বিমান বালারা ছুটিতে গিয়াছে

–ইহা কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ, রম্য রচনা নহে। এবঙ এমন কোন সুখপাঠ্য নহে যে পরিয়া আনন্দ, লাভ হইবে। অহেতুক কিঞ্চিত সময় নষ্ট হইবে। যার জন্য লেখক দায়ী নহে। এই লেখার মধ্যে সাধু চলিত (গুরু-চন্ডাল) মিশ্রন আইনত সিদ্ধ। —

যখন পড়াশুনা ও সাংবাদিকতা করিতাম (কিছু লোক সাংঘাতিক বলিতে আরাম পাইত) তখনো ভাবি নাই আমাকে প্রবাস জবীন কাটাইতে হইবে। এর পর নতুন করিয়া ব্যবসা শুরু করিলে এই ভাবিয়া পুলকিত হইতাম যে আমি একদা বড় ব্যবসায়ী হইবো। অল্প বিস্তর পুজি লইয়া যখন ব্যবসা শরু করিলাম তখন বুিঝলাম ব্যবসা কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি। একদিকে পুজি নাই। বুদ্ধি যে নাই তা পরিচিতজন মাত্রই জানেন। বুদ্ধির স্বল্পতা পুজির জোরে ভাসিয়া যাইবে – সেই পুজি ব্যবসায় খাটাইতে না পারিয়া এবঙ সেই পুজি সংগ্রহের তীব্র বাসনা আকাঙখা মনের গভীরে বপন করিয়া প্রবাস জীবনের জন্য ডান পা ফালাইলাম। সকলে বলুন আমিন।

তাহার পরে বিদেশ আসার সমস্ত কায়-কাহিনি শেষ করিয়া কোন এক সকালে (২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, সকাল ১১.২০ মিনিটে)প্লেন ছাড়িবার পূর্বে জিয়া (শাহজালাল) এয়ারপোর্টে উপস্থিত হইয়া কাতার এয়ার লাইন্সেরে একখানা বিমানে একেবারে পিছনের সীটে গিয়া বসিলাম, তখন মনে হইলো আমি সত্যই বিদেশ যাইতেছি। এবঙ এই জীবনে প্লেনে চড়িবার স্বপ্ন পুরণ হইলো।

প্লেন সম্পর্কে সবার মত আমারো কেৌতুহল সেই পিচ্চিবেলা থেকে। আকাশ থেকে যখন প্লেন যাইত তাহার দিকে তাকাইয়া থাকিয়া মনে কতশত প্রশ্ন উদিত হইতো তার হিসাব মনে নেই। তবে প্লেনের মত হাওয়ায় উড়িবার স্বপ্ন এই জীবনে বহুবার দেখিয়াছি। ‘ক্রিশ’ ছবিত্রে হৃত্মিক রোশন যেভাবে হাওয়ায় উড়িত সেইরকম হায়ায় উড়িবারও স্বপ্ন দেখিতাম। প্লেনে চড়িয়া আকাশ হইতে নিচে মাটিতে আমার গ্রামের সেই জায়াগাটি (যেখানে দাড়িয়ে প্লেন দেখিয়া স্বপ্নাতুর হইতাম)দেখিবার ইচ্ছা এখনো যায় নাই। বড় হইবার সাথে সাথে বিমান সম্পর্কে আগ্রহ কিছু কমিল যখন শুনিলাম বাংলাদেশ বিমানের সীটে ছাড়পোকা তার দখলদারিত্ব পাকা করিয়াছে এবঙ সেই সীট গুলোর অবস্থা ঢাকা-বরিশাল রুটের হানিফ সীটের চেয়েও করুন। তবে সুন্দরী বিমান বালা দেখিবার ইচ্ছা কিছুটা বাড়িয়াছে বৈকি।

প্লেনের প্রবেশ মুখে যিনি আমাদের সম্ভাষন জানাইলেন তিনি একজন রমনি হইবেন – তিনি বিমান বালা হইবেন না। কারন শুনিয়াছি বিমান বালার অতি সুন্দরী ও কম বয়সী হয়ে থাকেন।উনি মধ্য বয়সি (আামর মনে হয়েছে ৪০), সাদা চামড়ার এক রমনি ছাড়া আর কিছুই নহেন। ভাবিলাম বিমান বালারা পরে আসিবেন। সেই আশা নিয়া পিছনে আমার নির্ধারিত মধ্যখানের সীটখানাতে বসিয়া চোখ বড় বড় করিয়া আশ পাশ ও আমার মত বাংলার কান্ড কারখানা দেখিতে লাগিলাম। এবঙ মনে মনে বিমান বালার আগমনের অপেক্ষায় রইলাম।

প্রথম দেখা রমনী ও তার মত কয়েক জন (৩০-৪০ বছর বয়সের)রমনী আমাদেরকে পোটলা পট্টি রাখিতে, সীটবেল্ট বাধিতে সাহায্য করিতে লাগিলেন। সেই সাথে মাইকে আমাদের সম্ভাষন জানাইয়া এক সমধুর কন্ঠে করনীয় বিষয়ে জ্ঞাত করিলেন। উনার কণ্ঠ শুনিয়া ভাবিলাম উনি বিমানবালাদের একজন। এবঙ অতি শিঘ্রই আমাদের সামনে উপস্থিত হইবেন। প্রথম দেখা রমনীরা আমাদের চকলেট, পানীয় দিলেন। বানরের মত মুখ ভেংচাইয়া হাসিলেন আমিও বানরের মত দন্ত বিকশিত করিয়া প্রতিউত্তর দিলাম। প্লেন উড়িতে লাগিল। বিদেশ যাইবার টেনশনে কিছুদিন ঘুম হয় নাই। ঠান্ডা পাইয়া চোখ ভাংগিয়া ঘুম আসিল। এবঙ যথারীতি সীটের সাথে পিঠ মাথা ঠেকাইয়া ঘুমাইয়া পরিলাম।

পাশের যাত্রির ডাকে ঘুম ভাংগিল। প্রথম দেখা সেই রমনীরা দুপুরের খাবারের অর্ডার নিতেছে। আমি চিকেন, প্লেন রাইচ অর্ডার দিয়া বাথরুমে গিয়া হাতমুখ ধুইয়া যথারীতি খাবার শেষ করিলাম। একমগ কফি হাতের মধ্যে লইয়া এদিক ওদিক তাকাইয়া দেখি আমাদের জাহাজ (বিমান) খানা আরব সাগরের উপরে আসিল। জানালার পাশের যাত্রিরা আরব সাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করিতেছে। আর আমি মাঝখানে সীটে (মাইনকা চিপায়া) পড়িয়া জানালার পাশে সীট না পাইবার দু:খ পাইতেছি। দু:খ কমাইবার জন্য সীট লাগোয়া মনিটর ও মিডিয়া প্লেয়ারে হিন্দি ছবি ছাড়িয়া এয়ারফোন কানে দিয়া দেখি উহাতে সাউন্ড আসিতেছে না। কলিঙ নব চপিলাম একজন রমনী আসিয়া উপস্থিত হইলে উনাকে আমার সমস্যার কথা বলিলাম, উনি এয়ারফোন চেঞ্জ করিলেন হইলো না, কিছুক্ষণ গুতাগুতি করিয়া না পারিয়া আমাকে অপেক্ষা করিতে বলিয়া সেই যে গেলেন- তার পর কত চন্দ্রভুক অমাবস্যা গেল ঐ রমনী আর এলেন না। এর মিনিট ৩০ পরে এনাউ্নসমেন্ট আসিল আমরা দোহার কাছাকাছি আসিয়া গিয়াছি।

যথারীতি সময়মত বিমান থেকে নামিতে নামিতে ভাবিলাম আমার ভাগ্য খারাপ, বিমান বালারা মনে হয় ছুটিতে গিয়াছে।

কমেন্ট

বিডিআর বলেছেন:

আপনি বিমানবালা না পাইয়া মনে মনে যে কষ্ট পাইয়াছিলেন আমি তাহাকে পাইয়া অনুরুপ কষ্ট পাইয়াছিলাম। দুবাই এয়ারপোর্টে সুদীর্ঘ ২৮ ঘন্টা ট্রানজিট শেষে যখন আমি হেলসিংকিংর পথে এস্তোনিয়ার আকাশে তখন তার্কিশ এয়ারের রমনী আমাকে অতি যত্ন সহকারে একবাটি ফল দিয়াছিলেন, দেখতে আমাদের দেশের জামের মতন, দিকপাশ না তাকাইয়া খাইতে আরাম্ভ করিলাম কিন্তু একি খাচ্ছি আমি! এমন বিশ্রি স্বাদের কোন ফল আমি এই জীবনে খাই নাই। স্বাদ টা আমাদের দেশে কাফিলা গাছে এক রকম গোটা হয় তার মত। মনে হল জানালা দিয়ে ফেলে দেই কিন্তু হায় এত চেষ্টা করলাম তারপরও বিমানের জানালা খোলার কোন অপশন পেলাম না।

লেখাটির ব্যাপারে আপনার মন্তব্য এখানে জানাতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: