেম অফ নলেজ সবক্ষেত্রে একই। হিন্দু মিথে "Manidvipa" তে উল্লেখ করা হয় রূপক প্রতিবস্তুপমায় বন্যার কথা যার কারনে আটলান্টিস ধ্বংসের সেই বন্যার কথা [উইকিপিডিয়া অথবা গ্রেট আটলান্টিস ফ্লাড
এই দুটি দেখুন] যার কবল থেকে বেঁচে গিয়েছিল কেবল তিনটি প্রজাতি – রেড, ব্ল্যাক এবং হোয়াইট। তারা বেঁচে গিয়েছিল এক বিশেষ আধারের আড়ালে।
Atlantis_map_1882_crop.jpg

এই মানচিত্রটি ১৮৮২ সালের আটলান্টিসের। আটলান্টিয়ান সাম্রাজ্যের কিছু অংশ। দ্য এন্টিডিলুভিয়ান ওয়ার্ল্ড।
হিন্দু দেবতাদের তিন প্রতিকৃতি নোআর তিন পুত্রের সদৃশ ও সঙ্গতিপূর্ণ, এদের তিন ভিন্ন ভিন্ন বর্ণও নির্দেশ করে মানবজাতির তিন ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির কথা।
কেউ কেউ বলে থাকেন উপরের মানচিত্রে নির্দেশিত আটলান্টিস প্রাচীন ইজিপ্টের অন্তর্গত। একে আবার ভাগ করা হয়েছে দুইটি অংশে। প্রথমটি হলো ইজিপ্টের দক্ষিন ভাগের অংশ। একে আপার ইজিপ্টও বলা হয়। একে সাদা অংশ দ্বারাই সাধারনত নির্দেশ করা হয়ে থাকে। আর দ্বিতীয় অংশটি হলো ইজিপ্টের উত্তর ভাগের লোয়ার অংশ। এটি নির্দেশিত হয় লাল বর্ণ দ্বারা। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন নীল এবং নীলের আশে পাশে যে মাটি- তা ছিলো কালো। তৎকালে প্রাচীন ইজিপ্টে যতদূর সম্ভব তার নাম যা উদ্ধার করা যায় তা হলো "Khem"- এর নামের অর্থ হলো কালো।
256px-Nile-en.svg.png

নীল অধিনস্থ দুইটি প্রশাখার নাম যথাক্রমে হোয়াইট নীল এবং ব্লু নীল। উত্তর আফ্রিকার উপর বহমান এই নদীর উত্তর অংশ বয়ে গেছে সুদানের উপর দিয়ে। এর উত্তর অংশ মরু অঞ্চল অতিক্রম করে সুদান থেকে চলে গেছে প্রাচীন ইজিপ্টের দিকে মেডিটারিয়ান সাগরের বেশ দূর দিয়ে।
যাই হোক উপরের ছবির প্রসঙ্গে আবার ফেরত যাই। বিভাজনসূত্রের নীতিতে পৃথিবীর কন্ডিশন একটা ইমব্যালেন্স পর্যায়ে আটকে আছে। আমাদের সচেতনতায় যার চিত্র আমরা অনুধাবন করি বিপরীত রীতিতে। গুর্য়েসিনোর এই পেইন্টিং এ [একটু উপরের
দিকে] দুই মেষপালক রাখালের ছবিতে আমরা দেখতে পাই মেষপালক দুটি তাকিয়ে আছে পোকা আর মাছির দিকে, একটা বেদীর উপর রাখা মাথার খুলির দিকে। পতঙ্গময় পরিবেশে মাথার খুলিটা রাখার হয়েছে পেডেস্টালের উপরে যেখানে ঠিক তার নিচেই খোদাই করে রাখা হয়েছে অনুপম এই চিত্রটির সেই বিখ্যাত নাম- ET IN ARCADIA EGO G।
মোদ্দা কথা এই উপরের ছবি পর্যালোচনা করে গবেষকরা প্রায় সবাই একমত হয়েছেন এই ভিন্ন বর্ণের সংক্রান্তিযোগে দুই বিপরীতক্রমের সাংঘর্ষিক সহঅবস্থানকেই বোঝানো হয়েছে, নেতিবাচক-ইতিবাচক, নারী পুরুষ ইত্যাদি। অনেকে এটা মেনে থাকেন যে এডাম এবং ইভ এর দুই পুত্রের নাম কেইন এবং এবিল। এখানেও রয়েছে তার কিছু ধাঁচ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় এবিল কে ভালো বলে এবং কেইনকে খারাপ বলে। এবিল এবং কেইন এর এই সিম্বলিক কানেকশন এই দুই পোলার অপজিটের পেইন্টিং এর আকর্ষিক খুলির দিকে তাকিয়ে দেখানোর দৃশ্যে অনেককে ভাবতে বাধ্য করে যে, এই খুলি কি তাদের পিতা অ্যাডামের? আদমের?

http://www.nagorikblog.com/node/3167

Advertisements

One Comment to “আর্কাডিয়ান পেইন্টিং – ০১”

  1. It was very very informative, learnt quite a lot from your blog …

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: