September 21, 2017

গ্রায়েম স্মিথ- ক্রিকেট মাঠের গ্ল্যাডিয়েটরের গল্প

মূল লেখার লিংক
গ্রায়েম স্মিথ- ক্রিকেট মাঠের গ্ল্যাডিয়েটরের গল্প!

সময়কাল জানুয়ারি ২০০৯।

সিডনীতে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের শেষদিন, দুশো সাতান্ন রানে দক্ষিণ আফ্রিকার নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলেন ডেল স্টেইন। অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের কবজি ভেঙেছে প্রথম ইনিংসেই, ব্যাট হাতে তিনি নামবেন, এমনটা ভাবনায় ছিল না কারো। প্রথম দুই টেস্ট জিতে সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছে প্রোটিয়ারা, শেষবেলায় কার এত দরকার পড়েছে শুধু শুধু ঝুঁকি নেয়ার! ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে ধরে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়েরাও তখন আনন্দে মত্ত। Continue reading

Advertisements
September 10, 2017

ভাসমান মসজিদ হাসান আল-থানি: বিশ্বের সর্বোচ্চ ধর্মীয় স্থাপনা

মূল লেখার লিংক
মরক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কায় অবস্থিত ‘দ্বিতীয় হাসান মসজিদ’ (মাসজেদ আল-হাসান আল-থানি) হচ্ছে বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনার বিশিষ্ট মসজিদ। এটি একই সাথে বিশ্বের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু। এই মসজিদের একমাত্র মিনারটির উচ্চতা ২১০ মিটার, যা প্রায় ৬০ তলা ভবনের সমান! ১৯৯৩ সালে নির্মিত এই মসজিদটির মুসল্লি ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার। এর মিনারের চূড়ায় একটি লেজার বিম অবস্থিত, যা থেকে কাবা ঘরের দিক বরাবর সর্বদা একগুচ্ছ আলোক রশ্মি বিচ্ছুরিত হতে থাকে।


আংশিক পানিতে ভাসমান মসজিদ হাসান আল-থানি Continue reading

September 10, 2017

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি: রেনেসাঁর এক সব্যসাচী চিত্রজাদুকর

মূল লেখার লিংক
১৪৭৫; ফ্লোরেন্স, ইতালি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দৈনন্দিন অভ্যাস সেরে স্টুডিওতে ঢুকে পড়লেন ফ্লোরেন্স নগরীর বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভেরোচিও। যিশুর ব্যাপ্টিজম বিষয়ে একটা ছবি আঁকছেন তিনি অনেকদিন ধরে। একদম শেষ করে এনেছেন প্রায়। যিশুর শরীরে সাধু জন পবিত্র পানি ঢেলে দিচ্ছেন আর দেবদূতেরা যিশুর কাপড় ধরে আছে, এমন একটা ছবি আঁকার ইচ্ছে তার। মাস্টারপিস হবে একদম!জন আর যিশুর অংশের কাজ শেষ করে ফেলেছেন, বাকি আছে কেবল দেবদূত আর ব্যাকগ্রাউন্ডের কিছু আঁকাআঁকি, ওটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ না। তরুণ শিক্ষানবিশ আছে তার, তাকেই দিয়েছেন কাজটা করতে, ও বেশ তাড়াতাড়ি করতে পারে। এ ক’দিন ফ্লোরেন্সে ছিলেন না ভেরোচিও।

স্টুডিওর মাটিতে পড়ে থাকা কিছু জিনিস কুড়িয়ে টেবিলে রাখলেন ভেরোচিও। এরপর তার প্রায় শেষ হয়ে আসা মাস্টারপিসটার সামনে এসে দাঁড়ালেন। কিন্তু তার চোখ চলে গেল দেবদূতের দিকে, মোটেও ছবির নায়ক যিশুর দিকে না!

শেষবার যখন দেখেছিলেন, ছবির বাঁ পাশের কাপড় ধরে রাখা এ দেবদূত ছিল না মোটেও। আর এখন দেবদূত থেকে চোখ সরছেই না তার। এ কী করে সম্ভব! এত নিখুঁত করেও আঁকা যায়? তার রীতিমত লজ্জা লাগতে লাগলো। এত বুড়ো হয়ে গেছেন তিনি, কিন্তু এত বছরের জীবনেও এত সুন্দর কিছু আঁকতে পারেননি।

চিৎকার করে স্টুডিওর সবাইকে জড়ো করে ফেললেন তিনি। এরপর তার শিক্ষানবিশ ২৩ বছরের তরুণকে ডাকলেন,

“লিওনার্দো!”
“জি।”
“তোমরা সবাই সাক্ষী থাকো, আমি আজকে থেকে আর কোনো দিন হাতে তুলি নেব না। কোনো ছবিও আর আঁকব না, শপথ করছি। আমার জীবন সার্থক যে আমি লিওনার্দোর মতো কারো শিক্ষক হতে পেরেছি। অনেক বড় হও তুমি, বৎস!”

সত্যিই ভেরোচিও আর কোনো ছবি আঁকেননি কোনোদিন। আর লিওনার্দো? হ্যাঁ, সেই ২৩ বছরের তরুণকে কোনোদিন পেছনে তাকাতে হয়নি আর। অর্ধ সহস্র বছর পরেও এই পৃথিবীর শিল্পের সামান্য জ্ঞান থাকা মানুষও তার নাম জানে।


The Baptism of Christ (Verrocchio) Continue reading

September 4, 2017

মনসবদার জায়গিরদার

মূল লেখার লিংক
মনে করেন মোগল আমল। ঝিরিঝিরি বাতাস। বড় চাচা দূর কাবুল থেকে সফর শেষ করে এসে মাথায় হাত বুলায় কইলেন এই নাও বাছা মিষ্টি খাও। আখরোট খাও। কতদিন পরে দেখা। পড়াশোনা কেমন চলছে? বড় হয়ে কি হবে ঠিক কি করেছ?

আপনি কি বলবেন… ডাক্তার হতে চাই? আশিব্বাদ করেন চাচাজান যেন সফটওয়্যার ডেভেলপার হতে পারি? ধুর না। আপনি কইবেন বড় মানুষ হইতে চাই। নামজাদা ব্যক্তি। চার মহলা দালান। শুক্রবারে খাসির বিরিয়ানি। পায়ের উপর পা তুলে সুখে বসবাস। অতএব আপনি বলবেন মনসবদার হতে চাই। জায়গিরদার হতে চাই চাচা দোয়া রাইখেন।

চলেন পাঠক আজ তাহলে মনসবদারি জায়গিরদারি ফানাফানা করে দেখি। তারা কি সত্যই চার মহলা দালানে থাকত এবং শুক্রবারে খাসির বিরিয়ানি খেত? তাদের জমা-হাসিল গরমিল কি কারণে? জাট এবং সওয়ার কি বস্তু? মাশরুত খায় না মাথায় দেয়? চৌধুরী আর কানুনগো কে?

মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার। বিষম চিন্তা।
Continue reading

September 4, 2017

সাবান বিক্রেতা থেকে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠা ইউনিলিভারের আদ্যোপান্ত

মূল লেখার লিংক
বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম মালটিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার। খাদ্য, পানীয়, প্রসাধানী থেকে শুরু করে চার শতাধিক ব্র্যান্ডের পণ্য আছে এই ব্রিটিশ-ডাচ কোম্পানিটির। গৃহস্থালীর পণ্য উৎপাদনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান এটি। তবে এই ইউনিলিভারের নাম এক সময় ইউনিলিভার ছিল না। ১৯৩০ সালে নেদারল্যান্ডসের কোম্পানি ‘মার্জারিন ইউনি’ এবং ব্রিটিশ কোম্পানি ‘লিভার ব্রাদার্স’ মিলে তৈরি করে ইউনিলিভার।

২০১২ সালের এক হিসাব অনুসারে, রাজস্বের দিক থেকে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে আছে এই বহুজাতিক কোম্পানি। প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল এবং নেসলের পরেই আছে ইউনিলিভার। বর্তমানে বিশ্বের ১৯০টি দেশে পণ্য বিক্রি করে তারা।

১৮৮৫ সালে লিভার ব্রাদার্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ব্রিটিশ উদ্যোক্তা উইলিয়াম হেসকেথ লিভার এবং তার ভাই জেমস। এই কোম্পানিটিই বিশ্বের প্রথম প্যাকেটজাত লন্ড্রি সাবান বাজারে আনে। এর নাম ছিল সানলাইট। ১৯১৭ সালের আগ পর্যন্ত কোম্পানিটি শুধু একটি সাবানের কারখানাই ছিল। এরপর তারা খাদ্যদ্রব্যও উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে লিভার ভ্রাতৃদ্বয় মাছ, আইসক্রিম এবং বোতলজাত পানীয়ের ব্যবসা শুরু করেন।

ত্রিশের দশকে এসে নতুন যুগে পদার্পণ করে লিভার ব্রাদার্স। ডাচ কোম্পানি মার্জারিন ইউনির সঙ্গে একীভূত হয়ে শুরু করে লিভার ব্রাদার্স। এর পেছনে কারণ ছিল: মার্জারিন ইউনি প্রাণির চর্বির ব্যবসা করতো। আর সাবান কিংবা মাখন- এগুলো উৎপাদনে চর্বি প্রয়োজন হয়। পঞ্চাশের দশকে এসে ইউনিলিভার বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন, প্যাকেজিং, বাজার গবেষণা এবং বিজ্ঞাপনের দিকে মনোযোগ দেয়।

Continue reading

September 4, 2017

মুন্সী আব্দুল করিম: রানী ভিক্টোরিয়ার ভালোবাসায় সিক্ত এক ভারতীয় তরুণ

মূল লেখার লিঙ্ক
রানী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর পর ব্রিটেনের রাজসিংহাসনে আরোহণ করলেন রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড। রাজসিংহাসনে বসার ঘন্টাখানেকের মাথায় রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড বরখাস্ত করলেন রানীর অতি ঘনিষ্ঠ এক কর্মচারীকে। ঐ ব্যক্তি রানীর শিক্ষকও ছিলেন। রানী এবং ঐ ব্যক্তির মধ্যকার সকল প্রকার চিঠিপত্র এবং কাগজ পুড়িয়ে ফেলারও আদেশ জারি করেন সপ্তম এডওয়ার্ড। তাৎক্ষণিকভাবে ভারতে ফেরত পাঠালেন সেই ব্যক্তিটিকে। ভারতীয় মুসলিম এই ব্যক্তিটিই ছিলেন রানীর উর্দু ভাষার শিক্ষক এবং রানীর ভারত বিষয়ক সচিব। রানী ভিক্টোরিয়ার জীবনের শেষ ১৫ বছরের অন্যতম কাছের সহকারীও ছিলেন এই ব্যক্তি। ভিক্টোরিয়ার ৮০ তম জন্মদিন উপলক্ষে রানী তাকে ‘কমান্ডার অফ দ্য অর্ডার (CVO)’ নামক সম্মানেও ভূষিত করেছিলেন। কিন্তু সিংহাসনে বসেই কেন রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড দৃশ্যমান কোনো অপরাধ ছাড়াই বরখাস্ত করলেন তার মায়ের খুব কাছের এই মানুষটিকে?

রাজপরিবারে ভারতীয় কেন?

রানী ভিক্টোরিয়া ভারতীয়দের ব্যাপারে অনেক বেশি কৌতূহলী ছিলেন। তাই রানীর সিংহাসনে বসার ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ভারত থেকে দুজন কর্মচারী আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক ‘মোহাম্মদ বকস’ আর ‘মোহাম্মদ আবদুল করিম’ নামের এই দুজন ভারতীয়কে ব্রিটেনে নিয়ে আসা হয়। তারা দুজন নিয়োগ পান রাজপরিবারের ‘খিদমতগার’ বা ‘রাজকীয় খাদ্য পরিবেশক’ হিসাবে। রানী ভিক্টোরিয়ার নোটবুক থেকে জানা যায়, তার সাথে ভারতবর্ষ থেকে আসা দুই কর্মচারীর সাথে তার প্রথম দেখা হয় ১৮৮৭ সালের ৩ জুন উইন্ডসর দুর্গে। এই দুই রাজ কর্মচারীর সাথে প্রথম দেখার কথা রানী তার দিনলিপিতে এভাবে লিখে রেখেছেন

“The one Mohammed Buksh, very dark with a very smiling expression… and the other, much younger, called Abdul Karim, is much lighter, tall and with a fine, serious countenance. They both kissed my feet.”

খিদমতগার থেকে রানীর শিক্ষক

একদিন খাবার টেবিলে পরিবেশনকৃত একটি খাবার বেশ ভালো লাগে ভিক্টোরিয়ার। তিনি জানতে চান কে রান্না করেছে এই খাবার। ভারতীয় খিদমতগার মোহাম্মদ আবদুল করিম রেঁধেছিলেন সেটি। ২৪ বছর বয়সী সুঠাম ভারতীয় তরুণ করিমকে পুনরায় দেখে বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেন রানী ভিক্টোরিয়া।


তরুণ আব্দুল করিম Continue reading

September 4, 2017

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ: মহামতি আকবরের উত্থান উপাখ্যান

মূল লেখার লিংক
মাত্র ত্রিশ বছরের ব্যবধানে ফের পানিপথ প্রান্তরে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। এক প্রান্তে মোঘলবাহিনী প্রস্তুত। তাদের নেতৃত্বে আছেন সম্রাট আকবরের সুদক্ষ অভিভাবক বৈরাম খান। অপরপ্রান্তে মোঘলদের তুলনায় শক্তিশালী ফৌজ নিয়ে দন্ডায়মান সম্রাট হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য হিমু। পানিপথের প্রথম যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই মোঘলরা ফের জড়ো হয়েছে এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে।

এখনো কান পাতলে হয়তো বাবর বাহিনীর জয়োল্লাস শুনতে পাওয়া যাবে।  বাতাসে মিলিয়ে যায়নি মোঘলদের বারুদের গন্ধও। কিন্তু হারিয়ে গিয়েছে তাদের সাম্রাজ্য। প্রথম যুদ্ধের তাজা স্মৃতিকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে মোঘলরা পুনরায় দিল্লী অধিকারের সংকল্পে অটল। অপরদিকে অপরাজিত সম্রাট হিমু তার মসনদ রক্ষার্থে বদ্ধপরিকর।

পানিপথের প্রথম যুদ্ধে মোঘলদের অধিকৃত দিল্লীর পতন হয়েছে আফগানদের হাতে। তারপর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মোঘলরা ধীরে ধীরে তাদের শক্তি ফিরে পেতে শুরু করে। কিন্তু মোঘল সম্রাট হুমায়ুনের আকস্মিক মৃত্যুতে থমকে দাঁড়ায় তাদের জয়রথ। মাত্র তের বছর বয়সী সম্রাট আকবর হয়ে ওঠেন তাদের আশা-ভরসার প্রতীক। কিশোর সম্রাটের অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করা হয় বিশ্বস্ত বৈরাম খানকে। অকুতোভয় বৈরাম খান অপেক্ষাকৃত দুর্বল বাহিনী নিয়ে মোঘলদের হৃত গৌরব উদ্ধারের লক্ষ্যে পানিপথ প্রান্তরে সম্রাট হিমুর বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় সেই ঐতিহাসিক পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধকে ঘিরে।

আফগানদের ত্রাণকর্তা বিক্রমাদিত্য হিমু

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আফগানদের অধিপতি সম্রাট হিমুর উত্থান বেশ নাটকীয়। কারণ, প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন সামান্য একজন মুদি দোকানদার। শের শাহ (অপর নাম ইসমাইল শাহ) এর অধীনে তিনি দিল্লীর হাট-বাজার পরিদর্শক হিসেবে নিযুক্ত হন। তার কর্মকাণ্ডে মুগ্ধে হয়ে শের শাহ তাকে পাঞ্জাবের গভর্ণর নিযুক্ত করেন। শের শাহের মৃত্যু পর্যন্ত তিনি গভর্ণর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


বিক্রমাদিত্য হিমুর মূর্তি Continue reading

August 27, 2017

সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর উপাখ্যান

মূল লেখার লিংক
দেশ কী? কখনো মনে হয়, হয়তো স্রেফ মানচিত্রে দাগ টানা সীমারেখা বা জোর করে চাপিয়ে দেয়া কাঁটাতারের নামই দেশ। কিন্তু পরক্ষণেই দ্বন্দ্বে পড়ে যেতে হয়। এ সীমারেখার মধ্যে সার্বভৌমত্ব অর্জনের জন্য যুগে যুগে কত রক্তপাত, কত না বলিদানই হয়েছে। ‘সার্বভৌমত্ব’, ‘স্বাধীনতা’- এ শব্দগুলো যেন প্রাণের সবটুকু উচ্ছ্বাস ধারণ করে থাকে।

ইতিহাসের পাতায় অনেক জাতি যেমন স্বর্ণাক্ষরে নিজেদের স্বাধীনতা অর্জনের গল্প লিখেছে, তেমনি এর পাশাপাশি কালো হরফে লেখা স্বাধীনতা হারানোর অধ্যায়ের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন দেশের কথা বলতে গেলেই চলে আসে সিকিমের নাম।

মাত্র ৭,০৯৬ বর্গ কিলোমিটারের ছোট্ট দেশ সিকিমের জনগণও স্বাধীনতা চেয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা যখন উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যায়, তখন সিকিমে ‘ভারতের সাথে তারা যুক্ত হতে ইচ্ছুক কিনা’ এ প্রশ্নে গণভোট হয়েছিল। সিকিমের জনগণ প্রত্যাখ্যান করে এ প্রস্তাব। কিন্তু এরপর তিরিশ বছর না পেরোতেই এক বিশ্বাসঘাতক, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর কূটচাল ও সিকিমের রাজার সরলতায় সিকিম হয়ে ওঠে ভারতের প্রদেশ।

সিকিমের ভারতের প্রদেশ হয়ে ওঠার সফরটা বুঝতে হলে একটু ব্রিটিশ-ভারতের সময়ে ফিরে তাকানো দরকার। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিকিমের উপর আধিপত্যবাদীদের লোভাতুর দৃষ্টি ছিল সবসময়ই। উনবিংশ শতকের প্রথম দিকে প্রতিনিয়ত নেপালের গোর্খা রাজ্যের হামলায় উৎকণ্ঠিত ছিল সিকিম। গোর্খা রাজ্য হামলা চালাত সংলগ্ন ব্রিটিশ ভারতের রাজ্যগুলোতেও। তাই সহজেই সে সময় সিকিম ও ব্রিটিশ রাজ গোর্খাদের বিরুদ্ধে এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়। এরপর ১৮১৪ সালে শুরু হওয়া ব্রিটিশ-নেপাল যুদ্ধে নেপাল পরাজিত হয়। আর এক চুক্তি অনুসারে সিকিম ফিরে পায় নেপাল অধিকৃত তার অংশগুলো।


এ চুক্তির ফলে নেপাল অধিকৃত অংশগুলো ফিরে পায় সিকিম Continue reading

August 25, 2017

পূজা চৌহানের অদ্ভুত ‘ধনী পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপনের যে দুর্দান্ত উত্তর দিয়েছিলেন মুকেশ আম্বানি

মূল লেখার লিংক
পাত্র-পাত্রী চাই শিরোনামের বিজ্ঞাপনগুলো খুব একটা অপরিচিত নয় আমাদের কাছে। হরহমেশাই তো দেখে যাচ্ছি। তাহলে পূজা চোহান অনলাইন ফোরামে পাত্র চেয়ে কী এমন চাহিদাপত্র পেশ করেছিলেন যার উত্তর দিলেন স্বয়ং মুকেশ আম্বানি, আর আলোড়ন উঠলো অনলাইন দুনিয়ায়? উত্তরটাই বা কী ছিল? মুকেশ আম্বানি ও পূজা চৌহানের নামে এই ঘটনা প্রচলিত থাকলেও নানা সূত্র থেকে জানা যায় পাত্র চাই বিজ্ঞাপনটি আমেরিকার বিখ্যাত ক্লাসিফায়েড বিজ্ঞাপনের ওয়েবসাইট ক্রেইগলিস্টে দিয়েছিলন মিস প্রীতি ও এর উত্তর দিয়েছিলেন জে পি মরগানের সিইও। তবে এরও সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকায় গল্পটি আমরা পূজা ও মুকেশ আম্বানির নামেই প্রকাশ করছি। কারণ পাত্র-পাত্রী এখানে মূখ্য নয়, মূখ্য গল্পের উপদেশপত্রটি।
Mukesh

Continue reading

August 25, 2017

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ: মোঘল সূর্যোদয়ে অস্তমিত দিল্লী সালতানাত

মূল লেখার লিংক
পানিপথ প্রান্তরে তখন থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। বাতাসের জোরালো আগ্রাসন আর ক্ষণে ক্ষণে ডেকে ওঠা যুদ্ধবাজ হাতি-ঘোড়ার ধ্বনি ব্যতীত আর কোনো শব্দ নেই।

একদিকে মোঘল অধিপতি বাবর তার ছোট সৈন্যদল নিয়ে প্রস্তুত। প্রায় আট হাজার সৈনিক সতর্কতার সাথে কান পেতে আছে বাবরের দিকে। যেকোনো সময় তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে বাবরের নির্দেশে। অপরদিকে অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকা ইব্রাহিম লোদির সুসজ্জিত বাহিনী। কারণ বাবরের চেয়ে তাদের শক্তিসংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বড়। লোদির সৈনিকরা প্রথমদিকে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছিলেন বাবরের স্পর্ধা দেখে। বাবরকে উচিত শিক্ষা দেবার জন্য বদ্ধপরিকর সুলতানের বাহিনী। পানিপথ প্রান্তরে দু’পক্ষ অবস্থান করছেন প্রায় ৮ দিন ধরে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ কারো দিকে আক্রমণ চালাননি। ওদিকে বাবরের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। তিনি হাত উঁচু করে ইশারা করলেন।

মুহূর্তের মধ্যে বেজে উঠলো যুদ্ধের দামামা। হুংকার দিতে দিতে দু’পক্ষ এগিয়ে যেতে লাগলো একে অপরের দিকে। যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, পানিপথের যুদ্ধ!

পানিপথের প্রান্তর উপমহাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র। ভারতবর্ষের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মোঘল সাম্রাজ্যের উত্থান থেকে শুরু করে শক্তিশালী মারাঠাদের পতন পর্যন্ত প্রায় তিনটি বড় যুদ্ধের সাক্ষী হয়ে এখনো ইতিহাসের পাতায় অবিনশ্বর হয়ে আছে পানিপথ প্রান্তর।

পানিপথ প্রান্তর

পানিপথ কোনো জলপথের নাম নয়। রাজধানী দিল্লীর উত্তরে অবস্থিত পানিপথ ভারতের হারিয়ানা প্রদেশের একটি শহরের নাম। মহাভারত অনুযায়ী, পানিপথ পঞ্চপাণ্ডব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পাঁচটি শহরের মধ্যে অন্যতম। মহাভারতের ইতিহাস ছাপিয়ে পানিপথ মুখ্য হয়ে আছে মূলত পানিপথ প্রান্তরে ঘটে যাওয়া তিনটি বড় যুদ্ধের কারণে।


মানচিত্রে পানিপথের অবস্থান Continue reading

August 25, 2017

দিয়াগো ম্যারাডোনা: জনগণের হৃদয়ে যিনি সর্বকালের সেরা

মূল লেখার লিংক

যেকোনো বিষয়ে সেরা নির্বাচন করার মূলত দুটি পদ্ধতি আছে। এর একটি হলো, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ লোক দিয়ে বিচার করা; আরেকটি হলো, সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচন করা। দক্ষ লোক দিয়ে নির্বাচন করাটাই নিঃসন্দেহে বেশি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। কিন্তু এর সাথে সাথে সাধারণ মানুষের নির্বাচনকেও অবজ্ঞা করা যায় না। সাধারণ মানুষের নির্বাচনে মূলত দুটো সমস্যা হয়। একটি হচ্ছে, তারা আবেগের আশ্রয় বেশি নেয়; আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সমসাময়িকদের এগিয়ে রাখে। ফুটবলের ইতিহাসে অল্প কিছু খেলোয়াড় আছেন যারা কিনা দক্ষ বিচারক আর সাধারণ জনগণ দু’দিকের ভোটেই প্রথম দিকেই থাকেন।

এরকম একজন খেলোয়াড় হচ্ছেন দিয়াগো ম্যারাডোনা। গত শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করার সময় ফিফা প্রথমে সিদ্ধান্ত নেয়, ইন্টারনেটে ভোটিংয়ের মাধ্যমে সেরা নির্বাচন করা হবে। সেভাবে ভোটিংও হয়। তবে ফলাফল দেখে ফিফা কমিটি চোখে সর্ষে ফুল দেখে। ম্যারাডোনা ভোট পান ৫৩.৬%, পক্ষান্তরে পেলে পান মাত্র ১৮.৫৩%।

এরপরই ফিফা আরেকটি কমিটি গঠন করে, যেখানে ভোট গ্রহণ করা হয় তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ম্যাগাজিনের পাঠক আর জুরি বোর্ডের সদস্যদের কাছ থেকে। এই নির্বাচনে পেলে প্রথম হন। শেষ পর্যন্ত গত শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ের দুটো পুরষ্কার দেওয়া হয়; একটি জনগনের সেরা, আরেকটি বিশেষজ্ঞদের সেরা। অনলাইনের ভোটিং আসলে গ্রহণযোগ্যতা হারায় তখন, যখন দেখা যায় ম্যারাডোনা-পেলের পরের ক্রমগুলো হচ্ছে ইউসেবিও, ব্যাজিও, রোমারিও, ভ্যান বাস্তেন, রোনালদো লিমা। ক্রুয়েফ আছেন ১৩ নম্বরে, ডি স্টেফানো ১৪ নম্বরে, প্লাতিনি ১৫ নম্বরে। যে জায়গার ফলাফল আপনাকে দেখাবে ক্রুয়েফ, ডি স্টেফানো কিংবা প্লাতিনির চেয়ে ব্যাজিও কিংবা রোমারিও (তখন পর্যন্ত তারা ক্যারিয়ার শেষ করেননি) ভালো, সেই ভোট গ্রহণ করা আসলে কষ্টকর। এছাড়া অনলাইনে সাধারণত নতুন প্রজন্মের মানুষরাই ভোট দিয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শতাব্দীর সেরা নির্বাচন করার মতো এত বড় বিষয়ে এই দিকগুলো ফিফা কমিটি আগে খেয়াল করল না কেন, কেন নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হলো। যদি অনলাইনের বিচারেও পেলে সেরা হতো, তখন কি আরেকটি নির্বাচন করা হতো?


সবচেয়ে বড় বিতর্কের দুই পাত্র Continue reading

August 23, 2017

মক্কা নগরীর জানা-অজানা এক রক্তাক্ত ইতিহাস

মূল লেখার লিংক

কাবা, পৃথিবী জুড়ে মুসলিমদের কাছে পবিত্রতম স্থান, অবস্থান তার মক্কা নগরীতে, যার পেছনে আছে সহস্র বছরের ইতিহাস। কিন্তু এই ইতিহাসের বেশিরভাগই আসলে অনেক মানুষের কাছে অজানা। কেবল হজ্ব বা ওমরা করতে এই পবিত্র তীর্থস্থানে যান মুসলিমরা, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর জন্ম আর বেড়ে ওঠা এ মক্কা শহরে- এটুকুই সবার সাধারণভাবে জানা। কিন্তু এই কাবা নিয়ে যে রক্তাক্ত অজানা ইতিহাস আছে সেটা অনেকে শুনলেই কেন যেন আঁতকে ওঠেন। এরকম পবিত্র স্থানেও কেউ রক্ত ঝরাতে পারে? বর্তমান সময়ের বিশ্বজুড়ে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ আর প্রাণহানির পর পবিত্র জায়গাও যে অক্ষত থাকতে পারে, এমনটা আশা করা অলীক। যুগে যুগে অনেকবারই কাবাতেও হয়েছে রক্তপাত। আজকে চলুন মক্কা বা কাবার ইতিহাস জেনে আসা যাক। হয়ত এর বেশিরভাগ আপনার অজানা।


২০০৮ সালে হজ্জ্বের সময় মক্কা

Continue reading

August 23, 2017

গ্যারফিল্ড সোবার্স: ক্রিকেটের রাজাধিরাজ

মূল লেখার লিংক

কিছু কিছু রেকর্ড আছে যেগুলো কিনা আপনি শুধুমাত্র ছুঁতে পারবেন, কখনো ভাঙতে পারবেন না। ছয় বলের ওভারে ৩৬ রান করা এমনই একটি রেকর্ড। এক ওভারে যদি সবগুলো বৈধ বল হয়, তাহলে আপনি কখনোই ৩৬ রানের বেশি নিতে পারবেন না। তবে ৩৬ রান নেওয়াটাও কিন্তু এত সহজ বিষয় নয়। টানা ছয়টি ছয় মারতে হবে!

ক্রিকেটে এই কাজটি করা যে খুব কঠিন, সেটি একটু ইতিহাস ঘাঁটলেই বোঝা যায়। স্বীকৃত ক্রিকেটে এই ঘটনাটি ঘটেছে মাত্র চার বার। তবে যে কোনো কাজ যিনি প্রথম বার করেন, তিনি পথপ্রদর্শক হিসেবেই বিবেচিত হন। ১৯৬৮ সালের ৩১ শে আগস্ট প্রথমবার এই কাজটি করে পথপ্রদর্শক হিসেবে রয়ে গিয়েছেন স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স। টানা ছয় বলে ওভার বাউন্ডারি মারার শেষ বলটি সম্পর্কে স্লিপে দাঁড়ানো পিটার ওয়াকার বলেছিলেন, “ওটা ৬ নয়, ১২”। পরবর্তীতে সেই হারিয়ে যাওয়া বলটি একটা বাগান থেকে উদ্ধার করে ১১ বছর বয়সী রিচার্ড লুইস।


ব্যাটসম্যান সোবার্স Continue reading

August 20, 2017

‘ছোটলোকের বাচ্চা’, তোমাকে শ্রদ্ধা

মূল লেখার লিংক

মাইকেলের মেঘনাদবধে রাম নয়, নায়ক ছিলেন রাক্ষস রাবণ। ভালো-মন্দ বিলেতি হলেই চলে এমন মনোভাবের দত্তকুলোদ্ভব মধুসূদন ক্রিকেট খেলতেন কিনা জানি না, তবে ক্রিকেটের মহাকাব্য লিখলে নিশ্চিত তার নায়ক হতেন ক্রিকেট ইতিহাসের চরম ঘৃনিত, নিন্দিত এক ক্রিকেটার। যাকে দানব, রাক্ষস, খুনি এসবের পাশাপাশি, বোলিং রানআপে দৌড়ানোর সময় অন্তত চল্লিশ হাজার দর্শক তারস্বরে গালি দিয়েছে, “বেজন্মা, বেজন্মা, বেজন্মা” বলে, আর সেটি উপেক্ষা করে গতির ঝড় তুলছেন তিনি। Continue reading

August 20, 2017

হরেক নামের ঢাকা

মূল লেখার লিংক

ঢাকা নামের নগরের আনুষ্ঠানিক শুরু সেই ১৬১০ (মতান্তরে ১৬০৮), মোঘলদের হাতে। বাংলা ছিল প্রায় সবসময়ই বিদ্রোহী, অধিকাংশ সময় প্রায় স্বাধীন। এ কারণে নানা ঝড়-ঝাপটা, উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে এ নগরী, বার বার পেয়েছে ও হারিয়েছে রাজধানীর সম্মান। সামরিক ছাউনি বা সাম্রাজ্যের শেষ সীমানায় প্রতিরোধ কেন্দ্র থেকে কখনো পরিণত হয়েছে বন্দরশোভিত বাণিজ্য নগরীতে। নানা পট ও পালাবদলের খেলায় ঢাকায় সমাগম হয়েছিলো নানা জাতের, নানা দেশের নানান কিসিমের মানুষের, সামরিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন উদ্দেশ্যে। একাধিক প্রশাসনের অধীনে, নানান সময়ে, নানা কর্মজীবীর কর্মে বা বসতির নামে বিভিন্ন ভাষায়, নাম হয়েছে ঢাকার পুরনো বিভিন্ন স্থানের। তেমন কয়েকটি স্থানের নাম নিয়ে এ লেখা। Continue reading