হোম এলোনের পর যে মুভিটি দেখে সবচেয়ে বেশি হেসেছি

(বিশাল প্রত্যাশা আর বিশাল বাজেটের ছবি হয়েও বিশাল ফ্লপ খাওয়া মুভি খোঁজ-দি সার্চ নিয়ে একটা ফানি রিভিঊ, নেট থেকে নেয়া)

যে যুগে আরবরা গুহায় বাস করত আর খালি খেজুর খাইত। মনে হয় সে যুগ থেকে আমি দ্যা সার্চ এর এ্যাড দেখে আসছি।আর আজ মুভিটা দেখলাম,আমার আলী কপাল বলতে হবে যে জীবিত অবস্থায় এই মুভি দেখে যেতে পারছি।শিব্রামের লেখা পড়েও মনে হয় জীবনে এতটা হাসিনি কখনো।

যার গায়ে মাংস বেশি হবে তার মাথায় বুদ্ধি কিছুটা কম হবে এটাই আমার ধারণা। খোঁজ-দ্যা সার্চ এর নায়ক বিশিষ্ট গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী এম,এ জলিল(যে কিনা মুভির প্রযোজকও বটে) কে দেখে আমার ধারণার সত্যতা টের পেলাম।জলিল নামের লোকজনের কোন একটা ঝামেলা থাকে,এরা পলিটিকস করুক আর নায়ক হোক – ইউনিক কিছু করবেই।

যাই হোক নায়ক সম্ভবত নিজেও তার ভূড়িদার স্বাস্থ্য নিয়ে হাল্কা বিব্রত।তাই মুভির শুরুতেই কোপাইয়া ব্যায়াম করা শুরু করলেন।এমন কি গ্রাম-গন্জ বলে বক্সিং টুলসের অভাবে নারিকেল গাছে বক্সিং প্র্যাকটিস করেন(পরিবেশবাদীরা মাইন্ড খাইলে কিছু করার নাই,স্বাস্থ্য আগে)।এমন টাইমে নায়কের মা এসে কাচের চুড়ি দেখিয়ে নায়ককে বিয়ের লোভ দেখান।নায়ক অবশ্য সাফ জবাব দিয়ে দেন যে এসব বিয়ে-টিয়েতে তার আস্থা নাই।তিনি থার্ড পারসন নীতিত্যে বিশ্বাসী।পাশের দেশ ভারতে লিভ টুগেদার শুরু হয়ে গেছে,বাংলাদেশে আসতে আর কদিন!

পরের দৃশ্যে গ্রাম থেকে ঢাকা।নায়ক থেকে নায়িকা।শর্ট স্কার্ট পড়া ক্যাপ্টেন ববি এসে বিএসএস এর চীফ কে জানান দেশের এখন বিশাল বিপদ।আর্মস ডিলার নিনো এখন বাংলাদেশে।এই ভদ্রলোক আর কদিন থাকলে দেশে কেজি দরে বন্দুক-শটগান বিক্রি হবে।চীফ টেনশনে পড়ে খোঁজ নিলেন মাসুদ রানা কই?এসিসটেন্ট মেজর কামরুল বলল ভ্যাকেশনে।চীফ জানত না রানা ভ্যাকেশনে থাকলেও প্রায়ই ছুটি ক্যানসেল করে কাজ করে।তাই তিনি নিউ ইয়র্ক থেকে মেজর মাহমুদ হাসান কে ডেকে পাঠালেন।
পরের দৃশ্যে ডাইরেক্ট নিউ ইয়র্ক,নিউ ইয়র্কের রাস্তা ঘাটে দেখি মেজর সাহেব কালা চশমা পইড়া ভাব ধইরা হাটতেছেন।অমা এই লোক গ্রাম থেকে নিউ ইয়র্ক কেমনে আসল?এই যে কাহিনীর প্যাঁচ শুরু হইল,আমি আর কাহিনীর তাল ধরতে পারলাম না।

যাই হোক নায়ক হুরুম কইরা ঢাকা আসল।সব শুইনা বলল,ইয়েচ স্যার,নো পবলেম(কসম ঠিক এমনেই কইছে)।ববি ম্যাডাম অবশ্য এই উচ্চারণ শুনেই নায়কের প্রতি ফিদা হয়ে গেলেন।ক্যাপ্টেন ববি তারে ম্যাপে মানিকগন্জ আর উত্তরা দেখাইয়া কইলেন ব্রিফিং শেষ।তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্রিফিং তিনি ইভেনিং এ দেখা করে দিতে চান।ইভেনিং এ নায়িকা উপরের দিকে ব্রিফ এমন একটা ড্রেস পড়ে গলফ খেলার মাঠে দেখা করতে আসে(ড্রেসটা আামর পছণ্দ হইছে ;))।নায়ক গলফের বলে গোটা কয়েক বাড়ি মাইরা নায়িকারে পাত্তা না দিয়া গুন্ডা পিটাইতে গেল।গিয়া পড়ল গ্যাড়াকলে,গুল্লি খাইয়া হইল আহত।এরপর মাস্টার নামে এক ভিলেন তারে এমন ডলা দিল যে নায়ক তার বাপ-দাদা চৌদ্দ গুষ্টির এমন কি নিজের নাম অব্দি ভুলে গেল।তার নতুন নাম হইল অনন্ত,সে হইয়া গেল গানম্যান।নায়করে হারাইয়া ববি এবার মেজর কামরুলের সাথে খাতির জমানোর চেষ্টা করল,কিন্তু লাভ হইল না।খানিক পড়ে দেখি টেবিলের উপর শখানেক মাইয়ার ছবি নিয়া ক্যাপ্টেন ববি কি জানি ভাবতেছেন।হায় আল্লাহ,দুনিয়ার যে কি হইল :(

তারপর আরও অনেক কিছু হইল।মুভির কাহিনী অনেক জটিল বলে আমি ধরতে পারলাম না।নায়ক কই জানি আবার ডলা খাইয়া তিন মাসের ঘুম দিল। ঘুম থিকা উইঠ্যা তার কিছুই মনে পড়ে না,মানে সেকেন্ড আইডেন্টিটিও ভুলে গেছে।কাম-কাজ নাই বলে শুকনা এক মাইয়ারে(মুভির সেকেন্ড নায়িকা) উদ্ধার করল।সেই নায়িকারে ধরতে আসছিল তার ভাইয়েরই গুন্ডা বাহিনী,সেইটা আরেক হিস্টোরি।নায়ক উদ্ধার কাজে জড়িত থাকার অপরাধে গুন্ডারা নায়করে হেলিকপ্টারে কইরা এটাক করে।আমি ভাবলাম নায়ক বুঝি আবার ডলা খাইল।কিন্তু দান দান তিন দান।নায়ক এবার সবাইরে ধইরা পিটাইয়া সিধা কইরা দিল।আর এই পর্যায়ে তার মাস্টারের সাথে দেখা হল এবং সে নিজের আসল পরিচয় জানতে পারল(সাব্বাস ইটালি :))।

যাইহোক কাহিনী আবার জটিল হইয়া গেল,কী কী জানি হল।নায়কের মা এর মাঝে দৌড়াইতে গিয়া উষ্ঠা খাইয়া মারা গেলেন,চিকনা মাইয়াটা গুলি খাইল,নায়ক লাস ভেগাস গেল(ব্যাটা অসভ্য) এবং শেষে কইল টু বি কন্টিনিউড।

মুটামুটি আড়াই ঘন্টার মামলা।হাসতে হাসতে আমার পেটের পেশিতে টান পরে গেল।মুভিতে নায়কের ডাইলগ বেশি নাই।তবু যা আছে তাই যথেষ্ট।নায়ক একবার মুখ খোলে তো হলের দুই-তিনজন হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে পড়ে যায়।এমনকি নায়কের মা মারা গেছেন,তাকে কবর দেয়া হচ্ছে সেই দৃশ্যেও নায়কের ক্লোজ-আপ শটে হাসতে হাসতে জান শেষ।

নায়ক-ভিলেন সবারই রুচি ভাল।উজি সাবমেশিন গান অথবা শট-গান ছাড়া কথা নাই।তবে খেলনাগুলা আরকেটু দামি হলে ভাল হত।

কাহিনীর আগা-মাথা নাই। Bourne এর তিন পার্ট এক করে মনে হইছে একটা বানাইছে।নায়িকা দুইটারেই ভাল লাগছে।এরা নাকি বাস্তব জীবনেও জলিল সাহেবের বউ। ঠিক করছি চাকরি-বাকরি বাদ।এবার মেজর হমু,আর না পারি নিদেন গারমেন্টস ব্যাবসা স্টার্ট করুম।

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: