August 20, 2017

‘ছোটলোকের বাচ্চা’, তোমাকে শ্রদ্ধা

মূল লেখার লিংক

মাইকেলের মেঘনাদবধে রাম নয়, নায়ক ছিলেন রাক্ষস রাবণ। ভালো-মন্দ বিলেতি হলেই চলে এমন মনোভাবের দত্তকুলোদ্ভব মধুসূদন ক্রিকেট খেলতেন কিনা জানি না, তবে ক্রিকেটের মহাকাব্য লিখলে নিশ্চিত তার নায়ক হতেন ক্রিকেট ইতিহাসের চরম ঘৃনিত, নিন্দিত এক ক্রিকেটার। যাকে দানব, রাক্ষস, খুনি এসবের পাশাপাশি, বোলিং রানআপে দৌড়ানোর সময় অন্তত চল্লিশ হাজার দর্শক তারস্বরে গালি দিয়েছে, “বেজন্মা, বেজন্মা, বেজন্মা” বলে, আর সেটি উপেক্ষা করে গতির ঝড় তুলছেন তিনি। Continue reading

August 20, 2017

হরেক নামের ঢাকা

মূল লেখার লিংক

ঢাকা নামের নগরের আনুষ্ঠানিক শুরু সেই ১৬১০ (মতান্তরে ১৬০৮), মোঘলদের হাতে। বাংলা ছিল প্রায় সবসময়ই বিদ্রোহী, অধিকাংশ সময় প্রায় স্বাধীন। এ কারণে নানা ঝড়-ঝাপটা, উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে এ নগরী, বার বার পেয়েছে ও হারিয়েছে রাজধানীর সম্মান। সামরিক ছাউনি বা সাম্রাজ্যের শেষ সীমানায় প্রতিরোধ কেন্দ্র থেকে কখনো পরিণত হয়েছে বন্দরশোভিত বাণিজ্য নগরীতে। নানা পট ও পালাবদলের খেলায় ঢাকায় সমাগম হয়েছিলো নানা জাতের, নানা দেশের নানান কিসিমের মানুষের, সামরিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন উদ্দেশ্যে। একাধিক প্রশাসনের অধীনে, নানান সময়ে, নানা কর্মজীবীর কর্মে বা বসতির নামে বিভিন্ন ভাষায়, নাম হয়েছে ঢাকার পুরনো বিভিন্ন স্থানের। তেমন কয়েকটি স্থানের নাম নিয়ে এ লেখা। Continue reading

August 20, 2017

কলিঙ্গ যুদ্ধ: উপমহাদেশের ইতিহাসে এক রক্তক্ষয়ী উপাখ্যান

মূল লেখার লিংক
লাশের স্তূপ থেকে এক আহত সৈনিক বের হয়ে এসেছেন। সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত এই সৈনিক জ্ঞান হারিয়ে চাপা পড়েছিলেন লাশের স্তূপের নিচে। জ্ঞান ফেরার পর থেকেই তার প্রচণ্ড তৃষ্ণাবোধ হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রের পাশ দিয়ে বয়ে চলা দায়া নদীর দিকে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এক আঁজলা পানি না পেলে এই যাত্রা আর বাঁচবেন না এই তার আশঙ্কা!

নদীর কাছাকাছি চলে আসার পর উঠে বসলেন সৈনিক। যেই না পানি স্পর্শ করতে যাবেন, তখনই ভয়ে শিউরে উঠলেন তিনি। অস্ফুট স্বরে বলে উঠলেন, “পানি কোথায়?”

বিশাল দায়া নদীর পানি শুকিয়ে যায়নি। তা কল্পনায়ও অসম্ভব! তাহলে কী দেখে ভয় পেয়েছিলেন সেই সৈনিক? নদীর পানি ঠিকই বয়ে চলছিল আপন খেয়ালে। কিন্তু সেদিন দায়া নদীর পানি ঠিক আমাদের পরিচিত রঙহীন পানির মতো ছিল না। সেই পানির রঙ ছিল টকটকে লাল!

হ্যাঁ, কলিঙ্গ যুদ্ধের কথাই বলছিলাম। উপমহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত যুদ্ধ সম্রাট অশোকের কলিঙ্গ যুদ্ধ। যুদ্ধের রক্তপাতের তীব্রতা এতোই ছিল যে, কলিঙ্গের দায়া নদী সৈনিকদের বুকের রক্তে টকটকে লাল হয়ে গিয়েছিল। আমাদের আজকের আলোচনা সেই ঐতিহাসিক কলিঙ্গ যুদ্ধকে ঘিরেই।

কলিঙ্গ একটি রাজ্যের নাম

কলিঙ্গ যুদ্ধ সংঘটিত হয় মৌর্য বংশের সম্রাট অশোক এবং প্রাচীন ভারতের শক্তিশালী রাজ্য কলিঙ্গের মধ্যে। প্রাচীন ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজ্য কলিঙ্গের পূর্বদিকে গঙ্গা এবং উত্তরে গোদাবরী নদী বয়ে চলেছে। এর উত্তরে মৌর্য সাম্রাজ্যের দক্ষিণ রাজ্য অবস্থিত ছিল। বর্তমানে মানচিত্রে চোখ বুলালে প্রাচীন কলিঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ নগরীসমূহকে নব্য উড়িষ্যার মাঝে খুঁজে পাওয়া যাবে


প্রাচীন ভারতের মানচিত্রে কলিঙ্গ Continue reading

August 7, 2017

কে এই দালাইলামা?

মূল লেখার লিংক

‘দালাইলামা’ পৃথিবীর ছাদে থাকা এককালের নিষিদ্ধ রাজ্য তিব্বতের ধর্মগুরুর পদবী। তিব্বতে বৌদ্ধধর্মের ‘গেলুগ’ নামের যে শাখাটি প্রচলিত আছে, তার প্রধান ধর্মগুরুকে দালাইলামা নামে অভিহিত করা হয়। মোঙ্গলীয় ভাষায় ‘দালাই’ শব্দের অর্থ সমুদ্র আর সংস্কৃত ‘লামা’ শব্দের অর্থ গুরু বা আধ্যাত্মিক শিক্ষক। অর্থাৎ দালাইলামা শব্দটির পূর্ণ অর্থ দাঁড়ায় এমন এক শিক্ষক যার জ্ঞান বা আধ্যাত্মিকতা সমুদ্রের মতোই গভীর। অন্যদিকে দালাইলামাদের নামের সাথে গিয়াৎসু শব্দটি যুক্ত থাকে। যেমন বর্তমান দালাইলামার নাম তেনজিন গিয়াৎসু। তিব্বতীয় ভাষায় এই ‘গিয়াৎসু’ শব্দের অর্থও সমুদ্র। যে শব্দটি আসলে দালাইলামার সাথে অনেকটাই সমার্থক। কিন্তু তাহলে দালাইলামা শব্দটির উৎপত্তি হয়েছিলো কীভাবে? চলুন জেনে নিই কে এই দালাইলামা? Continue reading

July 30, 2017

মানসিকভাবে শক্তিশালী মানুষ যে দশটি কাজ অবশ্যই করবে না

মূল লেখার লিংক
আমরা প্রতিনিয়তই শক্তিশালী এবং সুস্থ দেহ প্রত্যাশা করি। কর্মক্ষম থাকার জন্য শারীরিক কসরত করি। শরীরের পর্যাপ্ত পুষ্টির প্রয়োজনে ভালো খাবার খাই এবং শরীরের প্রয়োজনেই আবার অনেক কিছু এড়িয়েও চলি। কিন্তু শারীরিক শক্তিমত্তার সাথে সাথে মানসিক সুস্থতা, মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার জন্য করণীয় কাজগুলো আমাদের করা হয়ে ওঠে না। আমাদের সফলতা, সুখী থাকা, জীবনটাকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নিয়ে চলার পুরো ব্যাপারটি যে মানসিক শক্তিমত্তার উপর নির্ভর করে, সে ব্যাপারে আমদের কোনো ধারণাই নেই।

Continue reading

July 30, 2017

জামরঃ ফরাসি বিপ্লবে বাংলার বিপ্লবী

মূল লেখার লিংক
দিনের পর দিন কলুর বলদের মতো খেটে মরবে সমাজের সিংহভাগ জনগণ। আর মনুষ্যসৃষ্ট জাতিভেদের দোহাই দিয়ে ফায়দা লুটে লাভের গুঁড় খাবে সংখ্যালঘু অভিজাত সমাজ। সমাজের আপমর জনতা মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও দিনাতিপাত করতে বাধ্য হয় সতত; অন্যদিকে আলস্যসকাশে মহানন্দে থাকছে এক বিশেষ সিন্ডিকেট শ্রেণী। লঘু পাপকে গুরু দন্ডে প্রতিবিহিতের বরাদ্দ কেবল দলিতের নোনতা ললাটের জন্যে; অথচ বিচারের বাণী জাত্যাভিমানের মারপ্যাঁচে হারিয়ে যায় সভ্যতার আস্তাকুঁড়েতে। কঠোর পরিশ্রমের পরেও করের অন্যায় বোঝা চাপে শুধু মজলুমের ঘাড়ে আর জালিমের ধন-ভান্ডার সমৃদ্ধির পথে বলগা হরিণের ন্যায় ছুটে চলে।

সমাজে যখন এই উল্টো চলার নীতি পরিগৃহীত হয়, তখন প্রতিবাদী প্রতিরোধ প্রতিটি পরিক্লিষ্ট প্রকোষ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়। অত্যাচারিতের জর্জর পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গিয়ে তাকে অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দেয়, জীবনের তাগিদে সে তখন প্রাণের মায়ার বীরোচিত বিসর্জনেও থাকে অকুতোভয়। ফরাসিরা ভিতরে ভিতরে ফুঁসে উঠেছিল; দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ তখন সময়ের ব্যাপার ছিল। অসহ্য মাত্রায় নিষ্পেষিত জনগণ একাট্টা হয়ে ওঠে; হয়ে ওঠে প্রতিবাদী। তাদের প্রতিবাদী সুরে ওঠে বিপ্লবের জাগ্রত রাগিণী। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, বলছি ইউরোপের দিনবদলের পাঞ্জেরী ফরাসি বিপ্লবের কথা। এটা তো আমরা সবাই জানি যে, অষ্টাদশ শতকের ফরাসি বিপ্লব সমগ্র বিশ্বের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব প্রভাব (সেটা কম হোক বা বেশি) রেখেছিল। কিন্তু আমাদের কি জানা আছে, সেই দিন বদলের বসন্তে বিশেষ অবদান রেখে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে এক বাঙালি যুবা! সমুদ্রসকাশে বড় হয়ে ওঠা চট্টগ্রামের জামর ছিল ফরাসি বিপ্লবের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র! আসুন, পরিচিত হই তৎকালীন সুবা বাংলার বাঙালি জামরের সাথে।


বাস্তিল দুর্গে ফরাসি জনতার অধিকারের বিপ্লব Continue reading

July 30, 2017

মানসা মুসা: বিশ্বের সর্বকালের সেরা ধনী ব্যক্তি

মূল লেখার লিংক
বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের কথা ভাবলেই আমাদের মনে পড়ে বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট অথবা রথসচাইল্ড ফ্যামিলি সহ বিংশ শতাব্দীর নব্য ধনীদের কথা। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, চৌদ্দ শতকের মালির মুসলিম শাসক মানসা মুসাকে মনে করা হয় বিশ্বের সর্বকালের সেরা ধনী ব্যক্তি। মূল্যস্ফীতি হিসেব করে তার তত্‍কালীন সম্পত্তিকে বর্তমান মুদ্রায় রূপান্তর করলে সেটার পরিমাণ হবে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার, যেখানে রথসচাইল্ড ফ্যামিলির সম্পত্তির মূল্য ৩৫০ মিলিয়ন ডলার, আর বিল গেটসের সম্পত্তির পরিমাণ মাত্র ৯০ বিলিয়ন ডলার!


কার্টুনিস্টের দৃষ্টিতে মানসা মুসা; ছবিসূত্র: Bizna Kenya

মানসা মুসার প্রকৃত নাম প্রথম মুসা কেইতা (Musa Keita I)। মানসা হচ্ছে সে সময়ের মালির রাজাদের উপাধি, যার অর্থ হচ্ছে রাজা বা সম্রাট। মুসা ছিলেন দশম মানসা অর্থাৎ মালি সাম্রাজ্যের দশম সম্রাট। মুসার জন্ম ১২৮০ সালে। ১৩১২ সালে, মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি ক্ষমতায় আরোহণ করেন। Continue reading

July 24, 2017

ডেড সী স্ক্রোল: মৃত সাগরের জীবন্ত পুঁথি

মূল লেখার লিংক
সময়টা তখন ১৯৪৭ এর দিকে। মৃত সাগরের উত্তর-পশ্চিম তীর ঘেঁষে অবস্থিত কুমরান গুহা। এই গুহাতেই পাথর নিক্ষেপ করার খেলায় মত্ত দুই বেদুইন বালক। মেষ চড়ানোর বায়না ধরে প্রায়ই এদিকটায় চলে আসে দুই ভাই মিলে। হঠাৎ বড় একটা পাথর ছোঁড়ার পর অদ্ভুত রকমের শব্দ হলো। প্রথমদিকে তারা মনের ভুল ভেবে উড়িয়ে দিলেও, প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের পর একই রকম শব্দ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল মাটির তৈরি কিছু একটা ভেঙে গেছে। দুই বালক খেলা থেমে চুপ করে দাঁড়িয়ে পড়লো।

বাতাসে ভেসে আসা মৃত সাগরের লোনা গন্ধ আর পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়া বিকেলের সূর্য চারিদিক করে তুলেছিল রহস্যময়। তখনো সন্ধ্যা হতে অনেক দেরি। তাই এই অদ্ভুত শব্দের উৎস জানার জন্য দুজনে মিলে ঢুকে পড়লো গুহার ভেতর।

সেদিন সেই দুই বালকের সাহসী পদক্ষেপ উন্মোচন করে দিল এক গুপ্ত ইতিহাস। তারা গুহার ভেতর প্রবেশ করে উদ্ধার করলো বড় বড় মাটির পাত্র। পাত্র গুলো উল্টে দিতেই মাটিতে ছড়িয়ে পড়লো অগণিত চামড়ার তৈরি স্ক্রোল। এরকম প্রায় ৭টি বড় পাত্র ভর্তি স্ক্রোল উদ্ধার করলো দুজন মিলে। তখন বাইরের আকাশে সূর্য প্রায় অস্ত যাই-যাই করছে। দুই বালক ছুটে চলে গেল বেদুইন পল্লীর দিকে। চিৎকার করতে লাগলো হাত-পা ছুঁড়ে, “গুপ্তধন! গুপ্তধন!”

বেদুইন সর্দার সব শুনে রাতটা অপেক্ষা করলেন। পরদিন ভোর হতেই দলে দলে কুমরান গুহাতে হানা দিলেন। উদ্ধার করে নিয়ে আসলেন শত শত স্ক্রোল। আশেপাশের সব গুহাতে তল্লাশী চালানো যখন শেষ, তখন বেদুইনদের ঝুলিতে স্ক্রোলের সংখ্যা ৯০০ ছুঁই ছুঁই করছে। জেরুজালেমে তীর্থের উদ্দেশ্যে অনেক মানুষ জড়ো হতেন। এই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে গেলে সবাই বেদুইন পল্লীতে ছুটে আসলেন। এভাবেই মানবসভ্যতার চোখের আড়াল হয়ে থাকা রহস্যময় ডেড সী স্ক্রোল নতুন করে ফিরে আসলো আমাদের মাঝে; সাথে নিয়ে এলো এক অজানা ইতিহাস!

সেই দুই বেদুইন, যারা বাল্যকালে খেলার সময় স্ক্রোলগুলো উদ্ধার করেন।
Continue reading

July 5, 2017

প্রকৃতিতে গণিতের সন্ধানে: গাণিতিক সৌন্দর্য

মূল লেখার লিংক
গণিত মানেই কঠিন কঠিন সব সমীকরণ আর প্রাণহীন শুষ্ক বিষয়! এমন ধারণা আমরা অনেকেই পোষণ করি। গণিতের সৌন্দর্য খোঁজা তো দূরে থাক, কখনো কি প্রকৃতিতে গণিতকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছি? না, করিনি। আমাদের চারপাশে এমন অনেক জিনিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যাদের মাঝে লুকিয়ে থাকা কত না গণিতের সৌন্দর্য। সেটা হতে পারে গাছের পাতায়, পানির ফোঁটায়, শামুকের খোলসে, মৌচাকে, মাকড়শার জালে কিংবা চোখের সামনে কোনো ফাটলে। গণিত লুকিয়ে আছে কিছু মানুষের মুখমণ্ডলের গঠনে। চলুন, আজ আপনাদের ঘুরিয়ে নিয়ে আসি গণিতের সৌন্দর্যের জগতে।

সূর্যমুখীর বীজের প্যাটার্ন

সূর্যমুখীর বীজ একটি বিশেষ প্যাটার্নে বিন্যস্ত থাকে। একে ফিবোনাক্কি ধারা বা ক্রম বলে। ধারাটি এরকম: ০, ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১, ৩৪…। অর্থাৎ এই ধারার কোনো একটি পদ তার পূর্বের দুইটি পদের যোগফলের সমান। ধারাটি শুধুমাত্র সূর্যমুখীর বীজে পাওয়া যায় তা নয়। এমন অনেক উদ্ভিদের মাঝেই এই ধারায় বীজের বিন্যাস দেখা যায়। ছবিতে লক্ষ করুন, কী দেখতে পাচ্ছেন?

Continue reading

July 5, 2017

একজন কিংবদন্তী, খলনায়ক ও তার ট্র্যাজেডির গল্প

মূল লেখার লিংক
একজন কিংবদন্তী, খলনায়ক ও তার ট্র্যাজেডির গল্প
মাঝ আকাশে সুতো কেটে যাওয়া ঘুড়ির মতো গোত্তা খাচ্ছে কার্গো বিমানটা। মেঘেরও অনেকটা ওপরে তার অবস্থান, দুই পাইলট আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কন্ট্রোল প্যানেলটাকে নিজেদের কন্ট্রোলে নিয়ে আসার। কথা শুনছে না হুইল দুটো, রেডিওটা অসাড়, কাজ করছে না রিসিভার। এয়ারপোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ফুরিয়ে আসছে জ্বালানীও। Continue reading

July 3, 2017

গ্রন্থকীটদের জন্য সাত শহর

মূল লেখার লিংক

যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ঢাকা কিসের শহর? কেউ বলবেন দুর্ভোগের শহর, কেউ বলবেন জ্যামের শহর, কেউ বলবেন মসজিদের শহর। তবে দুনিয়ায় এমন শহর আছে, যেগুলো বইপোকা বা গ্রন্থকীটদের শহর হিসেবে পরিচিত। রিডার্স ডাইজেস্ট জানিয়েছে তেমনই সাত শহরের কথা। শহরগুলো যুগে যুগে জন্ম দিয়েছে বিখ্যাত সব কবি-সাহিত্যিককে। বইপ্রেমীদের জন্য এগুলো যেন শহর নয়, বইয়ের সাতটি মহাসাগর। Continue reading

June 30, 2017

গিলগামেশের মহাকাব্য ও রঙধনুর পুরাণ

মূল লেখার লিংক
পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন একটি মহাকাব্যের নাম গিলগামেশের মহাকাব্য। এর সময়কাল এতটাই প্রাচীন যে ঐ সময়ে গ্রীক দেশের জ্ঞানীগুণীদের কারো জন্মই হয়নি। ইহুদী ধর্ম অনেক প্রাচীন। ঐ সময়ে এমনকি ইহুদী ধর্মেরও দেখা পাওয়া যাবে না। প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতার একটি সাহসদীপ্ত গল্প এটি। প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার বছর আগে এই সভ্যতাটি প্রাচীন মেসোপটেমিয়া শহরে (বর্তমানে এটি ইরাক) গড়ে উঠে। সুমেরীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে গিলগামেশ ছিলেন একজন মহান বীর ও রাজা। তার অস্তিত্ব অনেকটা অর্ধেক বাস্তব ও অর্ধেক অবাস্তবের মতো। তাকে নিয়ে প্রচুর গল্প ও কাহিনী প্রচলিত আছে। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে কোনো প্রমাণ নেই যে তার কোনো অস্তিত্ব ছিল।

আক্কাদীয় ভাষায় লেখা গিলগামেশের একটি কাহিনীফলক Continue reading

June 30, 2017

সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বিশ্বের কিছু মসজিদ

মূল লেখার লিংক
মিনার, গম্বুজ ও নানান নকশার ভিত্তিতে সারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় দেখা মেলে নান্দনিক সব মসজিদের। এসব মসজিদের কয়েকটি আবার দাঁড়িয়ে আছে বহু পুরনো ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদগুলো নিয়েই তবে কথা হয়ে যাক আজকে।

১। গ্রেট মস্ক অব সামারা, ইরাক

ইরাকের উত্তর দিকের একটি নগরের নাম সামারা। বাগদাদ থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরে তাইগ্রিস নদীর পাড়ে সামারার অবস্থান। আর এই সামারাতেই রয়েছে এক সময়ের বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম মসজিদ ‘গ্রেট মস্ক অব সামারা’। এই মসজিদটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিলো ৮৪৮ সালে এবং পরে ৮৫১ সালে গিয়ে শেষ হয়েছিলো এর নির্মাণ কাজ। এর বিশেষত্ব হলো শামুকের মতো দেখতে মিনার, যার নাম ‘মালাউইয়া’। সর্পিল পথের ৫২ মিটার উঁচু এই মিনারটি প্রস্থে ৩৩ মিটার। নবম শতকে আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতাওয়াককিল (৮৪৭-৮৬১)  নির্মাণ করে এই ‘গ্রেট মস্ক অব সামারা’। ২০০২ সাল থেকে মার্কিন সেনারা ইরাকে আগ্রাসন চালানো শুরু করলে এক সময় সামারাও চলে আসে তাদের দখলে এবং আশেপাশের অঞ্চল পর্যবেক্ষণের জন্য তারা এই মসজিদের মিনারেই অবস্থান করত। পরে বোমার আঘাতে, ২০০৫ সালের ১ এপ্রিল মালাউইয়া মিনার ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

শামুকের মতো দেখতে মিনার, ‘মালাউইয়া’ Continue reading

June 10, 2017

আমাদের চর্যাপদ : একটি সরল আলোচনা

মূল লেখার লিংক
চর্যাপদ নিয়ে প্রথম এবং চরমতম কথা হলো, এটা বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম, এবং বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের এই একটাই নিদর্শন পাওয়া গেছে। তবে তার মানে এই নয়, সে যুগে বাংলায় আর কিছু লেখা হয়নি। হয়তো লেখা হয়েছিল, কিন্তু সংরক্ষিত হয়নি। কেন হয়নি, সেটা পরের আলোচনা।

Charyapada

আমাদের চর্যাপদ

চর্যাপদ রচিত হয় ৮ম থেকে ১২শ শতকের মধ্যে। এর মধ্যে ঠিক কোন সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়, তা নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে। একেকজন একেক সময়কালের কথা বলেছেন। অনেক দাবি করেছেন, এর রচনাকাল আরও আগে। তবে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য মত এটাই। Continue reading

June 10, 2017

কুখ্যাত বডিলাইন সিরিজ এবং এক হতভাগ্য লারউডের গল্প

মূল লেখার লিংক
ক্রিকেটকে জেন্টলম্যান স্পোর্টস হিসেবে বলা হয়ে থাকে। কিন্তু সেই স্পিরিটকে ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছিল বডিলাইন সিরিজ। ক্রিকেটের ইতিহাসে যাকে কালো অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৯৩২- ৩৩ সালে অষ্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজ ‘বডিলাইন সিরিজ’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। আর ইংলিশ বোলার লারউড ছিলেন সেই সিরিজের কলঙ্কিত এক নাম। কী হয়েছিল সেই সিরিজে? কেনই বা একে বডিলাইন সিরিজ বলা হচ্ছে? লারউড, আসলেই কি দোষী? নাকি সে ছিল ক্রিকেট রাজনীতির শিকার? তেমনি এক অনুসন্ধানের চেষ্টা আজকের এই লেখায়।

Continue reading