ভালোলাগা কিছু বাংলা ছবি

বাংলা ছবি’র কথা শুনে অনেকেই হয়তো নাক সিঁটকাবেন। অবশ্য যারা নাক সিঁটকান তাদেরও দোষ দেওয়া চলে না। দোষ স্বয়ং বাংলা সিনেমার। বিশেষ করে আধুনিক বাংলা সিনেমার উদ্ভট কাহিনী, নামনির্বাচনরুচির অতিমাত্র দৈন্যতা, নায়ক-নায়িকাদের অসাধারণ দেহ সৌষ্ঠব(!) এবং গানের হালকা কথা এবং গান দৃশ্যায়নের নামে লাফালাফি-দাপাদাপি করে নগ্ন যৌন সুড়সুড়ি দেওয়া প্রচেষ্টা এবং সর্বোপরি হিন্দি সিনেমার নকল করার ব্যর্থ ও নির্লজ্জ প্রয়াসের কারণে ভদ্র, রুচিশীল, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দর্শকদের একটি বিরাট অংশ অনেক আগেই বাংলা সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তবে ভাল বাংলা ছবি যে একেবারে হচ্ছে না তাও না। কিছু কিছু ভাল বাংলা ছবি ইদানীং কালে হচ্ছে। তবে এতগুলো বাংলা সিনেমার ভিড়ে ভাল বাংলা ছবিগুলো বেছে বেছে দেখতে গেলে অনেক সময় ‘টগ বাছতে গাঁ উজাড়’ হওয়ার মত অবস্থা হওয়া বিচিত্র নয়। তাই বেশিরভাগ রুচিশীল দর্শকদের আজো ভাল বাংলা ছবি দেখার পিপসা মিঠাতে ধারস্ত হতে হয় উত্তম-সুচিত্রা, রাজ্জাক –কবরির যুগের ছবির।

আজ আলোচনা করব আমার দেখা প্রিয় কিছু বাংলা ছবি নিয়ে। জনপ্রিয়তাকে একমাত্র মাপকাঠি না ধরে, সমালোচকদের সমালোচনার প্রভাব এড়িয়ে একান্ত নিজস্ব ভাল লাগার কিছু ছবি সম্পর্কে একান্ত নিজস্ব কিছু অনুভূতির কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

বাংলা ছবির ইতিহাসে কছু ছবি আছে যেগুলো না-দেখেও চোখ বন্ধ করেই প্রসংশা করলেই ছবির বোদ্ধাদের মহলে রুচিশীল দর্শক হিসাবে পাস মার্ক পাওয়া যায়। আমি এরকম ছবিগুলোকে চোখ বন্ধ করেই বাদ দিয়েছি। কারন এসব বহুলচর্চিত ছবিগুলো নিয়ে এত বেশি আলোচনা হয়েছে যে এগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে গেলে শুধু চর্বিত চর্বণ করাই সার হবে।

চাওয়া পাওয়া
যাত্রিক পরিচালিত ঊত্তম কুমার আরা সুচিত্রা সেন অভিনীত এ ছবি নিয়ে আসলে কী লিখব বুঝতে পারছি না। অসাধরণ একটা ছবি। বহুল চর্চিত “অসাধরণ” শব্দটার বহুব্যহার আর অপব্যবহারের ফলে শব্দটাই “সাধারণ” পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশেষণটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ‘বানরের গলায় মুক্তার মালা’ পড়ানোর মত অপাত্রে অযাচিতভাবে বর্ষিত হয় এবং খুব কম সময়-ই এর ব্যবহার যথার্ততা লাভ করে। আমার মনে হয় এই ছবিটির ক্ষেত্রে “অসাধরণ” শব্দটি সত্যিকার অর্থেই মানানসই।

এক বড়লোকের জেদি মেয়ের জেদ করে বাড়ি পালানোর থেকে কাহিনীর আরম্ভ। তারপর পথে তার সাথে নায়কের পরিচয়। আস্তে আস্তে দু’জনের একে অন্যের প্রতি দূর্বল হয়ে পরা। বাংলা সিনেমা জগতের একটি অতি সাধারণ, অতি কমন কাহিনী। এই অতি সাধারন কাহিণীটাই অসাধারণ হয়ে ঊঠে ঊত্তম-সূচিত্রার অনবদ্য অভিনয়, পরিচালকের কাহিণী-বিস্তারে পরিমিতি বোধ এবং সর্বোপরি অসাধরন সংলাপ চয়নের কল্যানে।

কাহিনীর বেলায় পরিচালক বাস্তবতাটাকে কখনো এড়িয়ে যান নি। গল্পের গরুটাকে গাছের উপর ঊঠিয়ে দেন নি। অনেকটা একই কাহিনী নিয়ে কয়েকটা বাংলা ছবি আমি দেখেছি। নায়িকা বড়লোকের মেয়ে; রাগ করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। পথে নায়কের সাথে পরিচয়। নায়ক গরীব, চাল-চুলাহীন এক যুবক। এদিকে নায়িকাকে খুঁজে দেওয়ার জন্য নায়িকার বড়লোক বাবা বিরাট অংকের অর্থপূরষ্কার ঘোষনা করেছেন। যেখানে এই বিরাট অর্থের হাতছানি গরীব, চাল-চুলাহীন নায়কের মাথা ঘূরিয়ে দেওয়া জন্য যথেষ্ট সেখানে আমরা দেখি তা নায়ককে সামান্যতম প্রভাবিতও করে না। কিন্তু “চাওয়া পাওয়া” ছবিতে আমরা দেখি অর্থের হাতছানির কারণে গরীব, চাল-চুলাহীন নায়কের মনে উত্তাল দ্বিধার ঝর যেটাই স্বাভাবিক।

“নাটক-টেলিফিল্ম হচ্ছে সংলাপ নির্ভর, আর চলচিত্র হচ্ছে কাহিনী নির্ভর”। হয়তো এই কারনেই বেশিরভাগ সময়ই চলচিত্রের সংলাপ রচনায় যত্ন আর আন্তরিকতার অভাবটা দৃষ্টিকূটুভাবে প্রকট হয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়। “চওয়া পাওয়া” ছবিটি হচ্ছে এক্ষেত্রে জলন্ত ব্যতিক্রমতার দৃষ্টান্ত।

সবকিছু মিলয়ে এমন একটা মোহজাল বিস্তার করে যা যেকোন দর্শককে মুগ্ধতার সাগরে ডুবিয়ে রাখতে পারে।

dilip+mukherjee.jpg
কাঁচের স্বর্গ
“চাওয়া পাওয়া” দেখেই যাত্রিকের প্রতি মুগ্ধতার জন্ম।তাই দোকানে ক্লাসিকাল বাংলা ছবির একটা ডিবিডিতে একটি ছবির পরিচালকের ঘরে “যাত্রিক” এর নাম দেখে দ্বিতীয়বার না ভেবে ডিস্কটা কিনে ফেললাম। ছবি নাম “কাঁচের স্বর্গ”। “চাওয়া পাওয়া” দেখার কারণে যাত্রিকের প্রতি আমার এক্সপেক্টেশটা ছিল অনেক বেশি। শুধু ভাল না, অসাধরণ কিছু দেখার বাসনা নিয়ে ছবিটা দেখতে বসলাম। আমাকে নিরাশ হতে হয়নি।

একটি সত্যি কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত ছবি। নায়ক একজন মেধাবী মেডিকেল স্টুডেন্ট যার স্বপ্ন ছিল খুব বড়, নামকরা একজন সার্জন হওয়া। কিন্তু আর্থিক দৈন্যতার কারনে পড়ালেখা শেষ করতে পারে না সে, তাই যোগ্যতা থাকলেও স্বীকৃতি ছিল না তার। তারই জীবন সংগ্রামকে উপজীব্য করে এগিয়ে চলে ছবির কাহিণী। কাহিনীটিতে খুব একটা রস-কষ ছিল না। তারপর দেখতে কিন্তু বোরিং লাগে নি।বরং দেখতে দেখতে অনুভব করলাম কিছু মুগ্ধতা জমা হয়ে যাচ্ছে মনের চিরসস্মণীয়গারে।

ekti-rat+1.jpg
একটি রাত
কাহিনীর নতুনত্ব, ছবির পরতে পরতে হাস্যরস, সর্বোপরি উত্তম-সূচিত্রা জুটির অনবদ্য আবেদন – সব মিলয়ে ভাল লাগার মতন একটা ছবি।

Chhadmabeshi.jpg

ছদ্মবেশি
ছদ্মবেশী ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত দম ফাটানো হাসির ছবি। এই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন মহানয়ক উত্তম কুমার এবং মাধবী মুখোপাধ্যায় । ছবিটি পরিচালনা করেছেন অগ্রদূত ।আমি বরাবরি বিশ্বাষ করি মানুষকে হাসানোর জন্য ভাড়ামো করতেই হবে তার কোন মানে নেই। আমার এই বিশ্বাষ সঙ্গে নিয়ে পথ চলার পাথেয় এই ছবিটি।

200px-Dadar-kirti_18038.jpg
দাদার কীর্তি
নায়ক কিংবা নায়িকা গান করছে, সবাই মুগ্ধতা আর বিস্ময়ের ঘোরে পাথর হয়ে সে গান শুনছে – বাংলা ছবির অতি পরিচিত একটি দৃশ্য। পরিচালক যতই দেখান না কেন সবাই মুগ্ধতা আর বিস্ময়ের ঘোরে পাথর হয়ে গান শুনছে, সেই গানটি শুনার সময় সত্যিকারভাবে সে মুগ্ধতা কতাটা দর্শকদের মধ্যে সঞ্চারিত হয় তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তবে আমার অনেকটা এরকম অবস্থা হয়েছিল এ ছবিতে হেমন্তর গলায় “চরণ ধরিতে দিয়ো গো’ গানটি শুনে।

বাংলা সংগীতের ইতিহাস নিয়ে যারা এক-আধটূ ঘাটাঘাটি করেন তারা সকলেই রবীন্দ্রসঙ্গীতকে বাঙ্গালি মধ্যবিত্ত সমাজে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে হেমন্তর অবদানকে বিনা বাক্যেব্যয়ে স্বীকার করবেন। তারপরও এই রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়া নিয়ে হেমন্তকে কতিপয় তথাকথিত রুচিবাগিশ, শুদ্ধতাবাদীদের যে সমালোচনা সহ্য করতে হয়ছে তাও সর্বজননবিধিত। গানের আইনের চার দেয়ালে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথই নিজেকে বাঁধা রাখতে চাননি। তিনি বলতেন, “আইনের করক্ষেপ আমকে একটুও নাড়াতে পারেনি। এখানে আমি উদ্ধত আমি স্পর্ধিত আমার আন্তরিক অধিকারের জোরে। গান বচনের অতীত বলেই ওর অনির্বচনয়ীতা আপন মহিমায় আপনি বিরাজ করতে পারে যদি তার মধ্যে থাকে আইনের চেয়ে বড়ো আইন”।

তিনি স্বীকার করেছেন, “সুরকারের সুর বজায় রেখেও এক্সপ্রেশনে স্বাধীনতা চাইবার এক্তিয়ার গায়কের আছে। কেবল প্রতিভা অনুসারে কম ও বেশির তফাৎ”।

যেখানে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ যুগের সাথে সাথে তাঁর গানের উপস্থাপনের ধরনও বদল হবে এই সত্যটা স্বীকার করে তাকে সহজভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন সেখানে এসকল তথাকথিত সমলোচকদের সমালোচনা কতটা যুক্তিসংত তা নিয়ে আমার যতেষ্ট সন্দেহ আছে। আর হেমন্তর গলায় যারা রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনেছেন তারাই বলুন তো কী এমন বিকৃতি তার গায়কীতে। এই ছবিতে হেমন্তর গলায় রবীন্দ্রনাথের গান দুটি শুনে আমি বলব, “এটা যদি বিকৃতি হয় তবে আমার সারাজীবন এরকম বিকৃত গায়কীতে রবীন্দ্রসংগীত শুনতে একটু আপত্তি নেই।“

হেমন্তর গলায় এমন দুটি অসাধরণ রবীন্দ্রসঙ্গীত উপহার দেওয়ার বদৌলতে আমার মত যারা রবীন্দ্রনাথের ভক্ত আছেন তারা পরিচালকের সাত খুনও অনায়াসেই ক্ষমা করে দিতে পারেন। অবশ্য এক্ষেত্রে আমার ক্ষমাগুণ চর্চার দরকার পড়েনি। কারন ঠিক অসাধরণ না হলে ছবিটাকে খুব ভালোই বলতে হবে। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পটিতে এমন সম্ভাবনা কোথায় লুকিয়ে ছিলো জানি না। পরীক্ষায় ফেল-মারা এক সাধাসিধে যুবকের গল্প, হাসিকান্নায় মোড়া। পটভূমি পশ্চিমা এক শহর যেখানে অনেক বাঙালির বাস। আর তরুন মজুমদারের ছবি মানেই রবীন্দ্রসঙ্গীতের শৈল্পিক উপস্থাপনা। এক্ষত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বাক্স বদল
সত্যজিৎ রায়কে বাদ দিয়ে বাংলা ছবি নিয়ে আলোচনা করা আর ডেনমার্কের রাজপুত্রকে বাদ দিয়ে হ্যামলেট নাটক মঞ্চস্থ করা একই কথা। বাংলা সহিত্যকে যেমন রবীন্দ্রনাথ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়েছেন, তেমনি বাংলা চলচিত্রকে বিশ্বের সামনে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে সত্যজিৎ রায়ের অবদান অনস্বীকার্য। “বাক্স বদল” সত্যজিৎ রায়ের মিষ্টি একটা প্রেমের ছবি। নায়ক নায়িকার বাক্স বদল হওয়ার থেকে কাহিনীর সুত্রপাত। অভিনয় করেছেন সৌমিত্র আর অপর্ণা। ছবিটি অনেকেই দেখেছেন। তাই এটা নিয়ে আর বেশি আলোছনা করলাম না। যারা দেখেন নি তারা দেখে নিতে পারেন। ভাল লাগতে পারে।

aalo+poster.jpg
আলো
অনেকদিন পরে ঢাকা থেকে আমার খালা আর খালাতো ভাই-বোনেরা চট্টগ্রামে এসেছিল বেড়াতে। সবাই মিলে গিয়েছিলাম আমার ছোট মামার বাড়িতে বেড়াতে। মামার আবার বিরাট ডিবিডি র কালেকশন। শত শত বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি ছবির ডিবিডি। আমাদের সবার তো তখন কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখব এ অবস্থা। একজন বলে এটা দেখব অন্যজন বলে ওটা। যখন ব্যপারটা নিয়ে মা-খালা আর আমরা কাজিনদের মধ্যে প্রায় ঝগড়া বাঁধার উপক্রম তখন ছোট মামা নিজেই অগ্রনী হলেন ব্যপারটার একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে। বললেন, “ঠিক আছে এত ঝগড়া করার দরকার নেই। আমি নিজেই তোমাদের সবাইকে একটা মুভি সিলেক্ট করে দিই। ওইটাই সবাই মিলে দেখ।“ মামা মুভি সিলেক্ট করে দিলেন বিভূতিভূষনের কাহিনী অবলম্বনে তরুন মজুদার পরিচালিত “আলো”। নাম ভুমিকায় অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেন। ঋতুপর্ণা সেনের নাম শুনে আমি একটু আশাহত হলাম। কারন আমি নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি ঋতুপর্ণার প্রতিভা থাকলেও তিনি বেশিরভাগ সময় সে প্রতিভার যতার্থ মূল্যয়ন করেন না। কী সব আলতু-ফালতু ছবিতে অভিনয় করেন। তাই মামাকে খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “মামা, সত্যিই “আলো” তো? দেখ আবার যেন “আলেয়া” হয়ে না যায়”।

এদিকে আমার ছোট খালামনি ছবিটা আগেই দেখেছেন। সবাই নতুন একটা ছবি দেখার মজা পাবে আর তিনিই শুধু বঞ্চিত হবেন এটা ভেবে তিনি হয়তো কিছুটা ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়েছিলেন। তিনি ছবিটা বাদ দিয়ে অন্য ছবি দেখার জন্য আমার ভীষন ইমোশনাল খালাত বোনটিকে প্ররোচিত করতে ঊঠে পড়ে লাগলেন। বললেন, “এই ছবিটা দেখ না, শেষটা অনেক দুঃখের। দেখে শুধু শুধু কাঁদবে”।বাংলা ছবি দেখা কান্না করার মেয়েলি দূর্বলতার পরিচয় পেয়ে আমার মনে মনে হাসি পেল। সুযোগ পেয়ে আমি বাংলা ছবির কাহিনীর অসারতা; তাতে আকাশ-কুসুম স্বপ্নচয়নের ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং সেই কাহিনী দেখে ক্রন্দন করার অযৌক্তিকতা সম্পর্কে একটা ছোটখাট লেকচার দিয়ে দিলাম।
শুরু হল ছবি। শুরুতে লেখা দেখলাম “কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের গানে সমৃদ্ধ”। আমার কাছে রবীন্দ্রনাথের গান মানেই অন্যরকম একটা আমেজ। পুরোপুরি ভিন্ন মাত্রার কিছু। ভাবলাম ছবি ভাল হোক খারাপ হোক অন্ততপক্ষে কিছু ভাল রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনতে পাবো। কিছু ভাল রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনা আর ছোট খালা্র কথা যদি সত্যি হয় তবে ছবি শেষে আমার ইমোশনাল খালাত বোনটিকে কান্না করার জন্য ক্ষেপানোর লোভে কিছুটা নিমরাজি হয়ে দেখতে বসলাম ছবিটা।অতি সধারণ কাহিনী। একজন শুহুরে বধুঁর গ্রামে গিয়ে সবার মন জয় করার কাহিনি। আমার প্রথম প্রথম অত ভাল না লাগলেও আস্তে আস্তে ছবির ভিতরে ডুবে গেলাম। ছবি শেষে দেখি আমার ভীষন ইমোশনাল খালাত বোনটি হু হু করে কান্না করছে। আমি তখন তাকে ক্ষেপাবো কি, আমার অজান্তে ছবি দেখার সময় কখন যে আমার নিজেরই চোখ আদ্র হয়ে গেছে নিজেই জানি না।

এক অতি সাধারণ কাহিনী দেখে আমার চোখ কেন আদ্র হয়ে পরেছিল তা আমার কাছে এক রহস্য যার মিমাংসা অনেক ভেবেও আমি করতে পারি নি। আপনারা ছবিটা দেখলে হয়তো যে রহস্যের কিছুটা সমাধান করতে পারবেন।

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: