মুর্গা কথন

আমার দুইজনা বান্ধা মুরগা আছে। একজন আমার বন্ধু আরেকজন আমার বস। সময়, সুযোগ, যায়গামত তাদের জবেহ করি। আপনারা হয়ত আশ্চর্য্য হচ্ছেন এই মুরগা জবাইর কথা শুনে। ভালো যায়গায় খাওয়ানোর জন্য কাউকে স্পন্সর বানাতে কম বেশি খানিকটা বেগ পেতে হয়। কিন্তু এই দুই জনের ব্যপারে কোনো মেহনত লাগেনা, বললেই রাজী। ধরেন বললাম ঢাকায় তো কেএফসি খুলেছে বা হানিফের কাচ্চি টা নাকি উমদা বানায়। তাতেই কাজ হয়ে যায়। নামকরা খাবারের তথ্যা পেলেই খওয়াতে রাজী হয়ে যায়। আপনারা আবার ভাববেননা মওকা পেয়ে আমি প্রায়ই বান্ধা মুরাগা জবেহ দেই। সোনার ডিম পারা হাসের গল্প আমার জানা আছে।

তবে সব মুরগা কিন্তু এত সহজে ধরা দেয় না। তার জন্য নানা রকমের কোশিশ লাগে। নানা উপলক্ষ লাগে। যেমন কেউ বাজিতে হারল, নতুন চাকরি পেল বা বিদেশ থেকে এসে একটা গেট টুগেদার দিল। আবার এমনও হতে পারে কোনো উপলক্ষ ছাড়াই মালদার বন্ধুকে সবাই মিলে চাপ দিয়ে হোস্ট হতে রাজী বানায় ফেলা। আজ এইরকম মুরগা ধরার কয়েকটা কাহিনী বয়ান করি।

ধরে নেন ব্লগার মানু বিদেশ থেকে দেশে এসেছে। পোলাপান খুশি হয়ে উঠল, মুরগা পাওয়া গেছে। মুরগা কিন্তু ধারে কাছে ভিড়ে না। মাগুড়া, যশোর, তেতুলিয়ায় ঘুরাফিরা করে। আশা প্রায় ছেড়ে দেয়ার মত এমন সময় মানুর আওয়াজ পাওয়া গেল। ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে একদিন সবাই মিলে আড্ডা দেয়ার ডেট ঠিক হয়। তো সময়মত সবাই আড্ডায় হাজির। আড্ডাও ভালোই জমেছে। মানু অল্পের উপর বাঁচার জন্য চটপটির খাওয়ার অফার করে। লোকজন সেদিকে যায় না। বলা হয় পাশেই কে এফসি, সেখানে বসি। মানু প্রমাদ গুনে। শেষ চেষ্টা করে। বলে, ‘ফাস্ট ফুড তো সব সময়ি খাওয়া হয় আজ চটপটি খাই’। বেচার মানু ঘাঘু ঘুঘুর পাল্লায় পড়েছে। অন্যরা বলে, ‘ তুমি বাইরে থাক তুমি রোজ ফাস্ট ফুড খাও আমারা রোজ খাইনা আজ খাব’। আরেক জন আরেক কাঠি সরেস, বলে , ‘ কেএফসির পরে না হয় চটপটি খাওয়া যাবে’। এরপর মানুর আর কিইবা করার থাকে। মুরগা হয়ে কেএফসিতে ঢুকে।

কিছু মুরগা আছে চরম পিছলা। ধরা খুব দিগদারীর। খালি পিছলায়। খুব পিছলা এরম এক মুরগা ধরার কাহিনী শুনেন। মনে করেন উনি আমার কলিগ। গত ইলেকশন নিয়া বাজী ধরেছে আমার সাথে। শর্ত যে হারবে সে ডিপর্টমেন্টের কয়েকজনকে পিজ্জা হাটে খাওয়াবে। ইলেকশনের রেজাল্ট পাওয়ার পর দেখা গেল কলিগ বাজীতে হেরেছে। কিন্তু দিন যায় সপ্তাহ যায় খাওয়ানোর নাম গন্ধ নাই। খাওয়ানোর ভয়ে ভালো মত কথাই বলেনা। একজন জিজ্ঞাস করলে বলে খাওয়াবে । কিন্তু কবে খাওয়াবে সেইটা বলে না। সে ভেবেছিল এভাবে পিছলালে লোক জন ভুলে যাবে বিষয়টা আর তাতে সে মাপ পেয়ে যাবে। এদিকে আমরা কিন্তু দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে ওকে ছাড়া যাবে না। যাই হোক অনেক ধরাধরি মনকষাকষি চিল্লাফাল্লার পর রাজী হয়। পিজ্জাহাটে গিয়া সে আরেক ঘ্যাস্টামি। আমাদের অর্ডার দিতে না দিয়ে সে নিজেই দেয়। বেছে বেছে সর্ব নিম্ন দামের পিজ্জা। কি করা পিছলার সাথে আর কত খ্যাচাখেচি করা যায়! সেইটাই খাই। কিন্তু তার পরে আমরা আবার অর্ডার দেই আমাদের পছ্ন্দমত। পিছলা রে রে করে উঠে, আজতো খাওয়া হয়েছে আরেকদিন খায়েন। আমরা বলি, আপনে খাইয়েন না আমরা খাই। বিল দিতে গিয়ে বেচারার চেহারা যা হয়েছিল দেখার মত!

এই মুরগা ধরার কাহিনী শেষ করব বিদেশি মুরগা জবাইর কাহিনী দিয়ে। আমাদের অফিসের একজন ডাচ পরামর্শক আছেন। উনিও মাশাল্লা সেরম কিপ্টা। মাস ছয় পর পর বাংলাদেশে আসে। কিন্ত খালি হাতে। একবার কমবয়সী এক কলিগ ওকে বলে দিল পরের বার যে চকলেট নিয়ে আসে। তো পরের বার সে চকলেট আনল। কিন্তু, সেকি চকলেট মাইরি, উইস্তার মত তিতা। একবার কেউ মুখে দিয়ে ২য়বার খেতে চায় না। অনেকদিন ফ্রিজে রেখে পরে ফেলে দেয়া হল। অফিস থেকে এই ডাচ মুরগা কে বার দুই ডিনার খাওয়ানো হয়েছে। শেষবার কি মনে করে উনি ঘোষণা দিলেন আমাদের খাওয়াবেন। উনি ভাবছিলেন আমরা যারা তার সাথে কাজ করি সেই কয়জনই যাব। কিন্তু আমার বস মুরগা সাইজ করার এই সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজী না। বলল যে ডিপার্টমেন্টের সবাইকে বলতে হবে। হোস্টকে রাজী হওয়া ছাড়া উপায় নাই। আমরা র‌্যাডিসনে ভেনু ঠিক করতে চেয়েছিলাম। মুরগা ঝানু কম না, বলে ওখানে গিয়ে আসতে তার দেরি হয়ে যাবে। পরে নান্দুস ফাইনাল হয়। আমরা ইচ্ছা মত মনের খায়েশ মিটিয়ে অর্ডার দিই আর খাই। এমন হয় পেটে যায়গা না থাকয় অনেক খাবারই খেতে পারিনা। শুকনা মুখে হোস্ট দেখে যায় সব। বিলের পে করে আসার পর একজন কত বিল হল দেখতে গেলে বিদেশি মুরগা দেখায় না। বলে, It is in the limit what I was expected.

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: