ইহুদি সম্প্রদায় : অত্যাচারিত থেকে অত্যাচারী : বর্তমান পৃথিবীর শাসক ও সুপারপাওয়ার : (৩য় পর্ব)



Symbol of Semitic Religion
প্রথম পর্বে আমি বলেছিলাম:

ঈজিপশিয়ান ফারাওদের (কোরানে, ফেরাউন-মুসা আঃ এর ঘটনা) সময় থেকে শুরু করে জার্মানির হিটলারের সময় পর্যন্ত তাদের বিতাড়িত হতে হয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে। তবে এখন যেমন ইহুদিদের সাথে মুসলমানদের সংঘাত চলছে এক সময় তা ছিল কৃশ্চিয়ান ও ইহুদি সংঘাত। স্পেনে মুসলমানদের রাজত্বে ইহুদিরা খুবই ভালো ছিল। তারা এ-সময় তাদের বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা করার ব্যাপক সুযোগ পায়। মুসলমানদের এই উদারতার কথা ফুটে উঠেছে ইহুদিদের লেখা ইতিহাস বইয়ের পাতায়।

শুরু থেকেই বিভিন্ন সমাজে ইহুদিদের ঘৃণিত, অবহেলিত ও খারাপভাবে দেখা হতো। প্রায় প্রতিটি জায়গায় তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকতো। উগ্র কৃশ্চিয়ানরা তাদের কখনোই সহ্য করতে পারেনি। এদের অনেকেই যিশুর হত্যাকারী হিসেবে ইহুদিদের চিত্রিত করেছে। অনেকেই তাদের অভিশপ্ত জাতি মনে করে।

উপরের কথাগুলোর আলোকে ইহুদিদের প্রধানতম শত্রু খৃস্টানরা হওয়াই বাঞ্ছনীয় ছিলো, কিন্তু, মুসলমানদের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব বা বৈরিতার কারণ কী?

আরব-ইসরেল দ্বন্দ্বের কারণ

ইহুদি খৃস্টানদের মধ্যে স্বজাতির প্রতি উগ্র শ্রেষ্ঠত্বের (Racism) অনুরাগ জন্মে বাইবেলের বিকৃত পাঠ হতে। দেখুন নিচে:
But he who was of the bondwoman was born after the flesh; but he of the free woman was by promise. (Galatians: 4:23): Bible, King James Version: 18 Feb 1997)

Now we, brethren, as Isaac was, are the children of promise (Galatians: 4:28): Bible, King James Version: 18 Feb 1997)

So then, brethren, we are not children of the bondwoman, but of the free. (Galatians 4:31): Bible, King James Version: 18 Feb 1997)


বাংলায় অনুবাদ ও বিস্তারিত লিখলে দাড়ায়, হজরত ইব্রাহিম (আঃ) (বাইবেলে, Abraham) – এর সারা ও হাজেরা (বাইবেলে, Sarah এবং Hagar) নাম্নী দু’জন স্ত্রী ছিলেন। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী ইহুদিদের ধারণা এই যে, সারা ছিলেন ইব্রাহীম (আঃ)-এর স্বাধীন স্ত্রী আর হাজেরা ছিলেন তাঁর বাঁদী। উল্লেখ্য যে ইহুদিরা সারার মাধ্যমে এবং আরবরা হাজেরার মাধ্যমে ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধর। কাজে কাজেই ইহুদি-খৃস্টানদের বদ্ধমূল ধারণা এই যে, স্বাধীন স্ত্রীর ছেলে হজরত ইসহাক (আঃ) (Issac)-এর বংশধর “ইয়াহুদিরা” হল উৎকৃষ্টতর আর বাঁদীর ছেলে ইসমাইলের বংশধর “আরবরা” নিকৃষ্টতর। প্রকৃতপক্ষে, হাজেরার বংশগত আভিজাত্য কম নয়। তিনি ছিলেন মিশরের সম্রাটের কন্যা। সম্রাট নম্রতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে স্বীয় কন্যাকে খাদেমা বলে হজরত সারার হাতে তুলে দিলেও পরে তো তিনি ইব্রাহীম (আঃ)-এর স্বাধীন স্ত্রী হয়েছিলেন। (ফয়জুল বারী/ বুখারী শরীফ)

বাইবেলেও এর স্বীকৃতি আছে। দেখুন : Gen.16 (3 , 15, 16 )

[3] And Sarai Abram’s wife took Hagar her maid the Egyptian, after Abram had dwelt ten years in the land of Canaan, and gave her to her husband Abram to be his wife.

[15] And Hagar bare Abram a son: and Abram called his son’s name, which Hagar bare, Ishmael.

[16] And Abram was fourscore and six years old, when Hagar bare Ishmael to Abram.

ইহুদিদের তথাকথিত কিং ডেভিড কিংডম

The so-called Promised Land
আর হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর আদি পিতা হজরত ইসমাইল (আঃ) সম্পর্কে নকল তৌরাতে বর্ণনা এসেছে এভাবে, –

[12] And he will be a wild man; his hand will be against every man, and every man’s hand against him; and he shall dwell in the presence of all his brethren. (Gen 16:12)

(… একটি মানুষের আকৃতিতে বন্য গর্দভ। তার হাত ও কাজ পৃথিবীর যাবতীয় মানুষের বিরুদ্ধে এবং পৃথিবীর যাবতীয় মানুষের ঘৃণা ও প্রতিরোধ তার বিরুদ্ধে ………………… ) (Gen 16:12)
(ইহুদি রেসিজম এর একটি নমুনা)




কিন্তু, কোরআনে হজরত ইসমাইল (আঃ) এর চরিত্র সম্পর্কে আছে ভিন্ন বর্ণনা:

And mention in the Book (the Qur’ân) Ismâ’il (Ishmael). Verily! he was true to what he promised, and he was a Messenger, (and) a Prophet. (54) And he used to enjoin on his family and his people As-Salât (the prayers) and the Zakât, and his Lord was pleased with him. (19:54)

(এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রসূল, নবী। তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন।) (১৯:৫৪)

(86) And also some of their fathers and their progeny and their brethren, We chose them, and We guided them to a Straight Path. (6:86)

(আর ও তাদের কিছু সংখ্যক পিতৃপুরুষ, সন্তান-সন্ততি ও ভ্রাতাদেরকে; আমি তাদেরকে মনোনীত করেছি এবং সরল পথ প্রদর্শন করেছি।) (৬:৮৬)

(101) And, when he (his son) was old enough to walk with him, he said: “O my son! I have seen in a dream that I am slaughtering you (offer you in sacrifice to Allâh), so look what you think!” He said: “O my father! Do that which you are commanded, Inshâ’ Allâh (if Allâh will), you shall find me of As-Sâbirun (the patient).” (37:101)

(অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন। ) (৩৭:১০১)

ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে স্বজাতির উগ্র শ্রেষ্ঠত্বের (Racism) আর একটি নমুনা দেখুনঃ

Deuteronomy 11:18-25, (তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্য তোমাদের সামনে জাতির পর জাতিকে পতন ঘটিয়ে দেবে। তোমরা তোমাদের চাইতে সংখ্যায় বৃহত্তর জাতিকে পদানত করবে, পৃথিবীর যে যে স্থানে তোমাদের পদচিহ্ন পড়বে, তোমরা সে সব স্থানের মালিকানা প্রাপ্ত হবে। তোমাদের ভূমিটির সীমানা হবে লেবাননের বনাঞ্চল হতে এবং নদী হতে ইয়োফ্রেতিশ (ইরাক) নদী পর্যন্ত। কোন জাতি তোমাদের সামনে দাড়াবে না, তোমাদের প্রভু জগৎবাসীর মনে তোমাদের সম্পর্কে ভীতি সৃষ্টি করে দেবেন ……………. ।

অন্য দিকে, হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে বাইবেল কী বলছে দেখুনঃ

[হে মুসা] আমি উহাদের জন্য উহাদের (ইহুদিদের) ভ্রাতৃ [আরব] গণের মধ্য হইতে তোমার সদৃশ এক ভাববাদী [নবী] উৎপন্ন করিব (Deut 18:18)

[18] I will raise them up a Prophet from among their brethren, like unto thee, and will put my words in his mouth; and he shall speak unto them all that I shall command him. (Deut 18:18)

একই কথা ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়ও বর্ণিত হয়েছে বাইবেলে যেমন,

[22] For Moses truly said unto the fathers, A prophet shall the Lord your God raise up unto you of your brethren, like unto me; him shall ye hear in all things whatsoever he shall say unto you. (The Acts 3:22)

[37] This is that Moses, which said unto the children of Israel, A prophet shall the Lord your God raise up unto you of your brethren, like unto me; him shall ye hear. (The Acts7:37)

অথচ, প্রায় তিন হাজার বছর যাবৎ ইহুদিরা তাদের আরব ভাইদের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞার ভাব পোষণ করে আসছে; বিশেষ করে ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত প্রতিশ্রুত (Promised) নবী মোহাম্মদ (সাঃ) ইহুদি বংশ হতে না-এসে আরব জাতির মধ্য হতে আসায় ইহুদি-খৃস্টানদের বৈরী মনোভাব চরমে পৌঁছে গেল। তাই ইসমাইল (আঃ) এবং তাঁর বংশধর মোহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কিত বিষয় সমূহ বিকৃত করে, আর না-হয় মুছে ফেলে বাইবেল রদবদল করতে শুরু করে দিল। ( এ নিয়ে পরে পৃথক একটি পর্ব বা আলাদা পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা রইলো)। উল্লেখ্য বাইবেলের অনেকগুলো ভারশান (Version) বাজারে প্রচলিত আছে। অর্থাৎ “ বাইবেল ” মুসলমানদের মত একটি মাত্র ধর্মগ্রন্থ “কোরানের ” মতো নয়। ছোট্ট একটি রেফারেন্স দিলেই ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। খৃস্টধর্মতত্ত্ববিদ এবং প্যারিসের ক্যাথলিক ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ফাদার কানেনগিয়েসার বাইবেল সংকলিত হওয়ার বিবরণ দিয়েছেন নিম্নরুপেঃ

( “ বাইবেলের কোন বর্ণনাই আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করার মতো নয়। ওইসব রচনা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অথবা এসব রচনা বিরুদ্ধপক্ষীয়দের (মুসলমানসহ খৃস্টান-ইহুদিদের নানান দল উপদল) মোকাবেলায় রচিত……….. ”)
— বাইবেল, কোরান ও বিজ্ঞান: ডঃ মরিস বুকাইলি
(তাঁর রেফারেন্সঃ ইনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)

পূর্বোক্ত কথার ধারাবাহিকতায় বলা যায়, ইহুদিরা মোহাম্মদ (সাঃ) জন্মের দিনক্ষণ সম্পর্কে অবগত ছিল; তাই তারা মক্কা ও মদীনায় ভিড় জমায়। সমস্ত মক্কা ও মদীনায় তখন আনন্দের ঝড়। এই ঘটনাটি কোরানে এসেছে এভাবেঃ বনী ইসরাইলের পণ্ডিতগণ পূর্ব হতে এ-সম্পর্কে পূর্ণ অবগত ছিল, এটা তাদের জন্য একটি নিদর্শন নয় কি? (২৬:১৯৭)

কিন্তু, যখন সময়ক্ষণ অনুসারে জন্মটি একটি “ একটি ইহুদি পরিবারে ” নয় অর্থাৎ “ জেন্টাইল ” পরিবারে ঘটেছে – তা দেখে তারা (ইহুদিরা) চরম হতাশ হয়ে পড়ে। তারা প্রত্যাবর্তন করে। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হয় মোহাম্মদ (সাঃ)-এর নবুয়ত দাবীর পরপর। কোরআন এই সত্য ও তথ্যকে এভাবে তুলে ধরেছে – “ কত নিকৃষ্ট উহা যার বিনিময়ে তারা তাদের আত্মাকে বিক্রয় করে দিয়েছে এই জন্য যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, অহংকারের বশবর্তীতায় তাকে তারা প্রত্যাখান করতো এই কারণে যে আল্লাহ তাহার বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। (২:৯০)

তারা (ইহুদিরা) ষড়যন্ত্রের পর ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। সর্বশেষ ষড়যন্ত্র হয় খাইবারে নবী মোহাম্মদ (সাঃ)-কে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে। হজরত বিশর (রাঃ) ও মোহাম্মদ (সাঃ) এক সাথেই খাবার মুখে দেন। কামড় দেয়ার সাথে সাথেই বিশর (রাঃ) মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নবী মোহাম্মদ (সাঃ) মুখ হতে খাবার ফেলে দেন। যদিও আল্লাহ তাঁকে (সাঃ) বিষাক্ততা থেকে বাঁচিয়েছন – তবু মৃত্যু অবধি এই বিষের ক্রিয়া তাঁকে (সাঃ) বহন করতে হয় যা তিনি (সাঃ) মুসলমান জাতির কাছে একটি আপীল হিসেবে রেখে যান- “ হে আমার জাতি! জেনে রেখো! খাইবারে ইহুদিদের দেয়া বিষ যেন আমার হৃদয়-শিরাকে কেটে দিচ্ছে মৃত্যু শয্যায়”।

মুসলমান জাতি ইতিহাস ভুলে গেছে – এখন নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর আপীলের কথাগুলো আর তার মনে নেই। কালে এই মুসলমান জাতি ইহুদিদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। এই ঘনিষ্ঠতা সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে নয় – আল্লাহ যে বস্তুকে জেহাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র কিংবা উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন- সেই স্বর্গীয় আমানত “সম্পদ” -কে দুনিয়াজুড়ে মুসলমান যেন এক মাদকাশক্তির নেশা-মত্ততায় দেদার ইহুদিদের হাতে তুলে দিতে থাকলো, যে জাতিটি তার কবর রচনার জন্য “ কিং ডেভিড এর সাম্রাজ্য ” প্রতিষ্ঠা প্রকল্পে ইতোমধ্যেই আফগানের পর ইরাক দখল করে নিয়েছে আমেরিকার হাত দিয়ে আর একই বাহন দ্বারা সমস্ত আরব রাষ্ট্রগুলোর হৃদমূলে ঘাঁটি স্থাপন করে নিয়েছে ১৯৯১ সনে। কিয়ামতের পূর্বে এ-ঘাঁটিগুলো আর উঠে আসবে না।

ইহুদিরা পৃথিবীতে মূল ছাড়া জাতি। কোরানের নীতি ব্যবহার করে তারা কোরানের ফর্মূলায় একটি জাতিসত্তায় পরিণত হয়েছে – শুধু তাই নয়, তারা সমস্ত দুনিয়ার মানুষকে এখন ভীতি প্রদর্শন করছে। বলা দরকার কোরআনের নীতি যে ব্যবহার করুক, সে উপকৃত হবে – এর জন্য ঈমান আনা জরুরি নয়। ঈহুদিরা এই নীতিটিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে রাষ্ট্র, নেতৃত্ব ও জগৎভীতি সৃষ্টির কৃতিত্বে এসেছে তার চিত্রটি ফুটে উঠে – “ আমি ইচ্ছা করলাম – দুনিয়াতে যাদের হীনবল করা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে এবং তাদের নেতৃত্ব দান করতে এবং তাদেরকে রাষ্ট্রের উত্তরাধিকারী করতে এবং পৃথিবীতে তাদেরকে ক্ষমতাসম্পন্ন করতে এবং ফিরআওন-হামান বাহিনীকে দেখিয়ে দিতে যাদের নিকট হতে ভীতির আশঙ্কা ছিল। ” (২৮: ৫-৬)

এই নীতি অনুসারে – যাদের হীনবল করা হয় ( ইহুদিরা এই বিপাকে পড়েছিলো ) , এবং দুর্বলতার কারণে নেতৃত্ব থাকে না, রাষ্ট্রের পরিচয় থাকে না ও পৃথিবীর ক্ষমতার মঞ্চে যাদের স্থান নেই – তারাও এই পৃথিবী শাসনের কৃতিত্বে আসতে পারে; দুনিয়ায় যারা ছিল অপরাপর শক্তির নিকট ভীত – তারা সৃষ্টি করতে পারে বিপরীত ভীতি প্রবাহ; অর্থাৎ পরিণামে তাদেরকে সকল রাষ্ট্রীয় শক্তিরা ভয় করবে- এই অবস্থা সৃষ্টি করা সম্ভব। আর এই নীতিকে কাজে লাগিয়েছে ইহুদি জাতি জেহাদেরই ফর্মূলায় – “ ওয়াতুজা হিদুনা ফি সাবিলিল্লাহি বিআমওয়ালিকুম ওয়াআনফুসিকুম ” ; বিজয়ের যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন দু’টি বস্তু – একটি ‘ সম্পদ ’ অপরটি ‘ ব্যাক্তি ’। ১৫ মিলিয়ন ইহুদি – ১৫ মিলিয়ন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈনিক। আর দুনিয়ার সব সম্পদের মালিক আজ তারা। তারা আমেরিকারও মালিক। কোরআনকে তারা তাদের নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করে কৃতকার্য হয়েছে। ইহুদিরা কীভাবে কোরাআনের ফর্মূলা ধরেছে এবং তাদ্বারা একাট ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের মালিক হয়েছে এবং তথা হতে আমেরিকাকে ডিঙ্গিয়ে সমগ্র বিশ্বকে শাসন করবে তার চিত্রটি ক্ষুদ্রাকারে তুলে ধরছি।

ইহুদি জাতি পৃথিবীতে যে সকল রাষ্ট্রসমূহের উপর অসামান্য প্রভাব ও প্রভুত্ব বিস্তার করেছে – তাদের একটি “ অষ্ট্রেলিয়া ” । এই দেশটিতে বসবাসরত ইহুদিরা নির্দিষ্ট এলাকায় তাদের যে সংগঠন সৃষ্টি করে – তার সর্বনিম্ন সংগঠনকে তারা বলে ‘স্টেইট’। প্রতিটি স্টেইটে বসবাসকারী ইহদিরা তাদের মাসিক আয়ের ৫% অংশ অত্যাবশ্যকীয়ভাবে “স্টেইট” নিকট জমা রাখে। তবে সচরাচর অধিক আয় সম্পন্নরা বাধ্যতামূলক এই দানের বাইরেও অর্থায়ন করে থাকেন। এই অর্থ সরাসরি বিশ্বজোড়া জায়নবাদী প্রচার ও পরিকল্পনা চরিতার্থকরণের জন্য ব্যয় হয়। এই অর্থ ইসরাইল রাষ্ট্রের সংহতিকরণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যয় হয়। এভাবে দীর্ঘদিনের সাধনায় আজ তারা এমন একটি অবস্থানে এসেছে যে বিশ্বের তথ্য, সম্পদ, যুদ্ধ, অর্থনীতি, ইত্যাদি সবই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। খোদ আমেরিকা একটি ক্ষুদ্র ইসরাইল রাষ্ট্রের বাধ্যতার দাস। এটা হলো কোরআনের ফর্মূলায় মুসলমানদের উপর ধার্য্য “জাহাদু বি আমওয়ালি” – এর প্রতি পূর্ণ মান্যতা; তারা কোরাআনের ফর্মূলাকে নিজেদের ফর্মূলা করে নিয়েছে। পাশাপাশি “জাহাদু বি নাফসি” বা ধর্মের জন্য ব্যক্তির সেবাকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রেও তারা অগ্রগামী। ১৫ মিলিয়ন ইহুদি – ১৫ মিলিয়ন সৈনিক ও যোদ্ধা। কিন্তু কতটা চমৎকার পদ্ধতিতে তারা “ওয়া’তাছিমু বি হাবলিল্লাহি জামিআ” এই নীতিটিকে অবলম্বন করছে তার একটি চিত্র আমরা প্রদর্শন করতে পারি।

সাধারণতঃ ওরা চাকুরির চাইতে ব্যবসার প্রতি বেশী আকর্ষণ বোধ করে। যখনই ‘স্টেইটে’ নতুন কোন ইহুদি ব্যবসা/দোকান খোলে, তখনই ‘স্টেইট’ হতে তার সমস্ত অধিবাসীগণের জন্য এটি ধার্য হয়ে যায় যে, এই নতুন ব্যবসায়ী যে নতুন ব্যবসা শুরু করেছে, ৩ মাসের জন্য প্রত্যেক ইহুদি নাগরিক ন্যুনতম ২০০ ডলারের পণ্য কিংবা সেবা ক্রয় করবে বাধ্যতামূলকভাবে। এই বাধ্যবাধকতা প্রসূত ‘খরিদ’ নতুন ইহুদি ব্যবসায়ীকে শুরু করার মুহূর্ত হতেই একটি সাবলীল সমর্থন ও শক্তি যোগায়; পরবর্তীতে যা তাকে সফল ব্যবসায়ী হয়ে আত্মপ্রকাশ করতে সাহায্য করে। ইন্নাল মু’মিণীনা ইখওয়াতুন, ফা আছলিহু বাইনা আখাওয়াইকুম (মুমিন পরষ্পরের ভাই- একে অপরের কল্যাণ সাধনে সচেষ্ট হও) , এই ফর্মূলাটি এ যুগের কোনো মুসলমান মান্য করেনি, ইহুদিরা পরিপূর্ণভাবে মান্য করে চলছে। “ আর যারা এই পথ প্রদর্শনকে মান্য করে চলবে- তাদের ভয় নেই, তারা দুঃখিত হবে না ” (২:৩৮) । ইহুদি জাতি এই পথ প্রদর্শন মান্য করে চলছে। তারা আজ ভীত নয়; দুঃখিতও নয়। বলা বাহুল্য যে, বর্ণিত ‘স্টেইট’ এর এক হাজার ইহুদি যদি ৩ মাসে সেই নব্য ব্যবসায়ীর নিকট হতে ১০০০ x ২০০ = ২ লাখ ডলারের ব্যবসা পেয়ে যায়, যা নিশ্চিত, তা অস্ট্রেলিয়ায় পরবর্তীতে তার টিকে যাবার সম্ভাবনা যথেষ্ট।

ব্যক্তি ও সামষ্টিক সমাজে ইহুদিরা কোরআনের নির্দেশ মান্য করে চলে। তাই প্রতিশ্রুতি অনুসারে তারা ভীতির শিকার নয় এবং তারা দুঃখিতও নয়। কাফির হয়েও তারা কোরআনকে বা কোরআনের নীতিকে তাদের কল্যানে ব্যবহার করেছে।

ইহুদিরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে ইসলাম বিষয়ক এক্সপার্ট তৈরির জন্য। ২০০২-২০০৩ সালের বাজেটে আমেরিকা “ ইসলাম বিষয়ক এক্সপার্ট ” তৈরির জন্য বরাদ্দ করেছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা গণচীনের পূর্ণ সামরিক বাজেটের সমান। এই টাকায় বাংলাদেশের একুশ বছরের বাজেট সংকুলান হয়। এতোগুলো টাকা শুধু এক্সপার্ট তৈরির জন্য এবং গবেষণার জন্য। কী গবেষণা হয় এবং কী করে এক্সপার্টগণ ? তারা তৈরি করে সুইসাইড বম্বার। তাদের সুইসাইড বম্বার হিসেবে আত্মঘাতী বোমা ফাটানোর কাজটি করছে এক “ তরুণী ”! । তরুণীরা কেন ?!

ইসরাইল সাহাক,
অধ্যাপক, জেরুজালেম হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়
সাবেক প্রেসিডেন্ট,
ইসরেলি লীগ ফর হিউম্যান এন্ড সিভিল রাইটস্

তিন-মাথা-ওয়ালা দানব


The Israeli Army Girls
ইসরাইল সাহাক (Israel Shahak) – এর লেখা হতে জানা যায় ( তিনি জেরুজালেম পোষ্টে লিখে থাকেন; হিব্রু সংস্করণে; কমই তার ইংলিশ প্রতিবেদন ছাপা হয় )। এই লেখাটি ১৯৮৫ সনের। তরুণীদের ধরে নিয়ে যায় ইসরেলি সেনাবাহিনীর লোকজন। তারপর তাকে বিবস্ত্র করা হয়। ছবি তোলা হয় বিভিন্ন পোজের। তারপর তাকে গণধর্ষণ করা হয়। এ অবস্থায় তরুণীটি যখন ভগ্ন হৃদয় এবং মর্মাহত, – তখন তার পিতা, ভাই অথবা এমন কোন সম্পর্কের, যার সঙ্গে বিবাহ চলে না – এমন কোনো ব্যক্তিকে ধরে এনে কৃত্রিম উপায়ে (ইনজেকশান বা মুখে খাওয়ার ঔষুধ) প্রচন্ডভাবে যৌনাবেগ সৃষ্টি করে রাখা হয়। তারপর বাধ্য করা হয় তাকে রেপ করার জন্য। অনিচ্ছায়, অজ্ঞানতায় “ রেপ ” করার কাজটির তুলে রাখা হয় অজস্র ছবি। তারপর “ সেট করা ” নাটকের অংশ হিসেবে তাকে উদ্ধার করে নেয় ইহুদি রাবাঈদের ( Jewish Rabbi ) কেউ। নাটকের অংশ হিসেবে তৈরি হয়ে আছে এমন “ মুসলমান ” সংগঠনের কাছে করা হয় হস্তান্তর । সেই মুসলমানরূপী ইহুদিরা বুঝিয়ে দেয় – এ জীবন আর রেখে কী হবে, খোদার জন্য শত্রু ঘায়েল করে শহীদ হয়ে যাও। উপদেশটি সৎ মনে হয়। গায়ে জড়িয়ে নেয় বোমা – সেই তরুণীটি। তাকে টার্গেট দেয়া হয় কোথায় যাবে, কে সাহায্য করবে, – এইসব। টার্গেট জানানো হয় “সেনাবাহিনী ”, কারণ, তাদের প্রতিই তরুণীটির বিদ্বেষ। কিন্তু, বাসে উঠার পর কিংবা বাজার এলাকায় গমন করার পর টিপে দেয়া হয় রিমোর্ট কন্ট্রোল। কেবল সাধারণ নিরপরাধ ইহুদি জনগণই মরে সুইসাইড বোমায়, কখনও সেনাবাহিনীর একটি সদস্যেরও কিছু হয় না। দু’ঘন্টার মধ্যে “ পোট্রেট কোয়ালিটির ” ছবি চলে যায় টেলিভিশনে। পূর্বেই ছবি রাখা হয়েছিল তার; নাম, ঠিকানা সব নির্ভুল। জগৎ শুনেছে, মুসলমান তরুণীর সুইসাইড বোমায় অনেকজন ইসরেলি নিরপরাধ জনগণ মারা হয়েছে। এ-লেখাটি যখন রচিত হয়, তখন (অক্টোবর ০৩) ইসরেল সিরিয়া আক্রমন করে সুইসাইড বোমা হামলার প্রতিবাদে। ১৯ জন ইসরেলি নাগরিক মারা গেছে। সেখানেও ছিল এমনি দুর্ভাগ্যের শিকার এক তরুণী। “সুইসাইড বোমা ” ইসলামের আদর্শকে বিশ্বের সামনে অনেক নিচু করেছে। তার অর্থ এই নয় যে সব সুইসাইড বোমা বর্ণিত পদ্ধতিতে ঘটে। মুসলমানরা অনেক ক্ষেত্রেই স্বেচ্ছাপ্রণোদিত উচ্ছ্বাসে তা করে থাকে। এর পেছনে যে অদৃশ্য যোগান, উৎসাহ-উদ্দীপনা, অর্থ, সুযোগ, উপকরণ – এসবের পেছনে আছে, সেই ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সমর্থন। ব্যবহৃত হয় নির্বোধ মুসলমান – যারা মূলতঃ কোরআন বিচ্ছিন্ন।



২০০২-২০০৩ সালে চীনের সামরিক বাজেট ছিল ৩৫ বিলিয়ন ডলার যার পরিমাণ মাত্রাটি বড় হয়ে গেছে বলে আমেরিকা চীনের উপর আপত্তি তুলেছিল। অথচ, আগেই বলেছি , একই বছর আমেরিকা ইসলাম বিষয়ক গবেষণা ও এক্সপার্টিজ এর জন্য যে বাজেট করেছে তার পরিমাণও ৩৫ বিলিয়ন ডলার। কি হয়েছে আমেরিকার? সারা পৃথিবীতে শত ধর্ম রয়েছে, আর কারো বিষয়ে নয় – শুধু মুসলমানদের বেলায় তাদের এতটা যত্ন নেয়ার প্রয়োজন হয় কেন? যদিও এর উত্তরটি বিশাল তবু তার মূল ” কিং ডেভিডের কিংডম অব ইসরাঈল ” প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী জায়নবাদী ব্যবস্থার মূলে প্রোথিত। ইহুদীরা অর্থের মালিক। ইহুদীরা ইসলামের চিরশত্রু । ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ। ইরাকে আমেরিকার আগ্রাসনের অন্য অর্থ হলো ইরাকে ইহুদিদের ভাড়াটে শক্তির আগ্রাসন। জন্মগতভাবেই তাদের মধ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুতা আর ঘৃণার প্রেষণা কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে। এই প্রেষণায় তাড়িত হয়ে তারা দুনিয়াময় যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে যাবে। (৫:৬৪)। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ ঘরে বাইরে। ঘরের যুদ্ধে ইহুদীদের ভাড়াটে সৈনিক হলো আজকের শহর কেন্দিক আধ্যাত্মিক সূফী সাধকের গোষ্টি। ওরা ইহুদিদের এজেন্ট। ওরা সাধক নয়, ওরা চর (Spy) এবং চোর । ওরা সূফী নয়, ওরা অর্থলোভী ভোগসেবী, চরিত্রহীন, প্রবঞ্চনাকারী শয়তানের প্রকাশ্য পুত্র। এই ” সূফী সাধকরা ” ইসলামের সর্বনাশ ঘটায়। মুসলমানদের সাধারণ জ্ঞানেই বুঝবার কথা যে, সুফী সাধকগণ নির্লোভ, নির্জনতা-প্রিয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা তাদের একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু বর্তমান সূফী সাধকরা ডিশ এন্টেনার যাবতীয় অনুষ্ঠান উপভোগকারী, এক্সরেটেড ভিডিও (Porn Movie) দর্শক, শহর কেন্দ্রিক প্রচার বিলাসী ও ভোগপ্রিয়। ওরা যা সৃষ্টি করেছে তা হলো ফিতনা। ফিতনা হলো ফ্যাসাদের জন্মদাতা। বিলাশবহুল গাড়ীতে চড়ে নবী (সাঃ) আচার ও আদর্শের শিক্ষা দেয়। যে নবী ৮ হাত x ১২ হাতের কুঁড়ে ঘরে জীবন ব্যয় করলেন ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ করলেন, সে নবীর আদর্শ কাদের দ্বারা এবং কী উপায়ে প্রচার হচ্ছে?


ইসলামের ছদ্মবেশে নতুন ধর্মমতের প্রতিষ্ঠাতা
মির্জা মোহাম্মদ কাদিয়ানী


কাদিয়ানী একটি সম্প্রদায় যারা ইসলামের পরিচয় ও পোশাকে ইসলাম ধ্বংসের জন্য এক অতি শক্তিশালী ইহুদি হাতিয়ার। কাদিয়ানীরা ইহুদিদের স্বজাতিসম। ইহুদিদের মতই তারা কোরআন বিকৃতির সার্বিক প্রচেষ্টা করেছে। ইহুদিদের সাথে তাদের পার্থক্য হলো – ইহুদিরা যেখানে তৌরাত পরিবর্তন করে নিজেদের মনগড়া বক্তব্যের সংযোজন দ্বারা তৌরাতকে “ ওল্ড টেস্টামেন্টে ” পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে, সেখান কাদিয়ানীরা তা পারেনি। ইহুদি প্রভাবে আমেরিকা মুসলমান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ তৈরি ও গবেষণায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে। ২০০২-২০০৩ সালে তাদের এই বাজেট ছিল ৩৫ বিলিয়ন ডলার। সীমাহীন অর্থ। এই বিপুল অর্থের একটি বড় সুবিধাভোগী দলের নাম কাদিয়ানী। ইসলামের আবরণে ইসলামের ভাষায় ইসলামের সুরে ইসলামের সর্বনাশের এরা জীবন্ত প্রত্যয়। ইসলামের দেশে ইসলামের বেশে এরা মুসলমান বেশধারী ইহুদি। কাদিয়ানীরা যেভাবে তাদের মতবাদের প্রসার ঘটানোর কার্য করে বেড়ায়, খৃস্টানরা অনুরূপভাবে অর্থ, প্রতিষ্ঠান ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দিয়ে দরিদ্র মুসলমানকে খৃস্টান ধর্মে দীক্ষিত করে চলছে অতীত হতে।

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: