অটোবায়োগ্রাফী অফ আ ভেরি হেল্পফুল বাঙ্গালি

মানুষের উপকার করতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি সবসময় চাই মানুষের উপকার করতে, ছোটবেলায় পড়া রচনাগুলোর মত উপকারি প্রাণি হতে। কিন্তু কেউ বিপদে না পড়লে উপকার কেমনে করুম? তাই আমি তক্কে তক্কে থাকি কখন কেউ বিপদে পড়বে আর আমি উপকার করমু। দরকার পড়লে আমিই বিপদে ফালামু, তারপরে সাহায্য করুম। কিন্তু উপকার আমারে করতেই হইবো।

তখন মনে হয় ক্লাস ওয়ান এ পড়ি। উপকারের প্রবল নেশা। এটাই স্বাভাবিক। যারা বড় নেতা হয় তাদের জীবনী পড়লে জানা যায় অতি শৈশব থেকেই গরীবের জন্য তাদের মন কেমন কেমন করে। বইএ ছিলো মহানবী(স) কিভাবে এক ভিক্ষুক কে ভিক্ষা থেকে কাজের জীবনে নিয়ে এসেছিলেন। আমি ভাবলাম থিয়োরি এপ্লাই করি। এক ভিক্ষুক আসলো। তার জিগাইলাম, আপনার বাসায় কি আছে? উদ্দেশ্য হইল, তার জিনিসপত্র বিক্রি করে কুড়াল কেনার সদুপদেশ দেয়া। সেই বেটা কইল, কিছুই নাই বাজান। আমি পড়লাম বিপদে। এখন কী করি। ভাইবা চিন্তা উপদেশ দিলাম, যান আরো কিছুদিন ভিক্ষা করেন, টাকা জমান, তারপরে আমার কাছে আইসেন।

এরকম নানা ভাবে নানা মানুষের উপকার করতে করতে আমি বুয়েট তামাত আইসা পড়লাম। আগে শুধু বালকদের উপকার করতাম, এখন বালিকাদের উপকার করতে মন চায়। উপকার এর পরে তারা মিষ্টি হাসি দেয়। আরো উপকার করতে আমার মন আনচান করে। মেকানিকাল ড্রইং এর ক্লাস। এক বালিকা বিপদে। সুপারম্যান হাজির। লাল পেনটুল টা খালি উরফে পড়ি নাই, কিন্তু গতিবেগ ঐ রকম ই আছিলো। কি সমস্যা, কি পারোনা? বালিকা কয়, ধরো এই জিনিশটার যদি প্রজেকশন নেই, তাইলে কি এই রেখাটা হিডেন লাইন হিসাবে আসবে? আবারো বিপদ। এই জিনিস তো আমি নিজেও ভালো বুঝিনা। আরেক দোস্তোরে আইনা হাজির করলাম, অই হালায় ওরে বুঝায়া দিলো, তারপরে আর কি, দুইজনে ভালোবাসা হয়া গেল, আমার কথা আর কেউ মনে রাখে নাই। এই জন্যই কথায় আছে না, মানুষের উপকার করতে নাই, বড় নিমকহারাম জাত।

একবার ঘোষণা দেয়া হইল বুয়েট এ ফিরি কারাতে শেখানো হবে। আমি ভাবলাম এইতো সুযোগ। অসহায় নায়িকাদের দুশ্চরিত্র ভিলেন এর কাছ থেকে রক্ষা করতে হবে। তারপরে তারা আমার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়বে, আজকে তুমি না থাকলে কি যে হত। না না এটাতো আমার দায়িত্ব। এইসব আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে মাঠে গেলাম। লিষ্টিতে নিজের নাম লিখতে গিয়া দেখি আমার আগে যে নামগুলো লেখা আছে তার মধ্যে অনেকগুলাই বালিকাদের নাম। মনটা খারাপ হয়া গেলো। আমি তাইলে কাগোর উপকার করুম? যাহ, শালা নামই দিমু না। পরে ভাইবা দেখলাম, নাম লেখানোই ভালো, মারদাঙ্গা বালিকারা যদি আমারে পিটাইতে চায়? নিজের জান তো বাঁচান লাগবো।

আরেকদিন রাইত বাজছে নয়টা। আমি কইলাম ,তোমারে আগায়া দেই। বালিকা কয় ,লাগবো না, আমি একলাই পারুম। আমি কই ,পারবা হেইডাতো আমিও জানি, কিন্তু আমার একটা দায়িত্ব আছে না। উঠলাম রিকশায়। বাড়ির কাছাকাছি আসার পর বালিকা কয়, তুমি নাইমা যাও। বাকিটা আমি যাইতে পারুম। তোমরা পোলারা হইলা হাঁসের মত, গা ঝাড়া দিলেই সব পরিষ্কার, কোনো কিছুই তোমাগো গায়ে লাগে না। কিন্তু এই সমাজ সংসার আমারে খারাপ কইবো।

এই উপকার করতে গিয়া অনেকের অনেক কথা শুনছি। অনেকে ভুল বুঝছে। আমার এক দোস্তো আমারে গাইল দিছিলো, তোমারে এত উপকার ******* কে কইছে? এতোবার ********** পরেও শিক্ষা হয় না? আমার শিক্ষা হয় নাই, হয় না। আছেন কোন ভাই বিপদে? জায়গায় দাঁড়ায়া আওয়াজ দেন, আমি আইতাছি।

http://www.sachalayatan.com/abdur_rahman/34106

(কিঞ্চিৎ এডিটেড)

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: