দেহ পাবি, মন পাবিনা

(একটানে পড়েছি-)

শিরোনামে দেয়া সংলাপটি শোনেননি বা জানেননা এমন বাংলাদেশী বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবেনা। এটি ঢাকাই চলচিত্রের একটি কমন সংলাপ যেটি ভিলেনের কবলে পড়া নায়িকা ভিলেনের উদ্দেশ্যে বলে থাকেন। কোলকাতার চলচিত্রের কথা জানিনা। তবে সেখানেও এমন সংলাপ থাকার কথা; কারণ, মুম্বাইয়ের হিন্দী চলচিত্রেও এমন সংলাপ শুনেছি। আমরা জানি ঢাকাই চলচিত্রে নায়িকার তনু-মন নায়কের প্রতি সমর্পিত, এবং ভাইস-ভার্সা। ভিলেন কবলিত বিপন্ন নায়িকা এভাবে নায়কের অস্তিত্বের কথা ভিলেনকে জানিয়ে হুঁশিয়ার করেন বা তাকে আরো আগাতে নিরুৎসাহিত করেন। ভিলেন বাস্তববাদী মানুষ তাই সে নায়িকার এমন চালবাজিতে ভোলেননা, সে মনের তোয়াক্কা না করে নায়িকার দেহকে অধিকার করতে উদ্যত হন। এরপর কী কী ঘটে আমরা জানি, সেগুলো বলা নিষ্প্রয়োজন। তবে চলচিত্রের শেষ প্রান্তে কাহিনীকার/পরিচালক আমাদেরকে এমন একটা ধারণা দিয়ে আশ্বস্ত করতে চান যে শেষতক নায়কই নায়িকার দেহ-মনের অধিকারী হয়েছেন, এবং ভাইস-ভার্সা।

চলচিত্রের কথা বাদ দিয়ে আমাদের নিজেদের কথা ভাবি। খুব ছোটবেলা থেকে যখন আমাদের মন-হৃদয় ইত্যাদি ব্যাপারে কোন জ্ঞান তৈরি হয়না তখনও আমাদের মন ভালো থাকে, মন খারাপ হয়। ঐ বয়সে কিছু চেয়ে বা না চাইতে পেলে ভালো লাগে। আবার কিছু চেয়ে না পেলে মন খারাপ হয়। একই ঘটনা মোটামুটি আমাদের সারা জীবনভর চলে। খুব ছোটবেলা থেকে শুরু করে আমাদের চারপাশের মানুষেরা আমরা কখন কী চাই তার খুব কমই জানতে আগ্রহী হন। আর জানতে পেলেও তা দেবার ব্যবস্থা করা হয় আরো অনেক কম – তা সাধ্যের সীমায় থাকুক আর না থাকুক। চাওয়াটা বস্তুগত না হলেও তা পূরণ করতে অন্যের আগ্রহ কমই থাকে। এমনকি নিকটজনদের মধ্যে যাদেরকে আমরা প্রিয়জন মনে করি তাদের আচরণও খুব ব্যতিক্রম কিছু হয়না। এভাবে চারপাশের মানুষের অবজ্ঞা, অবহেলা, অসামর্থ আমাদের মনকে তাদের সীমার বাইরে নিতে থাকে। আমাদের মন ক্রমশঃ অন্যের জন্য অধরা হতে থাকে। আপাতদৃষ্টিতে এই ব্যাখ্যাটিতে আমাদের মনকে লোভীর মন বলে মনে হলেও আসলে তা নয়। মনের চাহিদা একটি স্বাভাবিক ব্যাপার আর চাহিদা তৈরি হলেই তার যোগান দিতে হবে এমন কোন কথা নেই। কিন্তু মন অভিমানী, তাই যুক্তির বেড়াজালে সে আবদ্ধ থাকতে চায়না।

বয়ঃসন্ধিকাল থেকে যখন আমাদের শরীর পরিবর্তিত হতে থাকে, শারিরীক চাহিদা তৈরি হতে থাকে তখন থেকে আমরা এই বিশেষ চাহিদাটার সাথে মনকে জোড়া লাগানোর চেষ্টা করি। এটি আসলে একধরণের সামাজিক শিক্ষার ফল। আমরা গর্বের সাথে বলি, ইতর প্রাণীরা শুধু জৈবিক তাড়নায় মিলিত হয়; কিন্তু মানুষ শুধু দেহের সাথেই মিলেনা – মনের সাথেও মিলে। সামাজিক শিক্ষা আমাদের এই ধারণা দেয় যে, দুজন নারী-পুরুষ শারিরীকভাবে মিলতে হতে হলে তাদের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে, তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হতে হবে। অথবা ভালোবাসা থাকুক বা না-ই থাকুক তাদের মধ্যে অন্ততঃ বৈবাহিক সম্পর্ক থাকতে হবে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকার শর্তটা দুনিয়ার অনেক জায়গায়ই শিথিল হয়ে গেছে। এমনকি দুজন মানুষ মানে একজন নারী আর একজন পুরুষ অমন শর্তটাও শিথিল হয়ে গেছে। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা এখনো গ্রহনযোগ্য শর্ত বলে মনে করা হয়। বিদ্যমান আইনগুলো আবার ভালোবাসা-টাসা কিছু বোঝেনা। তাদের জিজ্ঞাস্য দুজনে প্রাপ্তবয়স্ক কিনা, দুজনের এই ব্যাপারে অপ্রভাবিত সম্মতি আছে কিনা। শেষমেশ ব্যাপারটা এই দাঁড়ালো যে দুজন মানুষের পারস্পারিক সম্মতি থাকলেই তারা দৈহিকভাবে মিলিত হতে পারবে। এভাবে দেহতো পাওয়া গেল, কিন্তু মন? মন কি ততক্ষণে অচ্ছ্যুৎ হয়ে গেছে?

না, আমরা এত সহজে মনের ব্যাপারে হাল ছাড়িনা। এই জন্যই সামনা-সামনি, টেলিফোনে বা ইন্টারনেটে আমাদের এত গুজুর গুজুর। স্পর্শ করা যায় অথবা যায়না এমন সব উপহারের এই জন্য এত রমরমা বাণিজ্য। এই ব্যাপারে নানা সেক্টরে আরো কত যে বাণিজ্য ছড়িয়ে-লুকিয়ে আছে তা বলে শেষ করা যাবেনা। এই প্রচেষ্টা, এই উদ্যোগ, এই বাণিজ্য সবই বিবাহপূর্ব, বিবাহোত্তর বা বিবাহ-বহির্ভূত প্রেম-ভালোবাসার জন্য। মোবাইল ফোন, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, পার্ক-রেস্টুরেন্ট উপচে পড়ে আমাদের ভালোবাসার কথায়। আমাদের মুখ আর কানের ক্রমাগত পরিশ্রম হতে থাকে। আমরা মোটামুটি সান্ত্বনা পাই যে এবার মনের একটা গতি হল, দেহ যথাসময়ে যথারীতি আসবে।

মনের গতি হবার ব্যাপারে আমাদের এই সান্ত্বনা যে নিতান্তুই দুর্বল ভিত্তির উপর দাঁড়ানো সেটা টের পেতে থাকি যখন মন কষাকষি বা ভুল বোঝাবুঝিগুলো শুরু হয়। ব্যাপারটার অসারত্ব আরো প্রতিভাত হয় যখন অনেকক্ষেত্রে তৃতীয় জনের উপস্থিতি স্পষ্ট হতে থাকে এবং পরিণতিতে সম্পর্কটাই ভেঙে যায় অথবা সম্পর্কটা মচকে গিয়ে ঝুলে থাকে। মন কষাকষি বলুন, ভুল বোঝাবুঝি বলুন আর আরেকজনের সাথে প্রেমই বলুন সব কিছুই প্রমাণ করে দুজনের অন্ততঃ একজনের ক্ষেত্রে একটা পর্যায়ে অন্যজনের মনকে অধিকার করে রাখার বা নিজের মনকে অন্য জনের প্রতি সমর্পণ করার ইচ্ছায় ঐকান্তিক ছিলেননা। কোনকালে অমন ইচ্ছে নূন্যতম থেকে থাকলেও অন্য কোন প্রলোভন বা অন্য কোন আশা সে ইচ্ছের উপর জয়ী হয়েছে। যুগের পর যুগ ধরে মানুষ এই অসৎ প্রবণতা দেখিয়ে আসছে, অন্য অপশনে প্রলোভিত হচ্ছে। এসব নিয়ে আমাদের লজ্জা, অনুশোচনা বা দুঃখ নেই। এরপরও আমাদের মুখে মনের জয়গান গাওয়াটা কতটুকু শোভন?

বলতে পারেন সব সম্পর্কই তো এমন নয়। সারা জীবন অটুট থাকে এমন সম্পর্কও তো আছে। তা আছে, তবে সেখানেও একজনের চাওয়া-পাওয়ার সাথে আরেকজনের চাওয়া-পাওয়ার অমিল আছে। মতের অমিল আছে (সেটা থাকাই স্বাভাবিক), ব্যক্তিত্বের সংঘাত আছে, কে কার জন্য কতটুকু স্যাক্রিফাইস করল তা নিয়ে বিবাদ আছে। বাহ্যিকভাবে অটুট সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাই দেহ-মনের দূরত্ব তৈরি হয়।

আবার চলচিত্রের কথায় ফিরে যাই। চিত্রপরিচালক নায়ক-নায়িকাকে বাসরঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভাবেন তাঁর কাজ শেষ। যেহেতু নায়ক-নায়িকা পরস্পরকে পেয়েছে তাই আমরা স্বস্ত্বির নিঃশ্বাস ফেলি, আনন্দিতও হই। বাস্তবেও অল্প বা অনেক প্রতিকূলতা শেষে আমাদের পরিচিত কোন জুটি পরস্পরকে পেলে আমরা আনন্দিত হই। কিন্তু একথা কে বলতে পারে যে, নায়িকা যখনই নায়ককে আলিঙ্গন করেন তখন প্রতিবারই নায়িকার মনজুড়ে শুধু এই নায়কই থাকেন? অথবা প্রতিবার নায়িকাকে আলিঙ্গনরত নায়কের মনজুড়ে প্রতিবারই শুধু এই নায়িকাই থাকেন? না, এমন কথা কেউ বলতে পারেননা। মানুষ নাকি একটানা তিন মিনিটের বেশি কোন বিষয়ে অ্যাটেনশন ধরে রাখতে পারেনা। সুতরাং কারো একান্ত নৈকট্যের সময়েও একজনের মন জুড়ে শুধুই তার সঙ্গী/সঙ্গিনী একথা অনেক সময়েই হয়তো সত্য, তবে সবসময়ে না। বুদ্ধিমান চিত্রপরিচালক সাধারণত ঐ জটিলতায় যেতে চাননা। ঐ জটিলতার পথ ধরে হাঁটেন টেলিভিশনের মেগাসিরিয়ালের পরিচালকরা। তারা প্রায়ই দেখাতে চান দেহদ্বয় অভিসারী হলেও মনদ্বয় অপসারী হয়।

পদার্থবিজ্ঞান একই সময়ে একই স্থানে একাধিক বস্তুর উপস্থিতিকে স্বীকার না করলেও মানুষ তার মনে একই সময়ে বহুজনকে একই প্রকার পদে ঠাঁই দিতে পারে। অনেককেই দেখেছি, আপনারাও দেখেছেন, যারা একইসাথে একাধিকজনের সাথে প্রেম (প্রচলিত অর্থে) করেন। এমন ব্যক্তিদের সবাই যে ভণ্ড-প্রতারক তা নন্‌। একজনের সাথে আলাপের সময় অন্যজনের প্রসঙ্গ হয়তো উহ্য থাকে, কিন্তু সেটা সব সময় প্রতারণার উদ্দেশ্যে নয়। দুজনকেই তীব্রভাবে (সমান তীব্র নয়) ভালবাসার কারণে, দুটি সম্পর্ককেই একসাথে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে এমন ছলনা করা হতে পারে। প্রশ্ন করতে পারেন, ‘এটি কি প্রতারণা নয়’? আমি বলব, ‘হ্যাঁ এটি এক ধরণের প্রতারণাই বটে, তবে তা বৈষয়িক উদ্দেশ্যে নয়’। মানুষের মনের এই বহুমাত্রা ও বিচিত্রগামীতা তার নিজের সৃষ্টি নয় – এটি মানবজন্মসূত্রে পাওয়া। লোকে এই বহুমাত্রার বা বিচিত্রগামীতার নিয়ন্ত্রণ কামনা করে। তা অমন কামনা লোকে করতেই পারে, কিন্তু চাইলেই কি তা পাওয়া যায়?

প্রেম (প্রচলিত অর্থে) করার ক্ষেত্রে একনিষ্ঠতা অঘোষিত আবশ্যিক শর্ত। এখানে একনিষ্ঠতা মানে দেহ-মনে একনিষ্ঠতা। এই আবশ্যিক শর্ত যে মানুষ কমই মানতে পারে সেটা প্রমাণ করার দরকার পড়েনা। বিয়ের ক্ষেত্রে এই শর্ত আরো কঠোর। শারিরীকভাবে একনিষ্ঠ না হলে তা আদালতে পর্যন্ত তোলা যাবে। মনের দিকে একনিষ্ঠ না হলে সেখানে আইনগত বিচ্ছেদ চাওয়ারও সুযোগ থাকে। যে মানুষ বিবাহপূর্বকালে বহুবল্লভ/বহুবল্লভা থাকে, যে মানুষ সেকালে একসাথে একাধিকজনকে মনে ঠাঁই দেয়, বিয়ের পর সে রাতারাতি ধোয়া তুলসীপাতা হয়ে গেছে এমন ভাবার কোন কারণ নেই। এমনকি বিবাহপূর্বকালীন সময়ে ভেজিটেবল থাকা মানুষটা বিয়ের পর ক্ষুদে ডন জুয়ান হয়ে উঠবেনা এই নিশ্চয়তা নেই। আসলে বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটি এইক্ষেত্রে মানুষকে আশা দিতে পারে, নিশ্চয়তা দেয়না।

যারা ভালোবেসে বিয়ে করেন তাদের দাম্পত্যসম্পর্কের সাথে যারা তথাকথিত সেটেল ম্যারেজ করেন তাদের দাম্পত্যসম্পর্কের অমিল খুব কম। আগে জানা থাকলে, পরে কিছু সুবিধা হবে এমন ভাবাটা একটা দুরাশা। আমরা ছোটবেলা থেকেই কমপক্ষে একজোড়া দম্পতিকে (আমাদের বাবা-মা) খুব কাছ থেকে দেখে থাকি। তবু নিজে বিয়ে না করা পর্যন্ত আমারা কেউ ধারণাও করতে পারিনা দাম্পত্যসম্পর্কটা আসলে কী? এই অজানা পরিস্থিতিতে ‘পূর্বরাগ’ ধন্বন্তরী কোন দাওয়াই নয়। যে কোন সম্পর্ক জটিল ক্রাইসিসের মধ্য দিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তার ওয়েল্ডিং কতটা মজবুত, পারস্পারিক আস্থা ও নির্ভরতা কতটা গভীর তা পরীক্ষিত হয়না। ঢাকাই নাটক-সিনেমাতে প্রেমকে বিয়ে পর্যন্ত গড়ানোটাকে ‘জাতীয় সমস্যা’ হিসাবে দেখাতে চাইলেও মূল ক্রাইসিসটা শুরু হয় বিয়ের পর। সেখানে বিয়ের আগের প্রবল এক্সটার্নাল ফ্যাক্টররা নিতান্তই গৌণ। দুই ইন্টার্নাল ফ্যাক্টরের চাপে পূর্বরাগ তার এন্ডুরেন্স লিমিট পার হয়ে যেতে চায়। এমনিতেই বিয়ের কিছু দিনের মধ্যে (তা যে প্রক্রিয়াতেই বিয়ে হোকনা কেন) ঠোকাঠুকিগুলো যখন শুরু হয় তখন ‘কী চাইলাম আর কী পাইলাম’ জাতীয় ভাবনা মাথায় আসতে থাকে। সেই সাথে পূর্বতন-বর্তমান-সম্ভাব্য সব অপশনের সাথে বিদ্যমান বাস্তবতাকে তুলনা করা চলতে থাকে মনে মনে, কখনো কথায় কথায়। ‘আমার মত মেয়ে বলে তোমার মত অপদার্থের ঘর করছে, অন্য কেউ হলে লাথি মেরে এই সংসার ছেড়ে চলে যেত’ অথবা ‘কত ভাল ভাল মেয়েরা আমার পিছে ঘুরেছে, তাদের বাবা-মা’রাও রাজি ছিলেন, খালি আমার কপালে দুর্গতি ছিল বলে শেষতক তোমার মত বউ জুটেছে” এই জাতীয় সংলাপ তারই বহিঃপ্রকাশ।

মন আর মগজ, হৃদয় আর বুদ্ধির সম্পর্ক আর পার্থক্য নিয়ে যে অনিঃশেষ বিতর্ক আছে তা আমরা জানি। শারীরবিদ্যা-ভৌতবিদ্যার ব্যাখ্যার সাথে দর্শন-মনোবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা যে মিলবেনা তাও আমরা জানি। আমরা নিশ্চিত ভাবেই জানি সেই বিতর্কের ফলাফল যাই হোকনা কেন দেহ-মন নিয়ে আমাদের দুর্গতির শেষ হবেনা; প্রেম কী আর ভালোবাসাই বা কী সেই সংজ্ঞায়ণও শেষ হবেনা। তবু কোন প্রেম-ভালোবাসা মনের মত চঞ্চল, বহুমাত্রিক ও বহুগামী ধারণাকে দেহের ফ্রেমে আবদ্ধ করে একমাত্রা ও একনিষ্ঠতায় চালাতে পারবেনা।

মানুষের বয়স যখন বাড়তে থাকে তখন সে আস্তে আস্তে নিঃসঙ্গ হতে থাকে। শৈশব-কৈশোর-যৌবনের প্রিয় মানুষেরা আস্তে আস্তে দূরে যেতে যেতে অচেনা হয়ে যায়। মনের কথা বলার মত, বোঝার মত মানুষ কমতে কমতে শূন্যের কোঠায় চলে যায়। শারিরীক শক্তি, মনের জোর আর যৌবনের মত সম্পর্কের বাঁধনও কেবল পূর্বস্মৃতির চিহ্ন বয়ে বেড়ায়। নিতান্ত কথা বলার মানুষও তখন চারপাশ হাতড়ে পাওয়া যায় না।

মানুষ যখন মারা যায় তখন তার মৃতদেহের সৎকার কিভাবে হবে তা নিয়ে তার নিকটজনেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে কবরস্থ করা বা ভস্ম করার চেষ্টা হয়। কেউ ভাবেননা যাবার বেলায় তার মনে কী ছিল – কী আশা বা কষ্ট নিয়ে সে চলে গেল। মাটি বা আগুন তার দেহকে গ্রাস করে, নিঃশেষিত করে – কিন্তু মন? সে তখনো অধরাই থেকে যায়। হায় তার মনের খবর কেউই নিলনা!

http://www.sachalayatan.com/shashtha_pandava/34179

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: