ফারুকী ও তার ভাই বেরাদার কেচ্ছা কাহিনী

auto
ভাই বেরাদার শব্দযুগল কবে কখন কোথায় জন্ম হইছে আমার জানা নাই, তবে এই শব্দ যুগলের সঙ্গে আমি ব্যাপক ভাবে পরিচিত হইছি চ্যানেল ওয়ানের ছবিয়াল উৎসব শুরুর পর থাইকা। চ্যানেল ওয়ান অন এয়ারে আসার পর কর্তৃপক্ষ চিন্তা করলো, এই চ্যানেলে এমন কিছু দেখাতে হবে যাতে চ্যানেলটা একবারেই হিট মাইরা যায়। তাই তারা নিজেদের বিজ্ঞাপনের জন্য পণ্য হিসেবে হাতে নিল ফারুকীরে। মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী তখন সিনেমা নাটকের সুপার ডুপার ব্লকবাস্টার হিট পরিচালক, কাজ করেন যুগলবন্দী, আনিসুল হকের সঙ্গে জুটি বেঁধে ইতিমধ্যে তৈরি করে ফেলেছেন বেশ কিছু ফিকশন, কোনটা দর্শকপ্রিয়তা পাইছে, কোনটা দেইখা সমালোচকরা আবার বলছেন, বাহ্ ভালো বানাইছে তো। কোনটা দেইখা আবার কেউ বলছে, গেল গেল, আমাদের নাটক সিনেমা গেল। ততদিনে ফারুকী এফডিসির সিন্ডিকেট ভেঙ্গে বানাইয়া ফেলছেন ব্যাচলের নামের একটা সিনেমাও। কিন্তু এতকিছুর পরও বিজ্ঞাপনের জগতে ফারুকী তখনো ঢুকতেই পারেননি, অই সময়টাতে আফজাল হোসেন, আপন, অমিতাভ আর বেশ কজন ভারতীয় নির্মাতা দখল করে রেখেছিলেন বিজ্ঞাপন বাজারের পুরোটাই।

অন্যরা যখন শুরুর দিকে ভালো কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিজ্ঞাপন বানাইতে শুরু করলো, ফারুকী তখন পুরোদস্তুর নাট্য পরিচালক, তিনি টিভি নাটকরে তখন নাটকই কইতেন, পরবর্তীতে আবার এই টিভি নাটকরেই ফারুকী ভিডিও ফিল্ম নামক আলাদা ট্যাগ লাগাইয়া দিছেন।

ফারুকী অনেকগুলো ভালো কাজে দর্শক মাতিয়ে কম সময়েই টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় নির্মাতা, একুশে টেলিভিশনের পর্দায় একঝাঁক নতুনের সঙ্গে তিনিও একজন তরুণ তুর্কি, অনেকে যখন কাজ করতে আইসা যুদ্ধের মুখোমুখি, প্রত্যাবর্তন, ওয়েটিং রুম, আয়নামহল ইত্যাদি নাটক বানিয়ে ফারুকী তখন যুদ্ধের সেনাপতি।

প্রত্যাবর্তন, আয়নামহল, ওয়েটিং রুম- দর্শক সমালোচকের কাছে আলোচিত সমালোচিত নাটক, হুমায়ুন আহমেদ আর অরুণ বরুণের যা ইচ্ছা তা দেখাইলাম নাটক দেখে মানুষ যখন বিরক্ত হইয়া উঠছে তখন এইগুলাই ছিল ফারুকীর জন্য বাঙ্গালির ড্রয়িংরুমের এন্ট্রি পাস। ফারুকী ড্রয়িংরুমে ঢুকে খুব কম সময়েই হয়ে গেলেন পরিবারের একজন, ঘরের কর্তা রাতের খাবারের আগে সিএনএন বিবিসি রাইখা ফারুকীর নাটক দেখলেন, ছোট ছেলেটা ঘুমজড়ানো চোখে টিভির সামনে বসে থাকল, তখন মোবাইল ফোনে প্রেমের যুগ শুরু হয় নাই বলে পড়ার টেবিল ছেড়ে কলেজ পড়ুয়া মেয়েটাও এসেও বসলো বাবা, মা, ভাইয়ের পাশে, টিভিতে চলছে ফারুকীর নাটক, টেলিভিশনের এই ভালো কাজগুলাই ছিল আসলে ফারুকীর ইনভেস্টমেন্ট, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর মতো দীর্ঘমেয়াদে।

ভালো কাজে ফারুকী ছড়িয়েছেন বাঙ্গালির ড্রয়িংরুমে, নগর সভ্যতার অলিতে গলিতে। যেহেতু স্যাটলাইট চ্যানেল ছিল তার নির্মাণ প্রচারের মাধ্যম তাই তিনি শহরে নগরে বিস্তৃত হয়েছেন খুব কম সময়েই, অথচ কম টাকা পাওয়া যায় বলে বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে বরাবরই দুরত্ব বজায় রেখে চলেছেন, গ্রামে যাননি, মেঠোপথে শহুরে যুবকের পায়ে বৃষ্টির দিনে কাদা লাগতে পারে, শীতে হেমন্তে ধূলো। ফারুকী তাই শহুরে নির্মাতা, গ্রামের জীবনে অনভ্যস্থ যুবক, নির্মাণে গল্প আর কাহিনী বেছে নিলেন শহর সভ্যতার। শুরুতেই হাতে ট্রাম্পকার্ড পাইছিলেন, আনিসুল হক-ফারুকী তাই আজ জনপ্রিয় জুটি, ফারুকীর নাটক মানে বিশেষ পত্রিকার বিশেষ প্রচারণা, আলাদা আর্টিকেল, আলাদা স্টোরি, খ্যাতিমান সঙ্গী পাইয়া ফারুকী টেলিভিশন মিডিয়ার তিন তাসে বিজয়ী, শেষ দৃশ্যে তার হাতে টেক্কা কালার !

যেহেতু বিশেষ পত্রিকার বিশেষ মানুষ সঙ্গে আছেন তাই চিন্তা নাই, ফারুকী ভালো কাজে দৌড়াইতে লাগলেন, টেলিভিশন নাটকের উসাইন বোল্ড দৌড়াইতে দৌড়াইতে সবার আগে ঠিকই, তবে দৌড়াইতেছেন স্টেডিয়ামের বাইরে একা একা, অন্যরা সবাই স্টেডিয়ামে এক পথে এক ট্র্যাকে। ফারুকী বানাইয়া ফেললেন নিজের জন্য আলাদা ট্র্যাক, ভিন্ন পথ। টেলিভিশন নাটক নিয়া ফারুকীর শুরু হইলো বিশেষ এক্সপেরিমেন্ট, টেলিভিশন নাটক হইয়া গেল গিনিপিগ, শুরু হলো ফারুকীর নিজস্ব ভাষার প্রয়োগ। এক্ষেত্রে একটা জিনিষ খেয়াল করতেই হবে, বিশেষ পত্রিকা যখন ভাষা প্রয়োগ, প্রতিযোগ, বাংলা ভাষার সঠিক বানান, সিনেমার অশ্লীলতা নিয়া দেশব্যাপী তুমুল তোলপাড় শুরু করলো, তখন মিস্টার ফারুকী দৌড়ের মাঠ একা করে নিছেন, সবাই এক লাইনে, তিনি দৌড়াইতেছেন তার নিজস্ব লাইনে, টেলিভিশন নাটকে তার এই নিজস্ব ভাষা প্রয়োগে দর্শকদের কেউ আনিন্দিত হইলেন, সমালোচকরা বললেন, গেল গেল, যা আছিলো সবই গেল, দর্শক বিনোদনে পরিপূর্ণ হইয়া ফারুকীর নাটকে পুরোপুরি মজে গেলেন, তখন অনেকরেই আমি বলতে শুনছি, এতো দেখি টিভি নাটকে আমাদের ঘরে ব্যবহৃত ভাষা, নাটক না, মনে হইতাছে যা দেখাচ্ছে তা আমার চোখের সামনেই ঘটতেছে। কিন্তু জাত গেল জাত বলে যারা অন্য কিছুতে চিৎকার করে, বাঙ্গালি শিশু কিশোরদের যারা শুদ্ধ বানানের চর্চা শেখাইতেছে দিনের পর দিন, এই বিষয়ে তারাই চুপ, বিশেষ পত্রিকায় ফারুকীর নিজস্ব ভাষাজ্ঞানের বিরুদ্ধে কিছু না লিখে ছাপা হইতে লাগলো তারে নিয়া বিশেষ বিশেষ স্টোরি, থ্রি সি ফোর সি বক্স আইটেম, ঐ নতুনের কেতন ওড়ে !

ফারুকী জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেন টেলিভিশন সিরিয়াল বানাতে এসে, ৫১ বর্তী দিয়ে তিনি শুরু করেন তার টেলিভিশন সাম্রাজ্য দখলের ম্যারাথন দৌড়। ৫১ বর্তী নাটকে টেলিভিশনের নিয়মিত অভিনেতা অভিনেত্রীর সঙ্গে ফারুকী পর্দায় নিয়ে আসেন একেবারে নতুন কিছু মানুষকে, এই নতুন মানুষগুলোই একটা সময়ে পেশাদার অভিনেতা অভিনেত্রীর থেকেও দর্শকদের বেশি আনন্দ দিতে শুরু করলো , দর্শক যখন বিনোদনে বিনোদনে পরিপূর্ণ ততদিনে ফারুকী দৌড়ের ট্র্যাক পুরোপুরি নিজের করে নিয়েছেন, বদলে গেছে তার নাটকের ভাষা, শাহবাগে সারাদিন শুয়ে বসে থাকা কবি মারজুক, নড়াইল থেকে ঢাকায় আসা কাঁচা পাকা দাঁড়ির কচি খন্দকার, শাহবাগে আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কবিতা কবিতা বলে গলা ফাটানো কবি রিফাত চৌধুরী, সাংবাদিক হাসান মাসুদ- ফারুকীর বদৌলতে ততদিনে টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ। দর্শক আনন্দিত হইলো এসব অভিনেতাদের অভিনয় দেখে, মুগ্ধ হইলো, কেউ কেউ গলা ফাটাইয়া বললো, এরা তো অভিনয় করে না, বাস্তবে যা করে তা-ই টিভির পর্দায় চালাইয়া দেয়। এদেরই তো দরকার ছিলো, এরা এতদিন কই আছিলো !

৫১ বর্তী দিয়ে ফারুকী জনপ্রিয়, কেচ্ছা কাহিনী লিখছেন বিশেষ পত্রিকার বিশেষ মানুষ, পর্দায় শাহবাগে আজিজ মার্কেটে-জাতীয় জাদুঘরের সামনে শুয়ে বসে দিন কাটানো কবি মারজুকের সংলাপ, আরে ব্যাপার না, এইডা একটা ব্যাপার হইলো- মারজুকের যে ভাষা নিয়া আমরা ছবির হাটে-মোল্লার দোকানে-আজিজে বসে হাসাহাসি করতাম, তার হাঁটার স্টাইল দেইখা কইতাম, হালার পায়ে সমস্যা আছে- সেই মারজুকের সংলাপ, হাঁটার স্টাইল নাটকের প্রিয় দৃশ্য হইয়া গেল, অই সময়টাতে আমরা অবাক হইয়া দেখতাম, ফারুকীর উৎপাদিত টেলিভিশন নাটকের তার নিজস্ব মুখ সঙ্গী সাথীদের মধ্যে মারজুক সর্বপ্রথম স্টার হইয়া গেল, শাহবাগে দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া মারজুক অটোগ্রাফ দেয়, মারজুকের অটোগ্রাফ হাতে তরুণী খুশিতে ঝিলিক মারে, কেউ একজন আইসা মারজুকরে জিগায়, ভাই কেমন আছেন, আপনার অভিনয় আমার খুব ভালো লাগে। মারজুক বলে উঠে, আরে অভিনয়, ব্যাপার না !

ফারুকীর ভাই বেরাদার কোম্পানির যাত্রা শুরু মূলত মারজুক জনপ্রিয় হয়ে যাওয়ার পর থাইকা, মারজুক তখন শাহবাগে তার সঙ্গে যারা থাকতো, অথবা পরিচিত কারো সঙ্গে দেখা হইলেই কইতো, আরে মিয়া এইডা একটা কথা হইলো, দেখা হয় নাই তো কি হইছে, তুমি তো আমাগো ভাই বেরাদার।

মারজুকের এই ভাই বেরাদার কথাটাই পরবর্তী সময়ে ফারুকীর জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়া জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এখান থেকেই পরবর্তীতে জন্ম হয় বিশাল এক ভাই বেরাদার বাহিনী।

চ্যানেল ওয়ানে ফারুকী তার দলবল নিয়ে শুরু করেন ছবিয়াল উৎসব । এটা ছিলো মূলত টিভি নাটকের একটা উৎসব। এই উৎসবে ফারুকীর পাশাপাশি কয়েকজন তরুণ প্রথমবারের মতো নির্মাতা হিসেবে বেশ কয়েকটি নাটক তৈরি করেন। এদের বেশিরভাগই ছিলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সহকারী পরিচালক। এই উৎসবে ফারুকীর নাটকের নিয়মিত অভিনেতাদের দু’একজনও নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। একজন নাট্য নির্মাতা হিসেবে ফারুকী বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তার সহকারীদের নিয়ে এমন একটা নাটকের উৎসব আয়োজন করেন।

এমনিতে বাংলাদেশের কোনো নির্মাতা চান না তার সহকারী নির্মাতা তার সঙ্গ ছেড়ে পুরোপুরি নির্মাতা হয়ে উঠুক। কোনো পরিচালকের সহকারী যদি নির্মাতা হিসেবে ভালো কোনো নাটক বানিয়ে ফেলে তখন দেখা যায় সেই পরিচালকের সঙ্গে তার সম্পর্ক চলে গেছে সাপে নেউলের পর্যায়ে ! নাট্য পরিচালকদের তখন বলতে শোনা যায়, আমার নাটকের স্ক্রিপ্ট চুরি করে নাটক বানিয়েছে ! ও আবার পরিচালক হলো কবে ? কিন্তু ফারুকী এক্ষেত্রে ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি ছবিয়াল উৎসবের নামে সুযোগ করে দিয়েছিলেন বেশ কিছু তরুণকে নাট্য পরিচালক হিসেবে একসাথে আত্মপ্রকাশের। কিন্তু তার সহকারী ও ভাই বেরাদাররা ছবিয়াল উৎসবে নাটক বানাতে এসে মোটামুটি বাংলা নাটকের কবর খুঁড়তে শুরু করেন। কেউ যা ইচ্ছা তা বানাব নীতিতে, কেউ পুরোপুরি হলিউড ও বলিউডকে কপি করে বানাতে শুরু করেন টিভি ফিকশন। ফারুকী ছবিয়াল উৎসবের মাধ্যমে যে তরুণদের সুযোগ দিয়েছিলেন তাদের অনেকেই টেলিভিশন মিডিয়ার এত বড় জগতে এসে পথ হারিয়ে ফেলেন। আবার অনেকেই এই উৎসবকে বেছে নিয়েছেন নিজের ভবিষ্যত তৈরির প্লাটফর্ম হিসেবে। ছবিয়াল উৎসব শুরু হওয়ার পর থেকেই ভাই বেরাদার কথাটা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। ফারুকী বিভিন্ন ইন্টারভিউতে বলতে শুরু করেন, ‌এই উৎসবটা ভাই বেরাদারদের উৎসব। আমার সাথে যারা কাজ করেন, আমার নাটকে যারা অভিনয় করেন এদের অনেকেই এই উৎসবে নির্মাতা, মূলত এরা সবাই আমার ভাই বেরাদার। চ্যানেল ওয়ানে দেখানো উৎসবের প্রোমোতেও দেখা যায় ফারুকী ফুটবল খেলছেন বিশাল এক দলবল নিয়ে। ছবিয়াল উৎসবের নির্মাতারা তাদের নাটকেও ভাই বেরাদার কথাটাকে ব্যবহার করতে করতে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন। তারপর আবার শাহবাগের মোড়ে অথবা গুলশানের টাইম আউট রেস্তোরায় আড্ডা দিতে গেলে শুনতে হয়েছে, আরে ভাই আপনি যদি না আহেন, তাইলে আমগো শুটিং দেখতে কে আইবো, আপনি তো মিয়া আমাগো ভাই বেরাদার। ইউনিভার্সিটির ছোট ভাইয়ের দল হয়তো চা খেতে গেছে হাকিম চত্বরে, দেখা হয়ে গেছে বড় ভাইয়ের সাথে, বড় ভাই জানতে চেয়েছে, এরা কি তোমার ফ্রেন্ড, ছোট ভাই বলেছে, এইতো ভাই, আমরা সবাই হইলাম গিয়া ভাই বেরাদার ! ভাই বেরাদার কথাটা ছড়িয়ে গেছে এভাবেই।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের থেকে ফারুকী ও তার ভাই বেরাদাররা বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের মাঝে, আবার নাটকে ভাই বেরাদার এদেরকেই বলে- ফার্মের মুরগি, এটা দেখেই এরা হেসে গড়াগড়ি খায়, এদেরকেই নিয়ে গেছে বেডরুমে, দেখিয়েছে, প্রাইভেট ভার্সিটি মানে তাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত ভাষা, নাটকের সংলাপে পর্দার মানুষ বলেছে, আজ আমাকে অনেক এক্সারসাইজ করতে হবে, সাথে কিছুটা সেক্সারসাইজও! নাটকে এসব দৃশ্য দেখে প্রাইভেট ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা (হয়তো সবাই না) গুলশান বনানীর ইউনিভার্সিটির সিঁড়িগুলোর আড্ডায় টেনে এনেছে ভাই বেরাদারের নাটকের কথা, তাদের কেচ্ছা কাহিনী, ফোনে ন্যাকামো করে কিভাবে মেয়ে পটানো যায় এমন গল্প, নাকি সুরে প্রেমিকার সাথে করেছে মিথ্যে কান্নার অভিনয় ! ভাই বেরাদাররা দিনের পর দিন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের তাদের নাটকের সাবজেক্ট বানিয়ে গেছে।

ছবিয়াল উৎসব কিছুদিন যাওয়ার পরই বেশ জমে উঠে। ফারুকীর পাশাপাশি এতদিন তার সহকারী হিসেবে কাজ করা তরুণ নির্মাতাদের ভালো কিছু কাজের জন্য টেলিভিশন নাটকের এই উৎসব খুব কম সময়েই জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। ছবিয়াল উৎসবের মাধ্যমেই বর্তমান সময়ের অনেক জনপ্রিয় নির্মাতার জন্ম হয়। ছবিয়াল উৎসবে ফারুকীর পাশাপাশি শরাফ আহমেদ জীবন, রেদোয়ান রনি, ইফতেখার ফাহমি, কচি খন্দকার, আশুতোষ সুজন, রাজীব আহমেদ, আশফাক নিপুণ, ইশতিয়াক আহমেদ রুমেল সহ আরো অনেকেই তাদের পরিচালক হিসেবে তৈরি নাটক দেখানোর সুযোগ পান। এই উৎসবে নাটকের ভাষা হিসেবে ফারুকীর ভাই বেরাদাররা বেছে নেন ফারুকীর ভাষা ব্যবহারের নিজস্ব স্টাইলটাকেই। পরবর্তীতে এটাই টেলিভিশন নাটকে মহামারী হিসেবে দেখা দেয়। ছবিয়াল উৎসবে ভাই বেরাদাররা ফারুকীর নিজস্ব ভাষা স্টাইলে নাটক নির্মাণ করলেও অনেকের কাজেই যত্নের ছোঁয়া ছিলো। বিশেষ করে রেদোয়ান রনি’র উড়োজাহাজ, শরাফ আহমেদ জীবনের ঘর নাই, আশুতোষ সুজনের ট্যাক্সি ড্রাইভার উল্লেখযোগ্য।

আবার একই উৎসবে রাজিব আহমেদ টু ইন ওয়ান নাটক বানাতে গিয়ে কি বানিয়েছেন তা তিনি নিজেই ভালো জানেন। ইউনিভার্সিটি কলেজপড়ুয়া মেয়েরা যে এখন ইচ্ছে করলেই ছেলেদের মেসে রাত কাটাতে পারে আমোদ ফুর্তি করার জন্য তা এই নাটক দেখলেই ভালো জানা যাবে। টু ইন ওয়ান নাটকে দেখা যায়, চৈতি নামের মেয়ে একই মেসের তিন বন্ধুর সাথে প্রেম করে। প্রথমজনের সঙ্গে খুব তুচ্ছ কারণে বিচ্ছেদ হয়। দ্বিতীয়জনের সাথে বিচ্ছেদ হওয়ার আগেই সে তৃতীয়জনের সাথে রাত কাটায়, নাটকে তৃতীয় জনের চরিত্রে অভিনয় করা মানুষটি ছিলেন কবি কামরুজ্জামান কামু। টু ইন ওয়ান নাটকটি দেখার পর আমার মাথায় এই প্রশ্নটি বারবার ঘুরছে, একটা ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে একই ফ্ল্যাটের তিনটা ছেলের সঙ্গে কিভাবে প্রেম অথবা শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে, এটা কি সম্ভব ? এটা কি বাস্তব কোনো দৃশ্য হতে পারে, নাকি পরিচালকের নিজের মনের ফান্তাসা তিনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে, যারা ক্লাসে বসে বলবে, অনেক এক্সারসাইজ, সাথে একটু সেক্সারসাইজও করতে হবে ! auto

ছবিয়াল উৎসবে কিছু ভালো নাটকও ছিলো, এরমধ্যে শরাফ আহমেদ জীবনের কথা। বিশেষ করে বলতে হয়। জীবন ফারুকীর প্রথমদিকের সহকারীদের একজন, ছবিয়াল উৎসবে সম্ভবত তারই সবচেয়ে বেশি নাটক দেখানো হয়। উৎসবে তার নির্মিত নাটকগুলোতে তিনি বাস্তবকে বিভিন্নভাবে ক্যামেরায় ধারণ করার চেষ্টা করেন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি সফলও হয়েছেন। প্রথমে ফারুকীর সহকারী, পরবর্তী সময়ে যাদের শরীরে ভাই বেরাদার ট্যাগ লেগেছে, তাদের মধ্যে শরাফ আহমেদ জীবন সবচেয়ে মেধাবী, ছবিয়াল উৎসবে তার নির্মিত কাজগুলোই সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পায়। আশুতোষ সুজনের একটা কাজ তুমুল জনপ্রিয়তা পেলেও জনপ্রিয়তার কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, গতানুগতিক গল্পের বাইরে গিয়ে একটা ট্যাক্সি ড্রাইভারের জীবনের গল্প মানুষকে টেলিভিশনের পর্দায় নিয়ে আসে ঠিকই, কিন্তু এই নাটকের শেষটা দর্শককে মুগ্ধ করতে পারেনি। সুজন মাঝমাঠের ভালো খেলোয়াড়, কিন্তু রোনালদো বা মেসির মতো ভালো ফিনিশার না। এজন্য ছবিয়াল উৎসবে প্রদর্শিত তার ধারাবাহিক নাটক ট্যাক্সি ড্রাইভারের শেষদিকে তিনি দর্শকদের হতাশ করেছেন। যদিও ফারুকীর সহকারী পরিচালকদের মধ্যে সুজন-ই টিনের তলোয়ার নামের একটা নাটক তৈরি করে তুমল আলোচনার সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভারতের একটি ডিজিটাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও নাটকটি প্রশংসিত হয়েছিল। auto

ছবিয়াল তৈরির পেছনে অনেকেই ফারুকীর মহত্বের কথা বলেন। ভাই বেরাদারের কথা যদি কখনো কোনো আড্ডায় উঠে আসে তখন দেখা যায় অনেকে এই কথাটি বলেন, ফারুকী যদি ছবিয়াল উৎসব না করতো তাহলে এত এত নির্মাতা বের আসতো কিভাবে ? কিন্তু এই কথাটি তারা ভেবে দেখেন না, ফারুকীর নিজস্ব ধারাকে ব্র্যান্ডিং করার জন্য তার মতো আরো অনেক নির্মাতার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অন্য সবাই মূলধারায় নাটক নির্মাণের ফলে ফারুকী তার সৃষ্ট ধারা নিয়ে একাই পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন। পরবর্তী সময়ে যখন সিনিয়র অনেকেই ফারুকীর এই ধারার সমালোচনা করে প্রচার মাধ্যমে বিবৃতি দিতে শুরু করেন তখন ভাই বেরাদাররা সমালোচনার জবাবে ফারুকী’র নিজস্ব স্টাইলে একের পর এক নাটক বানাতে শুরু করে। সেসময়ে প্রয়াত অভিনেতা ও চলচিত্র নির্মাতা আবদুল্লাহ আল মামুন ফারুকী ও ভাই বেরাদারের নাটকের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

ছবিয়াল উৎসবের অনেক নাটকই ছিলো নাটক বানানোর জন্য বানানো, বানাতে হবে বলে বানাচ্ছি এমন সূত্রে তৈরি । অনেক নাটকে কাহিনীর কোনো শেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি, অনেক নাটকে খাইছি-গেছি’র বাইরে আলাদা করে কিছু ছিলোও না। ছবিয়াল উৎসবের এমন কিছু নাটক হচ্ছে লস প্রোজেক্ট, খসরু+ময়না,টু ইন ওয়ান, পারুল সমাচার। অবাস্তব কিছু গল্প বাস্তবের মতো করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও সিনেমার মানে পর্দায় সত্যের মতো করে মিথ্যে বলে যাওয়া, কিন্তু ছবিয়াল উৎসবের এসব নাটকে ভাই বেরাদাররা মিথ্যে বলে গেছেন গল্পের কানা চিপা গলিতে, নাটকের শেষ দৃশ্যে গিয়ে বোঝা গেছে এটা তাদের নিজস্ব ফান্তাসা !

ছবিয়াল উৎসবে কচি খন্দকারের খসরু+ময়না নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে দেখানো হয় শিক্ষকের সাথে ছাত্ররা কিভাবে বেয়াদবি করে, এলাকার মুরুব্বিদের সাথে উঠতি বয়সের ছেলেরা কি ধরণের ফাজলামি করে, পরীক্ষায় ফেল করে স্কুল পাশ না করা যুবক কিভাবে মদ্যপানের উৎসবে মেতে উঠে। শেষ দৃশ্যে বাংলা সিনেমার মতো একটা নাটকীয় দৃশ্য জুড়ে দেয়া হয়, শেষ দৃশে দেখানো হয় খসরু ময়নাকে একটি চিঠি লিখছে এবং তার পাশে এসে তার স্ত্রী লেখালেখি করার জন্য তার সাথে কড়া ভাষায় কথা বলছে। স্ত্রী’র চরিত্রে যে মেয়েটিকে দেখা যায় সে একসময় ময়নার বান্ধবী ছিলো এবং খসরু’র হয়ে ময়নার কাছে তার কথাগুলো পৌছে দিতো। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মফস্বলের স্কুলের ছেলেরা কি সত্যি সত্যি স্কুলে থাকাকালীন সময়ে মদ্যপান করার সুযোগ পায় ? নাটকের এই দৃশ্য কি আমাদের সমাজে মানানসই ? টেলিভিশন নাটকে এমন দৃশ্য দেখিয়ে ভাই বেরাদার কচি খন্দকার পরীক্ষায় ফেল করার পর স্কুলের ছেলেদেরকে মদ্যপান করার জন্য কি প্ররোচিত করছেন না ?[১]

পরবর্তী সময়ে চ্যানেল আইতে প্রদর্শিত কচি খন্দকারের ম্যাঁও নাটক/টেলিফিল্ম দেখে মনে হয়েছে যা ইচ্ছে তা বানাতে তিনি টেলিভিশন নাটকের পরিচালক হয়েছেন। চ্যানেল ওয়ানে প্রদর্শিত নো কোয়েশ্চেন নো আনসার ধারাবাহিকটি চলাকালীন সময়ে কচি খন্দকারের যা ইচ্ছা তা দেখালাম নীতিতে দর্শকের সাথে নাটকের প্রযোজকও বিরক্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে এই ধারাবাহিকের প্রযোজক দেশের নামকরা ফ্যাশন ডিজাইনার জহির করিম বিরক্ত হয়ে কচি খন্দকারকে নাটকের গল্প বদলানোর জন্য পরামর্শ দেন। এছাড়া তিনি যেন নাটকে ভাই বেরাদারের আধিক্যের বদলে পেশাদার অভিনেতা অভিনেত্রীর গুরুত্ব দেন একথাটিও বলে দেন। পরবর্তী সময়ে কচি জহির করিমের কথা না শোনার কারণে তিনি নাটকের ১৮ পর্বের পর টাকা লগ্নি করা বন্ধ করে দেন। এখানে একটি কথা জেনে রাখা দরকার, সিনোপসিসের সঙ্গে নাটক বানানোর আগে নির্মাতাকে প্রযোজক এবং সংশ্লিস্ট চ্যানেলের কাছে সম্ভাব্য শিল্পীর একটা তালিকা জমা দিতে হয়। তারপরই চ্যানেল থেকে নাটকটি তৈরি করার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ছবিয়ালের ভাই বেরাদারের অনেকেই টাকা বাঁচাতে নিজেদের ভাই বেরাদার শিল্পী নিয়ে নাটকের বড় একটা অংশ পাড়ি দেন এবং একজন বা দুইজন তারকা শিল্পীকে দেখিয়ে নাটকটিকে নাটক হিসেবে চালানোর জন্য চ্যানেলে জমা দেয়া হয়। অনেক চ্যানেল আবার ভাই বেরাদারের নিজস্ব শিল্পী নিয়ে নাটক তৈরি করাটাকে উৎসাহ দিয়ে থাকে। এই উৎসাহ দেয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে, কচি খন্দকার বা ভাই বেরাদারের অন্য কেউ যদি তারকা শিল্পী দিয়ে একটা ধারাবাহিক নাটক বানান সেখানে প্রতি পর্বে তার খরচ পড়বে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। অন্যদিকে ভাই বেরাদার শিল্পী সমৃদ্ধ একটি নাটক তারা অনায়াসেই ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার ভিতরে তৈরি করে ফেলেন। এজন্য কম টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বলে অনেক চ্যানেল ভাই বেরাদারের অখাদ্য কুখাদ্য অনেক নাটক প্রচার করছে। এসব ধারাবাহিক নাটকের অনেকগুলো আবার জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে, টিআরপি রেটিংয়েও ভালো অবস্থানে চলে যাচ্ছে।

তবে ছবিয়ালের অনেক নির্মাতাই আবার অনেক বিগ বাজেটে ধারাবাহিক তৈরি করছেন। টেলিভিশন বাজারের চাহিদা এবং দর্শকদের কাছে কিছু পরিচালকের গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যাওয়ার কারণে এমন হচ্ছে। ছবিয়ালের ভাই বেরাদারের মধ্যে বিগ বাজেটের নাটক ও ধারাবাহিকের নির্মাতা হচ্ছেন ইফতেখার ফাহমি, রেদোয়ান রনি ও মোস্তফা কামাল রাজ। এদের বিরুদ্ধে আবার বিদেশী ছবির গল্প চুরি করে নাটক বানানো এবং অন্যের গল্প চুরি করে নাটক বানানোর অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ তার গল্প ও উপন্যাসের চরিত্র চুরি করে একটি ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করার জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। রেদোয়ান রনি’র বিরুদ্ধে হুমায়ুন আহমেদের অভিযোগ হচ্ছে, নিষেধ করার পরও রনি তার উপন্যাসের জনপ্রিয় চরিত্র হিমু, মিসির আলি, মুনা, বাকের ভাই, বড় চাচা- এদেরকে নিয়ে নাটক তৈরি করেছেন এবং চরিত্রগুলোর আবেদন নষ্ট করেছেন।[২]

এই ধারাবাহিক নির্মাণের আগে ইফতেখার ফাহমি আমি হিমু হতে চাই নামে একটি এক ঘন্টার নাটক তৈরি করেছিলেন। তখন আমি হিমু হতে চাই নাটকটি দর্শক মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি করার ফলে ফাহমি আবার আলোচনায় চলে আসেন। আমি হিমু হতে চাই নাটকটি দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার কারণে রনি পরবর্তীতে সরাসরি হিমু, বাকের ভাই, মুনা, মিসির আলি, বড় চাচাকে এক নাটকে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের কাছে অনুমতি নিতে গেলে তিনি নাটকটি নির্মাণে রনিকে অনুমতি দেননি। কিন্তু রনি হুমায়ুন আহমেদের অনুমতির অপেক্ষা না করেই নাটকটি তৈরি করেন। ধারবাহিকটি এই ঈদে দেশটিভিতে দেখানো হয়। এই সময়ে সেই সব মানুষেরা নামের ধারাবাহিকটিতে দেখা যায়, হিমু’র চরিত্রে অভিনয় করার ফলে মোশাররফ করিমকে বারবার পর্দায় দেখা গেছে। এছাড়া হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাসের চরিত্রগুলোকে এই নাটকে তার নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছেন রনি। হমায়ুন আহমেদের উপন্যাস হিমুর রূপালি রাত্রি’তে হিমুর ব্যাঙ্গাচি নামের এক বন্ধু থাকে, যে একটি ভালো চাকরি করে এবং মাস শেষে বেতনের টাকাটা তার স্ত্রী তার কাছ থেকে নিয়ে যায় সে যাতে বাইরে খেতে না পারে এজন্য। এছাড়া নাটকে আরো দেখানো হয় ব্যাঙ্গাচির বাবা একজন মন্ত্রী। অথচ হিমুর বন্ধুদের মধ্যে একমাত্র জহিরের বাবা মন্ত্রী ছিলেন এবং হিমু জহিরকে মাটির সাথে মিশে যাওয়ার থিওরি শিখিয়ে এক জঙ্গলে নিয়ে পুরো শরীর মাটিতে ঢুকিয়ে শুধু মাথা বাইরে রেখে জোছনা দেখতে শুরু করে, কিন্তু নাটকে দেখা যায় জহিরের বদলে ব্যাঙ্গাচি টেনে নিয়ে যাচ্ছে চরিত্রটা। নাটকের গল্প কাহিনীর প্রয়োজনে এভাবে গল্প পাল্টে নেওয়া যায়, কিন্তু সেখানে গল্প উপন্যাসের চরিত্রগুলো যিনি সৃষ্টি করেছেন তার অনুমতির প্রয়োজন আছে, রনি এই অনুমতিটাই নেননি কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের কাছ থেকে। এই ঈদের আগের ঈদে রনি নির্মিত বিহাইন্ড দ্যা সিন নামের ৫ পর্বের একটি ধারাবাহিক দেখানো হয় এনটিভিতে। বিহাইন্ড দ্যা সিন ধারাবাহিকের গল্প ছিল একটি শুটিং ইউনিট নিয়ে। শুটিং ইউনিটের নানা ঘটনা, শুটিং ইউনিটের নানা সমস্যা এবং এসব কারণে ইউনিটের ভিতরে ঢুকে পড়ে দুজন চোর। নাটকের শেষ দৃশ্যে দখা যায়, চোর দুজন ক্যামেরার ব্যাটারি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়ে যায়। এই ধারাবাহিক দিয়ে পরিচালক দর্শকদেরকে কি দেখাতে চেয়েছেন তা তিনিই ভালোই বলতে পারবেন।

তবে একজন পরিচালকের পুরো ইউনিটের কাজ কারবার টেলিভিশন পর্দায় সবচেয়ে ভালো করে ফুটিয়ে তুলেছেন ভাই বেরাদারের বিগ বস মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি তার ঊনমানুষ নাটক/টেলিফিল্মে নিজের পুরো ইউনিটকে দেখিয়ে ফেলেন আলাদা একটি শুটিং ইউনিট হিসেবে। নাটকে শুটিং ইউনিটের পরিচালক ছিলেন মারজুক রাসেল। এই চরিত্রে তিনি অনেক ভালো অভিনয় করেন। এছাড়া ঊনমানুষ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা হুমায়ুন সাধুও ভালো অভিনয় করেন। ফারুকী নির্মিত এই নাটকটি নানা কারণে অনেক প্রশংসিত এবং আলোচিত সমালোচিত। কচি খন্দকারের টেলিফিল্ম ম্যাও দর্শকদের বিরক্তি উপহার দিয়ে গেছে শুধু। এই টেলিফিল্মের গল্পে দেখা যায়, একটা বাসায় কেউ একজন একটা টেলিফোন করে। বাসার কর্তা বা কর্তী ফোন ধরলে সে ম্যাঁও বলে। এভাবে একসময় ভদ্রলোক ম্যাঁওয়ের জালে বন্দী হয়ে যান। যেদিকেই যান সেদিকেই তিনি ম্যাঁও ম্যাঁও শুনতে থাকেন। মহল্লার ছেলেরাও তাকে উত্যক্ত করতে তার পেছনে লুকিয়ে ম্যাঁও ম্যাঁও বলে চিৎকার করে।

কচি খন্দকারের এই নাটক/টেলিফিল্ম দেখে বারবার মনে হয়েছে অভিনেতা হিসেবে তার একটা জনপ্রিয়তা সৃষ্টি হয়ে গেছে যখন তখন কেন আর টেলিভিশন নাটক পরিচালনায় আসা ? যদি ম্যাঁওয়ের মতো চিল্লাচিল্লি নির্ভর নাটক বানানোর পর সেটা যদি দিনের পর দিন চ্যানেলগুলোর টেবিলে টেবিলে পড়ে থাকে, তাহলে কেন এই নাটক বানানো ? এই নাটক দেখে চ্যানেলওয়ালারা যেখানে সন্তুষ্ট হতে পারেন না সেখানে নাটকটি টেলিভিশনের পর্দায় দেখিয়ে দর্শককে বিরক্ত করার কি কোনো মানে আছে। ছবিয়ালের আরেক ভাই বেরাদার এবং কচি খন্দকারের সহকারী মিলন ভট্টাচার্য্য সম্প্রতি একটি নাটক বানিয়েছেন। তার নির্মিত নাটকের নাম আন্তঃনগর উঠলে কিন্তু খবর আছে !

http://www.sachalayatan.com/aaha_aaha65_yahoo_co_uk/35384

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: