অফসাইড, মজার এবং আশাজাগানো এক ইরানী মুভি- একটা রিভিউ পোস্ট নামের কলঙ্ক

Panahi-i-Berlin.jpg

জাফর পানাহীরে চিনেন? কিংবা মজিদ মালিকী? বা আব্বাস কিয়োরোস্তোমি? বা মাখমলবাফ(কি বিদঘুইট্যা বানান! ঠিক হইলোতো?) গুষ্টি? আচ্ছা বাদ দ্যান, এই মুভিগুলার নাম শুনছেন, চিলড্রেন অফ হ্যাভেন, টেস্ট অফ চেরী, কালার অফ প্যারাডাইস?আশাকরি বেশিরভাগই বুইঝ্যা ফেলাইসেন যে আমি ইরানী মুভির কথা কইতাসি। যেইহানে চোখ ধাঁধানো কোটি কোটি ডলারের ইফেক্টে হলিউডি মুভি আমরা গোগ্রাসে গিলি(যার বেশিরভাগই আমার মনে হয় ডিরেক্টর আর স্ক্রিপ্ট রাইটার গাঁজায় দম দিয়া বানায়!) সেইহানে অত্যন্ত কম বাজেটে সেলুলয়েডের পর্দায় আমাদের মাথা আউলা কইরা দ্যায় এই ইরানী মুভি গুলা। আইজ আপনাদের এইরম এট্টা মুভির কাহিনী শুনামু।

তার আগে এট্টু জাফর পানাহীরে লইয়া গ্যাঁজাই। ভদ্রলোক আব্বাস কিয়োরোস্তোমির শিষ্য। বসের মত তারও বৈশিষ্ট্য হইলো ক্যামেরার লং শটের মুন্সিয়ানা। অর্থাৎ একেকটা দৃশ্য অনে এ এ এক লম্বা(এইটা খুবই কঠিন কাজ এবং ব্যাটায় এতই পার্ফেক্টলি করে যে অনেক সময় সীন পার হয়া গেলে টের পাওন লাগে যে, বাব্বাহ! এতক্ষণ ধইরা চলছে?) তিনি মূলত ডকুভিডীও জেনারে মুভি বানান। যাইকগা, টেকনিক্যাল আলাপ থাউক, আনলাইক আর দশটা টিপিক্যাল ইরানী পরিচালকের মত ইনি শুধু প্রাকৃতিক, দার্শনিক, মনোজাগতিক আর সামাজিক মাইল্ড বিষয় নিয়া ফিলিম বানান না। এক্কেরে মূলে আঘাত করার মত ফিলিম বানান। তার সবচেয়ে গ্রাউন্ড ব্রেকিং ফিলিম হইলো দি মিরর। এইটা নিয়া পরে আলুচনা হবে এনশাল্লা। খয়ের, যা কইতাসিলাম, এইরম মুভি বানাইলে তো আর ইরানী সরকার তারে চুম্মা দিবোনা, লেটেস্ট ছাত্রদের ফুঁসে ওঠার সময় তারে ধইর‌্যা দিছিলো গারদে পুইর‌্যা। অজুহাত? ব্যাডার নাকি এইডা নিয়া ফিলিম বানাইতে মঞ্চায়:Pনেহায়েত গোল্ডেন বিয়ার টিয়ার পাওয়া পরিচালক বইল্যা দুইন্যাজোড়া বিক্ষোভের চাপে ছাইড়্যা দিসে, (তয় আর কুনো মুভি বানানোতে সুলেমানী ব্যান মাইরা) নাইলে শিয়োর কল্লা গেছিলোগা। তার যে মুভি নিয়া হাউকাউ করুম সেইডার নাম হইলো অফসাইড।
Offside-poster.jpg

আইচ্ছা, আপনের মনে এই কুশ্চেনটা আসেনা যে যারা আমাগোর মতন নারী-পুরুষ সহাবস্থানে থাকে না আবার সকল রকম আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতও হয় তাগোরে মনোবিকাশ কিরম? তারা ক্যামনে প্রগতিরে মাইন্যা ন্যায়? ইট্টুও কি খচখচ করে না? ইরান নিয়া এইরম খচখচানি আমার ছিলো, কিঞ্চিত দূর হইসে এই মুভি দেইখ্যা।

অফসাইড কি? নিয়ম ভাইঙ্গা অফেন্সের ডিফেন্সরে ছাড়াইয়া আগাইয়া যাওয়া ছাড়া আবার কি? ভুল সময়ে সঠিক ডিসিশন নেওয়াও কইতারেন, বা সঠিক সময়ে ভুল ডিসিশন। আমাগো চাপাতির কোপ খাওইন্যাডার ভাষায় আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে। আরে এতো ত্যানা পেঁচায়া লাভ কি? অফসাইড হইলো ফুটবল খেলা নিয়া। এই মুভিও আসলে ফুটবল খেলা নিয়া। স্রেফ ফুটবল খেলা নিয়া।(দ্যাখছেন, এতক্ষণ উট্রাঢুনিক আলুচনা কইর‌্যা কি মজাই না নিলামB-))
Offside_DVD.jpg
আসলেই কি তাই? তাইলে কাহিনী খুইল্যাই কই। ২০০৬ সালের ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবলের কোয়ালিফাইং রাউন্ডের খেলা হইবো ইরান বনাম বাহরাইনের। ম্যাচে ড্র করলেই ইরানের অনেক দিন পর আবার বিশ্বকাপ মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত, খেলাও হইতাসে ইরানে। পাবলিক কি আর বয়া থাকবো? দলে দলে সবাই ছুটতাসে স্টেডিয়ামে। ওয়েল, ইট্টু কারেকশন, সব পোলারা ছুটতাসে। মাইয়াগো পারমিশন নাই। কারণ মাঠে প্রচুর গালাগালি করে পাবলিকে, সেইগুলা শোনা তাগোরে হারাম!! কাহিনী শুরু হয় বাসে। এক বুইড়া ট্যাক্সি কইরা স্টেডীয়ামগামী বাসে তার মাইয়ারে খুজতাসে। বেলেহাজ ছেমরি পুরুষের ড্রেস পইড়্যা নাকি মাঠে যাইতাসে দেখতে। অবশ্য তার উদ্দেশ্য মহৎ, কারণ তার পোলারাও বাইরাইসে এবং যদি তারা আগে বইনরে বিছরায়া পায় তো এক্কেরে জানেই মাইরালাইবো! এইবার বাসের মইদ্যে, তুমুল হাউকাউ করতেসে পুলারা, চিপায় এক রুমাল জড়ানো ক্যাপ, ঢোলা টিশার্ট আর জিন্সের প্যান্ট পরা মাইয়া বইসা আছে ভয়ে ভয়ে। অবশেষে সবাই মাঠে পৌঁছায়। কিন্তু বিধিবাম। মাঠে উলটাপালটা জিনিস না ন্যাওনের লাইগ্যা রীতিমত লাইন দিয়া সার্চ করতাসে প্যারামিলিটারীরা। মাইয়াডা ভয়ের চোডে পলাইতে যাইয়া ধরা খায়। যেহেতু ধর্মীয় পুলিশের হেড এহনো আসেনাই, তাই আপাতত বন্দীরে স্টেডিয়ামের দেয়ালের ঠিক পাশে গেটের রেলিং এর সাইডে আটকায়া রাখা হয়। পাহাড়ায় আছে দুইডা ক্যাবলা প্যারামিলিটারী(ইরানে সবাইরে দুই বছর এই আকাম করা বাধ্যতামূলক, এক ক্যাবলা
হইলো মূলত রাখাল, আর আরেকডা নেহায়েতই গোবেচারা গাঁইয়া!) ধীরে ধীরে আরো কিছু বন্দী আসে, তাগো কেউ মহিলা টিমের স্ট্রাইকার, কেউ পাঁড় ফুটবল ফ্যান, কেউ
ইরানের হার্টথ্রব স্ট্রাইকারের দেওয়ানা কেউ নেহায়েতই কৌতুহলে আইছিলো। খেলা শেষ হওনের আগে যেহেতু চীফের আসার টাইম নাই তাই তারা আর কি করে! ফুটবল নিয়া গ্যাঁজায়, ক্যাবলাগুলার লগে বাতচিত করে। ক্যাবলাগুলাও কয় যে তারা খুব যে আনন্দ পাইতেসে তা না। নেহায়েত সিস্টেমের কারণে করতাসে। মাঝখানে এক মাইয়ার টয়লেট চাপে। সে নিয়া কত কাহিনী, তার মুখে পোস্টার দিয়া বাইন্ধা, লুকাইয়া নিয়া যাওয়া হয় স্টেডীয়ামের টয়লেটে, কারণ দেওয়ালে অনেক বাজে কথা লেহা আছে! গাঁইয়া ক্যাবলার লগে টয়লেটে ঢুকতে আসারা ক্যাঁচাল বাধাইলে এই সুযোগে মাইয়া যায় ভাইগ্যা, ক্যাচালকারীরাই তারে ভাগতে সাহায্য করে খেলা দেহানোর জন্য। যাউকগা, ক্যাবলা দুইটার ভয়ঙ্কর পরিণতি()আরো কয়েক বছরের চাকরীর ঘানি টানা!!) মনে কইরা দয়াপরবশঃ হইয়া মাইয়াডা ফির‌্যা আসে। তারপরে আর কি? ইরান জেতে। খুশিতে সবাই হাউকাউ করে। আর মাইয়ারা শাস্তি পাওনের লাইগ্যা আটক থাকা চলমান বাসের মধ্যে তুমুল উল্লাস করে। আমাদের আরেকবার বুঝায়া দ্যায় যে প্রাণোচ্ছলতা আসলে কি জিনিস!
offside4.jpg
মুভিটা আমারে আশাবাদী কইরা তুলসে এই ভাবাইয়া যে ইরানের ইয়ুথরা জাগতাসে। হয়তো সময়ের চেয়ে একটু অফসাইডে আছে, অফসাইডে আছে মুরব্বীদের থেইক্যা, তবুও তাদের মইদ্যে পরিবর্তন হইতাসে। একদিন এরাই জগদ্দল বদ্ধ সিস্টেম ভাইংগা মুক্তি আনতে পারবো, কারণ সুশিক্ষা আর তারুণ্য সবখানেই একই রকম। সবসময়ই আধুনিকের আবাহন চায়। ইরানের রিসেন্ট গণআন্দোলন তারই ইঙ্গিত দ্যায়।
Offside-Panahi2.jpg
(ভয়ে ভয়ে কই, মুভিটার কুনো ডাউনলোড লিঙ্কু জানা নাইক্যা, মেজাজ খারাপ হইলে সরি!/:))
offside-7.jpg

http://www.somewhereinblog.net/blog/infamous_bd/29214641

Advertisements

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: