অলখ আমেরিকা – লোকটা আসলে কে ছিল?

আমি তখন ক্যালিফোর্নিয়ার ছোট এক শহরে এক রেস্টুরেন্টে চাকরী করি। আমার কয়েকজন প্রকৌশলী বন্ধু, যারা বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর পর চলে এসেছে আমেরিকাতে, তারা মিলে এই রেস্টুরেন্ট এবং আরও কয়েকটি রেস্টুরেন্টের মালিক। এদের মধ্যে এক জন পিএইচডি ডিগ্রীধারী এবং অন্য একজন এক বড় মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানীতে ডিরেক্টর পদে আসিন ছিল। আমি আমেরিকাতে এসেছি শুনে তারাই আমাকে ডেকে নিউ ইয়র্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়া নিয়ে এলো। তারা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যখন এই কাজ করতে নেমেছে – আমিও রাজী হলাম তাদের সাথে যোগ দিতে। ভাবলাম, দেখি না নতুন এক অভিজ্ঞতা হোক।

আমি তখন সান বার্নাডিনো শহরে থাকি। সেখান থেকে ৪০ মাইল দূরের শহরে আর একটা রেস্টুরেন্ট ছিল এদের। সেখানকার ইটালিয়ান-আমেরিকান জেনারেল ম্যানেজার ছুটিতে গেলে আমার উপর দায়িত্ব পড়লো সেই রেস্টুরেন্টটা ম্যানেজ করার। তখন আমি একা থাকি আমেরিকাতে। আমার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে সবাই ভিসার অপেক্ষাতে ঢাকাতে তখন। ফলে বন্ধের দিনে বা অতিরিক্ত সময় কাজ করতে আপত্তি করতাম না। ঐ রেস্টুরেন্টটা ছিল একটা বেশ বড় ‘শপিংমল’-এর ভিতরে। সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকতো ‘শপিংমল’টি। রেস্টুরেন্টটা খোলা থাকতো সকাল ১১টায় থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। সকালে আরও ২ ঘন্টা আগে এসে, অর্থাৎ ৯ টার সময় এসে আমাকে খুলতে হতো রেস্টুরেন্টটা। দূরত্বের কারনে আরও এক ঘন্টা আগে আমাকে সান বার্নাডিনো থেকে রওয়ানা দিতে হতো। রাতে ১০টার পর আর অর্ডার নেওয়া হতো না, কিন্তু যারা ইতিমধ্যে অর্ডার দিয়েছে তারা তাদের ইচ্ছা মত অপেক্ষা করতে পারতো খাওয়া শেষ করার জন্যে। গ্রাহকরা চলে যাবার পর আরও ঘন্টা খানেক লাগতো সব কিছু গুছিয়ে পরিস্কার পরিছন্ন করে রাখতে। এ সব কাজের তদারকি শেষে সব কর্মচারী চলে যাবার পরও আমাকে আরও কিছুক্ষণ থাকতে হতো। সারা দিনের আয়-ব্যায়ের হিসাব নিকাশ করে, টাকা-পয়সা গুনে ডিপোজিট ব্যাগে ভরে সেইফের মধ্যে ঢুকিয়ে, সেইফ বন্ধ করে বের হতে হতে বেশ রাত হয়ে যেত। অধিকাংশ দিন কাজ শেষে বের হয়ে দেখতাম মধ্য রাত পার হয়ে গেছে। দিনের বেলার ব্যস্ত শপিংমল তখন একেবারে ফাকা। কাউকে কোথাও দেখা যেতো না। এমনিতে যে কোন ছোট শহরে সাধারনত রাতে খুব কম লোক জন দেখা যায় বাইরে। রাতে ফেরার পথে একাকী পাহাড়ী রাস্তায় গাড়ী চালাতে ভালই লাগতো। এখন ভাবি – কত বোকা ছিলাম আমি। কত আপদ বিপদ হতে পারতো ঐ সব নির্জন পাহাড়ী রাস্তায় অত রাতে গাড়ী চালাতে যেয়ে।
33%20years%20old%20Pontiac%20with%20fallen%20leaves.jpg
আমেরিকাতে এসে আমার প্রথম কেনা গাড়ীটি হচ্ছে তখনকার ২০+ বছরের পুরানো একটা গাড়ী – ‘পন্টিয়াক গ্রান্ড প্রিক্স’ – ১৯৭৭ সালের মডেল। তখন দাম পড়েছিল মাত্র ৭০০ ডলার (বাংলাদেশের ৪০ হাজার টাকার মত)। এটি ছিল আকারে বড় এবং যতেষ্ঠ আরাম দায়ক গাড়ী। তবে এক গ্যালন (আমেরিকান) গ্যাসে (পেট্রলে) ৮-১০ মাইলের বেশী যেত না। আমার যাওয়া-আসার গ্যাসের খরচ কোম্পানী থেকে পেতাম, তাই এই অত্যাধীক খরচটা নিয়ে তখন মাত্থা ঘামাতে হয়নি। তখনকার দিনের ৮-ট্রাকের সীমাহীন লুপের ক্যাসেট প্লেয়ার ছিল গাড়ীতে লাগানো। অটোমেটিক ড্রাইভ এবং ক্রুজ কন্ট্রোল ছিল। আমি অটো-ক্রুজে গাড়ী সেট করে প্যাডেল থেকে পা সড়িয়ে দিয়ে আরাম করে গান শুনতে শুনতে এক হাতে স্টিয়ারিং ধরে গাড়ী চালাতাম। ফেরার রাস্তায় প্রায় সবটা পথ ঢালুতে নেমে গেছে। রাস্তায় তেমন আলো ছিল না। বেশ মজা লাগতো যখন এক হাত দিয়ে স্টিয়ারিং ধরে ‘সার্প-টার্ন’ গুলি অতিক্রম করতাম।

এক দিন সকালে কাজে আসার সময় মেঘ ও বৃষ্টির মধ্যে বাধ্য হলাম গাড়ীর হেড লাইট জ্বেলে প্রায় সারাটা পথ অতিক্রম করতে। যখন আমার গন্তব্যে পৌঁছিয়েছি তখন দেখি সেখানে খটখটে রোদ। ফলে নজরে পড়ল না যে হেড-লাইট তখনো জ্বলছে। এমনিতে কয়েক মিনিট বেশী লেগেছে আজ বৃষ্টির জন্যে। ফলে পার্কিং লটে গাড়ী রেখে প্রায় দৌড়ে এলাম রেস্টুরেন্টে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ কর্মচারীরা এসে বাইরে আমার জন্যে অপেক্ষা করছে। লজ্জ্বা পেলাম দেরী হওয়াতে। ভিতরে ঢুকে সবাই তাড়াহুড়া করে যার যা কাজে লেগে গেলাম। নানা কাজের মধ্যে খুব দ্রুত পার হয়ে গেল দিনটি। কাজের শেষে যখন সবাইকে বিদায় দেবার পর সিকিউরিটি এলার্ম সেট করে রেস্টুরেন্ট থেকে বাইরে বের হলাম তখন রাত সাড়ে-বারোটা বেজে গেছে। হেমন্তের ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাছে। আকাশে ক্ষয়া চাঁদ। সম্পূর্ণ এলাকাতে আমি ছাড়া আর দ্বিতীয় কোন প্রানীর সাড়া শব্দ নেই। বিরাট পার্কিং লটে শুধু আমার পন্টিয়াক ছাড়া আর কিছু নেই। অন্য দিন সাধারনত এদিক ওদিক একটা দুইটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গাড়ী দেখি। কিন্তু আজ সম্পূর্ণ গাড়ী শুন্য এই এলাকা। একটু গা-কাঁপানো বাতাস বয়ে গেল। মনে হলো কেউ যেন আমার ঘাড়ে আস্তে করে ঠান্ডা নিশ্বাস দিচ্ছে। কোটের বোতাম গুলি লাগিয়ে নিলাম। গাড়ীর কাছে এসে পকেট থেকে চাবি বের করে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলাম। ইশ, কি ঠান্ডা হয়ে আছে গাড়ীর ভিতরটা। চাবি ঘুরিয়ে স্টার্ট দিতে যেয়ে দেখি, গাড়ী সম্পূর্ণ মৃত। তখন মনে পড়লো সকালের কথা। চট করে হাত দিয়ে দেখলাম – ঠিকই, হেড লাইটের সুইচ এখনও অন হয়ে আছে।

গাড়ী থেকে নেমে এসে হুড উচু করে দিলাম। ভিতরে তাকালাম। কি আশা করছিলাম? এক্সট্রা ব্যাটারি আছে কিনা? বুঝলাম – সারা দিনের কাজের ধকলের পর মাথা ঠিক মত কাজ করছে না। কি করতে পারি এখন? গাড়ীর ভিতরে শুয়ে কাটিয়ে দেব রাতটা, তারপর সকাল হলে দেখা যাবে কি করা যায়? কিন্তু যা ঠান্ডা পড়া শুরু হয়েছে, গাড়ীর ভিতরে শুয়ে থাকলে জমে যেতে হবে।

পকেট হাতড়ে দেখলাম মাত্র ১২ টি টাকা অর্থাৎ ডলার সাথে আছে। তখনো আমি নতুন আমেরিকাতে। কোন ক্রেডিট কার্ড নেই। এমন কি সেল ফোনও নেই। এক যুগ আগে তখনো অতটা চালু হয়নি সেল ফোন, ফলে তাদের দামও বেশী। আর তাছাড়া ফোন থাকলেও বা কি হতো? কাকে বলতাম সাহায্য করার জন্যে? আমার স চাইঅতে কাছের বন্ধুরাও প্রায় ১০০ মাইল দূরে থাকে। এই গভীর রাতে কাউকে এমন অনুরোধ করার চিন্তাও বাতুলতা।

কাছাকাছি কোন হোটেল বা মোটেল দেখেছি বলে মনে পরল না। ৩/৪ মাইল দূরে মনে হয় একটা মোটেল দেখেছিলাম। এই শীতের রাতে ঠান্ডার মধ্যে যদি হেটে যেয়ে পৌছাতে পারি সেখানে – অগ্রিম টাকা চাইবে থাকতে চাইলে। ১২ ডলারে চলবে না। কি করি তা হলে?

রেস্টুরেন্টে ফিরে যেতে পারলে মন্দ হত না। বসার বেঞ্চে কোন মতে বাঁকা হয়ে শুয়ে হয়তো রাতটা কাটিয়ে দিতে পারতাম। কিন্তু সিকিউরিটি এলার্ম সেট করে দিয়ে এসেছি। এই রাতে ফিরে যেয়ে দরজা খোলা মাত্র সিকিউরিটি এলার্ম বেজে উঠবো। ফোন করে তাদেরকে বোঝাবার আগেই হয়তো পুলিস চলে আসবে। এখানকার পুলিসদের খুব কাছে না আসাই ভাল। অনেক সময় শুনেছি, তারা আগে গুলি ছোড়ে, তারপর প্রশ্ন করে।

– কোন সাহায্য লাগবে? – হতচকিত হয়ে গেলাম হঠাৎ এই প্রশ্ন শুনে।

তাকিয়ে দেখলাম আমার গাড়ীর পাশে একটা ভ্যান দাঁড়িয়ে আছে আর তার ড্রাইভিং সিটে বসা এক ভদ্রলোক আমাকে এই প্রশ্নটা করেছেন। খুবই অবাক হলাম। কখন এল ভ্যানটা? আমিতো কোন গাড়ী আসতে দেখেছি বলে মনে পড়ল না। সম্পূর্ণ ফাঁকা জায়গাতে দাঁড়িয়ে আছি আমি। কোন গাড়ি এলে তো আমার দেখতে না পাবার কথা নয়। তবে কি আমি নিজের চিন্তার মধ্যে এতই নিমগ্ন ছিলাম যে বাইরে কি হচ্ছে তা একেবারে খেয়াল করিনি?

– আমার গাড়ীর ব্যাটারী সম্পূর্ণ মৃত। – প্রশ্নের উত্তরে বললাম আমি।

– কোন অসুবিধা নেই। আমার কাছে জাম্পার কেবল আছে।

গাড়ী থেকে নেমে এসে ভ্যানের পেছনের দরজা খুলে জাম্পার কেবল বের করে আনলো লোকটি। আমার গাড়ীর হুড খোলাই ছিল, এবার লোকটি তার ভ্যানের হুড খুলে কেবলের এক প্রান্ত তার গাড়ীর ব্যাটারীতে লাগালো এবং অন্য প্রান্তের তার দু’টি আমার গাড়ীর ব্যাটারীতে লাগাল। তার গাড়ীর ইঞ্জিন চালু রেখেই আমার গাড়ীর ব্যাটারী চার্জ করা শুরু করে দিল। এর ফলে তাকে গাড়ীর ভিতরে ঊঠে পা দিয়ে এক্সেলেটর পেডেল চেপে ধরে থাকতে হলো। আমি তখনও আমার গাড়ীর পাশে আগের মতই দাড়িঁয়ে আছি। যদি অযাচিত ভাবে এই লোকটার সাহায্য না পেতাম, তাহলে যে আমি কি করতাম তা এখনো ভাবতে পারছি না।

মিনিট পাঁচেক চার্জ করার পর লোকটা আমাকে গাড়ীতে উঠে ইঞ্জিন স্টার্ট হয় কিনা দেখতে বললো। পন্টিয়াকের বড় ভি-৮ ইঞ্জিন। একবার একটু গো গো আওয়াজ করে চুপ করে গেল।

– চিন্তা কোর না, আধা ঘন্টা চার্জ করতে পারলে ঠিকই জেগে উঠবে তোমার গাড়ীর ইঞ্জিন।

অবাক হলাম এই লোকের বদান্যতা আর সম্পূর্ণ অচেনা লোকের প্রতি এতটা সহানুভুতি দেখে। আমেরিকানরা কি সবাই এমন ভাল? অপরকে সাহায্য করতে মধ্য রাতে এই ভাবে এগিয়ে আসে?

আমার পরিচিয় দিলাম তাকে। বললাম, যে রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার আমি, তার নাম। নাম শুনে চিনলো।

– তোমাদের রেস্টুরেন্টের অনেক সুনাম এই শহরে। বিশেষ করে তোমাদের ‘বেবী ব্যাক রিব’-তো পৃথিবী খ্যাত।

– হ্যাঁ, ঠিকই বলেছো। পৃথিবীর অন্য কয়েকটি দেশেও আমাদের রেস্টুরেন্ট আছে – অবশ্য ভিন্ন মালিকানার অধীনে।

– তাই? কোন কোন দেশে আছে?

– আমার জানা মতে ল্যাটিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে আছে, এমনকি এশিয়ার থাইল্যান্ডেও আছে।

– আমি অবশ্য কখনো তোমাদের রেস্টুরেন্টে খাইনি। এবার তাহলে তো একবার যেতে হয়।

– নিশ্চয়। তুমি আবশ্যি করে আসবে এবং আমার অথিতি হিসাবে। এটুকু মিনিমাম করতে দাও আমাকে। চিন্তা করে দেখো, এই রাতে তুমি আমাকে সাহায্য করতে না এলে কি অবস্থা হত আমার।

– হ্যাঁ, আসবো। কোন এক দিন নিশ্চয় এসে খেয়ে যাব তোমার রেস্টুরেন্টে। এখন আবার চেষ্টা করে দেখো, স্টার্ট হয় কিনা।

আবার গাড়ীতে উঠে এবার আমার স্ত্রীর শেখানো পন্থা অনুসারে প্রথমে তিনবার ‘কুল-হু-আল্লাহ’ পড়ে নিজের বুকে ফু দিলাম। তারপর গাড়ীর চাবি ঘোরাতেই প্রথমে একটু কাশি দিয়ে ইঞ্জিন চালু হয়ে গেলো। সামান্য একটু চাপ দিয়ে ধরে রাখলাম এক্সিলেটর – যাতে একেবার আইডল স্পীডে থাকলে ইঞ্জিন বন্ধ না হয়ে যায়, আবার একটু বেশী গ্যাস যেয়ে ইঞ্জিন যেন আবার থমকে বন্ধ না হয়ে যায়। খুব আস্তে করে হাতের সীফট স্টিক ড্রাইভে দিয়ে আস্তে করে গাড়ী চালানো আরম্ভ করলাম। ওই লোকটাকে বিদায় জানাবার জন্যে হাত উচু করে তার ভ্যানের দিকে তাকিয়ে দেখি লোকটা বা ভানের কোন চিহ্ন নেই। কখন যে সে তার গাড়ী নিয়ে এখান থেকে চলে গেছে জানতেও পারিনি আমি। এদিক-ওদিক তাকালাম কোন গাড়ীর আলো বা চিহ্ন দেখা যায় কিনা দেখার জন্যে। আশ্চর্য, কোন সাড়া-শব্দ ছাড়া কি ভাবে চলে গেল সে এখান থেকে। হতে পারে আমি নিজের ব্যাপারে এতটা নিবিষ্ট মনে ব্যস্ত ছিলাম যে খেয়াল করতে পারিনি কখন সে তার গাড়ী স্টার্ট দিয়েছে।

শপিংমলের এলাকা থেকে বের হয়ে ফ্রি-ওয়ে ধরলাম। এক দম ফাঁকা রাস্তা। আর কোন গাড়ী দেখছি না। আল্লাহ আল্লাহ করে চালাতে লাগলাম গাড়ী। এই রাস্তায় যদি কোন কারনে আবার গাড়ী থামে তবে এবার আর সাহায্য করার লোক পাবো না। আমি গাড়ীর হেড লাইট না জ্বালিয়ে, শুধু সাইড লাইটগুলি অন করে চালাতে লাগলাম। একটু পরে পাহাড় ধরে নামার রাস্তা আকাবাকা পথে রূপান্তরিত হল, ফলে বাধ্য হলাম ভয়ে ভয়ে হেড লাইট জ্বালাতে।

হাতের ঘড়িতে দেখলাম ইতিমধ্যে রাত ১টা বেজে গেছে। আরও ৪০-৫০ মিনিট লাগবে আমার গন্তব্যে পৌঁছাতে। মনে মনে নিজের ভাগ্য দেবতাকে ধন্যবাদ দিলাম। ওই লোকটার কথা চিন্তা করতে গিয়ে হঠাৎ মনে প্রশ্ন আসলো – আচ্ছা কে ছিল ঐ লোকটা? আগে কখনো দেখিনি তাকে। এত গভীর রাতে কি করতে বেড়িয়েছিল সে? কোথা থেকে আসলো এবং কোথায় গেল লোকটা? সব কিছু যেন কেমন একটা রহস্যে ঘেরা। আসলেই কি কোন মানুষ ছিল লোকটি, নাকি মানুষবেশী অন্য কিছু? ‘গার্ডিয়ান এঞ্জেল’-দের অনেক গল্প শুনেছি – তেমন কিছু কি হতে পারে না? এই সব চিন্তা করতে করতে শেষ পর্যন্ত রাত ২টার কিছু পরে যেয়ে পৌছালাম আমার এপার্টমেন্টে। ভীষন ক্লান্ত লাগছিল শরীর। জামা-কাপড় বদল না করেই ওই ভাবে শুয়ে পড়লাম বিছানায়।

পর দিন সকালে আবার কাজে যাবার পথে রাতের কথা চিন্তা করে মনে মনে হাসলাম। দূর – এই সব এঞ্জেল-ম্যাঞ্জেল বলে কিছু আছে নাকি? আমি নিশ্চিত ছিলাম যে এক দুই দিনের মধ্যে লোকটাকে আমার রেস্টুরেন্টে দেখবো – ফ্রি খেতে এসেছে।

না, জীবনে আর কখনো দেখা হয়নি লোকটার সাথে। এখন ভাবি – আসলে কে ছিল সেদিনের সেই লোকটি??

http://www.sachalayatan.com/saif_shahid/36333

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: